•• গল্প:- অবৈধ সম্পর্ক ••

প্রথম_পর্ব

রানীগঞ্জে থেকে হাওড়া যাবো বলে বাড়ি থেকে রওনা হলাম। আজ আমার S.S.C পরীক্ষা কি হবে কি জানি ! রানিগঞ্জ স্টেশনে এসে পৌছালাম অবশেষে। আজ গরম ও খুব রেখেছে । রৌদের দাপটে গা যেনো জ্বলছে! ট্রেন ছাড়ার সময় সাড়ে এগারো টা এখনো অনেক দেরি এই বাজে সবে সাড়ে দশটা। স্টেশনে রেলের সেটে গিয়ে বসলাম আমি !

আমার পরিচয় তো আপনাদের দেওয়া হলো না আমি পিন্টু। 2016 মাস্টার ডিগ্রি কমপ্লিট করে এখন বেকার ! বাবা দিন মজুরি কাজ করে আর মা বাড়িতেই টুকটাক কুটির শিল্পের কাজ করে আর বোন ক্লাস 12 এ পড়ে এবং সাথে টিউশানি করায় নিজের হাত খরচা চালানোর জন্য আর আমিও একটা জব করতাম প্রাইভেট কোম্পানিতে একটু কাজ ভুল হলেই বাবা-মায়ের নামে গালিগালাজ দিতো, আমার বাবা-মাকে কেও গালি দিলে আমি সয্য করতে পারিনা তাই বাধ্য হয়ে চাকরিটা ছেড়ে দিলাম।
খুব অভাবের সংসার আমাদের । বাবা-মায়ের মুখটা যখন দেখি খুব কষ্ট লাগে আমার বাবা-মা আমার জন্য কতো কষ্ট করে কিন্তু আমি আদ-দামড়া ছেলে হয়েও এখনো পর্যন্ত কিছু করতে পারলাম না বাবা-মায়ের জন্য এই কথা বসে বসে ভাবছিলাম।

হঠাৎ একটি মেয়ে এসে আমার পাশে বসলো ! মেয়েটি দেখতে খুব সুন্দর, চোখ গুলো কতো টানাটানা, নীল রঙের একটি শাড়ি পরে আছে এবং খুব মায়াবী লাগছে মেয়েটাকে। কিন্তু মেয়েটা দেখছি আনমনা হয়ে কি যেনো ভাবছে। মনে হয় কোনো কারনে হয়তো মেয়েটা আপসেট হয়ে আছে। আমি আবার মেয়েদের সাথে কথা বলতে ভালোবাসি তাই ভয় কাটিয়ে মেয়েটিকে জিগ্গাসা করলাম:-

– আপনায় খুব আনমনা দেখাছে…..কোনো কারণে কি আপনি আপসেট আছেন? (আমি)
– জ্বি না,আপনি আপনার চরকায় তেল দিন (মেয়ে)
– আমি মনে মনে ভাবতে লাগলাম কি এমন বললাম রে বাবা ” এইরকম প্রতিক্রিয়া দিলো ।

কিছুক্ষন পর মেয়েটা আমাকে বললো, এই যে শুনছেন ?
আমি বললাম, হ্যা !
– আসলে একটা কারনে আমি খুব ডিস্টাব ছিলাম তাই আপনাকে ওইরকম প্রতিক্রিয়া করেছি তার জন্য সরি ।(মেয়ে)
– না ! না ! আমি কিছু মনে করিনি আপনার কথায় ।
– তাই (মেয়ে)
-হ্যা ! বর্ধমান যাবেন নাকি ? (আমি)
– না ! না ! আমিতো হাওড়া যাবো আজ আমার S.s.c পরীক্ষা আর আপনি কোথায় যাবেন?(মেয়ে)
– ওহ Really আমিও তো S.s.c পরীক্ষা দিতে হাওড়ায় যাবো । ভালোই হলো আপনার সাথে দেখা হয়ে একসঙ্গে তবু গল্প করতে করতে যাওয়া হবে । (আমি)
-টা ঠিক বলেছেন একা একা যেতে খুব বোরিং লাগে ভালোই হলো আপনার সাথে দেখা হয়ে এবার তবু গল্প করতে করতে যাওয়া হবে। (মেয়ে)

স্টেশনে অনেকক্ষন আগে ট্রেন চলে এসেছে কিন্তু মেয়েটার সাথে কথা বলতে বলতে খেয়ালই করিনি। মেয়েটাকে বললাম, ট্রেন এসে গেছে যাবেন না ?
– আপনি চলুন ততক্ষন আমি এখুনি যাচ্ছি ! (মেয়ে)
– ওকে আপনি আসুন তাহলে আমি ততক্ষন যাচ্ছি ! (আমি)
– ওকে (মেয়ে)

আমি ট্রেনে উঠে দেখলাম দুটো সিট ফাঁকা আছে । আমি জানলার ধারের সিটটায় বসলাম এবং অপর সিটটিতে আমার ব্যাগটা রাখলাম মেয়েটির জন্য।
মেয়েটা দেখছি কার সাথে জেনো কথা বলছে ফোনে। আমি ফেসবুকটা একটু ওন করে স্টেটাস চেক করতে লাগলাম !

কিছুক্ষন পর ট্রেন ছেড়ে দিলো আমি তো দেখছি মেয়েটা কয় এখনো এলো না কি ব্যাপার ?
তখন ট্রেনের জানলা দিয়ে দেখলাম মেয়েটি ছুটেছুটে আসছে ট্রেনটি ধরার জন্য । আমি ছুটে ট্রেনের দরজার বাইরে গিয়ে হাত বাইরে বার করে বলতে লাগলাম,
– তাড়াতাড়ি আসুন তাড়াতাড়ি আসুন আমি হাত ধরে আপনায় তুলে নেবো ! (আমি)
-বেশি কথা না বলে আমার হাতটি ধরুন ! (মেয়ে)
-হাতটা ধরতে গেলাম ফসকে গেলো তারপর…..

#দ্বিতীয়_অংশ

– এই ছেলে ভালো করে হাতটা ধরো পরে যাবো তো একটি হাতও ঠিক ভাবে ধরতে পারেন না (মেয়ে)
-হ্যা ধরছি বলে মেয়েটির হাতটি ধরে আমার দিকে জোরে টান মারলাম ! মেয়েটি হুমড়ি খেয়ে এসে আমার বুকে এসে পড়লো (ট্রেনের কম্পারমেন্টের ভেতর )

আমার বুকের উপর মেয়েটি শুয়ে আছে আর আমি এক পলকে মেয়েটির দিকে তাকিয়ে আছি কি রোমান্টিক পরিবেশ আহা ভাবতেই অবাক লাগছে !

-এই ছেলে এবার আমায় ছাড়বেন সবাই আমাদের দিকে দেখছে !
– ও হ্যা ছাড়ছি ! (আর মনে মনে বলছি এই ফাস্ট টাইম কোনো মেয়ে আমার বুকের উপর হুমড়ি খেয়ে পরলো আর কিছুক্ষন থাকলে ভালোই হতো)

আমি উঠে দাঁড়িয়ে দেখি কম্পামেন্টের সব লোক আমাদের দুজনের দিকে তাঁকিয়ে আছে আর মুচকি মুচকি হাসছে !
আমি তো ওদের দিকে তাকাতে পারছি না লজ্জায় একেবারে লাজ্জবতী হয়ে গেছি আমি!
মেয়েটা একবার করে আমার দিকে তাকাচ্ছে আর একবার করে কম্পারমেন্টের মানুষ গুলির দিকে তাকাচ্ছে আর মাঝে মাঝে মাথা নিচু করে মলিন হাসি দিচ্ছে !

– আপনার জন্য আমি সিট রেখেছি বসবেন চলুন (আমি)
– হ্যাঁ চলুন ! (মেয়ে)

তারপর আমি আর মেয়েটি সিটে গিয়ে বসলাম এবং মেয়েটিকে জিগ্গাসা করলাম,
– আপনি এতো দেরি করে আসলেন কেনো ? আমি না থাকলে তো আপনি ট্রেনেই উঠতেই পারতেন না !
-আসলে আমার একটা কল এসেছিলো এবং জলের বোতল কিনতে গিয়ে ছিলাম তাই দেরি হয়ে গেলো !
-ওহ আচ্ছা !

আমি মনে মনে ভাবতে লাগলাম কি মেয়েরে বাবা একটা Thank you ও বললো না ! মেয়েটিকে হাত ধরে নায়কের মতো বাঁচলাম !
– কি ভাবছেন ? (মেয়ে)
– কিছু না ! (আমি)
– আজকে গরমটা খুব পড়েছে তাই না ? (আমি)
– টা যা বলেছেন ! (মেয়ে)
– ডাব নেবেন ডাব কচি কচি ডাব আছে জল পুরো মিঠা মুখে লেগে থাকবে একটা খেয়ে দেখুন ভালো না লাগলে পয়সা ফেরত (হকার)
– ডাব খাবেন ? (আমি)
– না ! না ! (মেয়ে)
– আরে এতো গরমে একটা ডাব খান ভালো লাগবে ! (আমি)
– দিন তবে ! (মেয়ে)
– আমি মনে মনে ভাবছি খাবে তবু না না করছে এই ডাব ওলা এইদিকে আসুন একটা ডাব দিয়ে যান !
– হুম যাচ্ছি বাবু (হকার)
– আপনি খাবেন না ? (মেয়ে)
– না না ! (আমি)
– কোনো ? (মেয়ে)
– ডাব খেলে আমার গা গুলাই তাই খাবো না ! (আর আমি মনে মনে বলছি পয়সা থাকলে আর একটা নিতাম আজ আমি গরীব বলে)
– ওহ আচ্ছা ! (মেয়ে)

মেয়েটি ডাবটি খাচ্ছে আর আমি ওর মুখোপানে একভাবে তাকিয়ে আছি আর সুন্দরর্যতা অনুভব করছি !

-এই আপনি এই ভাবে আমার দিকে তাঁকিয়ে আছেন কোনো ? (মেয়ে)
– আসলে আপনি যে ডাবটা খাচ্ছেন তাতে কতোটা জল আছে সেইটাই দেখছিলাম ? (আমি)
– আপনি কিভাবে দেখবেন অতো দূর থেকে (মেয়ে)
– আমাদের অনেক ডাব গাছ এই বিষয়ে আমার অভিজ্ঞতা আছে ! (আর মনে মনে বলছি ডাব গাছ থাকলে তো)
-আপনি একটা পাগল ! (মেয়ে)
– আমি হাসছি মেয়েটির কথা শুনে !

মেয়েটির সাথে আমার কিছুক্ষন আগে দেখা এটা আমার মনেই হচ্ছেনা যেনো মনে হচ্ছে কতো দিনের পরিচয় আমাদের ! মেয়েটির প্রতি আমি দুর্বল হয়ে পড়েছিলাম ! মেয়েটার মলিন হাসি কোমল ঠোঁট দুষ্টু-মিষ্টি কথা বার্তা এই গুলি আমার মনের মাঝে ব্রিদে গিয়েছিলো ! বার বার এইগুলোই মনে পড়ছিলো হয়তো মেয়েটিকে ভালোবেসে ফেলেছিলাম !

– এই যে কি এতো ভাবছেন শুনি ? (মেয়ে)
– কিছু না একটু পড়াশুনার ব্যাপারেই ভাবছিলাম (আর আমি তো জানি মেয়েটির ব্যাপারেই আমি ভাবছি)
– ওহ ! (মেয়ে)
– ডাব খাওয়া হয়ে গেছে ? (আমি)
-হ্যা কখন ! (মেয়ে)

মেয়েটির হঠাৎ একটি কল এলো এবং মেয়েটি কল রিসিভ করার পর কেমন যেনো নিস্তব্দ হয়ে গেলো !
যে মেয়েটি এতো হাসি-খুশি ছিলো এক মুহূর্তে এমন কি হলো ! তাই আমি মেয়েটিকে জিগ্গাসা করলাম কি হয়েছে ?

মেয়েটি আমার দিকে তাকালো এবং অঝোর ঝরে কাঁদতে লাগালো !

কি হয়েছে আপনি কাঁদছেন কেনো খুলে বলুন আমায় ?

মেয়েটি আরো জোড়ে কাঁদতে লাগলো এবং বললো:-

#তৃতীয়_অংশ
.
আমার নাম নিলা ! কলেজের 2nd বর্ষের ছাত্রী ! প্রথম থেকেই পড়াশুনায় খুব একটা খারাপ ছিলাম না। বাবা-মায়ের খুব আদরের মেয়ে আমি। কলেজ ছুটি থাকায় বন্ধুদের দাবিতে ফেসবুক ব্যবহার করা শুরু করলাম ! আমার ফেন্ডলীস্টে চেনা মানুষ ছাড়া আর কাউকে রাখতাম না।

ফেসবুক চেক করতে করতে দেখলাম অভিষেক নামে একটি ছেলে ফেন্ড রিকু দিয়েছে ! ছেলেটি দেখতে খুব সুন্দর এবং স্মার্ট। তার স্ট্যাটাস গুলোও চেক করলাম বেশ ভালো শিক্ষনীয় কিছু স্ট্যাটাস ও আছে এবং প্রোফাইলটাও খুব সুন্দর ভাবে সাজানো ! আমি ছেলেটির প্রোফাইল চেক করার পরেও ছেলেটির ফেন্ড রিকু এক্সেপ্ট করলাম না কারন আমি অচেনা কাউকে ফেন্ডলিস্টে রাখতে চাইনা। আর প্রথম প্রথম ফেসবুক করার মজাই আলাদা। আমি প্রতিদিন আমার প্রোফাইলে নতুন নতুন পোস্ট দিতাম খুবই ভালোই লাগতো।

গত পনেরো দিন ধরে দেখছি অভিষেক নামে ছেলেটি আমার পোস্টে এসে লাইক দেয় এবং ভালো ভালো কমেন্ট করে । অভিষেক নামের ছেলেটির সাথে অল্প অল্প কথা হতো কমেন্ট বক্সে এবং ২৮ দিনের মাথায় ছেলেটির ফেন্ড রিকু এক্সেপ্ট করলাম।

ছেলেটির সাথে প্রতিদিনিই আমার কথা হতো । ছেলেটির কথা-বার্তাও খুব ভালো । কথা বলতে বলতে জানতে পরলাম ছেলেটির বাড়ি দুর্গাপুর, B.tech 2nd ইয়ারে পড়াশুনা করে, বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান এবং ছেলেটি খুব বড়লোক । এইভাবে আমাদের মধ্যে 3 মাস কর্থাবার্তা চললো

ছেলেটি আমায় একদিন মেসেজে বললো:

– একটা কথা বলবো কিছু মনে করবেন নাতো ?
– না ! না ! কিছু মনে করবো না বলুন ।
– তোমাকে প্রথম দেখেই আমার খুব ভালো লেগে যায়, তোমাকে মন থেকে আমি খুব পছন্দ করি এবং খুব ভালোবেসে ফেলেছি তোমায় ! আমি তোমার খুব যত্ন নেবো তোমার খুব খেয়াল ও রাখবো !
– এসব তুমি কি বলছো আমাদের তো এই কিছু দিনের আলাপ
– তাতে কি ? তুমি তো এমন একটি ছেলেই চাও যে তোমার অগোছালো জীবনটা গুছিয়ে দেবে ?
– আমি এসব নিয়ে এখনো কিছু ভাবিনি আর আমার সাথে তুমি এই ব্যাপারে কথা বলবে না
– তুমি আমায় বিশ্বাস করতে পারো নিলা আমি অন্য ছেলেদের মতো না ?
– ঠিক আছে আমি ভেবে দেখছি !
– হুম ওকে তুমি একটু ভেবে দেখো কাল আমায় জানাও আমি আশা করছি তুমি আমায় না করে দেবে না ।

রাত তখন 12 টা বাজে ফেবুতে ঢুকে ছেলেটির মেসেজ গুলো দেখছি আর ভাবছি কি করবো ছেলেটা কি সত্যি আমায় ভালোবাসে নাকি অভিনয় করছে। জীবনের এতো বড়ো সিধান্ত টা কি এখুনি নেওয়া ঠিক হবে এইসব এই ভাবছিলাম এবং সত্যি কথা বলতে গেলে ছেলেটির কথা গুলো শুনে আমি যেনো দুর্বল হয়ে পড়েছিলাম তাই ঠিক করি কাল আমরা দেখা করবো এবং আমার মনের কথা জানাবো ।

সকল 6 টায় উঠে ব্যায়ম করলাম এবং বেকফাস্ট করে পড়াশুনা করতে বসলাম । 9:00 টা বাজে মা বললো :-
– ওই তোর টিফিন করে দিয়েছি খেয়েনে ।
-হ্যা মা খাচ্ছি !

টিফিন করার পর ফেসবুকে এলাম দেখলাম অভিষেক মেসেজ দিয়েছে:- কি সিধান্ত নিলে তুমি ? তুমি পিল্জ আমায় ফিরিয়ে দিয়ো না আমি তোমায় খুব ভালোবাসি সারারাত আমি ঘুমোতে পারিনি জানো শুধু তোমার কথা ভাবছিলাম !

– আমি বললাম ওহ তাই ? ওকে আজ আমরা বিকালে কফি সফে দেখা করবো এবং আমি কি সিদ্ধান্ত নিয়েছি সেটা ওখানেই জানবো ।
– ছেলেটি রিপ্লাই দিলো ঠিক আছে আমি আজ বিকালে KFC লেক গার্ডেন কফি সফের সামনে ব্লু কালারের একটি টি শার্ট এবং হাতে একটি গোলাপ ফুল নিয়ে তোমার জন্য দাঁড়িয়ে থাকবো ।

– আচ্ছা ঠিক বিকাল 4:00 সময় ওকে
– ওকে ।

আজ বিকালে দেখা করতে যাবো বলে বাসা থেকে বের হলাম….

#চতুর্থ_অংশ

– ও রিস্কাওয়ালা লেক গার্ডেন যাবেন ?
– হ্যা যাবো মা !
– ঠিক আছে চলুন !

আমি এই প্রথম বার ছেলেটির সাথে দেখা করতে যাচ্ছি ভয় ও লাগছে আবার লজ্জ্বাও করছে কি বলবো এটা ভেবে ? একটা অচেনা ছেলের সন্মক্ষীন হবো আজ ! রাস্তায় জেম থাকায় যেতে দেরি ও হচ্ছে কিছুক্ষন পর কাকু বললো,
– লেক গার্ডেন এসে গেছে মা ।
– ওকে এই নিন ভাড়া !

রিস্কা থেকে নেমে দেখলাম ছেলেটি কফি সফের সামনে ব্লু-টি শার্টটি পরে আমার জন্য অপেক্ষা করছে।
আমি ছেলেটিকে দেখে লুকিয়ে পড়লাম..আমার আজ ভাবতেই অবাক লাগছে

কোনো ছেলে আজ আমার জন্য গোলাপ হাতে নিয়ে এই ভাবে দাঁড়িয়ে আছে কফি সফের সামনে আমার অপেক্ষায়…
আমি এটা কোনো দিনো স্বপ্নেও ভাবিনি ।

তারপর আসতে আসতে গুটি গুটি পাইয়ে ছেলেটির সামনে গেলাম ।
– কি হলো আসতে এতো দেরি হলো তোমার ?(অভিষেক)
– তেমন কিছু না রাস্তায় একটু জাম ছিলো তাই লেট !
– ওকে । ভেতরে আসো ?
– হুম চলো ।

তারপর আমরা দুজনে ওনেক কথা বললাম আমাকে অভিষেক বললো তুমি আমায় ভালোবাসোতো ? আমি বললাম ” হ্যা খুব ভালোবাসি তোমায় তাই তো আজ কফি সফে তোমার সাথে দেখা করতে এলাম ।

অভিষেক বললো, আমি ও তোমাকে খুব ভালোবাসি (i love you)
আমি বললাম ” (i love you 2)

এই ভাবে আমাদের প্রেমটা শুরু হলো খুবই ভালো লাগছিলো প্রথম প্রথম প্রেম করতে মজাই আলাদা একটা আলাদা আনন্দ কাজ করছিলো !

কিছুদিন ভালোই কাটলো তারপর একদিন ও বললো চলো না আজ সিনেমা দেখে আসি, তোমায় নিয়ে তো কোনো দিন সিনেমা দেখতে যায়নি ।
আমি ও রাজি হয়ে গেলাম ওর প্রস্তাবে ।
দুজনে সিনেমা দেখতে ঢুকলাম বেশ ভালো মুভি দেখতেও ভালো লাগছিলো ।

হঠাৎ অভিষেক আমার গায়ে হাত দেওয়ার চেস্টা করলো…
– কি করছো তুমি??এটা ঠিক না..
– কি ঠিক না…বাহহ রে আমরা একসাথে ঘুরবো ফিরবো প্রেম করবো…আর শরিরে হাত দিতে পারবোনা??
– না এসব এখন করা যাবেনা…এগুলো সব বিয়ের পর এখন না…
– কি বলতে চাইছো তুমি??শোনো আমি তোমার বি এফ ওকে???তোমার উপর আমার সামান্য হলেও অধিকার আছে…
– কিন্তু
– কোনো কিন্তু নয় আমি তোমাকে ট্যাচ করলে সমস্যা কি হবে??
– সমস্যা আছে তাই বললাম যা হবে বিয়ের পর.. বিয়ের আগে না ওকে ।
– ঠিক আছে তাই হবে ।

তারপর আমরা যের যার বাড়ি চলে গেলাম রাগ করে । অভিষেক কে দেখে বুজতে পারছিলাম ও খুব রেগে আছে আমার উপর কিন্তু আমার কিছু করার নেই কারন আমি চাই না বিয়ের আগে আমার শরীরে কেও টাচ করুক ।

তিন দিন পর ফোন দিলো আমায় অভিষেক:-
– কেমন আছো ? (অভিষেক)
– ভালো আর তুমি ?
– হ্যা ভালো ! সেইদিনের ব্যবহারের জন্য আমি খুব দু:খিত আমায় তুমি ক্ষমা করে দাও । (অভিষেক)
– আমার প্রথম দিকে তোমার উপর রাগ ছিলো কিন্তু এখন আর নেই তোমায় আমি ক্ষমা করে দিয়েছি ।
– আমি তোমার কথা আমার বাবা-মাকে বলেছি তোমাকে ওরা একবার দেখতে চায় তুমি কাল এসো আমাদের বাড়ি ওকে । (অভিষেক)

– আমি তো চিনিনা তোমাদের বাড়ি ?
– আমি তোমাকে নিয়ে যাবো তুমি ঠিক বিকাল 5:00 সময় আসানসোল সিটি পার্কের অপসিটে চলে আসবে ! ওখান থেকে আমার বাড়ি 5 মিনিট লাগে আর আমি 8:00 টার আগেই তোমায় বাড়ি পৌঁছে দেবো । (অভিষেক)
– আচ্ছা ঠিক আছে ।

আজ সেই দিন অভিষেকের বাড়ি যাবো !
মাকে বললাম মা আজ কোচিং আছে বাড়ি ফিরতে 8:00 টা বাজাবে ।
মা বললো সাবধানে ফিরিস…
আমি বললাম ঠিক আছে মা ।

বাড়ি থেকে রওনা হলাম অভিষেকের বাড়ি যাওয়ার উদ্যেশ্যে….

#পঞ্চম_পর্ব
.
অটো করে গিয়ে আসানসোল সিটি পার্কে নামলাম।
দেখলাম ও অপেক্ষা করছে আমার জন্য । আমি ওর কাছে গিয়ে বললাম

-আজ আমায় কেমন লাগছে ?
– খুব সুন্দর লাগছে আজ তোমায় । তোমাকে দেখার জন্য আমার বাবা মা অপেক্ষা করে কখন থেকে বসে আছে তাড়াতাড়ি চলো..
– আমি বললাম ওকে চলো ।

তারপর আমরা হাত ধরে একসঙ্গে হাঁটতে লাগলাম…

অনেকক্ষন হয়ে গেলো তবু ওদের বাড়ি আসছি না তাই আমি ওকে জিগ্গাসা করলাম

– তুমি তো বলেছিলে কাছেই তোমাদের বাড়ি তাহলে এতোক্ষন লাগছে কেনো ?
– আর যেতে কিছুক্ষন লাগবে চলো..
– ওকে

20 মিনিট হাঁটার পর শুনশান একটা জায়গায় চলে এলাম এবং নির্জন একটা বাড়ি দেখতে পেলাম….

আমি অভিষেককে জিগ্গাসা করলাম এটা কি তোমাদের বাড়ি ?
– হ্যা এটাই আমাদের বাড়ি ! (অভিষেক)
– এতো তো একটা ভূতুড়ে বাড়ি লাগছে ?
– আরে না না বাইরে থেকে ভূতুড়ে লাগলে কি হবে বাড়ির ভেতরটা খুব সুন্দর তোমার ভালো লাগবে ।
– আচ্ছা তোমার বাবা-মা ভেতরে আছে তো নাকি ?
– হ্যা গো আছে তুমি এতো ভয় পাও ।
– ওকে চলো তাহলে ।
– হুম চলো (অভিষেক)

বাড়ির ভেতরে ঢুকলাম অন্ধকার যেনো ঘুটঘুটে..আমি ওকে জিগ্গাসা করলাম

– তোমার বাবা-মা কই আর বাড়ির লাইট ও জ্বালা নেই ।
– বাবা-মা হইতো কোনো দরকারে বাইরে বেরিয়েছে তুমি ঘরে গিয়ে একটু বসো মা-বাবা এক্ষুনি চলে আসবে
– এবার যেনো আমার ভয় করতে লাগলো আমি অভিষেক কে বললাম আমি কিছুক্ষন দেখবো যদি তোমার বাবা-মা না আসে তাহলে আমি বেরিয়ে যাবো ।
– আচ্ছা বাবা ঠিক আছে তুমি এখন ঘরে গিয়ে বসো আমি একবার কল দিয়ে দেখি বাবা-মা কোথায় !
– আমি বললাম ঠিক আছে ।

তারপর আমি ঘরে ঢুকলাম । ঘরটা যেনো অন্ধকার কালো কূটকূট করছে ঘরটা….ঘুরে ঢুকে লাইটটা জ্বালতেই দেখলাম ঘরটা অগোছালো ছড়িয়ে ছিটেয়ে জিনিস পরে আছে….আমি জিনিস গুলো গুছাতে লাগলাম ।

এমন সময় হঠাত দরজাটা দিয়ে দিয়ে দিলো অভিষেক ।
আমি বললাম
– কি করছো তুমি দরজাটা দিলে কেনো ?
– কেনো জানোনা আজ একটু আদর করবো তোমায় ।
– পাগল হয়ে গেছো নাকি আমি তো সেইদিন বললাম বিয়ের আগে আমি এইসব করতে চাই না ।
– তুমি চাও আর না চাও আমি তো তোমায় আদর করবই। আর তোমায় যে আমি বলেছিলাম আমার বাবা-মা তোমাকে দেখবে এসব মিথ্যা কথা আমার উদ্দেশ্য ছিলো তোমাকে এই বাড়িতে আনা ।
– কি বলছো এসব তোমার এতো নিচু মানসিকতা যদি আগে জানতাম তাহলে কখনই আমি এখানে আসতাম না । দরজার গোরা থেকে সরো আমায় যেতে দাও ।
– তুমি তো আজ এখান থেকে যেতে পারবেনা নীলা কারন সব দরজা জানলা বন্ধ করে দিয়েছি আমি আজ সারারাত আমরা এই ঘরে থাকবো ।
– ওর কথাটা শুনে আমার শরীর কাঁপতে শুরু করলো প্রচুর ভয় করতে শুরু করলো !

আর ভাবতে লাগলাম যার জন্য আমি আজ আমার মাকে মিথ্যা বলে এলাম
যার জন্য আমি আমার নিজের সর্বস্ব দিয়ে ওকে ভালোবেসেছি
যাকে আমি অন্ধের মতো বিশ্বাস করেছি সেই আজ আমার সাথে এই ভাবে প্রতারণা করলো এই কথা ভাবতে আমার চোখ দিয়ে জল ঝরতে লাগলো
আর মনে মনে বললাম সত্যি আমি ভুল করেছি সম্পর্কটা করে ।

– ওই মেয়ে ওতো কি ভাবছিস দুই দিন তোকে মিষ্টি মিষ্টি কথা বলেছি বলে তুই ভাবলি আমি তোকে ভালোবাসি আরে তুই ভাবলি কি করে আমি তোকে ভালোবাসবো আমি শুধু তোর শরীর কে চাই তোকে নয় বুজলি । (অভিষেক)
– ওই জানোয়ার তোর ঘরে মা বোন নেই এই ভাবে আমার সর্বনাশ করবি ভাবছিস ? সাহস থাকে তো তোর বোন কে গিয়ে এই কথাটা বল। তোর লজ্জা করে না একটা মেয়ের তুই এই ভাবে সর্বনাশ করবি ভাবছিস ?
– আমার কথা শুনে অভিষেক প্রচণ্ড রেগে গেলো এবং আমার কাছে আসতে লাগলো….

শেষ_পর্ব
.
অভিষেক হঠাৎ পকেট থেকে একটি চাপাতী বের করে আমার দিকে এগিয়ে আসছে
আমার পৃথিবীটা নিমিষে অন্ধকারে পরিনত হলো। মুহুর্তে হারিয়ে গেলাম অন্ধকারে। এখন কি হচ্ছে আমার সামনে আমার অজানা।

দীর্ঘ অনেকক্ষন পর টের পেলাম আমি এখনো বেঁচে আছি। কোথায় আছি তা জানিনা। একটু একটু করে চোখের পাতা খুললাম। আমি দেখলাম আমি নদীর পারে পড়ে আছি। নিজের শরীরে দিকে তাকিয়ে দেখি প্রায় অর্ধ উলঙ্গ হয়ে আছি। জামা কাপড় সব ছেঁড়া আমার আর বুজতে বাকি রইলো না আমার সাথে কি হয়েছে….আমি চিৎকার করে বলতে লাগলাম

* যে অভিষেক আমায় বলেছিলো আমি তোমার খুব যত্ন নেবো এবং তোমার খুব খেয়াল রাখবো !

* যে অভিষেক আমায় বলেছিলো তোমার অগোছালো জীবনটা আমি গুছিয়ে দেবো

*যে অভিষেক আমায় বলেছিলো তুমি আমায় বিশ্বাস করতে পারো আমি আর 5 টা ছেলের মতো না

* যে অভিষেক আমায় বলেছিলো আমি নিজের থেকেও তোমায় বেশি ভালোবাসি

আজ যেনো সব মিথ্যা হয়ে গেলো কেনো কেনো কেনো……

যাকে আমি জীবন সঙ্গী করবো বলে ভেবেছিলাম সেই আজ আমার চিরশত্রু

যাকে আমি অন্ধের মতো বিশ্বাস করেছিলাম সেই আজ বিশ্বাসঘাতক

যাকে আমি নিজের থেকেও বেশি ভালোবেসে ছিলাম সেই আজ প্রতারক

যে আমার জীবন আলো করবে বলে এসেছিলো সেই আজ আমার জীবন অন্ধকারে মুড়ে দিলো

আমি বন্ধু-বান্ধব,আত্মীয়-সজন,পাড়া-প্রতিবেশী এদের কাছে মুখ দেখাবো কি করে বাবা-মাকে কি বলবো সমাজ কি আমায় মেনে নেবে চিৎকার করে কাঁদাতে লাগলাম আর বলতে লাগলাম কেনো তুমি আমার নিষ্পাপ জীবন তাকে এইভাবে নষ্ট করে দিলে কেনো তুমি আমার সাথে মিথ্যে ভালোবাসার অভিনয় করে আমায় নিঃস্ব করে দিলে আমি তো তোমার কোনো ক্ষতি করিনি আর আমি এই জীবন রাখবো না আজই এই জীবন শেষ করে দেবো

হঠাত আমার ফোনটি বেজে উঠলো দেখলাম একটি অচেনা নাম্বার থেকে কল এসেছে ফোনটি ধরলাম..

– ওই আমি অভিষেক বলছি কোথায় আছিস তুই ?
– জানোয়ার আমার জীবনটা নষ্ট করেও তোর শান্তি হয়নে আবার কল দিয়েছিস আমায় ?
– ওই মুখ সামলে কথা বল আর তোর সামনে একটা বটগাছ আছে দেখ ওখানে তোর ভালো জামা-কাপড় রাখা আছে আর ওই গুলো পরে সোজা বাড়ি যা ?
– তুই বলার কে ছাগল আমি কি করবো না করবো তোর মতো বিশ্বাসঘাটক নেমোখাড়ান ছেলে আমি একটও দেখিনি তুই এইভাবে আমার জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেললি আমায় জীবন টাকে এইভাবে নষ্ট করে দিলি ?
– এখনো তো তোর আমি কিছুই করিনি এখন থেকে যদি তুই আমার কথা মতো না চলিস তাহলে তোর সাথে আরো খারাপ ঘটতে চলেছে ! কাল রাতে তুই অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার পর তোর সাথে যা ঘটেছে তার সব ভিডিও আমার কাছে আছে এই ভিডিও গুলো যদি আমি ফাঁস করে দেই তাহলে কি হবে তোর সাথ বুজতে পারছিস তুই নিশ্চই চাসনাস তোর বাবা-মায়ের সন্মান যাগ তুই সমাজের কাছে ছোট্টো হস…আমি এখন যা বলবো শোন মন দিয়ে কাল রাতের ঘটনা যদি কাউকে ফাঁস করিস তাহলে তোর ভিডিও খুব শিগগিরি পাবলিসিটি হতে চলেছে ভালো চাস তো কাউকে বলবি না

এই বলে অভিষেক ফোনটি কেটে দিলো….

আমি কতো বড়ো ভুল করেছি অভিষেক কে বিশ্বাস করে তা এখন বুজতে পারছি আমার একটা ছোট্ট ভুলের জন্য আজ আমি নষ্টা

চোখের জল ফেলতে ফেলতে বাড়ির দিকে রৌওনা হলাম….বাড়ির দরজার গোড়ায় এসে কলিং বেল টিপলাম..

মা দুটো হাত আমার দু গালে দিয়ে বলতে লাগলো সারারাত কোথায় ছিলিস মা, জানিস তোর বাবা আর আমি সারারাত ঘুমাতে পারিনি তোর জন্য । তোকে নিয়ে আমি ঠাই দুশ্চিন্তা করছি আর সারারাত কেঁদেছি জানিস।তোর বাবা সারারাত না খেয়ে আছে খালি তোর কথা চিন্তা করছে আর কাঁদছে। তোকে কতো বার কল দিয়েছি তোর ফোন বন্ধ ছিলো তুই তো জানিস মা তোকে ছাড়া আমরা এক মুহূর্ত থাকতে পারিনা আমি নিশ্চুপ হয়ে গেলাম মাকে জড়িয়ে ধরে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে লাগলাম। বিষ্টির কারণে কাল বাড়ি ফিরতে পারি মা আমি এক বান্ধবীদের বাড়ি থেকে গিয়েছিলাম ।

আজ পর্যন্ত কোনো দিন আমি আমার মা কে মিথ্যা বলিনি আজ প্রথম বার বললাম এতো বড়ো মিথ্যা বাবা-মায়ের কথা ভেবে নিজেকে খুব কলঙ্কিনি মনে হচ্ছিল । আমি বাড়ি থেকে 3 মাস কোথাও বেরুইনি শুধু নীরবে একা একা কেঁদেছি আমি এই জীবন খারপ জীবন থেকে বেইরে আসতে চেয়েছিলাম কিন্তু কোনো পথ নেই।

– নীলা তোর কি হয়েছে কলেজে আসছিস নাস কেনো ? (মেঘা)
– শরীর মন-মেজাত ভালো নেই রে আমি কিছু দিন একা থাকতে চাই ।
– তোর কলেজে আয় সব ঠিক হয়ে যাবে আর আমি তোর জন্য Ssc ফর্ম তুলেছি তুই আর আমি পরীক্ষা দিতে যাবো ঠিক আছে ? (মেঘা)
– কি বলছিস তুই !
– হ্যা ঠিকি বলছি কিছু দিন পর আমাদের পরীক্ষা ।
.
এই বলে মেঘা ফোনটি কেটে দিলো আজ সকালে মেঘা ফোন করে বললো নীলা আজ আমি পরীক্ষা দিতে যেতে পরবো না রে আমার খুব জ্বর তুই একা যা আজ ।
– কি বলছিস কি আমি একা যেতে পরবো না !
– তোকে আমি যেতে বলেছি তুই না আমার বেস্ট ফেন্ড আমার কথা অমান্য করলে তোর সাথে কথা বলবো না । (মেঘা)

আমি আর বন্ধুর কথায় অবাদ্ধ হতে পারলাম না তাই আজ পরীক্ষা দেওয়ার উদ্দেশে বেড়িয়ে পড়লাম ।

জানোয়ার ছেলেটা আজ আমায় দুবার কল করেছিলো আর ব্লকমিল করছে এখনো আমায়…আমি এখনো এই অন্ধকার দুনিয়া থেকে বের হয়ে আসতে পারিনি ।

নীলার কথা গুলো শুনে আমার চোখে জল চলে এলো একটা ছেলে এতো টা খারপ হতে পারে
মেয়েটির চোখের দিকে তাকাতে পারছি না নিজেকে পুরুষ বলে পরিচয় দিতে লজ্জা হচ্ছে ।
একটা মেয়ে সে কতো কষ্ট নিজের মধ্যে লুকিয়ে রেখেছে ।

অবশেষে হাওড়া স্টেশন আসলো আমি আর নীলা ট্রেন থেকে নামলাম ! স্টেশনে নামতেই নীলা বমি করতে লাগলো এবং ওর শরীরের অবস্থা খুব খারাপ হয়ে পড়লো আমি ওকে সামনের একটি হসপিটালে নিয়ে গেলাম ।

চেকআপ রুমে নীলা কে চেক করার পর ডক্টর বলে নীলা নাকি পেগনেন্ট। নীলা চিতকার করে বলতে লাগলো এ কখনো হতে পারে না আমি এই সন্তান রাখবো না আমি নিজেকে এবং এই সন্তান কে শেষ করে দেবো ।

আমি নীলার কাছে গেলাম এবং নীলার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বললাম যে তোমায় এতো কষ্ট দিয়েছে তার শাস্তি হবে । আর আজ থেকে আমি তোমার এবং তোমার এই বাচ্ছার দায়িত্ব নিলাম ।

আমার কথা শুনে নীলা কাঁদতে কাঁদতে বললো কি বলছো তুমি ? তুমি তো জানো আমি নষ্টা আর আমার এই অন্ধকার পৃথিবীতে তুমি নিজেকে কেনো জড়াতে চাইছো ।

আমি তোমার অন্ধকার পৃথিবীতে জড়াছিনা..আমি তোমাকে ওই অন্ধকার পৃথিবী থেকে বের করছি । আর আমি সব কিছু শুনেও তোমাকে এই কথা বললাম কারন তোমার সাথে কথা বলতে বলতে কখন তোমায় ভালোবেসে ফেলেছি আমি নিজেও জানিনা আর আমি তোমার শরীর কে নয় তোমাকে ভালোবাসি ।

এই কথা শুনে নীলা কাঁদতে কাঁদতে আমায় জড়িয়ে ধরলো ।

আমি ও ওকে জাপটে জড়িয়ে ধরে বললাম আমরা আজ থেকে শুধু বন্ধু নই আজ থেকে আমি তোমার জীবন সঙ্গী ।

————————-সমাপ্ত————————-

আপনার মন্তব্য দিন

শেয়ার