সুইজারল্যান্ডের এই গ্রামে থাকলেই ৫৯ লাখ টাকা পাবে বাংলাদেশিরা

কথাটি শুনে অবাক হলেও সত্যি! থাকলেই মিলবে বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৫৯ লাখ ৮০ হাজার। সুইজারল্যান্ডের আলবিনেন গ্রামবাসী তেমন প্রস্তাবই পৌঁছে দিচ্ছে বাংলাদেশসহ সারা বিশ্ববাসীর কাছে।

গ্রামবাসীরা জানিয়েছে, এখানে এসে থাকলে পরিবার পিছু দেওয়া হবে ৫৯ লাখ ৮০ হাজার টাকা। তবে এই টাকা পাওয়ার জন্য রয়েছে কিছু শর্ত!

তারা জানিয়েছে, এই টাকাটা পাওয়ার জন্য ১০ বছর একটানা থাকতেই হবে গ্রামে। তার আগে গ্রাম ছেড়ে চলে গেলে টাকাটা ফেরত দিতে হবে। শুধু তা-ই নয়, পরিবারের পুরুষ আর নারীর বয়স ৪৫ বছরের বেশি হওয়া চলবে না। সঙ্গে থাকতে হবে দুটি সন্তানও। তা হলেই বয়স্কদের জন্য বাংলাদেশি মাথাপিছু ২১ লাখ ৩২ হাজার টাকা এবং শিশুদের জন্য মাথাপিছু ৮ লাখ ৪৫ হাজার টাকা পাওয়া যাবে।

প্রশ্ন হল- এই বিপুল পরিমাণ ব্যয়ভার আদৌ টানতে পারবে তো আলবিনেন? বাংলাদেশি অঙ্কটা লাখের ঘরে পৌঁছলেও সুইজারল্যান্ডের মুদ্রার হিসেবেও অঙ্কটা হেলাফেলার নয়।

গ্রামবাসী আরও জানিয়েছে, সবদিক ভেবেচিন্তেই তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই অর্থব্যয়ে গ্রামের লাভ ছাড়া ক্ষতি নেই! গ্রামের লাভ হবে ওই পরিবারগুলোর বাড়ির করে দেয়া, বাড়ি তৈরির মালমশলা আর মিস্ত্রিদের মজুরি দেয়া। পাশাপাশি, গ্রামের দোকানপাটে শুরু হবে আগের মতো কেনাকাটার জোয়ার। খুলবে বিদ্যালয়টিও, কচিকাঁচাদের কলরবে হেসে উঠবে আলবিনেন। এমনটাই আশা তাদের।

এখন প্রশ্ন দাঁড়াচ্ছে, প্রকৃতি যেখানে উজাড় করে দিয়েছে নিজেকে। আকাশ ছোঁয়া পাহাড়ের ঘেরাটোপে মাথার উপরে জেগে রয়েছে ঝকঝকে নীল আকাশ। শীতল হাওয়া বয়ে চলেছে স্বস্তির বার্তা নিয়ে। এমন পরিবেশে থাকতে কার না মন চায়! কিন্তু কেন এই অবস্থা?

প্রকৃতি যতই মনোরম হোক না কেন, তাকে তাড়িয়ে তাড়িয়ে উপভোগ করার মত মানুষ দ্রুত কমে যাচ্ছে গ্রামে। উঁহু, কোনো মারণ ব্যাধি এর জন্য দায়ী নয়। নিতান্তই কর্মসংস্থানের অভাবে বাধ্য হয়ে গ্রাম ছেড়ে চলে যাচ্ছেন বাসিন্দারা। আর তাতেই দেখা দিয়েছে, মহাসংকট! বন্ধ হয়ে গেছে গ্রামের বিদ্যালয়টি। মাথায় উঠেছে গ্রামের দোকানপাটের কেনাকাটা। দিন দিন প্রাণহীন, শ্রীহীন হয়ে পড়ছে আলবিনেন। এই সমস্যার মোকাবেলার জন্য এ বার ঘুরে দাঁড়িয়ে এমন প্রস্তাব দিয়েছে গ্রামবাসী।

ইসলাম গ্রহনের পর যা বললেন বিখ্যাত ভাষা বিজ্ঞানী

ডক্টর আবদুল করিম জারমানুস (১৮৮৪-১৯৭৯) ছিলেন একজন প্রাচ্যবিদ ও ভাষা বিশেষজ্ঞ। ইসলাম সম্পর্কে পড়াশোনা করতে গিয়ে এই ধর্মের সৌন্দর্যে আকৃষ্ট হয়ে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন।

ইসলামকে একটি উগ্র ও হিংস্র ধর্ম হিসেবে তুলে ধরাসহ এই মহান ধর্ম সম্পর্কে নানা অপপ্রচার চালিয়ে আসছে যুগ যুগ ধরে খোদাদ্রোহী ও কায়েমি স্বার্থবাদী মহল। কিন্তু তা সত্ত্বেও এই মহান ধর্ম একটি সত্য ও অকৃত্রিম ধর্ম হিসেবে চিন্তাশীল এবং সত্য-পিপাসু অমুসলিমদেরকে আকৃষ্ট করছে। কারণ ইসলাম হচ্ছে মানুষের প্রকৃতির ধর্ম। আর তাই ইসলামের বিরুদ্ধে প্রচার-প্রোপাগান্ডা বুমেরাং হচ্ছে। অর্থাৎ ইসলামের প্রতি মানুষের আকর্ষণ আগের চেয়েও জোরদার হচ্ছে। বিশেষ করে পাশ্চাত্যের শিক্ষিত ও বুদ্ধিজীবী সমাজসহ সাধারণ জনগণ এইসব অপপ্রচারের ফলে ইসলাম সম্পর্কে গবেষণা করতে উদ্যোগী হচ্ছেন। আর এভাবে গবেষেণা করতে গিয়ে ইসলাম সম্পর্কে এবং মুসলিম জাতিগুলোর চিন্তা, বিশ্বাস ও সংস্কৃতি সম্পর্কে সঠিক ধারণা পাচ্ছেন। ফলে তারা বুঝতে পারছেন যে মুসলমানরা উগ্র নয় এবং তাদের ধর্ম ইসলামও শান্তি ও মানবাধিকার রক্ষায় বিশ্বাসী। নও-মুসলিম ডক্টর ‘আবদুল করিম জারমানুস’ এ প্রসঙ্গে বলেছেন:

“আমি যৌবনে ভাবতাম যে মুসলমানরা খুবই উগ্র ও অসহিষ্ণু স্বভাবের। তাদের মুখোমুখি হলে তারা আমার ক্ষতি করবে অথবা আমাকে হত্যা করবে। মুসলমানদের বদ স্বভাব সম্পর্কে বহু অদ্ভুত গাল-গল্প প্রচার করা হতো। হাঙ্গেরি থেকে একবার বসনিয়ায় গিয়েছিলাম। সেখানে মুসলিম অধ্যুষিত একটি অঞ্চলের এক কফি-হাউজে ঢুকেছিলাম। সেখানে প্রবেশ করা মাত্রই মুসলমানরা যে অপূর্ব আন্তরিক আতিথেয়তা দেখাল তাতে আমি বিস্মিত হয়ে পড়ি। তাদের প্রতিটি আচরণ ছিল বন্ধুত্ব, ভালোবাসা ও বিনম্রতায় ভরপুর। তারা খুব দয়াদ্রচিত্তে আমাকে তাদের বাড়ীতে বেড়ানোর আমন্ত্রণ জানাল ও বেশ ভালোভাবে আপ্যায়ন করল। আমি ওই বসনীয় মুসলমানদের বাড়ীতে বেশ নিরাপত্তা অনুভব করছিলাম। আর এ থেকেই আমি নিশ্চিত হলাম যে, মুসলমানরা বেশ শান্ত স্বভাবের মানুষ ও তারা অযৌক্তিক আচরণ করেন না। ফলে আমি দেখলাম যে মুসলমানদের সম্পর্কে যা বলা হতো বাস্তবে তারা ছিলেন সেসবের ঠিক বিপরীত।

মুসলমানদের সঙ্গে সরাসরি ও প্রথমবারের মত মেলামেশায় তাদের বাস্তব পরিচয় পেয়ে ইসলাম সম্পর্কেও উতসাহী হয়ে ওঠেন জারমানুস। ফলে তিনি শুরু করেন ইসলাম সম্পর্কে গবেষণা। গবেষণায় জারমানুস অনেক সত্য খুঁজে পান। যে বিষয়টি তাকে মুগ্ধ করেছিল তা হল সুন্দর আচরণ ও নৈতিক গুণগুলো অর্জনের জন্য ইসলামের গুরুত্ব আরোপ। বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.) বলেছেন, পছন্দনীয় বা উত্তম চরিত্রকে পরিপূর্ণতা দেয়ার জন্যই আমাকে (সর্বশেষ নবী হিসেবে) পাঠানো হয়েছে। আর এ থেকেই বোঝা যায়, সুস্থ জীবনের জন্য ইসলাম উন্নত নৈতিক গুণ অর্জনকে কত বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকে। বর্তমান বিশ্বের অনেক সংকটের মূল হল মানুষের সম্মান বা মর্যাদাকে উপেক্ষা করা এবং নৈতিক নীতিমালা ও চরিত্রকে বিস্মৃত হওয়া। জারমানুস এ প্রসঙ্গে বলেছেন:

গবেষণা ও পড়াশোনা করে দেখলাম ইসলাম সুন্দর আচরণ, আদব-কায়দা, ভদ্রতা ও নম্রতার ধর্ম। মানুষের জীবনের সব দিকের জন্য ইসলামের বিধি-বিধান বা দিক-নির্দেশনা এবং কর্মসূচি থাকলেও অন্যদের সঙ্গে আচার-আচরণ ও লেনদেনে ভদ্রতা-নম্রতা বা সুন্দর আচার-আচরণের ওপর ব্যাপক গুরুত্ব দিয়েছে।

সুন্দর চরিত প্রসঙ্গে বিশ্বনবী (সা.) বলেছেন, যে বিষয়টি আমার উম্মতকে বেহেশতে নেয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি অবদান রাখবে তা হল হল আল্লাহর ভয় ও সুন্দর স্বভাব বা চরিত্র।

জারমানুস ইসলাম সম্পর্কে পড়াশোনা করতে গিয়ে বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.)’র সর্বোত্তম আচার-আচরণ ও স্বভাবে মুগ্ধ হয়েছেন। এই মহান ব্যক্তিত্ব তাঁর কথা ও আচার-আচরণের মাধ্যমে মুসলমানদের মধ্যে সুন্দর স্বভাবের বিকাশ ঘটিয়েছিলেন। এ ধরনের সুন্দর স্বভাবের কারণেই বহু মানুষ ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছে। পবিত্র কুরআনও ইসলামের অগ্রগতিতে বিশ্বনবী (সা.)’র সুন্দর স্বভাব বা আচরণের ভূমিকার কথা তুলে ধরে বলেছে: “হে আমাদের রাসূল! আল্লাহর দয়া ও করুণা ছিল বলেই তুমি মানুষের প্রতি দয়াদ্র বা সদয় থেকেছ, তুমি যদি রুক্ষ ও কঠোর স্বভাবের হতে তাহলে মানুষ তোমার কাছ থেকে দূরে সরে পড়ত। তাই তুমি তাদের ক্ষমা কর ও তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর এবং কাজে-কর্মে তাদের সঙ্গে পরামর্শ কর।” (সুরা আলে ইমরান-১৫৯(

এই আয়াত থেকে এটা স্পস্ট যে, সহিষ্ণুতা ও সুন্দর আচরণ এবং সৎ-স্বভাব এক খোদায়ী উপহার। তাই মানুষের ওপর নেতৃত্ব দেয়ার ক্ষেত্রে তাদের মন জয় করা ও তাদের ওপর স্নেহশীল হওয়া জরুরি।

বিশ্বনবী (সা.) শুধু কথায় নয় বাস্তব জীবনেও ছিলেন উন্নত নৈতিক চরিত্র ও গুণের আদর্শ। তিনি সব সময় হাসি-মুখে থাকতেন এবং অন্যদের সঙ্গে হৃদয়-গ্রাহী কথা বলতেন। আর এমনটি না হলে মানুষ অবশ্যই তাঁর কাছ থেকে দূরে সরে যেত।

হাঙ্গেরির নও-মুসলিম জারমানুস এ প্রসঙ্গে বলেছেন, “বিশ্বনবী (সা.)’র জীবনী পড়তে গিয়ে যে ঘটনাটি আমাকে অভিভূত করেছে তা ছিল: এক ব্যক্তি ইসলামের নবীর (সা.) কাছে এসে প্রশ্ন করল- ধর্ম কী? রাসূল (সা.) বললেন, সুন্দর চরিত্র। ওই ব্যক্তি এরপর রাসূল (সা.)’র ডান দিকে এসে আবারও একই প্রশ্ন করলে তিনি আবারও সেই একই উত্তর দিলেন। এরপর সেই ব্যক্তি মহানবী (সা,)’র ডান দিকে এসে তৃতীয়বারের মত সেই একই প্রশ্ন করলে তিনি তৃতীয়বারও বললেন, সুন্দর চরিত্র। আর এ থেকেই বোঝা যায় ইসলাম সুন্দর স্বভাব-চরিত্র ও গুণকে কত বেশি গুরুত্ব দেয়। এভাবে আমি ইসলাম সম্পর্কে সঠিক চিত্র বা ধারণা অর্জন করতে পেরেছিলাম।

ডক্টর আবদুল করিম জারমানুস প্রাচ্য সম্পর্কিত জ্ঞানকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। তিনি প্রাচ্যের জাতি ও সংস্কৃতিগুলো সম্পর্কে জানতে গিয়ে বহু জাতির আচার-আচরণ ও প্রথা সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। কিন্তু বিশ্বের ইতিহাস ও সভ্যতায় ইসলামের অবদান তাকে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করেছে। তিনি এ প্রসঙ্গে বলেছেন:

“আমি এটা লক্ষ্য করেছি যে, যেসব দেশে ইসলাম প্রবেশ করেছে এবং সেখানকার জাতিগুলো যথাযথ ও পরিপূর্ণভাবে ইসলামের বিধিবিধান পালন করেছে সেইসব দেশের ব্যাপক উন্নতি ঘটেছে। এমনকি ইউরোপের কোনো কোনো দেশও ইসলামের সামাজিক আইনকে ব্যবহার করেছে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে বর্তমান যুগে মুসলমানরা ইসলাম সম্পর্কে অসচেতন হয়ে আছে। ইসলামের উন্নত ও গঠনমূলক শিক্ষা থাকা সত্ত্বেও তারা নিজ নিজ দেশে উপনিবেশবাদীদের শেকড় গাড়ার এবং ইসলামী বিধি-বিধানকে ক্ষত-বিক্ষত সুযোগ দিয়েছে। এইসব মুসলমান বলে যে মানব-জীবনে ইসলামের কোনো ভূমিকা নেই।”

পবিত্র কুরআনের সমৃদ্ধ বাণী মানুষকে নানা বিষয়ে সক্রিয় হওয়ার ও সংকল্পবদ্ধ হওয়ার প্রেরণা যোগায়। আর এ বিষয়টি আবদুল করিম জারমানুসকে আকৃষ্ট করেছে। তিনি এ প্রসঙ্গে বলেছেন:

“যখন আমি কুরআন অধ্যয়ন করতাম তখন অধ্যবসায়ী হবার ব্যাপারে কুরআনের বার বার উৎসাহ প্রদান আমাকে অভিভূত করত। মহান আল্লাহ বলেছেন, আল্লাহ কোনো জাতির অবস্থা পরিবর্তন করে না, যতক্ষণ না নিজেরাই নিজেদের অবস্থা পরিবর্তন করে না। এ বিষয়টি ছিল আমার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমার কাছে এ বিশ্বাসও ছিল গুরুত্বপূর্ণ যে যখন প্রচেষ্টার পাশাপাশি আল্লাহর ওপর ভরসা করা হয় তখনই সাফল্য আসে।”

জারমানুস নিজ জীবনের শ্রেষ্ঠ মুহূর্ত প্রসঙ্গে বলেছেন: ভারত সফরের সময় সেখানকার একটি মসজিদে প্রবেশ করে আমি যখন ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করি সেটাই ছিল আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ ও সুন্দরতম মুহূর্ত। কারণ, আমি বুঝতে পেরেছিলাম যে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পথটি বেছে নিয়েছি আমি। ওই গৌরবোজ্জ্বল মুহূর্তটি মুসলমানদের অভিনন্দনের মধ্য দিয়ে আরো সুমিষ্ট ও আনন্দদায়ক হয়েছিল।”

পার্স টুডে

টনি ব্লেয়ারের শ্যালিকা যে কারনে ইসলাম গ্রহণ করেন

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের ঘটনার পর থেকে ইউরোপ ও আমেরিকায় ইসলাম বিদ্বেষী ততপরতা জোরদার হওয়া সত্ত্বেও ইসলামের প্রতি এ অঞ্চলের অমুসলিম জনগণের আকর্ষণ ক্রমেই বাড়ছে।

মহান আল্লাহই পবিত্র কোরআনের সুরা তওবার ৩২ নম্বর আয়াতে বলেছেন, “তারা তাদের মুখের ফুৎকারে আল্লাহর নূরকে নির্বাপিত করতে চায়। কিন্তু আল্লাহ অবশ্যই তাঁর নূরের পূর্ণতা বিধান করবেন, যদিও কাফেররা তা অপ্রীতিকর মনে করে।”

ব্রিটেনের খ্যাতনামা মহিলা ব্যক্তিত্ব ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারের স্ত্রীর সৎ বোন লরেন বুথ সাম্প্রতিক সময়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। বুথ জন্ম গ্রহণ করেছেন ১৯৬৭ সালে। ইসলামে দীক্ষিত হওয়া সম্পর্কে তিনি লিখেছেন: “আমাকে যখন কেউ প্রশ্ন করে কেন আমি এমন এক ধর্মে দীক্ষিত হলাম যে ধর্ম পশ্চিমা গণমাধ্যমে সবচেয়ে কম নন্দিত হয়, তখন ইরানের একটি মসজিদে আমি যে আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি তা উল্লেখ করা জরুরি মনে করি।”

সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারের স্ত্রীর সৎ বোন লরেন বুথ একজন উপস্থাপক, সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী। তাই মধ্যপ্রাচ্যের খবর পরিবেশনের জন্য তিনি অনেক বার এ অঞ্চল সফরের সুযোগ পেয়েছেন। ভ্রমণ-কাহিনীর একাংশে মিসেস বুথ বলেছেন, “পরবর্তী তিন বছরে আমি বেশ কয়েকবার অধিকৃত ফিলিস্তিন সফর করেছি। ধর্ম ও নানা শ্রেণী বা সম্প্রদায় নির্বিশেষে ফিলিস্তিনিদের যেসব কষ্ট ও দূর্দশা দেখেছি তা আমার কাছে অসহনীয় বা বেশ ভারী বোঝা বলে মনে হয়েছে।

২০০৫ সালের জানুয়ারি মাসে আমি একাকী ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীর সফর করেছিলাম যাতে ‘দ্যা মেইল অন সানডে’ নামক দৈনিকটির জন্য নির্বাচনের সংবাদ পাঠাতে পারি। এর আগে আমি কখনও কোনো আরব বা মুসলমানদের এলাকায় থাকিনি। এ সফর আমাকে মর্মান্তিক অভিজ্ঞতা এনে দেয়। পৃথিবীর এ অঞ্চল এবং হযরত মুহাম্মাদ (সা.)’র অনুসারীদের ব্যাপারে আমরা যা জানি তার বেশিরভাগেরই ভিত্তি হল পশ্চিমা গণমাধ্যমের বৈষম্যমূলক ও উদ্বেগপূর্ণ নানা খবর। আর এ জন্যই মধ্যপ্রাচ্যের পথে বিমানে থাকার সময় কেবলই মনে এসেছে বার বার ব্যবহৃত হওয়া পুরনো কিছু শব্দ। যেমন, যেখানে যাচ্ছি সেখানকার মানুষ উগ্র বা গোড়া, সেখানে বিয়েগুলো হয় আরোপিত, তারা আত্মঘাতি বোমা হামলাকারী এবং জিহাদি। কিন্তু আমি যা ভাবতাম তার চেয়েও অনেক বেশি ইতিবাচক ছিল আমার এই প্রথম অভিজ্ঞতা।”

টনি ব্লেয়ারের স্ত্রীর সৎ বোন লরেন বুথ আরো বলছেন, “উপযোগী পোশাক ও কোট না পরেই প্রবেশ করলাম ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে। কারণ, ইসরাইলি কর্মকর্তারা বিমানবন্দরে আমার স্যুটকেস রেখে দিয়েছিল। রামাল্লার কেন্দ্রস্থলে যখন হাঁটছিলাম শীতে গা কাঁপছিল। এক বৃদ্ধা মহিলা আমার হাত ধরলেন। মহিলা খুব দ্রুত কথা বলছিলেন এবং নিয়ে গেলেন গলির এক কোনে অবস্থিত তার ঘরে। আমি ভয় পাচ্ছিলাম যে সম্ভবত: একজন বৃদ্ধা সন্ত্রাসী আমাকে অপহরণ করলেন। কয়েক মিনিটের জন্য হতভম্ব হয়ে ছিলাম। এরপর দেখলাম বৃদ্ধা ফিলিস্তিনি মহিলা তার মেয়ের পোশাকের আলমারি থেকে আমার জন্য একটি কোট, টুপি এবং ওড়না বের করলেন। এরপর আমাকে ফিরিয়ে নিয়ে গেলেন ঠিক সেই সড়কে যেখানে আমি হাঁটছিলাম। বৃদ্ধা ফিলিস্তিনি মহিলা আমাকে চুমো খেলেন এবং খুব আন্তরিক চিত্তে বা বন্ধুত্বপূর্ণ আবেগ নিয়ে আমাকে সঙ্গ দিচ্ছিলেন। আমাদের মধ্যে বোধগম্য একটি শব্দও বিনিময় হয়নি। কিন্তু তার ওই দানশীল আচরণ আমি কখনও ভুলব না। এমন ঘটনা নানা আঙ্গিকে ঘুরে-ফিরে শত শত বার ঘটতে দেখেছি। কিন্তু যেসব খবর আমরা পড়ি বা দেখি তাতে এমন সহৃদয় আচরণের কথা খুব কমই স্থান পেয়েছে।”

মিসেস বুথ আরো লিখেছেন, “ধীরে ধীরে আমার দৈনন্দিন কথোপকথনে মাশাআল্লাহ ও ইনশাল্লাহ জাতীয় শব্দগুলো স্থান করে নেয়। মুসলমানরা গভীর আনন্দময় অনুভূতি নিয়ে আল্লাহর নাম থেকে উৎসারিত এসব সংক্ষিপ্ত বাক্য উচ্চারণ করেন। মুসলিম গ্রুপগুলোর সঙ্গে সাক্ষাত আর অপছন্দনীয় মনে হত না। বরং আবার কখন এ ধরণের গ্রুপের সাথে সাক্ষাত করব সে জন্য অপেক্ষায় থাকতাম। এসব গ্রুপের সাথে সাক্ষাতের ফলে সচেতন ও বিচক্ষণ লোকদের সঙ্গ পেতাম এবং আরো বড় দিক হল, এসব সাক্ষাতের সুবাদে দয়ালু ও দানশীল মানুষের সঙ্গ পেতাম।”

মুসলিম মহিলাদের সঙ্গে ব্যাপক যোগাযোগের সুবাদে লরেন বুথের কাছে এটা স্পষ্ট হয়ে গেছে যে তাদের সম্পর্কে পাশ্চাত্যে যেসব ধারণা দেয়া হয় বাস্তবতা তার সম্পূর্ণ বিপরীত। তিনি লিখেছেন, “মুসলিম সংস্কৃতি ও বিশেষ করে মুসলিম মহিলাদের সংস্কৃতি সম্পর্কে উপলব্ধি ইসলাম সম্পর্কে আরো ব্যাপকভাবে জানার উৎসাহ দিয়েছে আমাকে। মুসলিম নারীর মাথা থেকে পা পর্যন্ত ঢাকা থাকে। আর এই পোশাকের কারণেই তারা অন্যদের কাছে সম্মান পায়। অন্যদিকে আমাদের তথা পাশ্চাত্যের ফ্রি সোসাইটি বা কথিত মুক্ত সমাজে আমাদের নারী ও কন্যাদের কতটা সম্মান দেয়া হয়?

২০০৭ সালে আমি লেবাননে যাই। সেখানে আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের সঙ্গ দিয়েছি চারদিন। তারা সবাই পরিপূর্ণ হিজাব বা ইসলামী পোশাক পরত। অনুজ্জ্বল কিংবা জিনসের প্যান্টের ওপর পরা তাদের পোশাকে বেল্টও ছিল এবং ঢাকা ছিল তাদের চুল। তারা ছিল প্রাণোচ্ছল, স্বাধীন ও নির্ভিক বা স্পষ্টভাষী। অন্য কথায় জড়সড় বা গুটিয়ে থাকা মেয়ে ছিল না তারা। তাদেরকে জোর করে বিয়ে দেয়া হয় বলে পশ্চিমারা যা প্রচার করে তার সামান্য লেশও দেখা যায়নি।”

মিসেস বুথ আরো বলেছেন, “ওরা একবার হিজবুল্লাহর সেনা কমান্ডারের সাক্ষাতকার নিতে আমার সাথে এসেছিল। এই মেয়েদের সাথে হিজবুল্লাহ কমান্ডারের আচরণে বেশ আনন্দিত ও বিস্মিত হয়েছিলাম। তিনি যখন বন্দি বিনিময়ের বিষয়ে কথা বলছিলেন তারা স্বাধীনভাবেই কমান্ডারের কথার মাঝখানেই কথা বলছিল ও নিজেদের মত প্রকাশ করছিল।”

দোয়া ও মসজিদ প্রসঙ্গে বুথ বলেছেন, “সব সময়ই দোয়া বা প্রার্থনায় মশগুল হতে ভালবাসতাম। শৈশব থেকেই হযরত ঈসা (আ.) ও তাঁর পূর্ববর্তী নবী-রাসূলের কাহিনী শুনে মজা পেতাম। …..যতই মধ্যপ্রাচ্যে আমার সফর বাড়ছিল ততই মসজিদে যাওয়ার আগ্রহও বাড়তে থাকে। মসজিদ গির্জার মত মূর্তিযুক্ত ও বেঞ্চযুক্ত নয়। কার্পেট-বিছানো মসজিদকে বড় ধরণের বৈঠকখানার মত দেখলাম যেখানে শিশুরা খেলাধুলা করে এবং মহিলারাও সেখানে এবাদত-বন্দেগী করেন এবং হুইল-চেয়ারে বসা দাদীমারা কোরআন পড়ছেন। তারা তাদের জীবনকে নিয়ে এসেছেন মসজিদে এবং এবাদতের স্থানকে নিয়ে আসতেন নিজ ঘরে।”

বুথের জীবনের এক অনন্য ও মোড়-ঘুরিয়ে দেয়া ঘটনা ছিল কোম সফর। তিনি লিখেছেন, “এক সন্ধ্যায় ইরানের কোম শহরে আসি। সেখানে সোনালী গম্বুজের নীচে হযরত মাসুমা (সা.)’র পবিত্র মাজার পরিদর্শন করি। আমি যখন জিয়ারতকারী অন্য মহিলাদের মত তাঁর মাজারের মূল সমাধির চারপাশে থাকা লোহার জালি স্পর্শ করি তখন কয়েক বার আল্লাহর নাম উচ্চারণ করেছি। যখন বসলাম নির্ভেজাল এক আধ্যাত্মিক আনন্দ অনুভব করলাম। এ আনন্দ এমন নয় যা মানুষকে পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন করে, বরং তা এমন এক আনন্দ যা মানুষকে দেয় নিরাপত্তা ও পরিপূর্ণ প্রশান্তি। অনেকক্ষণ বসেছিলাম। ইসলাম মানুষকে যে শক্তি ও প্রশান্তি দান করে তা আমাকে সব সময়ই অভিভূত করেছে। এরপর ভাবলাম যে আমি মুসলিম বিশ্বে এখন আর একজন ট্যুরিস্ট নই, বরং ইসলামী সমাজেরই একজন মুসাফির (যে এখানে মাজার জিয়ারত করতে এসেছে,) যে ইসলামী সমাজে সব মুমিনই পরস্পর ভালবাসার বন্ধনে আবদ্ধ।”

বুথ আরো লিখেছেন, “মানুষ আমাকে প্রশ্ন করে, আমি কতটা কোরআন পড়েছি, উত্তরে বলতে হয়, কোরআন তো ম্যাগাজিনের মত পড়ার বিষয় নয়, কোরআনের গভীর অর্থবহ বাণী গভীরভাবে চিন্তা করে পড়া উচিত। সারা জীবন ধরে আমাকে বুঝতে হবে কোরআন। কোরআন আমাকে আরবী শিখতেও সহায়তা করে, আমিও আরবী ভাষা শিখতে আগ্রহী, তবে এ জন্যও সময় দরকার।”

ইসলাম গ্রহণের পর বদলে গেছে টনি ব্লেয়ারের শ্যালিকা মিসেস লরেন বুথের জীবন। এই পরিবর্তনে তিনি সন্তুষ্ট। এখন আর তিনি শুকরভোজী ও মদ্যপায়ী নন। ইসলাম তাকে দিয়েছে সৌভাগ্য ও চরম আনন্দের অনুভূতি।

আপনার মন্তব্য দিন

শেয়ার