সাপ্তাহিক পর্যালোচনা: পতন কাটিয়ে ঊর্ধ্বমুখী বাজার

শেয়ারবাজার যে ভালো হবে তার সবগুলো লক্ষণই বিদ্যমান। আগের সপ্তাহে লেনদেন ও সূচক উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমে গেলেও গত সপ্তাহে বেড়েছে সবই। যদিও প্রথম দুই দিন সূচক কমায় ঈদের আগে এক ধরনের ভীতি ছড়িয়েছিল। কিন্তু শেষ তিন দিনে পাল্টে যায় পরিস্থিতি। ঈদের আগে শেষ সপ্তাহকে ঘিরে রয়েছে আগ্রহ।

গত কয়েক সপ্তাহ ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) লেনদেন ও সবকটি সূচক ইতিবাচক ছিল।

শেয়ারবাজারের সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় বিনিয়োগকারীর মধ্যে চাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। যার কারণে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গত সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে তিন দিনই বেড়েছে সূচক।

গত সপ্তাহে (১০-২৪ আগস্ট) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) মূল্যসূচক বেড়েছে। যার পরিপেক্ষিতে সাপ্তাহিক ব্যবধানে দেশের উভয় স্টক এক্সচেঞ্জে সব ধরনের সূচকের পাশাপাশি লেনদেনের পরিমাণও বেড়েছে।

আলোচিত সপ্তাহটিতে লেনদেন বেড়েছে ৭০.২২ শতাংশ। প্রধান সূচক বেড়েছে ০.৪১ শতাংশ। আর গড় লেনদেনের পরিমাণ বেড়েছে ১৭ কোটি ৩৮ লাখ ১১ হাজার ৯৪ টাকা।

সম্প্রতি নেগেটিভ ইক্যুইটির বিষয়টিকে কেন্দ্র করে বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা ছিলো। কিন্তু নিয়ন্ত্রক সংস্থা সেই আশঙ্কাকে দূর করে বিনিয়োগকারীদের মনে স্বস্তি এনে দিয়েছে। কেননা আরও এক বছর লেনদেনের সময় পেল পুঁজিবাজারের ঋণাত্মক মূলধনধারী বিনিয়োগ হিসাবগুলো। শেয়ার কেনাবেচার প্রান্তিক প্রতিবেদন জমা দেওয়ার শর্তে ১ বছর ৩ মাস সময় বাড়িয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

সাপ্তাহিক বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সপ্তাহ শেষে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স বেড়েছে ২৪.৩১ পয়েন্ট। ডিএসই-৩০ সূচক বেড়েছে ২.২৫ পয়েন্ট। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক বেড়েছে ১.৪৪ পয়েন্ট।

সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৩৫টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের মধ্যে ১৭৬টির দাম বেড়েছে। অপরদিকে দাম কমেছে ১৪০টির। আর অপরিবর্তিত রয়েছে ১৭টির দাম এবং লেনদেন হয়নি দুইটির। এগুলোর ওপর ভর করে সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে চার হাজার ১৬৪ কোটি ২৬ লাখ ৭১ হাজার ৯৮৯ টাকা। এর আগের সপ্তাহে লেনদেন হয় দুই হাজার ৪৪৬ কোটি ৪১ লাখ ৬৯ হাজার ৯১২ টাকা। অর্থাৎ গত সপ্তাহে মোট লেনদেন বেড়েছে এক হাজার ৭১৭ কোটি ৮৫ লাখ দুই হাজার ৭৭ টাকা।

আর সপ্তাহজুড়ে মোট লেনদেনের ৮৪ দশমিক ৯১ শতাংশই ছিল ‘এ’ ক্যাটাগরিভুক্ত কোম্পানির শেয়ারের দখলে। এছাড়া বাকি ৫.৪৩ শতাংশ ‘বি’ ক্যাটাগরিভুক্ত, ৮.২৬ শতাংশ ‘এন’ ক্যাটাগরিভুক্ত এবং ১.৪০ শতাংশ ‘জেড’ ক্যাটাগরিভুক্ত কোম্পানির শেয়ারের।

সপ্তাহশেষে চট্টগ্রাম স্টক এক্সেচঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক বেড়েছে ৩৩.২৬ পয়েন্ট। সপ্তাহজুড়ে সিএসইতে তালিকাভুক্ত মোট ২৮৫টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১৩৮টি কোম্পানির। দর কমেছে ১২০টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২৭টির। আর সপ্তাহজুড়ে লেনদেন হয়েছে ২৬৮ কোটি ৭৩ লাখ ৫৯ হাজার ৪৯৯ টাকা।

ডিএসইতে টার্নওভারের দিক থেকে শীর্ষ দশ কোম্পানি হলো বিবিএস কেবলস, বাংলাদেশ বিল্ডিং সিস্টেমস, লংকাবাংলা ফাইন্যান্স, ফরচুন সুজ, এসিআই লিমিটেড, আরএসআরএম, কেয়া কসমেটিকস, ইফাদ অটোস, সিঅ্যান্ডএ টেক্সটাইল এবং আইডিএলসি ফাইন্যান্স।

সিএসইতে সাপ্তাহিক টপ টেন গেইনার তালিকার শীর্ষে উঠে আসা কোম্পানির মধ্যে রয়েছে মুন্নু সিরামিক, ইনটেক অনলাইন, কেঅ্যান্ডকিউ, সমতা লেদার, স্টান্ডার্ড সিরামিক, বিচ হ্যাচারি, বাংলাদেশ বিল্ডিং সিস্টেমস, এলআর গ্লোবাল বাংলাদেশ মিউচ্যুয়াল ফান্ড, শমরিতা হসপিটাল এবং আরএসআরএম।

ডিএসইতে পিই রেশি কমেছে: সাপ্তাহিক ব্যবধানে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সার্বিক মূল্য আয় অনুপাত (পিই রেশিও) কমেছে। আগের সপ্তাহের চেয়ে পিই রেশিও কমেছে ০.০৫ শতাংশ। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র মতে, আলোচ্য সপ্তাহে ডিএসইতে পিই রেশিও অবস্থান করছে ১৬.২০ পয়েন্টে। এর আগের সপ্তাহে ডিএসইর পিই রেশিও ছিল ১৬.২১ পয়েন্ট। সে হিসেবে সাপ্তাহিক ব্যবধানে পিই রেশিও কমেছে ০.০১ পয়েন্ট।

বিশ্লেষণে দেখা যায়, ব্যাংক খাতের পিই রেশিও অবস্থান করছে ১০.৯৮ পয়েন্টে। অন্যান্য খাতের মধ্যে আর্থিক খাতের ২১.০০, প্রকৌশল খাতে ২৩.৭৬, খাদ্য ও আনুষাঙ্গিক খাতে ২৪.৬৪, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে ১৩.৮৫, পাট খাতে ৩৩২.৮৩, বস্ত্র খাতের ১৯.৭১, ওষুধ ও রসায়ন খাতে ২০.০০, কাগজ খাতে ঋণাত্মক ৭৬.৪৬, ভ্রমণ ও অবকাশ খাতে ২৮.৯৩, সেবা ও আবাসন খাতে ১৪.২০, সিমেন্ট খাতে ৩৫.৪৪, তথ্য ও প্রযুক্তি খাতে ৩১.৪৪, চামড়া খাতে ২৫.৯২, সিরামিক খাতে ২৩.৬৯, সাধারণ বিমা খাতে ১৬.৪৭, বিবিধ খাতে ২৮.২৪ এবং টেলিযোগাযোগ খাতে পিই রেশিও ১৮.৫৭।

সাপ্তাহিক রিটার্নে দর বেড়েছে: সমাপ্ত সপ্তাহে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) দর (রিটার্ন) বেড়েছে ১৪ খাতে। আর দর কমেছে ছয় খাতে। লংকাবাংলা সিকিউরিটিজ লিমিটেড সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, আলোচ্য সপ্তাহে সবচেয়ে বেশি দর বেড়েছে পাট খাতে। এই খাতে ১০.১০ শতাংশ দর বেড়েছে। এরপরে আইটি খাতে ৪ দশমিক ৬৫ শতাংশ দর বেড়েছে। অন্য খাতগুলোর মধ্যে ব্যাংক খাতে ০.১২ শতাংশ, সিরামিক খাতে ১.৫৩ শতাংশ, প্রকৌশল খাতে ২.৬৩ শতাংশ, খাদ্য-আনুসঙ্গিক খাতে ০.২১ শতাংশ, সাধারণ বিমা খাতে ০.২৮ শতাংশ, জীবন বিমা খাতে ১.৬৯ শতাংশ দর বেড়েছে। এছাড়া পেপার অ্যান্ড প্রিন্টিং খাতে ২.১৫ শতাংশ, ওষুধ-রসায়ন খাতে ০.৫০ শতাংশ, সেবা ও আবাসন খাতে ১.৮৮ শতাংশ, ট্যানারি খাতে ০.১৯ শতাংশ দর বেড়েছে।

অন্যদিকে বিদায়ী সপ্তাহে দর কমেছে বাকি ছয় খাতে। সবচেয়ে বেশি দর কমেছে সিমেন্ট খাতে। এই খাতে ২.১৬ শতাংশ দর কমেছে। এছাড়া বিবিধ খাতে ১.২০ শতাংশ, মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতে ০.৭১ শতাংশ দর কমেছে।

আপনার মন্তব্য দিন

শেয়ার