শক্তিশালী শত্রুকে প্রতিহত করার আমল !!

প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাদিসে ইরশাদ করেন, ‘আল্লাহ তাআলার ৯৯টি গুণবাচক নাম রয়েছে; যে ব্যক্তি এ গুণবাচক নামগুলোর জিকির করবে; সে জান্নাতে যাবে।’এ গুণবাচক নামগুলোর আলাদা আলাদা আমল এবং অনেক উপকার ও ফজিলত রয়েছে।

আল্লাহ তাআলার গুণবাচক নাম সমূহের মধ্যে (اَلْقَوِيُّ) ‘আল-ক্বাউয়িয়্যু’ একটি। এ পবিত্র নামের আমলের মাধ্যমে প্রবল শক্তিধর শত্রু বা দুশমনও ক্ষতি সাধনে অক্ষম থাকবে। স্তন্যদানকারীনী মহিলার দুধ বৃদ্ধি পাবে।

আল্লাহর গুণবাচক নাম (اَلْقَوِيُّ) ‘আল-ক্বাউয়িয়্যু’-এর জিকিরের আমল ও ফজিলত তুলে ধরা হলো-

উচ্চারণ : ‘আল-ক্বাউয়িয়্যু’
অর্থ : ‘সর্ব শক্তিমান’

আল্লাহর ‍গুণবাচক নাম (اَلْوَكِيْلُ)-এর আমল

ফজিলত

>> কোনো মানুষের শত্রু যদি এমন শক্তিশালী হয় যে, তাকে প্রতিহত করতে অক্ষম। তবে আল্লাহ তাআলার পবিত্র গুণবাচক নাম (اَلْقَوِيُّ) ‘আল-ক্বাউয়িয়্যু’-এর আমলের মাধ্যমে শক্তিশালী শত্রুর হাত থেকে মুক্ত হওয়া সম্ভব।

আমল

শক্তিশালী শত্রুর মোকাবেলায় ওই ব্যক্তি কিছু আটা গুলিয়ে তা দ্বারা ১০০১টি গোলা বানিয়ে তার প্রত্যেকটি ওঠানোর সময় (يَا قَوِيُّ) ‘ইয়া কাউয়িয়্যু’ পাঠ করে শত্রু দমনের নিয়তে মুরগির সামনে (বানানো আটার গোলা) পেশ করবে। আল্লাহ তাআলার ইচ্ছায় শত্রুরা পরাজিত হবে।

>> তাছাড়া জুমআর রাতে আল্লাহ তাআলার পবিত্র গুণবাচক নাম (اَلْقَوِيُّ) ‘আল-ক্বাউয়িয়্যু’- অত্যাধিক পাঠ করলে ভুলে যাওয়ার রোগ হতে রক্ষা পাওয়া যায়।

>> আর কোনো শিশু যদি মায়ের দুধ খাওয়া ছাড়ানোর পর ধৈর্যহীন হয়ে পড়ে তবে আল্লাহ তাআলার পবিত্র গুণবাচক নাম (اَلْقَوِيُّ) ‘আল-ক্বাউয়িয়্যু’- লিখে পানি দ্বারা গুলিয়ে খাওয়ালে ওই শিশু শান্ত হয়ে যাবে।

>> এমনিভাবে যদি কোনো দুধদানকারী মহিলার বুকের দুধ কমে যায়; তবে আল্লাহ তাআলার পবিত্র গুণবাচক নাম (اَلْقَوِيُّ) ‘আল-ক্বাউয়িয়্যু’- লিখে পানিতে মিশিয়ে খাওয়ালে ওই মহিলার বুখে দুধ আসবে।

পরিশেষে…

দুনিয়ার সব জালেম বা শক্তিশালী শত্রু বা দুশমনের হাত থেকে আত্মরক্ষায় আল্লাহ তাআলা গুণবাচক নাম (اَلْقَوِيُّ) আল-কাউয়িয়্যু’-এর আমল করা জরুরি। ছোট্ট এ নামটির আমলের ফলে দুশশনের মোকাবেলা, শিশু সন্তানের দুধ ছাড়ানোর পর ধের্যধারণ করা; স্তন্যদানকারী মহিলার দুধ বৃদ্ধি হয়।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহ সবাইকে এ ছোট্ট আমলটি করে যথাযথ উকারিতা লাভের তাওফিক দান করুন। আমিন।

আল্লাহ প্রেমিক মহিলা যে কারণে দামী পাথর দিয়ে দিলেন ভিক্ষুককে !!

যারা কারবালায় ইসলামের জন্য হাসিমুখে জীবন বিসর্জন দিয়েছিলেন তারা ছিলেন মানব-ইতিহাসের শীর্ষস্থানীয় রোজাদার ও নামাজি। কারবালায় শহীদ হওয়ার জন্য তাঁরা প্রতিযোগিতায় নেমেছিলেন এবং এ জন্য ইমামের একদল অনুসারী এতটাই ব্যাকুল ও আত্মহারা হয়েছিলেন যে তারা ইমামের দেখানো পথে হাজার বার নিহত হওয়ার আকাঙ্ক্ষা করেছিলেন! অন্যদিকে আলী (আ.)’ বিরোধী খারিজিরাও রাত জেগে নফল নামাজ পড়তো, কুরআন পাঠ করতো এবং রোজাও রাখত!

ইয়াজিদ বাহিনীর বেশিরভাগ সেনাও ছিল নামাজি ও রোজাদার! অথচ তাদের কুরআন-পাঠ এবং নামাজ-রোজায় প্রকৃত ইসলামের প্রাণ-সত্তার সামান্য ছোঁয়াও ছিল না! কারণ, তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে ভালোভাবে চিনতে পারেনি। ফলে তারা প্রকৃত শিক্ষকদেরকে শিক্ষক হিসেবে মেনে নেয়নি। পরিণতিতে আল্লাহ ও বিশ্বনবী (সা.) এবং তাঁর পবিত্র আহলে বাইত তাদের কাছে গুরুত্ব পায়নি। তারা নামাজ ও রোজার মাধ্যমে হয় কেবলই অভিনয় করেছে অথবা মুর্খতার কারণে কাঁচকে হিরা মনে করেছে, আর আসল হিরাকে ভেবেছে কাঁচ। মোট কথা আল্লাহু আকবার বা আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ- এ কথা কেবল মুখে মুখে বললেই হবে না, প্রতিটি মুহূর্তে নানা পরীক্ষায় তা প্রমাণ করতে হবে।

আমরা মহান আল্লাহকে সব কিছুর চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেই না বলেই পাপের শিকার হই। এ প্রসঙ্গে একটি কাহিনী রয়েছে। একবার এক ভিক্ষুক পথে এক মহিলার কাছে ভিক্ষা চাইতে গেলো। মহিলার ব্যাগে ছিল টাকা-পয়সা ও দামী হীরা-জহরত । ভিক্ষুক সেসব দেখে বললো: ওই যে পাথরটা দেখা যাচ্ছে, আমাকে কি সেটা দেবেন? মহিলা বললেন: কেনো দেয়া যাবে না?! নিন এই পাথরটাই নিন।

বিস্মিত ভিক্ষুক পাথরটা হাতে পেয়েই দৌড় দিয়ে বহু দূরে চলে যায়। কারণ, সে ভাবছিল যে মহিলা হয়তো ভুল করে এতো দামী পাথরটা দিয়েছেন, তাই হয়তো আফসোস করবেন এবং আবার পাথরটা ফেরত চাইবেন। ভিক্ষুক ওই মহামূল্যবান পাথরটা নিয়ে গেলো জহুরির দোকানে। জহুরি বলল: এতো দেখছি খুবই দামী পাথর। ওটার যে দাম তা দিয়ে তোমার পরবর্তী ১৪ পুরুষের আর কিছুই করা লাগবে না।

জহুরি বেশ চড়া দামে পাথরটি কিনতে চাইলেও ভিক্ষুক কি যেন ভেবে তা ফেরত নিয়ে সেই দানশীলা মহিলাকে খুঁজে বের করে। ভিক্ষুক তাকে প্রশ্ন করে: আপনি এই মহামূল্যবান পাথরটা আমায় দান করে কি দুঃখিত নন? মহিলা হেসে বললেন: না, মোটেই দুঃখিত নই।

ভিক্ষুক বলল: আপনি কিভাবে এমন উদার মনের অধিকারী হয়েছেন- তা জানতে চাই? আপনার এই মনটাইতো অনেক বেশি দামী। আমিও এমন মনই অর্জন করতে চাই। এই পাথর আর চাই না। নিন, আপনার পাথর ফেরত নিন।

মহিলা পাথর ফেরত না নিয়েই অশ্রুসজল চোখে বললেন: দেখুন, আমি এ বিশ্ব-জগতে আল্লাহকেই সবচেয়ে বড় ও সবচেয়ে দামী মনে করি। তাই অন্য কোনো কিছু পেয়ে বা হারিয়ে আমি কখনও দুঃখিত বা আনন্দিত হই না। সবকিছুর মালিক তো তিনিই। তিনি ছাড়া অন্য সব কিছুই আমার কাছে খুবই তুচ্ছ বা মূল্যহীন।

জান্নাতি পাথর ‘হাজরে আসওয়াদ’ ও তার উপকারিতা !!

হাজরে আসওয়াদ আল্লাহ তাআলার অনন্য নিদর্শনের একটি। ‘হাজরে আসওয়াদ বা কালো পাথর’ মুসলিম উম্মাহর জন্য রহমতস্বরূপ জান্নাতি পাথর। যা ছিল বরফের ন্যায় ধবধবে সাদা।

প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্বহস্তে বাইতুল্লাহ শরিফের দক্ষিণ-পূর্ব কোনো তা স্থাপন করেন। হজ ও ওমরার ফরজ কাজ কাবা শরিফের তাওয়াফ এ হাজরে আসওয়াদ থেকে শুরু করতে হয়।

প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ পাথরে চুম্বন করেছিলেন। এ কারণেই মুসলিম উম্মাহ এ পাথরকে চুম্বন করে।

তাওয়াফ শুরু আগে হাজরে আসওয়াদকে চুম্বন বা স্পর্শ করা অথবা দূর থেকে ইশারা করে ‘বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার’ বলে তাওয়াফ শুরু করতে হয়।

হাজরে আসওয়াদ সম্পর্কে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। যদিও এ পাথরকে ‘হাজরে আসওয়াদ বা কালো পাথর বলা হয়; মূলত এ পাথরের পরিচিতি হলো-

>> এ পাথরটি জান্নাত থেকে বরফ অপেক্ষা সাদা অবস্থায় অবতরণ করেছিল।
>> আদম সন্তানের পাপ গ্রহণ করতে করতেই তা ‘হাজারে আসওয়াদ বা কালো পাথরের’ রূপ ধারণ করেছে।
>> হাজরে আসওয়াদই একমাত্র জান্নাতি পাথর। যা ব্যতীত দুনিয়াতে অন্য কোনো জান্নাতি বস্তু বর্তমান নেই।
>> আল্লাহ তাআলা এ পাথরকে কিয়ামত দিবসে উঠাবেন। তখন এ পাথর ওই ব্যক্তির জন্য সাক্ষ্য প্রদান করবে যে তাকে সততার সঙ্গে স্পর্শ করেছিল।
>> নিঃসন্দেহে হাজরে আসওয়াদ ও রোকনে ইয়ামেনির স্পর্শ দ্বারা আল্লাহ তাআলা বান্দার পাপ মিটিয়ে দেন।

সর্বোপরি কথা হলো-
‘হাজরে আসওয়াদ’কে যদি জাহেলি যুগের অপবিত্রতা স্পর্শ না করতো; তবে তাকে যে কোনো রোগ-ব্যাধি আক্রান্ত লোক স্পর্শ করার সঙ্গে সঙ্গেই আরোগ্য লাভ করতো।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর সব হজ ওমরা ও জিয়ারতকারীদেরকে দুনিয়ায় অবস্থিত জান্নাতি পাথর ‘হাজরে আসওয়াদ’কে ‍চুম্বন বা স্পর্শ করার তাওফিক দান করুন।

হাজরে আসওয়াদের চুম্বন ও স্পর্শ করার ফজিলত দান করুন। কিয়ামতের দিন হাসরে আসওয়াদের সাক্ষ্য লাভ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

আপনার মন্তব্য দিন

শেয়ার