রাজনীতিতে কে কার আত্মীয় শুনলে মাথা সত্যিই ঘুরে যাবে

“বঙ্গবন্ধুর” বড় মেয়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী “শেখ হাসিনার” একমাত্র মেয়ে “সায়মা ওয়াজেদ”(পুতল)। তার স্বামী “খন্দকার মাশরুর হোসেন” (মিতু) বর্তমান সরকারের এলজিআরডি মন্ত্রী ফরিদপুর-৩ আসনের এমপি “ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেনের” ছেলে।
.
ফলে ‘শেখ হাসিনা’ ও ‘ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ’ সম্পর্কে বেয়াই-বেয়াইন। আবার ‘পুতুলের’ দাদা শ্বশুর ‘খন্দকার নুরুল হোসেন’ ছিলেন বঙ্গবন্ধুর ফুফাতো ভাই। খন্দকার মোশাররফের ছোট ভাই খন্দকার মোহতাশিম হোসেন হলেন ফরিদপুর সদর উপজেলা চেয়ারম্যান।
.
শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের ননদের স্বামী হলেন সিরাজগঞ্জ-২ আসন থেকে নির্বাচিত আওয়ামী লীগ দলীয় এমপি ডা. হাবিব মিল্লাত মুন্না।
.
আবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বামী প্রখ্যাত পরমাণু বিজ্ঞানী প্রয়াত ড. ওয়াজেদ মিয়ার বড় বোনের নাতনি হলেন আওয়ামী লীগ সরকারের হুইপ গাইবান্ধা-২ আসনের এমপি মাহবুব আরা গিনি।
.
বঙ্গবন্ধু পরিবারের আরেক আত্মীয় হলেন প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভী রহমান হলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছোট বোন শেখ রেহানার খালা শাশুড়ি। সে হিসেবে জিল্লুর রহমান হলেন শেখ হাসিনার তালই।
.
আবার জিল্লুর রহমান ও আইভী রহমানের সন্তান হলেন ভৈরব-কুলিয়ারচর আসনের আওয়ামী লীগদলীয় এমপি ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রেসিডেন্ট ‘নাজমুল হাসান পাপন’।
.
বঙ্গবন্ধুর বোন আছিয়া বেগমের দুই ছেলে হলেন শেখ ফজলুল হক মণি ও শেখ ফজলুল করিম সেলিম। সম্পর্কে তারা শেখ হাসিনার আপন ফুফাতো ভাই।
.
যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা শেখ ফজলুল হক মণি ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট ঘাতকদের হাতে শহীদ হন। তার ছেলে ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নুর তাপস ঢাকা-১০ আসন-এর এমপি। বঙ্গবন্ধুর আরেক ভাগ্নে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ সেলিম হলেন সাবেক মন্ত্রী ও গোপালগঞ্জ-২ আসনের এমপি।
.
শেখ সেলিমের বোনের স্বামী হলেন বিজেপির প্রতিষ্ঠাতা ও এরশাদ সরকারের সাবেক মন্ত্রী প্রয়াত নাজিউর রহমান মঞ্জুর। যিনি পরে বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোটে যোগ দেন।
.
মঞ্জুর সম্পর্কে শেখ হাসিনার ফুফাতো বোনের স্বামী। আবার মঞ্জুর দুই ছেলে বিজেপির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ ও ড. আশিকুর রহমান শান্ত। বর্তমানে তারা বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের শরিক হিসেবে রাজনীতিতে সক্রিয়। শেখ হাসিনা সম্পর্কে তাদের খালা।
.
বঙ্গবন্ধুর ছোট ভাই শেখ নাসের। তার ছেলে হলেন বাগেরহাট-১ আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় এমপি শেখ হেলাল। তার মেয়ের জামাই হলেন ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ।
.
শেখ সেলিম ব্যারিস্টার পার্থের মামা ও শেখ হেলাল পার্থের শ্বশুর। আবার শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই শেখ সেলিমের আরেক ছোট বোনের জামাই হলেন যুবলীগের বর্তমান সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরী। আর শেখ সেলিমের ভায়রা হলেন আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী জামালপুর-১ আসনের এমপি আবুল কালাম আজাদ।
.
আবার শেখ সেলিমের ছেলে বিয়ে করেছেন বিএনপি সরকারের সাবেক মন্ত্রী ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর মেয়েকে।
.
ইকবাল হাসান টুকু ছাত্র জীবনে বঙ্গবন্ধুর জেষ্ঠ্য পুত্র শেখ কামালের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও সহপাঠি ছিলেন।
শেখ সেলিমের আরেক ছেলে বিয়ে করেছেন আলোচিত ব্যবসায়ী মুসা বিন শমসেরের মেয়েকে। এই মুসা বিন শমসেরের ছেলে ববি হাজ্জাজ হলেন এরশাদের সাবেক মুখপাত্র ও জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা।
.
বঙ্গবন্ধুর বড় বোনের স্বামী হলেন আওয়ামী লীগ নেতা মরহুম আবদুর রব সেরনিয়াবাতের ছেলে হলেন জাতীয় সংসদের সাবেক চিফ হুইপ বরিশাল-১ আসনের আওয়ামী লীগদলীয় এমপি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ।
.
শেখ হাসিনা ও হাসানাত আবদুল্লাহ পরস্পরের মামাতো-ফুফাতো ভাই-বোন। আবার হাসানাত আবদুল্লাহর ছোট বোনের দেবর হলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ। সম্পর্কে শেখ হাসিনার বেয়াই।
.
হাসানাত আবদুল্লাহর সম্পর্কে চাচাতো ভাই হলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক।
.
শেখ হাসিনার আরেক ফুফাতো ভাই হলেন মাদারীপুরের সাবেক এমপি প্রয়াত ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরীর বড় ছেলে নূর-ই-আলম চৌধুরী (লিটন চৌধুরী) আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক হুইপ ও মাদারীপুর-১ আসনের এমপি।
.
ইলিয়াস চৌধুরীর ছোট ছেলে মজিবুর রহমান চৌধুরী (নিক্সন চৌধুরী) ফরিদপুর-৪ আসনের স্বতন্ত্র এমপি। সে হিসেবে লিটন ও নিক্সন চৌধুরী সম্পর্কে শেখ হাসিনার ভাতিজা।
.
শেখ হাসিনার সম্পর্কে আরেক ফুফাতো ভাই হলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাদারীপুর-৩ আসনের এমপি বাহাউদ্দিন নাছিম।
.
শেখ হাসিনার চাচা সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লি. এর চেয়ারম্যান শেখ কবির হোসেনের বেয়াই হলেন সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপির দীর্ঘ সময়ের মহাসচিব প্রয়াত আবদুল মান্নান ভূঁইয়া। মান্নান ভূঁইয়ার ছেলের সঙ্গে পারিবারিকভাবেই বিয়ে হয়েছে শেখ কবিরের মেয়ের। সে হিসেবে শেখ হাসিনার সম্পর্কে তালই হলেন মান্নান ভূঁইয়া।
.
বঙ্গবন্ধু পরিবারের সঙ্গে আত্মীয়তার বন্ধন রয়েছে ফরিদপুরের বিখ্যাত লাল মিয়া-মোহন মিয়া পরিবারের। বঙ্গবন্ধুর ফুফাতো বোন মোসাম্মাৎ বেগমের মেয়ে বিয়ে করেছেন লাল মিয়ার বড় ছেলে চৌধুরী মমতাজ হোসেন রাজা মিয়া। বঙ্গবন্ধুর ফুফাতো ভগ্নিপতি গোলাম গফুর চৌধুরী ছিলেন ফরিদপুরের খ্যাতিমান আইনজীবী।
.
সেই সঙ্গে শেখ হাসিনার বেয়াই ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফের সঙ্গে দ্বিমাত্রিক সম্পর্ক রয়েছে এ লাল মিয়া-মোহন মিয়া পরিবারের। পুতুলের শ্বশুর খন্দকার মোশাররফ হোসেনের আপন বোন বিয়ে করেছেন পাকিস্তান আমলের ডাকসাইটে নেতা মন্ত্রী মরহুম ইউসুফ আলী চৌধুরী মোহন মিয়ার ছেলে।
.
এছাড়া শেখ হাসিনার সম্পর্কে ফুফা হলেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য এমপি আমির হোসেন আমু। তার স্ত্রী প্রয়াত ফিরোজা হোসেন সম্পর্কে শেখ হাসিনার ফুফু।
.
ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও জাতীয় পার্টির মহাসচিব প্রয়াত শেখ শহীদুল ইসলাম আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার খালাতো ভাই। শেখ শহীদুল ইসলাম ছিলেন এরশাদ সরকারের শিক্ষামন্ত্রী।
.
প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়া দুজনের নানাবাড়িই জলপাইগুড়ি এলাকায়। পুরানো সম্পর্কে তারা পরস্পরের দূরসম্পর্কীয় খালাতো ভাই-বোন।
.
জিয়া পরিবারের দুই সন্তান তারেক রহমান ও প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকো।
তারেক রহমানের শ্বশুর বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সাবেক প্রধান মাহবুব আলী খান ছিলেন জিয়া সরকারের ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী। জিয়াউর রহমানের বড় ভাই রেজাউর রহমান নৌবাহিনীতে মাহবুব আলী খানের সহকর্মী ছিলেন।
.
১৯৮২ সালে দেশে সামরিক আইন জারীকালে অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খান উপ-প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক নিযুক্ত হন এবং পরে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা, যোগাযোগ ও কৃষিমন্ত্রী ছিলেন। তারেক রহমানের জেঠা শ্বশুর হলেন মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের সর্বাধিনায়ক ও পরে জনতা পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী প্রয়াত জেনারেল আতাউল গনি ওসমানী।
.
তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমানের খালু হলেন ফরিদপুরের বিখ্যাত খন্দকার পরিবারের সন্তান হিরু মিয়া। আর হিরু মিয়া হলেন বঙ্গবন্ধুর ফুফাতো ভাই এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের চাচাতো দাদা শ্বশুর।
.
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সাবেক মহাসচিব আইরিন খান হলেন তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমানের আপন জেঠাতো বোন।
.
খালেদা জিয়ার বড় বোন প্রয়াত খুরশিদ জাহান হক ছিলেন বিএনপি সরকারের মন্ত্রী।খালেদা জিয়ার দুই ভাগনে ইঞ্জিনিয়ার শাহরিন ইসলাম তুহিন নীলফামারী জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক এমপি।
.
আরেক ভাগনে সাইফুল ইসলাম ডিউক সাবেক সামরিক কর্মকর্তা। খালেদা জিয়ার ভাই প্রয়াত মেজর (অব.) সাঈদ এস্কান্দার ফেনী-১ আসনের সাবেক এমপি ও বিএনপি কেন্দ্রীয় নেতা ছিলেন।
.
ওয়ান ইলেভেনের ফখরুদ্দিন সরকারের সময়ে আলোচিত সেনাকর্মকর্তা লে. জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী সম্পর্কে সাঈদ এস্কান্দার ভায়রা ভাই।
.
সাঈদ এস্কান্দারের বেয়াই হলেন আওয়ামী লীগ নেতা ও হোটেল রাজমণি ঈশা খাঁর মালিক আহসান উল্লাহ মণি। সাঈদ এস্কান্দারের ছেলের কাছে মেয়ে বিয়ে দিয়েছেন মণি।
.
বিএনপি সরকারের সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার স্ত্রী সিগমা হুদার বড় ভাই দারা কবির বিয়ে করেছেন জিয়াউর রহমানের খালাতো বোন আতিকা শিরিনকে।
.
সাবেক প্রেসিডেন্ট ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান লে. জেনারেল (অব.) হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের আপন ভাই গোলাম মোহাম্মদ কাদের জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম মেম্বার।
.
এরশাদের আরেক ভাই প্রয়াত মোজাম্মেল হোসেন লালু ছিলেন জাতীয় পার্টির সাবেক এমপি।
এরশাদের ভাতিজা হলেন রংপুর-১ আসনের এমপি হোসেন মকবুল শাহরিয়ার আসিফ।
এরশাদের বোন মেরিনা রহমান সাবেক এমপি এবং ভগ্নিপতি প্রয়াত ড. আসাদুর রহমান রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন।
.
এরশাদের সম্পর্কে মামা ছিলেন বঙ্গবন্ধু, জিয়া ও এরশাদ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী রিয়াজউদ্দিন আহমেদ ভোলা মিয়া।
.
সাবেক প্রেসিডেন্ট এরশাদের সহধর্মিণী রওশন এরশাদ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১০ম সংসদের বিরোধীদলীয় নেত্রী।
.
এরশাদের শ্যালক হলেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি কূটনীতিক মহিউদ্দিন আহমেদ। তার শ্বশুর হলেন বিএনপির প্রথমদিকের অন্যতম শীর্ষ নেতা মশিউর রহমান যাদু মিয়ার মেয়ে মুক্তি রহমানকে বিয়ে করেছেন এরশাদের শ্যালক মহিউদ্দিন আহমেদ। সে হিসেবে এরশাদ এবং ২০ দলীয় জোটের শরিক বাংলাদেশ ন্যাপের সভাপতি জেবেল রহমান গনি পরস্পরের আত্মীয়।
.
রওশন এরশাদের বড় বোন মমতা ওয়াহাব ছিলেন এরশাদ সরকারের মন্ত্রী।
বাংলাদেশের সাবেক প্রেসিডেন্ট ও বিকল্পধারার সভাপতি প্রফেসর ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী বিএনপির প্রথম মহাসচিব।
.
বি. চৌধুরীর ছেলে হলেন বিএনপি সরকারের সাবেক এমপি ও বর্তমানে বিকল্পধারার সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাহী বি. চৌধুরী।
.
বি. চৌধুরীর শ্যালিকা হলেন আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি পান্না কায়সার।
বি. চৌধুরী হলেন শহীদ বুদ্ধিজীবী শহীদুল্লাহ কায়সারের ভায়রা ভাই। শহীদুল্লাহ কায়সার ও জহির রায়হানের কাজিন হলেন ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির অন্যতম শীর্ষ ব্যক্তিত্ব শাহরিয়ার কবির।
.
সাবেক প্রেসিডেন্ট ও প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমেদের মেয়ের ভাসুর হলেন আওয়ামী লীগ সরকারের সংস্কৃতিমন্ত্রী ও অভিনেতা আসাদুজ্জামান নূর।
.
সাবেক প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ইয়াজউদ্দিন আহমেদের আপন ভাতিজা হলেন কৌতুক অভিনেতা টেলিসামাদের শ্বশুরের বাড়ী মুন্সীগঞ্জ। টেলিসামাদের স্ত্রীর বড় ভাই হলেন মো. মহিউদ্দিন ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের বডিগার্ড ও সাবেক এমপি। অন্যজন জেলা আওয়ামী লীগ নেতা আনিসুজ্জামান।
.
বিএনপি সরকারের সাবেক প্রেসিডেন্ট ও বিএনপির স্বল্পকালীন চেয়ারম্যান ছিলেন বিচারপতি আবদুস সাত্তারের ভাগনে হলেন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও আওয়ামী লীগের সাবেক স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন।
.
সাবেক প্রেসিডেন্ট ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রয়াত জিল্লুর রহমানের সঙ্গে দূরসম্পর্কীয় আত্মীয় হলেন মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার ও বিএনপি সরকারের সাবেক মন্ত্রী মে. জেনারেল (অব.) মীর শওকত আলী বীরউত্তম।
.
আমার মনে হয় বিশ্বে রাজনীতির ইতিহাসে কোন দেশের রাজনীতিতেই আত্মীয়তার এতো দীর্ঘ সূত্রতা নেই!

(সংগৃহীত)

ফোনে হুমকি পেলে কি করবেন?

জেনে নিন বাংলাদেশের সাহসী পুলিশ অফিসার
জনাব মাসরুফ হোসেন-এর পরামর্শঃ
শেয়ার করে রাখনু কাজেও লেগে যেতে পারে।
===================================
বৃটিশ আমল থেকে চলে আসা আমলাতান্ত্রিক সংস্কৃতির কারণে বাংলাদেশের পুলিশ সরকারের অন্য অনেক সংস্থার মত নানা কারনে আলোচিত সমালোচিত।তবে যে কয়জন মানুষ সেই সংস্কৃতি ভেঙ্গে দিয়ে পুলিশকে মানুষের বন্ধু করার প্রত্যয় নিয়ে কাজ করছেন তাদের মধ্যে একজন হলেন সহকারী পুলিশ সুপার জনাব মাসরুফ হোসেন।

তিনি স্বপ্ন দেখেন বাংলাদেশ পুলিশ একদিন বিশ্বের সেরা পুলিশ বাহীনি হবে। ফেসবুকের জনপ্রিয় নেটওয়ার্কিং ব্যবহার করে প্রযুক্তি ও মেধার সমন্বয়ে তিনি প্রথম চালু করেন উত্তরা পুলিশ পেট্রোলের একটি ফেসবুক পেজ। পেজটি জনসাধারনের মাঝে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়।

মানুষ সরাসরি তাদের অভিযোগ, পরামর্শ পুলিশের উর্দ্ধতন অফিসারদের জানাতে পেরে নিজেদের প্রকৃত নাগরিক ভাবতে শুরু করে।

উত্তরায় থাকাকালীন সেখানকার সবচেয়ে অপরাধপ্রবন এলাকাগুলোকে পরিবর্তন করে ‘ডিজিটাল সেইফ জোন’ করার ক্ষেত্রে তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল। বাংলাদেশের সংস্কৃতিতে সরকারী চাকুরীজীবীরা ‘স্যার’ সম্বোধন শুনে অভ্যস্থ।

তিনি এই সংস্কৃতির বাইরে গিয়ে করদাতা জনগনকে ‘স্যার’ সম্বোধন করেন। পরবর্তীতে তিনি উত্তরা থেকে চলে আসেন গুলশান সার্কেলে। আপোষহীন ভূমিকা রাখেন তিনি ফরমালিন বিরোধী অভিযানে।

মানুষের পাশে ছুটে গেছেন তিনি একটি ফোন পেয়েই। তার অফিসে লেবু চায়ের দাওয়াত ছিল সবার জন্য। এরপর তাকে বদলী করা হয় খাগড়াছড়ি এপিবিএন এ। এই বদলিকে সাধারন মানুষ ভালভাবে নেয়নি।

সবাই ধারনা করেছিলেন তার ভাল কাজে ক্ষমতাধর কেউ ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে তাকে এই বদলি করেছে, যেটা ফেসবুকে তার ফলোয়াররা জানিয়েছিলেন তাদের মন্তব্যের মাধ্যমে। বর্তমানে তিনি উচ্চশিক্ষার্থে জাপান অবস্থান করছেন।

সেখান থেকেও তিনি তার নিজস্ব ফেসবুক পেজের (facebook.com/tahsinmashroofhossain) মাধ্যমে আগের মতই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন প্রজাতন্ত্রের মালিক জনগনের সঙ্গে থাকার। মানুষের জন্য এখনো তিনি তার সহযোগিতার হাত সম্প্রসারিত রেখেছেন।

বর্তমানে মোবাইল ফোনে অনেকেই সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজদের কাছ থেকে হুমকি পান। তাদের জন্য তিনি যে পরামর্শ দিয়েছেন তুলে ধরা হল।

ফোনে পাওয়া হুমকিগুলো সাধারণত এরকম হয়ঃ

“হ্যালো, আমি টপ রংবাজ /শীর্ষ সন্ত্রাসী মুন্ডুকাটা কুদ্দুছ (বা তার সহযোগী বেগুনী মমিন) বলছি।

আপনার ছেলে ওমুক জায়গায় পড়ে, বিকাশে শিজ্ঞিরি ২ লক্ষ টাকা না দিলে তাকে কিডন্যাপ করব।আমাদের বস ধরা পড়সে, তারে ছাড়াতে টাকা লাগবে।হেল্প করেন, নাইলে কিন্তু রাত আটটার বাংলা সংবাদ স্টাইলে খবর আছে”।

হুমকি পেয়ে আপনার হাত পা কাঁপাকাপি শুরু হয়ে গেল, তখন হুমকির দ্বিতীয় লাইনঃ “খবরদার, ঠোলামামাদের জানাবেন না কিন্তু!”

আপনি যদি বড়লোক এবং ভীতু হন, তক্ষুনি ছুটবেন টাকা বিকাশ করতে এবং টাকা দিয়ে “বাইচা গেছি” টাইপ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলবেন।আর যদি গরীব এবং সাহসী হন, মিনমিন করে বলবেন, “ইয়ে, এত টাকা তো নাই, আমি ২০০ টাকা ফ্লেক্সি করে দেই?”

নেগোসিয়েশনের বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ২ লাখ থেকে নেমে টাকার অংক হাজার খানেকে সেটেল হয়।

এবার আসল ঘটনা বলিঃ
এই কাজগুলো বেসিকালি করে ছোটখাটো বাটপারের দল, রিয়েল লাইফে যাদের দেখলে থাপ্পড় মারতেও ঘেন্না হবে আপনার।এরা নেশা ইত্যাদির টাকা যোগাড় করতে এই রিস্ক নেয়।

২ লাখ দিয়ে শুরু, যা পাওয়া যায় তাতেই লাভ।আমার পুলিশি অভিজ্ঞতা বলে, ফোনে/মেইলে যারা থ্রেট দেয় এরা মূলতঃ একেবারেই ভ্যান্দা টাইপের লোক।সত্যিকারের বিপজ্জনক ক্রিমিনালেরা সাধারণত ঘটনা ঘটিয়ে তারপরে ফোন দেয়, দ্যাট ইজ আ ডিফারেন্ট বল গেইম।

এরপরে এধরণের থ্রেট কেউ দিলে নিম্নোক্ত স্টেপসমূহ অনুসরণ করুনঃ

১) থ্রেট পুরোটা শুনুন।

২) এক্সপার্ট গালিবিদ বন্ধু থাকলে তাকে ফোন ধরিয়ে দিন এবং রুম ছেড়ে বাইরে গিয়ে তাদের “একান্ত সময়” কাটাতে দিন।ভুলেও রুমে থাকবেন না, আমার এক বন্ধুকে এরকম ফোন ধরিয়ে দেবার পর আমার আরেক দুর্বলচিত্ত বন্ধু তিন দিন খাবার খেতে পারেনি অরূচির কারণে!

৩) বারবার ফোন করলে ফোন অন করে পাশে রাখুন, ওর বিল উঠতে থাকুক।

৪) বেশি ভয় পেলে নিকটস্থ থানায় জিডি করুন।জিডিতে যে অফিসারের নাম নম্বর দেয়া থাকে তার সাথে যোগাযোগ রাখুন।যে মুহূর্তে জিডি করলেন, সে মুহূর্তে আপনার নিরাপত্তার দায়িত্ব ওই অফিসারের।আপনার গায়ে ফুলের টোকা পড়লেও সে জবাবদিহি করবে।

৫) এই ফেসবুকের যুগে আপনি দুপুরে কি দিয়ে ভাত খান এটা জানাটাও কঠিন না (আমি কি খাই ফুডব্যাংক গ্রুপেই দেখতে পাবেন!), তাই “অয়ি অপরিচিতে, মম তথ্য কোথা হতে পেলে গো সখে” টাইপ রাবীন্দ্রিক চিন্তাভাবনা থেকে বিরত থাকুন।

বুকে সাহস রাখুন, জীবনকে ভীতিপ্রদভাবে দেখার কোনই কারণ নেই।হলিউড মুভির একটা সংলাপ বলিঃ “No matter what we do, how hard we try, none of us are going to make it alive in the end of this life.The question is, when the time comes, we will be on our feet or on our knees”

ছেলেবেলায় খুব দুষ্ট ছিলাম, স্যারেরা প্রায়ই কান ধরে নীল ডাউন করিয়ে রাখতেন রোদের মধ্যে।সেই থেকে নীল ডাউনের প্রতি আমার খুব অনীহা, ঠিক করেছি দুপায়ের উপরেই থাকতে চেষ্টা করব শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত, আমার সাধ্যে যেটুকু কুলায়।

(পুনশ্চঃ সিরিয়াস রকমের বিপদে পুলিশি পরামর্শের স্টার্টিং পয়েন্ট না পেলে এই অধমকে ইমেইল করতে পারেন mashroofhossain@yahoo.com)
-(সংগৃহীত)

জেনে নিন ভালো মাছ কেনার ৯টি টিপস।কোন্ মাছ কিনলে ঠকবেন না !

জেনে নিন ভালো মাছ কেনার ৯টি টিপস।
=========================
মাছ কিনতে গিয়ে ঠকে আসেন নি বা দোকানী পচা মাছ গছিয়ে দেয়নি, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া মুশকিল। যতই ফরমালিন বা রঙ দেওয়া হোক না কেন, টাটকা ও ওষুধ মুক্ত মাছ চিনে নেওয়ার জন্য কৌশল আছে। এই ৯টি কৌশল প্রয়োগ করতে পারলে জীবনে আর কখনো মাছ কিনে ঠকতে হবে না আপনাকে।

১. টাটকা মাছের চোখ সবসময় স্বচ্ছ হবে। একদম ঝকঝকে চোখ হবে, দেখলে মনে হবে মাছটি জীবন্ত। সময়ের সাথে সাথে এই চোখ ঘোলাটে, মৃত হয়ে আসে। যত সময় যায়, চোখ তত নিষ্প্রাণ। ফরমালিনে মাছের মাংস পচে না ঠিকই, কিন্তু চোখের জীবন্ত ভাব নষ্ট হওয়া ঠেকানো যায় না। চোখ দেখলেই চিনে নিতে পারবেন তাজা মাছ।

২. টাটকা মাছ কখনোও শক্ত হবে না, আবার নরমও হবে না। তাজা মাছ হবে “বাউন্সি”। যদি আঙ্গুল দিয়ে চাপ দিলে দেখেন যে মাছ একদম শক্ত, বুঝবেন যে সেটা ফ্রিজে রাখা ছিল। আর যদি আঙ্গুল দিলেই দেবে যায় ভেতরে, বুঝবেন মাছের বয়স হয়েছে। তাজা মাছে আপনি আঙ্গুল দিয়ে চাপ দিলে দেবে যাবে। কিন্তু আঙ্গুল সরিয়ে নিলেই জায়গাটা ঠিক হয়ে যাবে।

৩. মাছের কানকো দেখাটা টাটকা মাছ চেনার একটা ভালো উপায়। যদিও মাছের কানকোতে এখন রঙ মিশিয়ে রাখেন দোকানিরা। তাই শুধু কানকো দেখে মাছ কিনবেন না। জেনে রাখুন, টাটকা মাছের কানকো হবে তাজা রক্তের রঙের এবং পিচ্ছিল, স্লাইমি ভাব থাকবে।

৪. চোখ আর কানকো দেখার পর মাছের শরীর দেখুন। মাছের শরীর কি চকচকে আর উজ্জ্বল রূপালি রঙের? বিশেষ করে সুপারশপের মাছে দেখবেন চকচকে রূপালি রঙের বদলে হলদে, লালচে বা অন্য রঙের আভা দেখা যায় মাছের গায়ে। এতে বুঝে নেবেন যে মাছটি অতি অবশ্যই অনেকদিনের পুরনো। তাজা মাছ চকচক করবে, সময় যাওয়ার সাথে সাথে চকচকে ভাব একেবারেই ম্লান হয়ে যাবে তা সে যতই ফরমালিন দেয়া হোক না কেন।

৫. তাজা মাছের গন্ধ হবে জলের মত, সামুদ্রিক মাছ হলে সমুদ্রের মত। শসার গন্ধের সাথেও মিল পেতে পারেন। যে মাছ থেকে বাজে গন্ধ আসবে, সেটা নিঃসন্দেহে তাজা মাছ নয়।

৬. চিংড়ি মাছের ক্ষেত্রে কিন্তু পদ্ধতি ভিন্ন। যদি চিংড়ী মাছের খোসা শক্ত আর ক্রিসপি থাকে, তাহলে মাছ তাজা। যদি খোসা নরম আর নেতিয়ে পড়া হয়, তাহলে মাছ ভালো নয়।

৭. সুপার শপের কেটে রাখা মাছ বা ফিশ ফিলে কিনতে চান? কাটা মাছের রঙ লক্ষ্য করুন। টাটকা মাছের মাংস হবে উজ্জ্বল রঙের। রঙ যত বিবর্ণ, মাছ তত পচা।

৮. বাজারে কেটে ভাগা দেওয়া মাছ কিনবেন? ভালো করে লক্ষ্য করুন মাছের আশেপাশে কোন সাদা বা ফ্যাকাশে রঙের জল আছে কিনা। যদি থাকে, বুঝবেন মাছ ভালো নয়। টাটকা মাছের আশেপাশে স্বচ্ছ জল থাকবে।

৯. জিয়ল মাছ যেমন শিং, মাগুর, শোল ইত্যাদি কিনতে গেলেও সাবধান। আজকাল দোকানিরা মরা জিয়ল মাছকেও টাটকা বলে ধরিয়ে দেন। জিয়ল মাছ যদি ট্রের মধ্যে ছটফট করে তাহলে সেই মাছ কিনুন। আগে থেকে বের করে ট্রে-তে সাজিয়ে রাখা মাছ নয়।

ভবিষ্যতে কাজে লাগাতে এবং অন্যকে জানাতে শেয়ার করে নিন।

আপনার মন্তব্য দিন

শেয়ার