রাগ করে তিন তালাকের পর স্ত্রীর সঙ্গে সংসার কি জায়েজ? জেনে নিন ইসলাম কি বলে

তালাক অত্যন্ত স্পর্শকাতর একটি বিষয়। কেউ এই ক্ষমতার অপব্যবহার করলে কিংবা ভুল পন্থায় তা প্রয়োগ করলে সে একদিকে যেমন গুনাহগার হবে অন্যদিকে তালাকও কার্যকর হয়ে যাবে। তাই প্রতিটি বিবেচক স্বামীর দায়িত্ব হল, তালাকের শব্দ কিংবা এর সমার্থক কোনো শব্দ মুখে উচ্চারণ করা থেকে সতর্কতার সাথে বিরত থাকা।

যেকোনো উপায়ে তিন তালাক দেওয়া হলে তিন তালাক কার্যকর হয়ে বৈবাহিক সম্পর্ক সম্পূর্ণরূপে শেষ হয়ে যায়। এ অবস্থায় শুধু মৌখিকভাবে স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনার যেমন কোনো সুযোগ থাকে না তেমনি নতুন করে বিবাহ দোহরানোর মাধ্যমেও ফিরিয়ে নেওয়ার পথ খোলা থাকে না।

একাধিক সহীহ হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিন তালাক দেওয়াকে তিন তালাকই গণ্য করেছেন। যদিও এভাবে তালাক দেওয়ার কারণে অত্যন্ত রাগান্বিত হয়েছেন।যেমন-

মাহমুদ বিন লাবীদ রা.বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জানানো হলো যে, জনৈক ব্যক্তি তার স্ত্রীকে একসাথে তিন তালাক দিয়েছে। তিনি (একথা শুনে) রাগান্বিত হয়ে দাঁড়িয়ে বললেন, তোমাদের মাঝে আমি থাকাবস্থায় আল্লাহর কিতাবের সাথে উপহাস করা হচ্ছে? এ সময় এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বললেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! আমি কি তাকে কতল করবো না? (-সুনানে নাসায়ী: ২/৯৮, আলজাওহারুন নাকী: ৭/৩৩৩, প্রকাশক: দারুল ফিকর)

লক্ষ্য করুন, এখানে নবীজী এক সঙ্গে তিন তালাক দেয়ার কারণে রাগান্বিত হয়েছেন, কিন্তু তাকে অকৃতকারয কিংবা এক তালাক বলে ঘোষণা দেন নি।

হযরত আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, রাফায়ার স্ত্রী বলল, হে আল্লাহর রাসুল, আমার স্বামী রাফায়া আমাকে এক সাথে তিন তালাক দিয়েছে? এরপর আমি আব্দুর রাহমানের সাথে বিবাহ করেছি। এখন রাফায়ার কাছে যেতে পারবো কিনা? নবীজী বললেন, আবদুর রহমান তোমার সাথে সহবাস করলে এরপর রাফায়ার নিকট যেতে পারবে।( সহীহ বুখারী ৫২৬১)

লক্ষ করুন, সাহাবাগণ জানতেন এক সাথে তিন তালাক দিলে তিন তালাক ই হয়, তাই রাফায়ার স্ত্রী তিণ তালাকের পর অন্যত্র বিবাহ বসেছেন, এরপর নবীজীর নিকট পরবরতী বিষয় জানতে এসেছেন।

সাহাবী উয়াইমির আজলানী রা. সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি এবং তার স্ত্রী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সামনে লিআন করলেন। যখন লিআন শেষ হলো তখন উয়াইমির রা. বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! এখন যদি আমি তাকে আমার কাছে রাখি তাহলে আমি মিথ্যাবাদী। অতঃপর উয়াইমির রা. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সামনে স্ত্রীকে এক সঙ্গে তিন তালাক দিলেন। হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তা কার্যকর করলেন এবং তাদের মাঝে বিচ্ছেদ ঘটালেন। (-সহীহ বুখারী: হাদীস নং ৫৩০৯, সুনানে আবু দাউদ: হাদীস নং ২২৫০)

হযরত আলী রা. এর শাহাদাতের পর যখন হাসান রা. খলীফা নির্বাচিত হলেন তখন তার স্ত্রী আয়েশা খাছআমিয়া তাকে মোবারকবাদ জানান। হযরত হাসান রা. স্ত্রীকে বললেন, তোমার এই মোবারকবাদ কি হযরত আলী রা.এর শাহাদাতের কারণে? তুমি কি এতে খুশি প্রকাশ করছো? তোমাকে তিন তালাক দিলাম। যখন তার ইদ্দত শেষ হয়ে গেল তখন হাসান রা. তার অবশিষ্ট মহর এবং সাথে আরো অতিরিক্ত দশ হাজার দিরহাম পাঠিয়ে দিলেন।

আয়েশা খাছআমিয়ার হাতে যখন এগুলো পৌঁছলো তখন তিনি বললেন, ‘প্রিয়ের বিচ্ছেদের তুলনায় এ সম্পদ অতি তুচ্ছ।’ হযরত হাসান রা. যখন এ কথা শুনলেন তখন অশ্রুসিক্ত নয়নে বললেন, ‘আমি যদি নানাজানকে বলতে না শুনতাম কিংবা বলেছেন, আমার আব্বার মাধ্যমে নানাজানের এ কথা না শুনতাম, ‘ যে ব্যক্তি স্ত্রীকে হায়েয থেকে পবিত্র অবস্থায় পর্যায়ক্রমে তিন তালাক দিল কিংবা একসাথে তিন তালাক দিল তার জন্য ওই স্ত্রী হালাল হবে না অন্য পুরুষের বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া ছাড়া, তাহলে আমি তাকে ফিরিয়ে আনতাম।’ (-আসসুনানুল কুবরা: ৭/৩৩৬, আলমু’জামুল কাবীর, তাবারানী : হাদীস নং ২৭৫৭, মাজমাউয যাওয়ায়েদ : হাদীস নং ৭৭৮৮)

হযরত হারুন ইবনে আনতারা তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তার পিতা বলেছেন, আমি একদিন আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. এর নিকট বসা ছিলাম। ইতিমধ্যে এক লোক এসে বলল, সে তার স্ত্রীকে এক বারেই একশো তালাক দিয়েছে। সে জানতে চাইল, এতে কি এক তালাক গণ্য হবে নাকি তিন তালাক গণ্য হবে? আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বললেন, তিন তালাক কার্যকর হয়ে তোমার স্ত্রী তোমার থেকে সম্পূর্ণরূপে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। আর বাকি সাতানব্বই তালাকের গুনাহ তোমার উপর বর্তাবে। (-মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা: আছার নং ১৮১০১)

উপরোক্ত হাদীস ও আসার থেকে বিষয়টি সুপ্রমাণিত যে. এক সাথে তিন তালাক দিলে তা তিন তালাকই হবে । এক তালাক নয়।
সৌদি আরবের সর্বোচ্চ উলামা পরিষদ ‘হাইয়াতু কিবারিল উলামা’-এর সর্বসম্মতিক্রম সিদ্ধান্তও এটিই যে, এক সাথে তিন তালাক দিলে তিন তালাকই কার্যকর হবে, এক নয়। হুকুমতে সৌদিয়া এ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী একটি শাহী ফরমানও জারী করেছে। যেন ওই ভুল প্রোপাগান্ডার শিকার কেউ না হয়। সেখানকার সকল আদালতে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে এই পরিষদের সিদ্ধান্তই ‘অথরিটি’।

আমাদের দেশের যেসব বন্ধুরা সৌদি আরবের সিদ্ধান্ত অনুসরণ করেন তারা এখানে চিন্তার খোরাক পাবেন বলে আশা করি।

কেন ক্ষমা একটি মহৎ গুন! জানুন, মহানবী (সাঃ)’র একটি চমৎকার ঘটনায়?

মহানবী (সাঃ) একদিন মসজিদে বসে আছেন । সাহাবীরা তাঁকে ঘিরে আছেন । এমন সময় মহানবী (সাঃ) বললেন, “এখন যিনি মসজিদে প্রবেশ করবেন, তিনি বেহেশতের অধিবাসী ।” একথা শুনে উপস্থিত সব সাহাবী অধীর আগ্রহে তাকিয়ে রইলেন মসজিদের প্রবেশ মুখে ।

সবার মধ্যে জল্পনা কল্পনা চলছে, হয়তো হজরত আবু বকর (রাঃ) বা হজরত উমর (রাঃ) অথবা এমন কেউ আসছেন যাঁদের বেহেশতের সুসংবাদ আল্লাহপাক ঘোষণা করেছেন । সবাইকে অবাক করে দিয়ে মসজিদে প্রবেশ করলেন একজন সাধারণ আনসার সাহাবী । এমনকি তাঁর নাম পরিচয় পর্যন্ত জানা ছিল না অধিকাংশের ।

এরপরের দিনেও সাহাবীরা মসজিদে বসে আছেন নবীজি (সাঃ) কে ঘিরে । নবীজি (সাঃ) আবার বললেন, “এখন যিনি মসজিদে প্রবেশ করবেন, তিনি বেহেশতের অধিবাসী ।” সেদিনও মসজিদে প্রবেশ করলেন সেই সাহাবী ।
তৃতীয় দিন নবীজি (সাঃ) সাহাবীদের লক্ষ্য করে আবার ঘোষণা দিলেন, “এখন যিনি মসজিদে প্রবেশ করবেন, তিনি বেহেশতের অধিবাসী ।” এবং সাহাবীরা দেখলেন সেই অতি সাধারণ সাহাবী মসজিদে প্রবেশ করলেন ।

পরপর তিনদিন এই ঘটনা ঘটার পর, সাহাবীদের মধ্যে কৌতূহল হলো সেই সাধারণ সাহাবী সম্পর্কে জানার জন্য । তিনি কেন অন্যদের চেয়ে আলাদা তা জানতে হবে । বিখ্যাত সাহাবী হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর আল আ’স (রাঃ) ভাবলেন, এই সাহাবীর বিশেষত্ব কী তা জানতে হলে তাকে নিবিড় ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে । তিনি সেই সাহাবীর কাছে গিয়ে বললেন, “আমার বাবার সাথে আমার মনোমালিন্য হয়েছে, তোমার বাড়িতে কি আমাকে তিন দিনের জন্য থাকতে দেবে ?’’

সেই সাহাবী রাজী হলেন । হজরত আবদুল্লাহ (রাঃ) তাঁকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করতে থাকলেন, খুঁজতে থাকলেন কী এমন আমল তিনি করেন । সারা দিন তেমন কোন কিছু চোখে পড়ল না । তিনি ভাবলেন হয়তো তিনি রাত জেগে ইবাদত করেন । না, রাতের নামায পড়ে তো তিনি ঘুমাতে চলে গেলেন । উঠলেন সেই ফজর পড়তে ।

পরের দুটি দিনও এভাবে কেটে গেল । হজরত আবদুল্লাহ (রাঃ) কোন বিশেষ আমল বা আচরণ আবিষ্কার করতে পারলেন না যা অন্যদের চেয়ে আলাদা । তাই তিনি সরাসরি সেই সাহাবীকে বললেন, “ দেখ আমার বাবার সাথে আমার কোন মনোমালিন্য হয় নি, আমি তোমাকে পর্যবেক্ষণ করার জন্য তোমার বাড়িতে ছিলাম । কারণ নবীজি (সাঃ) বলেছেন যে তুমি জান্নাতি। আমাকে বল তুমি আলাদা কী এমন আমল করো ?’’

সেই সাহাবী বললেন, “ তুমি আমাকে যেমন দেখেছ আমি তেমনই, আলাদা কিছুতো আমার মনে পড়ছে না”। এ কথা শুনে হজরত আবদুল্লাহ (রাঃ) তাঁকে বিদায় জানিয়ে চলে যেতে থাকলেন । এমন সময় সেই সাহাবী হজরত আবদুল্লাহ (রাঃ) কে ডেকে বললেন, ‘আমার একটা অভ্যাসের কথা তোমায় বলা হয়নি –রোজ রাতে ঘুমাতে যাবার আগে আমি তাদেরকে ক্ষমা করে দেই, যারা আমাকে কষ্ট দিয়েছে, বা আমার প্রতি অন্যায় করেছে ।

তাদের প্রতি কোন ক্ষোভ আমার অন্তরে আমি পুষে রাখি না”। হজরত আবদুল্লাহ (রাঃ) একথা শুনে বললেন, “এ জন্যই তুমি আলাদা, এ জন্যই তুমি জান্নাতি”। রাসূল (সাঃ) বলেছেন, যে মানুষের প্রতি দয়া করে না, আল্লাহও তার প্রতি দয়া করেন না । (বুখারী ও মুসলিম)

জেনে নিনর পবিত্র কুরআনে আমাদের প্রিয় নবী হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) এর গুণবাচক নামগুলো?

পৃথিবীর সূচনালগ্ন থেকে অদ্যাবধি যে ব্যক্তিত্বের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয়েছে, যাকে কেন্দ্র করে রচিত হয়েছে অসংখ্য ইতিহাস, রচনা, প্রবন্ধ, কবিতা ও গান,তিনি হলেন¬ মানবতার মহান পরম বন্ধু মহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাঃ। স্বয়ং আল্লাহরাব্বুল আলামিন তাঁর নামকে সুউচ্চ মিনারের সর্বোচ্চ চূড়ায় স্থান দিয়েছেন। আল কুরআনে তাঁর বিভিন্ন গুণবাচক নাম উল্লেখ করে তাঁকে মর্যাদার আরো উচ্চশিখরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আমি তোমার জন্য তোমার খ্যাতির কথা বুলন্দ করেদিয়েছি।” (সূরা আলাম নাশরাহঃ ৪) এমনকি আল্লাহ তায়ালা তাঁর অসীম ক্ষমতা বলে কাফেরদেরমাধ্যমে তাঁর আলোচনাকে পৃথিবীব্যাপী ছড়িয়ে দিয়েছেন।

নিম্নেআল কুরআনে আলোচিতবিভিন্ন গুণবাচক নাম আলোচনা করা হলোঃ

১. মুহাম্মদঃ আল কুরআনে এনামটি চার বার এসেছে। যথাঃ সূরা আলে ইমরানঃ ১৪৪, সূরা আহজাবঃ ৪০, সূরা মুহাম্মদঃ ২,সূরা আল ফাতাহঃ ২৯। মুহাম্মদ অর্থ প্রশংসিত।

২. আহমাদঃ আহমাদ নামটি আল কুরআনে শুধু একবার সূরা সফে এসেছে।আহমাদ শব্দের দু’টি অর্থ। এক. ‘অধিক প্রশংসিত’, আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে যিনিসবচেয়ে বেশি প্রশংসার যোগ্য। দুই. আল্লাহর সর্বাধিক প্রশংসাকারী। ‘আর স্মরণ করোঈসা ইবনে মারিয়ামের সেই কথা যা তিনি বলেছিলেনঃ ‘হে বনী ইসরাঈল! আমি তোমাদের কাছেআল্লাহর প্রেরিত রাসূল। আমি সেই তাওরাতের সত্যতা প্রতিপাদনকারী যা আমার আগে এসেছেএবং একজন রাসূলের সুসংবাদদাতা যিনি আমার পরে আসবেন, যার নাম ‘আহমাদ’। (সূরা সফ)

৩. নবীঃ ‘নাবা’ শব্দ থেকে এসেছে, যার অর্থ সংবাদ। রাসূল সাঃ আল্লাহর প্রতিনিধি হিসেবে তাঁর বাণী পৃথিবীর মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। কোন পথেমানুষের মুক্তি এবং কোন পথে শয়তান ফাঁদ পেতে বসে আছে তার সংবাদবাহক রাসূল সাঃঅসংখ্য পথ ও মতের মধ্যে তিনি সঠ িক পথের সংবাদবাহক।

৪. রাসূলঃ দূত বা বার্তাবাহক। (হে নবী) ‘আমি তোমাকে বিশ্ববাসীর জন্য রাসূল হিসেবে প্রেরণ করেছি।’ (সূরা নিসাঃ ৭৯) মানুষের শিক্ষা ও হিদায়াতের জন্য তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন বার্তাবাহক ছাড়া আর কিছু নহেন। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘(হে নবী) তুমি বলে দাও, আমি তোমাদেরই মতো মানুষ। আমি তো মানুষরাসূল ছাড়া কিছুই নই।’

৫. মুয্‌যাম্মিলঃ চাঁদর আবৃতব্যক্তি। ‘হে চাদর আবৃতকারী, রাত্রির কিয়দংশ জাগো, অর্ধেক রাত্রি অথবা তার চেয়েকিছু কম অথবা কিছু বেশি এবং তারতিলের সাথে কুরআন তেলাওয়াত করো। নিশ্চয় আমি তোমারওপর গুরুভার দায়িত্ব অর্পণ করেছি।’ (সূরা মুয্‌যাম্মিলঃ ১)

৬. মুদ্দাসসিরঃ বস্ত্র মুড়িদিয়ে শয়নকারী। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘হে বস্ত্র মুড়ি দিয়ে শয়নকারী, ওঠো এবং সাবধানকরে দাও, তোমার রবের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করো, তোমার পোশাক পবিত্র রাখো,অপবিত্রতা থেকে দূরে থাক।’ (সূরা মুদ্দাস্‌সিরঃ ১-৫)

৭. শাহিদঃ সাক্ষ্যদানকারী। ‘হে নবী নিশ্চয়ই আমি আপনাকে পাঠিয়েছি সাক্ষ্যদাতা।’ (সূরা আহজাবঃ৪৫) অর্থাৎ আল্লাহর শিক্ষা ও হিদায়াতের সাক্ষ্যদানকারী, ইসলামের রূপরেখা বা চিত্রেরজ্বলন্ত নমুনা।

৮. বাশির ও মুবাশ্বিরঃ সুসংবাদদানকারী। তিনি সৎকর্মশীলদের কল্যাণ ও সৌভাগ্যের সুসংবাদদানকারী। ‘হে নবীনিশ্চয়ই আমি আপনাকে পাঠিয়েছি সুসংবাদদানকারী হিসেবে।’ (সূরা আহজাবঃ ৪৫) প্রকৃতইরাসূলুল্লাহ সাঃ-এর পয়গাম ছিল মানবজাতির জন্য অনেক বড় সুসংবাদ।

৯. মুনজির ও নাজিরঃ ভীতি প্রদর্শনকারী। অর্থাৎ এখনো যারা সত্যসম্পর্কে অজ্ঞ, রাসূল সাঃ ছিলেন তাদের সতর্ক ও সাবধানকারী। ‘হে নবী আমি আপনাকেপাঠিয়েছি ভয় প্রদর্শনকারী হিসেবে।’ (সূরা আহজাবঃ ৪৫)

১০. আমিনঃ বিশ্বস্ত। নবী আকরাম সাঃ তাঁর উন্নত চরিত্র ওমাধুর্যমণ্ডিত স্বভাবের কারণে স্বতন্ত্র এবং বিশিষ্ট ছিলেন। তিনি ছিলেন সবার চেয়েঅধিক বক্তিত্ব সম্পন্ন, সবার জন্য নিরাপদ ও বিশ্বস্ত আশ্রয়স্থল। আরো ছিলেন একজন সম্মানিত প্রতিবেশী, বন্ধুভাবাপন্ন মানুষ, সর্বাধিক দূরদর্শিতাসম্পন্ন জ্ঞানী, সত্যবাদী, কোমল প্রাণ ও পবিত্র পরিচ্ছন্ন মনের অধিকারী। অঙ্গীকার পালনে, প্রতিশ্রুতি রক্ষায় ও আমানত আদান প্রদানে তিনি ছিলেন অতুলনীয়। তাই স্বজাতির লোকেরা তাঁকে আল আমিন নামে ভূষিত করেন।

১১. হাদিঃ পথ প্রদর্শকঃ রাসূল সাঃ ছিলেন সিরাতুল মুস্তাকিমেরপ্রদর্শক। মানবজাতি যখন আদিম জাহেলিয়াতের কোলে ঘুম গিয়েছিল, সভ্যতা যখন প্রগাঢ়অন্ধকারে ডুবেছিল, চারদিকে বিরাজ করছিল উত্তেজনা, মানুষ মানুষে সঙ্ঘাত, যুদ্ধ ওলুটপাটের তাণ্ডবে মেতে উঠেছিল, অসংখ্য পথ ও মতের যাঁতাকলে মানুষের নাভিশ্বাস শুরুহয়েছিল, তখন লাখো চাঁদের আলো নিয়ে হেরা থেকে নেমে এলেন সিরাতুল মুস্তাকিমেরপ্রদর্শক মুহাম্মদ সাঃ। লক্ষ্যচ্যুত জাতিকে তিনি পথের দিশা দিলেন।

১২. নূরঃ আলো। রাসূল সাঃ অন্ধকার পৃথিবীর এক আলোকিত মহামানব।তাঁর আগমনের পর সব অন্ধকার দূরীভূত হয়ে যায়। আল্লাহ তায়ালা তাঁর আগমনে বলেছেন,‘সত্য এসেছে, মিথ্যা অপসৃত হয়েছে, মিথ্যা তো পরাজয় ধ্বংস হবেই।’ তাঁর শিক্ষা ওচরিত্র যেমন ছিল আলোকিত ও ঝলমল, তেমনি তাঁর বাস্তব অবয়বও ছিল সূর্য ঝিকমিক। তাঁরচলনে-বলনে, আচার আচরণে লক্ষ চাঁদের আলো এসে আছড়ে পড়ত। তাঁর দৈহিক সৌন্দর্যসম্পর্কে আবু কারসনার মা ও খালা বলেন, ‘আমরা এমন সুদর্শন মানুষ আর দেখিনি। আমরা ওরমুখ থেকে আলো বিকীর্ণ হতে দেখেছি।’ হজরত আবু হোরায়রা বলেন, ‘রাসূল সাঃ-এর চেয়েসুদর্শন কাউকে দেখিনি। মনে হতো যেন সূর্য ঝিকমিক করছে।’

১৩. সিরাজুম মুনিরাঃ মূর্তিমান আলোক ও প্রদীপ। অর্থাৎ তাঁরব্যক্তিত্ব ও জীবন আমাদের পথের অন্ধকার দূরীভূতকারী উজ্জ্বল আলোকবর্তিকা। ‘হে নবীআমি তোমাকে সাক্ষ্যদানকারী, সুসংবাদদানকারী ও সতর্ককারী, আল্লাহর নির্দেশে তাঁরদিকে আহ্বানকারী এবং উজ্জ্বল প্রদীপ বানিয়ে পাঠ িয়েছি। (সূরা আহজাবঃ ৪৫-৪৬)

১৪. দায়ী ইলাল্লাহঃ আল্লাহর দিকে আহ্বানকারী। অর্থাৎ পথভ্রষ্ঠলোকদেরকে আল্লাহ পথে আহবানকারী। পথহারা মানুষকে তিনি সঠিক ঠ িকানায় পৌঁছে দিয়েছেন।‘হে নবী আমি তোমাকে সাক্ষ্যদানকারী, সুসংবাদদানকারী এবং সতর্ককারী, আল্লাহরনির্দেশে তাঁর দিকে আহ্বানকারী ও উজ্জ্বল প্রদীপ বানিয়ে পাঠিয়েছি। (সূরা আহজাবঃ৪৫-৪৬)

১৫. রহমতঃ অনুগ্রহ। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘(হে নবী) আমি যেতোমাকে পাঠিয়েছি, এটা আসলে দুনিয়াবাসীর জন্য আমার রহমত।’ (সূরা আম্বিয়াঃ ১০৭) হজরতমুহাম্মদ সাঃ আগমন আসলে সমগ্র মানবজাতির জন্য আল্লাহর বিশেষ রহমত বা অনুগ্রহ। কারণতিনি এসে অন্ধকারে নিমজ্জিত বিশ্বকে জাগিয়ে তুলেছেন। বিশ্বমানবতা যখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছিল, এই বুঝি আদ-সামুদ জাতির ভাগ্যবরণ করতে যাচ্ছে, অকস্মাৎআল্লাহর গজব এসে আছড়ে পড়বে হয়তো এখনি। কিন্তু রাসূল সাঃ-এর কারণে সমগ্র মানব জাতি অবশ্যম্ভাবী এক ধ্বংস থেকে মুক্তি পেল। ব্যক্তি হিসেবে তিনি ছিলেন করুণার আধার। তাঁর চাচা আবু তালিব কোনো এক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রায়ই বলতেন, ‘তিনি সুদর্শন,তাঁর চেহারা থেকে বৃষ্টির করুণা প্রত্যাশা করা হয়। তিনি এতিমদের আশ্রয় তিনিবিধবাদের রক্ষাকারী।

আপনার মন্তব্য দিন

শেয়ার