মেকআপ ছাড়াই চিরকাল সুন্দর থাকার ১০টি সহজ টিপস

সুন্দর হতে হলে কি সব সময় মেকআপ করতে হবে? অনেকের ধারণা মেকআপ ছাড়া সুন্দর হওয়া সম্ভব নয়? কিন্তু মেকআপ ছাড়াও সুন্দর লাগা সম্ভব। এর জন্য প্রয়োজন কিছু কৌশল। জেনে নিন মেকআপ ছাড়া সুন্দর লাগানোর ১০টি কৌশল।

১। হাইজেনিক :
আপনি কি মেকআপ ছাড়া সুন্দর দেখাতে চান? তাহলে গাদা গাদা ফাউন্ডেশন, পাউডারের পরিবর্তে গোসল করুন। দিনে ২ বার গোসল করার চেষ্টা করুন। গোসল প্রাকৃতিকভাবে আপনাকে একটি স্নিগ্ধ লুক দিবে।

২। দিনে দুইবার মুখ ধুয়ার অভ্যাস করুন :
প্রতিদিন সকাল এবং রাতে দুই বার করে মুখ ধোয়ার অভ্যাস করুন। অদ্ভুত শোনালেও এটি সত্য। সকালে ঘুম থেকে উঠার পর এবং রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে নিয়মিত মুখ ধোয়ার অভ্যাস করুন। এটি ব্রণ হওয়ার প্রবণতা কমিয়ে দেয় অনেকখানি।

৩। ময়েশ্চারাইজ :
ত্বক ময়েশ্চারাইজ করা খুব প্রয়োজন। মুখের সাথে হাত, ঘাড়, পায়েরও ময়েশ্চারাইজ করার প্রয়োজন রয়েছে। কারণ বয়সের ছাপ সবার আগে হাত পায়ে পরে থাকে। মধু প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার। এছাড়া ত্বকের সাথে মানানসয়ী যেকোন ময়েশ্চারাইজ ক্রিম বা লোশন ব্যবহার করতে পারেন।

৪। ফেইস ওয়াসের ব্যবহার :
প্রতিদিন ত্বকের ময়লা পরিস্কার করার জন্য ফেইস ওয়াস face wash ব্যবহার করুন। এমনকি ঘর থেকে বের না হলেও প্রতিদিন ফেইস ওয়াস দিয়ে মুখ পরিস্কার করুন।

৫। টোনার ব্যবহার :
প্রতিদিন ত্বক পরিচর্যায় টোনার অনেক গুরুত্বপূর্ণ। টোনার ত্বকের অতিরিক্ত তেল Oil দূর করে ত্বককে টানটান করে থাকে। বাজারে টোনার কিনতে পাওয়া যায় আপনি চাইলে সেটি ব্যবহার করতে পারেন। গোলাপ জল খুব ভাল প্রাকৃতিক টোনার।

৬। হেয়ার স্টাইল :
সব হেয়ার স্টাইল আপনার জন্য নয়। আপনাকে হয়তো লম্বা বেনীতে ভাল লাগছে কিন্তু আরেকজনকে চুল ছাড়া অবস্থায় বেশি মানিয়ে যায়। আপনাকে যে হেয়ার স্টাইলটি বেশি মানিয়ে থাকে সেটি করুন। তবে সব সময় একই রকমের হেয়ার স্টাইল Hair Style করবেন না। এতে একঘেয়ামি চলে আসবে। মাঝে মাঝে চুলের স্টাইল পরিবর্তন করুন।

৭। চলতি ফ্যাশনের দিকে লক্ষ্য রাখুন :
আপনার পোশাকের ওপর আপনার ব্যক্তিত্ব ও রুচির প্রকাশ পায়। চলতি ফ্যাশন অনুযায়ী পোশাক পরিধান করুন। অনুষ্ঠান অনুযায়ী পোশাক পরার চেষ্টা করুন। পোশাক আপনাকে অনেকখানি সুন্দর করে দিবে।

৮। রং পছন্দ করা :
আপনাকে যে রং বেশি মানিয়ে যায়, সেই রং এর পোশাক পরিধান করুন। যদি কালো রং হয়, তবে কালো রং এর পোশাক পরিধান করুন। তবে হ্যাঁ সবসময় একই রঙের পোশাক পরিধান করবেন না। এতে আপনাকে দেখতে একঘেয়ে লাগবে।

৯। জুতোর দিকে লক্ষ্য রাখুন :
সাজের একটই গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল জুতো। কয়েক জোড়া জুতো রাখুন। ড্রেসের রং এবং অনুষ্ঠানের ধরণ অনুযায়ী জুতো পরিবর্তন করে পড়ুন। তবে হ্যাঁ আপনি যে ধরণের জুতোয় আরামদায়ক বোধ করবেন না, সেটি পরিধান করা থেকে বিরত থাকুন।

১০। হাসি :
নিজেকে অন্য থেকে আকর্ষণীয় করার সবচেয়ে সহজ উপায় হল হাসি। হাসি আপনাকে সবার থেকে আলাদা করে তুলবে। তাই হাসির মাধ্যমে নিজেকে প্রকাশ করুন।

ছবিটি ইন্টারনেট হতে সংগৃহীত
তথ্যসুত্রঃ প্রিয় লাইফ

কম্পিউটার ব্যবহারকারীদের জন্য চোখ ভাল রাখার উপায়।

কম্পিউটার ব্যবহারকারীর চোখের ভুমিকা অপরিসীম। তাই কম্পিউটার ব্যবহারকারী হিসেবে চোখ ভাল রাখার উপায় জেনে রাখা আবশ্যক। কম্পিউটারে যারা কাজ করছেন তারা প্রথমেই চোখের দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা করে জেনে নিন চোখে দৃষ্টিগত সমস্যা আছে কিনা।

স্বাভাবিক দৃষ্টিশক্তি দূরদৃষ্টি : 6/6, নিকটদৃষ্টি : N-5 । যদি দৃষ্টিগত সমস্যা থাকে তবে একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ মত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করুন। এক্ষেত্রে চশমার প্রয়োজন হতে পারে। যদি আপনার চোখের জন্য পাওয়ারের কোন চশমা প্রয়োজন না হয় তাহলে কম্পিউটারে কাজের সময় পাওয়ার ছাড়া বিশেষ চশমা ব্যবহার করুন। অন্ধকার ঘরে কম্পিউটার চালাবেন না।

কম্পিউটার ব্যবহারের সময় মনিটর বরাবর উপরের দিকে টিউব লাইট জ্বালিয়ে রাখুন। মনিটরের উল্টাদিকে মনিটরে প্রতিফলিত হয় এমন কোন বাতি জ্বালিয়ে রাখবেন না। দিনের বেলায় কম্পিউটার ব্যবহারের সময় মনিটরের উল্টাদিকে মনিটরে প্রতিফলিত হয় এমন দরজা জানালা বন্ধ রাখুন। মনিটরের দিকে সরাসরি মুখ করে বসে কম্পিউটার ব্যবহার করুন। বাঁকা বা তীর্যক চোখে তাকাতে হয় এমন করে বসবেন না। একটানা অনেকক্ষন মনিটরের দিকে তাকিয়ে থাকা ঠিক নয়। এক্ষেত্রে কিছুক্ষণ পর পর চোখকে বিশ্রাম দেয়া উচিৎ।

বিশ্রামের জন্য কিছুক্ষণ চোখ বন্ধ করে রেখে আবার কাজ শুরু করুন। যাদের বয়স ৪০এর উপরে তাদের চোখে এর আগে কখনও কোন কিছু দেখতে অসুবিধা না হলেও, এখন কাছের ছোট লেখা পড়া সহ ছোট যে কোন কিছুই দেখতে অসুবিধা হবে। সেই সুত্রে কম্পিউটারে কাজ করতেও অসুবিধা হবে। এরকম অসুবিধা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ মতো বাইফোকাল চশমা ব্যবহার করতে হবে। যারা আগে থেকেই দূরে দেখার জন্য চোখে পাওয়ার চশমা ব্যবহার করেন ৪০ বছর বয়স পূর্ণ হলে বা বেশী হলে তাদের চশমা পরিবর্তন করে বাইফোকাল করে নিতে হবে।

নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার চোখ ভাল রাখে তাই নিয়মিত ফলমূল সহ বিভিন্ন পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করুন। ডায়াবেটিস বা প্রেসার থাকলে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে নিয়ন্ত্রনে রাখুন। মনে রাখবেন দৃষ্টিশক্তির ত্রুটি থাকলে এবং চোখে চশমার প্রয়োজন হলে চমশা ব্যবহার করা উত্তম নতুবা আস্তে আস্তে চোখের স্থায়ী ক্ষতি হতে থাকবে। আপনার জীবনে আপনি যে কাজই করুন না কেন চোখ আপনাকে সর্বাধীক সহযোগীতা করে। তাই চোখের যত্ন নিন চোখ ভাল রাখুন, প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন

যেসব ফলে ফরমালিন মেশানো যায় না…

আমরা যখন ফল কিনতে বাজারে যাই তখন মনে একটাই প্রশ্ন, ফলটি কি ফরমালিন মুক্ত? এই সংশয়ে আমরা অনেকেই ফল খাওয়া থেকে নিজেকে বিরত রাখতে চাই। ভয় একটাই, কারণ?

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) মানব শরীরের জন্য ফরমালিনের গ্রহণযোগ্য মাত্রা নির্ধারণ করেছে শূন্য দশমিক ১৫ পিপিএম। অথচ ডিএমপি, বিএসটিআই ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর সহনীয় মাত্রা বানিয়ে নিয়েছে ২ পিপিএম। যা আন্তর্জাতিক মানের চেয়ে প্রায় ১৪ গুণ বেশি!

খাদ্যে ফরমালিনবিরোধী অভিযানে নিরাপদ খাদ্য আইনের (২০১৩) ২৩ ধারাকে ব্যবহার করা হয়। এতে উল্লেখ আছে, স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর রাসায়নিক দ্রব্য (যেমন— ক্যালসিয়াম কার্বাইড, ফরমালিন, সোডিয়াম সাইক্লামেট), কীটনাশক (ডিডিটি, পিসিবি তেল) বা অন্য কোনো বিষাক্ত দ্রব্য মিশ্রিত খাদ্যদ্রব্য মজুদ, বিপণন বা বিক্রি করা যাবে না।

সংশয় আর আতঙ্ক থেকে মুক্ত করতে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউটের (বিএসটিআই) পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করে বিভিন্ন ফলের নমুনায় ক্ষতিকর মাত্রায় ফরমালিন পাওয়া যায়নি। আর এই প্রতিষ্ঠানটি মৌসুমি ফলের ওপর পরীক্ষা পর্যবেক্ষণ চালায়।

পরীক্ষায় তারা ধারণা করে যে, আম, জাম, লিচু, কাঁঠাল, তরমুজ, লেবু, পেঁপে, আনারস, পেয়ারা, জামরুল, বেল, কতবেল ও ডেউয়া ইত্যাদি মৌসুমি ফলের মধ্যে ফরমালিন মেশানো যায় না। তবে আমের মধ্যে মেশানো গেলেও তা খুব অল্প পরিমাণে মেশানো যায়। আর তা যদি খাওয়ার আগে পানিতে ভালভাবে ধুয়ে নেয়া যায় তাহলে আর কোনো ভয় থাকে না।

জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের ফুড সেফটি ল্যাবরেটরিতে ২৭টি ফলের নমুনা পরীক্ষা করেছে। এর মধ্যে ১৬টি নমুনা আমের, ৬টি লিচুর ও কলা, খেজুর, আঙুর, আপেল ও মাল্টার একটি করে নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এসব নমুনায় ফরমালডিহাইডের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

তবে ইউরোপিয়ান ফুড সেফটি অথরিটির (ইএফএসএ) নির্ধারিত সহনশীল মাত্রার চেয়ে কম। ইউরোপিয়ান ফুড সেফটি অথরিটি আমের ক্ষেত্রে ৬ থেকে ৩৫ পিপিএম (পার্টস পার মিলিগ্রাম) সহনশীল বলে মনে করে। ফুড সেফটি ল্যাবরেটরিতে ১৬টি আমের নমুনায় ০.৬৫ থেকে ৯.৪৬ পিপিএম পর্যন্ত ফরমালডিহাইড পাওয়া গেছে।
ফুড সেফটি ল্যাবরেটরির পরীক্ষক পান্না ওয়াহেদের ভাষ্য, ফরমালিনের ভয়ে মৌসুমি ফল খাওয়া বাদ দেওয়ার কোনো কারণ নেই। কারণ পরীক্ষায় মাত্রার চেয়ে বেশি ফরমালিন ধরা পড়ছে না। তবে যাঁরা আরো সতর্কতা অবলম্বন করতে চান তাঁরা ধুয়ে খেতে পারেন।

যেভাবে ঘরে বসে খাবার থেকে ফরমালিন দূর করতে পারবেন-
মাছের শরীর থেকে ফরমালিন দূর করতে মাছটি অন্তত ১ ঘণ্টা ঠাণ্ডা পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। পরিক্ষায় দেখা গিয়েছে এতে করে মাছের শরীরে যে ফরমালিন থাকে সেটি প্রায় ৬১% কমে গেছে।

আরও একটি কার্যকর উপায় হল মাছটি রান্না করার আগে কমপক্ষে ১ ঘণ্টা লবন পানিতে ডুবিয়ে রাখা, এতে করে মাছের ফরমালিনের পরিমাণ প্রায় ৯০% কমে যাবে।

আরও একটি কার্যকর পদ্ধতি হচ্ছে, আপনি যখন চাউল ধুবেন এবং প্রথম বার চাউল ধোবার সময় যে পানি বের হবে সেটি দিয়ে প্রথমে মাছটি ধুয়ে নিন এরপর আবার সাধারণ কলের পানি দিয়ে ধুবেন। দেখবেন এতে করে প্রায় ৭০% ফরমালিন দূর হয়ে যাবে।

কোন ফলমূল খাবার আগে সেটি হালকা গরম এবং লবন মিশ্রিত পানিতে ১০ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। এতে করে ফরমালিনের পরিমাণ প্রায় ৯৮% ভাগ দূর হবে (পরিক্ষিত)।

আমাদের দেশে এখন শুঁটকি মাছেও প্রচুর পরিমানে ফরমালিন মেশানো হচ্ছে। শুঁটকি মাছ থেকে ফরমালিন দূর করতে ঠিক একই রকম পন্থা অবলম্বম করবেন। প্রথমে ১ ঘণ্টা লবন মিশ্রিত হালকা গরম পানিতে পরে ১০ মিনিট ঠাণ্ডা পানিতে ধুয়ে ফেলুন। এতে করে ফরমালিন তো দূর হবেই পাশাপাশি মাছের স্বাদও বাড়বে।

অনেক সময় ফলমুলে বিশেষ করে আম, লিচুতে স্প্রে করার মাধ্যমে ফরমালিন দেয়া হয়। সেজন্য গাড় বা উজ্জল রঙের ফল কেনা থেকে বিরত থাকুন।

খাবার বা ফলমূল থেকে ফরমালিন দূর করার সব থেকে কার্যকরী উপাদান হল ভিনেগার। প্রথমে এক লিটার পানিতে এক কাপ ভিনেগার মিশিয়ে নিন। মিশ্রিত পানিতে শাকসবজি, ফলমুল কিংবা মাছ ১৫ মিনিট রেখে দিন। এরপর সাধারণ পানি দিয়ে ভালো করে ধুয়ে নিন। ব্যাস! এই পদ্ধতিতে খাদ্য দ্রব্য থেকে প্রায় ৯৮% ফরমালিন দূর করা সম্ভব।

আপনার মন্তব্য দিন

শেয়ার