মৃত ব্যক্তির রুপ নিয়ে জ্বিন বা শয়তানও আসতে পারে!

ছবি: প্রতিকী
ছবি: প্রতিকী

আত্মা দেখার কাহিনীতো প্রায় শোনা যায়। আসলেই কি মৃত মানুষের আত্মাকে দেখি আমরা, নাকি অন্য কিছু? এর উত্তর পেতে হলে আগে জানতে হবে মানুষ মারা যাবার পর আসলে কি হয়? মানুষ যখন মারা যায়, তখন তার শরীর থেকে রুহ বা আত্মাকে আল্লাহর নির্দেশে আজরাইল বা মৃত্যুর ফেরেশতা বের করে নিয়ে যান। এরপর ঈমানদারদের রুহকে ‘ইলিয়্যিন’ আর পাপীদের রুহকে ‘সিজ্জিন’ নামক স্থানে নিয়ে গিয়ে আমলনামা সংরক্ষণ করা হয়। এরপর রুহকে কবরে ফিরিয়ে দেয়া হয় সওয়াল-জবাবের জন্য। মৃত্যুর পর এভাবেই দুনিয়ার জীবন শেষ হয়ে আখিরাতের জীবন শুরু হয়। মৃত্যুর পর থেকে কিয়ামত ও হাশর দিবসের মধ্যবর্তী সময়টিকে বলা হয় ‘বারযাখ’।

মৃত্যুর পর আত্মার অবস্থান বারযাখেই হয়। এখান থেকে আর ফিরে আসার সুযোগ নেই। তাই কোন ব্যক্তি মারা গেলে দুনিয়ার সাথে তার সব সম্পর্ক শেষ হয়ে যায়, তার আত্মা আর পৃথিবীতে ফিরে আসতে পারেনা। আত্মা যদি আর পৃথিবীতে ফিরে আসতে না’ই পারে, তাহলে অনেকে যে মৃত মানুষকে দেখেন বলে দাবি করেন, তারা আসলে কাকে দেখেন? হ্যাঁ, সত্যি সত্যিই মৃত্যুর পরেও অনেকেই তাকে দেখেন। তবে তারা সেই মানুষটিকে দেখেন না, দেখেন তার রুপকে। আর সেই রুপ নেয় জ্বিন।

প্রশ্ন আসতে পারে, জ্বিন কেনইবা মৃত ব্যক্তির রুপ নেবে? প্রত্যেক মানুষের সাথে দিনে ২ জন আর রাতে ২ জন ফেরেশতা থাকেন, আর থাকে ‘ক্কারিন’ নামক এক শয়তান জ্বিন। প্রসংগত বলা যায়, ইবলিস জ্বিনদেরই একজন, কিন্তু প্রত্যেক জ্বিনই খারাপ নয়।

ক্কারিন জ্বিনের কাজই হল মানুষের সাথে থেকে তাকে কুমন্ত্রণা দেয়া। সব মানুষের সাথেই ক্কারিন জ্বিন থাকে, এমনকি আমাদের নবী (সা:) এর সাথেও ছিল। তবে আল্লাহপাকের বিশেষ রহমতে রাসূল (সা:) এর ক্কারিন জ্বিন ছিল ভাল। একজন মানুষের সাথে সবসময় থাকার কারনে এই ক্কারিন জ্বিন মানুষের সকল কাজ, আর তার নাড়ি-নক্ষত্র সম্পর্কে অবগত থাকে। যেমন কোন গণক বা ফকিরের কাছে গেলেন, আর সে আপনাকে দেখে বলল: ‘তুই তো গত সপ্তাহে এই এই কাজ করেছিস’। আপনি শুনে হয়তো অবাক হয়ে ভাববেন ‘সে তো সত্যি কথাই বলেছে!’

কিন্তু আসলে কোন ফকির বা গনকের এসব জানার ক্ষমতা নেই, তারা সেই মানুষটির ক্কারিন জ্বিনের সাথে যোগাযোগ করে এর মাধ্যমে জেনে বলে দেয়। তবে গায়েবী বা অদৃশ্য খবরগুলো জানার ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহ ছাড়া মানুষ বা জ্বিন কারো নেই। যেমন সুলাইমান (আ:) এর ইন্তেকালের অনেক দিন পরেও জ্বিনরা বুঝতে পারেনি যে তিনি আর নেই, যতক্ষণ না উইপোকা তাঁর হাতের লাঠি খেয়ে ফেলার কারনে তিনি পড়ে গিয়েছিলেন।

যারা শয়তানের পূজারী হয় তাদের বিভিন্ন কাজে শয়তান সাহায্য করে, যাতে এগুলোকে ক্কারামতি বা অলৌকিক ঘটনা মনে করে মানুষ তার ভক্ত হয়ে যায় আর শয়তানের অনুসারীতে পরিনত হয়। জ্বিনদের অনেক বৈশিষ্ট্যের একটি বৈশিষ্ট্য হল তারা মানুষসহ (শুধুমাত্র রাসূল (সা:) এর রুপ ছাড়া) যেকোন প্রানীর রুপ ধারন করতে পারে। তাছাড়া অদৃশ্য থেকেও জ্বিনরা বিভিন্ন কথা বলতে বা শব্দ করতে পারে।

কেউ যখন মারা যায় বা আত্মহত্যা করে, তখন তার ক্কারিন জ্বিন সংগীহারা হয়ে যায়। তখন সে মাঝেমাঝে মৃত ব্যক্তির রুপ নিয়ে চলাফেরা করে, এমনকি মৃত ব্যক্তির রুপ নিয়ে জীবিতদের সামনে আসে। সে এমনসব কথা বলে বা তথ্য দেয় মনে হবে যেন মৃত ব্যক্তিই এসেছে। শুধু ক্কারিন জ্বিনই নয়, মৃত ব্যক্তির রুপ নিয়ে অন্য কোন জ্বিন বা শয়তানও আসতে পারে। মোটকথা, তাদের সবারই উদ্দেশ্য হল মানুষকে কষ্ট দেয়া, ভয় দেখানো, বিভ্রান্ত করা বা ঈমানকে ভূলপথে নিয়ে যাওয়া।

কুরআন-হাদীস অনুযায়ী মৃত ব্যক্তির আত্মা পৃথিবীতে ফিরে আসেনা এটা বিশ্বাস করাই হল ঈমান, কিন্তু জ্বিন বা শয়তান মানুষের মনে আত্মা ফিরে আসার ভূল ধারণা ঢুকিয়ে দেয়। তবে বাস্তবে মানুষ জ্বিনকে খুব কমই দেখে, বেশিরভাগ সময় মানুষ ভূল দেখে বা কল্পনায় মৃত মানুষকে দেখে যাকে হ্যালুসিনেশন বলে। মনে রাখতে হবে, শয়তান বা জ্বিন দূর্বলচিত্ত মানুষদেরকেই ভয় দেখায় বা তাদের উপর প্রভাব বিস্তার করে বেশি।

এজন্য একমাত্র আল্লাহর উপরই দৃঢ় বিশ্বাস রেখে তাঁরই সাহায্য চাওয়া জরুরী। আর সকাল-সন্ধ্যায় সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক ও সূরা নাস ৩ বার করে পড়ার জন্য বলা হয়েছে। লেখক : তালহা সিরাজ

মাহমুদ আহমাদিনেজাদ ইরানীদের কাছে কেন এত জনপ্রিয়?

সৎ, সাহসী, পরিশ্রমী, দূরদর্শী নেতা হিসেবে সারা বিশ্বেই ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমেদিনেজাদ সমাদৃত। বিশ্বের একসময়কার অন্যতম প্রভাবশালী ইরানের এই সাবেক প্রেসিডেন্ট এখনো খুবই সাধারণ জীবন-যাপন করেন। ইরানের মানুষের কাছে তিনি অুপ্রেরণার অসাধারণ এক উৎস।

এক. মাহমুদ আহমেদিনেজাদের জন্ম প্রত্যন্ত গ্রামে ও খুব গরিব পরিবারে। তার বাবা ছিলেন পেশায় একজন কামার। অথচ কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি ট্রান্সপর্টেশন ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড প্লানিংয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।

দুই. প্রেসিডেন্ট হবার পরও জীবনযাপন ছিল সাধারণ। আভিজাত্য তাকে স্পর্শ করেনি। পৈতৃক সূত্রে পাওয়া ছোট্ট বাড়িই বসবাসের জন্য পছন্দ করেন। তার বাসায় কয়েকটি কাঠের চেয়ার ছাড়া আর কোনো আসবাবপত্র নেই। প্রেসিডেন্ট ভবনেও তিনি ফ্লোরে কার্পেটের উপর ঘুমাতেন। আর নিজের ঘরের ফ্লোরে একটা পুরনো কার্পেটের উপর বালিশ বিছিয়ে ঘুমান। তার বাসায় কোনো শোয়ার খাট নেই। তিনি কার্পেটেই বসে থেতে পছন্দ করেন কিন্তু কোনো ডাইনিং টেবিলে নয়।

তিন. ব্যক্তিগত সম্পত্তি বলতে আছে তেহরানের বস্তিতে অবস্থিত ছোট্ট একটি বাড়ি। পুনর্নিমিত দুই তলা ভবনেই তিনি ও তার স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে বসবাস করেন। যে জমিতে বাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে, সেটার আয়তন মাত্র ১৭৫ বর্গমিটার। বেতন হিসেবে তেহরান ইউনিভার্সিটি থেকে পাওয়া ২৫০ ইউ এস ডলার দিয়েই সংসার পরিচালনা করেন। তিনি প্রেসিডেন্ট থাকাকালীনও রাষ্ট্র থেকে কোনো টাকা নেননি। বিবিসির সাংবাদিক তাকে এই নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেছিলেন, সব সম্পত্তি হল রাষ্ট্রের আর তার কাজ হল সেগুলো পাহারা দেওয়া।

চার. প্রেসিডেন্ট ভবন সাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছিলেন। সপ্তায় পাঁচ দিন সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত সাধারণ ইরানিদের চিঠি গ্রহণের ব্যবস্থা করেন। প্রেসিডেন্ট ভবনের দামি কার্পেটগুলো তেহরানের মসজিদে দান করে দেন, সাধারণ মানের কার্পেট বিছান। ভিআইপি অতিথিশালাও বন্ধ করে দেন। সাধারণ ঘরেই ভিআইপিদের সঙ্গে বৈঠকের ব্যবস্থা রাখা হয়।

পাঁচ. যখন তেহরানের মেয়র ছিলেন তখন তিনি নিজ হাতে তেহরানের রাস্তা ঝাড়ু দিতেন। প্রেসিডেন্ট ভবনেও ফ্লোরে কার্পেটের উপর ঘুমাতেন। প্রেসিডেন্ট থাকা অবস্থায় ছেলের বিয়েতে দাওয়াত দিয়েছিলেন মাত্র ৪৫ জন (২৫ জন নারী এবং ২০ জন পুরুষ) অতিথিকে । শুধুমাত্র কমলা, আপেল, কলা ও ছোট এক টুকরো কেক দিয়ে আপ্যায়ন করেছিলেন। এনবিসি নিউজ চ্যানেলের সাংবাদিক এর কারণ জিজ্ঞাসা করলে তিনি অত্যন্ত হাসিমুখে বিনয়ের সাথে বলেন, এর চাইতে বেশি মানুষকে দাওয়াত দেওয়ার সামর্থ্য আমার নেই।

ছয়. সময়ের প্রতি যথেষ্ট শ্রদ্ধাশীল। নিতান্তই সাদামাটা একজন মানুষ। স্ত্রীর হাতে বানানো নাস্তা খেয়ে সকাল ৭টায় অফিসে যান। যাওয়ার সময় সাথে করে কালো ব্যাগে করে নিয়ে যান দুপুরের খাবার। দুপুরে অফিসে সবার সামনে মেঝের কার্পেটে বসে সেই খাবার খান।

সাত. দিনের একটা উল্লেখযোগ্য সময় তিনি বাসার দারোয়ান, পথচারী ও সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলে কাটান এবং তাদের সাথে সুখ-দুঃখ শেয়ার করেন।

আট. প্রতিদিন মাত্র ৩ ঘন্টা ঘুমান। প্রতিদিন সকাল ৫ টায় ফজরের নামায পড়ে কাজ শুরু করেন আর রাত ২টায় এশার নামায ও ব্যক্তিগত স্টাডি শেষ করে ঘুমাতে যান।

নয়. নামাযের জামাতে তিনি সব সময় পিছনের সারিতে সাধারণ মানুষের সাথে দাঁড়াতে ভালোবাসেন। মসজিদে সামনের কাতারে যাওয়ার জন্য প্রতিযোগীতা করেন না। কখনো নামায বাদ দেন না। রাস্তায় থাকাকালে নামাযের সময় হলে তিনি রাস্তায় ছোট্ট কাপড় বিছিয়ে সেখানেই নামায আদায় করে নেন। তিনি মহান আল্লাহকে তার সর্বোত্তম দেহরক্ষী মনে করেন।

দশ. তিনি তার আসল পেশা শিক্ষকতায় ফিরে গেছেন। পাবলিক বাসে চড়ে ক্লাস নিতে যান! পাবলিক বাসে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়েও যান গন্তব্যে! সাবেক প্রেসিডেন্ট হয়ে পাবলিক বাসে চড়তে একটু অস্বস্তিতে ভোগেন না তিনি, তার সহকর্মী-সহযাত্রীদেরও দেখা যায় একেবারে স্বচ্ছন্দ।

ড. মরিস বুকাইলী যেভাবে মুসলিম হলেন

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া মিত্রা ১৯৮১-১৯৯৫ সাল পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট ছিলেন। তিনি আশির দশকের শেষের দিকে ফিরাউনের মমিকে নিয়ে প্রত্নতাত্তিক গবেষণার জন্য মিসরের কাছে অনুরোধ জানালেন। মিসরের সরকার তাতে রাজি হলে কায়রো থেকে ফিরাউনের লাশ এল প্যারিসে। প্লেনের সিড়ি থেকেই ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট, তার মন্ত্রীবর্গ ও ফ্রান্সের সিনিয়র অফিসারগণ মাথা নিচু করে ফিরাউনকে স্বাগত জানালেন।

ফিরাউনকে জাঁকালো প্যারেডের মাধ্যমে রাজকীয়ভাবে বরণ করে ফ্রান্সের প্রত্নতাত্তিক কেন্দ্রের একটা বিশেষ ওয়ার্ডে নিয়ে যাওয়া হল, যেখানে ফ্রান্সের সবচেয়ে বড় সার্জনরা রয়েছে আর তারা ফিরাউনের মমির ময়নাতদন্ত করে সেটা স্টাডি করবে ও এর গোপনীয়তা উদঘাটন করবে।

মমি গবেষণার প্রধান সার্জন ছিলেন প্রফেসর ড. মরিস বুকাইলি। থেরাপিস্ট যারা ছিলেন তারা মমিটাকে পুনর্গঠন (ক্ষত অংশগুলো ঠিক করা) করতে চাচ্ছিল, আর ড. মরিস বুকাইলি দৃষ্টি দিচ্ছিলেন যে কিভাবে ফিরাউন মারা গেল! পরিশেষে, রাতের শেষের দিকে ফাইনাল রেজাল্ট আসলো। যাতে বলা হয়েছে তার শরীরে লবণের অংশ আছে আর ইহাই সবচেয়ে বড় প্রমাণ যে সে (ফিরাউন) ডুবে মারা গিয়েছিল আর মৃত্যু বরণের সঙ্গে সঙ্গে সমুদ্র (লোহিত সাগর) থেকে তোলা হয়েছিল তারপর লাশ দ্রুত মমি করা হয়েছিল। এখানে ফিরাউনের মমিটি প্রফেসর মরিসকে হতবুদ্ধি করে দিল, যে কিভাবে এই মমি অন্য মমিদের তুলনায় সুরক্ষিত অবস্থায় থাকল, যা এটা সমুদ্র থেকে তোলা হয়েছে। কারণ আদ্র পরিবেশে ব্যাকটেরিয়া দ্রুত বংশ বৃদ্ধি করে আর প্রতিটি আদ্র বস্তুকে দ্রুত ধ্বংস করে দিয়ে থাকে।

ড. মরিস ফাইনাল রিপোর্ট তৈরি করল যাতে তিনি বললেন: এটা একটা নতুন আবিস্কার। সেই সময় তাকে কেউ ফেরাউনের এই ডুবে যাওয়া মমি সম্পর্কে প্রকাশ্যে আলোচনা না করার পরার্মশ দেন, কিন্তু তিনি দৃঢ়ভাবে এর প্রতিবাদ করে বললেন যে, এরকম একটা বিশাল আবিস্কার যেটা আধুনিক বিজ্ঞানের উন্নতির জন্য সহায়তা করবে সেটা জানানো যাবেনা!!

কেউ একজন তাকে বলল যে কুরআনে ফিরাউনের ডুবে যাওয়া ও তার লাশ সংরক্ষণের ব্যাপারে বিশদ আলোচনা এসেছে। এই ঘটনা শুনে ডা. মরিস বিস্মিত হয়ে গেলেন এবং প্রশ্ন করতে লাগলেন, এটা কিভাবে সম্ভব?? এই মমি পাওয়া গিয়েছে মোটে ১৮৮১ সালে, আর কুরআন নাজিল হয়েছে আজ থেকে ১৪০০ বছর আগে!! আর প্রাচীন আরবেরা তো মমি করার পদ্ধতিই জানতো না, মাত্র কয়েক দশক আগে তা আমাদের হাতে আবিস্কৃত হয়!! ড. বুকাইলি ফিরাউনের লাশের দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে গভীরভাবে ভাবছিলেন যে, মুসলিমদের কুরআনে কিভাবে ফিরাউনের লাশ সংরক্ষণের কথা এসেছে??

ফিরাউনের মমি করা লাশের ভিডিও লিংক:- http://youtu.be/IXxCi7qPy4A

বাইবেলে ফিরাউন কর্তৃক মুসা (আ.)-এর পিছু নেয়ার কথা বলা আছে কিন্তু ফিরাউনের লাশের পরিনতি সম্পর্কে বিশেষ কিছু বলা নাই। তিনি নিজেকেই প্রশ্ন করছিলেন আর ভাবতে ছিলেন যে, এটা কিভাবে ধারণা করা যায় যে, এই মমি যার সে মুসার (আ.)-এর পিছু নিয়েছিল? আর এটা কেমন করে সম্ভব যে, মুহাম্মদ (সা.) ১৪০০ বছর আগেই এটা সম্পর্কে জানতেন?? এবং আরো অনেক কিছু…….।

ডা. মরিস সেই রাতে ঘুমাতে পারলেন না, তিনি তোরাহ (তাওরাত) আনালেন এবং সেটা পড়লেন। তোরাহতে বলা আছে, পানি আসলো এবং ফিরাউনের সৈন্য এবং তাদের যানবাহনগুলোকে ঢেকে দিল, যারা সমুদ্রে ঢুকল তাদের কেউই বাঁচতে পারল না। ড. বুকাইলি আশ্চার্য হয়ে দেখলেন যে, তাওরাতে লাশের সংরক্ষণের ব্যাপারে কিছু বলা নাই!!

অতপার তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন যে, তিনি মুসলিম দেশে যাবেন এবং সেখানে প্রখ্যাত মুসলিম ময়নাতদন্তে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের সাক্ষাৎকার নিবেন ও আলোচনা করবেন। তিনি তথায় পৌছে ফিরাউনের লাশ ডুবে যাওয়া পরবর্তী সংরক্ষণের যে রেজাল্ট পেয়েছেন তা নিয়ে আলেচনা করেন, তখন একজন মুসলিম বিশেষজ্ঞ পবিত্র কুরআন খুললেন এবং আয়াতটা ড. বুকাইলিকে শুনালেন যেখানে সর্বশক্তিমান আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তা’য়ালা বলেনঃ-
““অতএব, আজকের দিনে বাঁচিয়ে দিচ্ছি আমি তোমার দেহকে যাতে তোমার পশ্চাদবর্তীদের জন্য নিদর্শন হতে পারে। আর নিঃসন্দেহে বহু লোক আমার মহাশক্তির প্রতি লক্ষ্য করে না।”” [আল-কুরআন; সুরাঃ ১০, আয়াতঃ ৯২]

তিনি এই আয়াতের দ্বারা খুবই প্রভাবিত ও অভিভূত হয়ে তখনি ইসলাম গ্রহনের সিদ্ধান্ত নিয়ে উচ্চ কন্ঠে ঘোষনা করলেন যে, আমি ইসলামে প্রবেশ করেছি এবং আমি এই কুরআনে বিশ্বাসী। [সুবহানাল্লাহ] ইসলাম গ্রহনের পর তার রচিত বই- বাইবেল, কুরআন এবং বিজ্ঞান, এর তিনি ব্যাখ্যা দেন। ভিডিও লিংক:- http://youtu.be/crkq8HVvdm8

ডা. মরিস বুকাইলি ফ্রান্স ফিরে গেলেন এক ভিন্ন অবস্থায়। ফ্রান্সে ১০ বছর তিনি আর কোন ডাক্তারি প্রকটিস করেন নি বরং এই সময়ে তিনি আরবী ভাষা শিখেছেন আর পবিত্র কুরআনে কোন বিজ্ঞান নিয়ে গবেষনা করেছেন।
সব শেষে তিনি পবিত্র কুরআনের এই আয়াতটির গুরুত্ব অনুধাকন করতে পারলেন যাতে বলা আছেঃ
““এতে মিথ্যার প্রভাব নেই, সামনের দিক থেকেও নেই এবং পেছন দিক থেকেও নেই। এটা প্রজ্ঞাময়, প্রশংসিত আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ।”
” [আল-কুরআন; সুরাঃ ৪১, আয়াতঃ ৪২]

১৯৭৬ সালে ড. মরিস বুকাইলি বাইবেল, কুরআন এবং বিজ্ঞান” নামে একটি বই লেখেন যা পশ্চিমা বিজ্ঞানীদের টনক নাড়িয়ে দেয়।যা বেস্ট সেলার হয়। যা প্রায় ৫০ টিরও বেশি ভাষায় অনূদিত হয়েছে!

আল্লাহ যাকে ইচ্ছা এভাবে-ই হেদায়াত দান করেন। আল্লাহ আমাদেরকে ও কোরআন বোঝার ও তদানুযায়ী জীবন গড়ার তাওফীক দান করুক। আমীন।

আপনার মন্তব্য দিন

শেয়ার