মহানবী (সা:) কে খুন করতে এসে যেভাবে ইসলাম গ্রহণ করল এক খুনি

মহানবী (সা) একদিন একটি গাছের তলায় ঘুমিয়েছিলেন। এই সুযোগে দাসুর নামের একজন শত্রু তাঁর পাশে এসে দাঁড়াল। শোরগোল করে সে মহানবী (সা) কে ঘুম থেকে জাগাল। মহানবী (সা) ঘুম ভাঙলে চোখ খুলে দেখলেন, একটা উন্মুক্ত তরবারি তাঁর উপর উদ্যত।

ভয়ানক শত্রু দাসুর চিৎকার করে উঠলো, ‘এখন আপনাকে কে রক্ষা করবে?’
মহানবী(সা) ধীর শান্ত কণ্ঠে বললেন, ‘আল্লাহ’। শত্রু দাসুর মহানবী (সা) এর এই শান্ত গম্ভীর কণ্ঠের আল্লাহ শব্দে কেঁপে উঠল। তার কম্পমান হাত থেকে খসে পড়ল তরবারি।

আজরাঈল (আ) আসার পূর্বে মৃত্যু পথযাত্রীকে ৪ ফেরেশতা যা বলে যান !!

কুল্লু নাফসিন জায়িকাতুল মাউন’ অর্থ্যাৎ প্রতিটি প্রাণীকেই একদিন মৃত্যুর শরাপ পান করতে হবে। তবে প্রতিটি মানুষের জীবনের অন্তিম মুহুর্তে আজরাঈল (আ) জান কাবুজ করতে আসার আগেই ফেরেশতারা ওই মৃত্যু পথযাত্রীর আশে পাশে ঘোরাফেরা করার পাশাপাশি কিছু বার্তা দিয়ে যায়।

হাদীস শরীফে বর্ণিত আছে, যখন মানুষের অন্তিমকাল উপস্থিত হয় এবং রূহ বের হবার সময় ঘনিয়ে আসে, তখন চারজন ফেরেশতা তার কাছে উপস্থিত হয়। সর্বপ্রথম এক ফেরেশতা উপস্থিত হয়ে বলবেন “আসসালামু আলাইকুম” হে অমুক!

আমি তোমার খাদ্য সংস্থানের কাজে নিযুক্ত ছিলাম। কিন্তু এখন পৃথিবীর পূর্ব থেক পশ্চিম প্রান্ত পর্যন্ত অন্বেষণ করেও তোমার জন্য এক দানা খাদ্য সংগ্রহ করতে পারলাম না। সুতরাং বুঝলাম তোমার মৃত্যু ঘনিয়ে এসেছে হয়ত এখনই তোমাকে মরণ সুধা পান করতে হবে। পৃথিবীতে তুমি আর বেশীক্ষণ থাকবে না।

অত:পর দ্বিতীয় ফেরেশতা এসে সালাম করে বলবেন হে আল্লাহর বান্দা! আমি তোমার পানীয় সরবরাহের জন্য নিযুক্ত ছিলাম, কিন্তু এখন তোমার জন্য পৃথিবীর সবৃত্র অন্বেষণ করেও এক ফোঁটা পানি সংগ্রহ করতে পারলাম না। সুতরাং আমি বিদায় হলাম।

অত:পর তৃতীয় ফেরেশতা এসে সালাম করে বলবেন হে আল্লাহর বান্দা! আমি তোমার পদযুগলের তত্ত্বাবধানে নিযুক্ত ছিলাম, কিন্তু পৃথিবীর সর্বত্র ঘুরেও তোমার জন্য একটি মাত্র পদক্ষেপের স্থান পেলাম না। সুতরাং আমি বিদায় নিচ্ছি।

চতুর্থ ফেরেশতা এসে সালাম করে বলবেন হে আল্লাহ বান্দা! আমি তোমার শ্বাস-প্রস্বাস চালু রাখার কাজে নিযুক্ত ছিলাম। কিন্তু আজ পৃথিবীর এমন কোন জায়গা খুঁজে পেলাম না যেখানে গিয়ে তুমি মাত্র এক পলকের জন্য শ্বাস-প্রশ্বাস গ্রহণ করতে পার। সুতরাং আমি বিদায় নিচ্ছি।

অত:পর কেরামান কাতেবীন ফেরশতাদ্বয় এসে সালাম করে বলবেন, হে আল্লাহর বান্দা! আমরা তোমার পাপ-পূণ্য লেখার কাজে নিযুক্ত ছিলাম। কিন্তু এখন দুনিয়ার সব জায়গা সন্ধান করেও আর কোন পাপ-পূণ্য খুঁজে পেলাম না। সুতরাং আমরা বিদায় নিচ্ছি।

এই বলে তারা এক টুকরা কালো লিপি বের করে দিয়ে বলবেন হে আল্লাহর বান্দা! এর দিকে লক্ষ্য কর। সে দিকে লক্ষ্য করামাত্র তার সর্বাঙ্গে ঘর্মস্রোত প্রবাহিত হবে এবং কেউ যেন ঐ লিপি পড়তে না পারে এজন্য সে ডানে বামে বার বার দেখতে থাকবে। অত:পর কেরাম কাতেবীন প্রস্থান করবে ।তখনই মালাকুল মউত তার ডান পাশে রহমতের ফেরেশতা এবং বাম পাশে আযাবের ফেরেশতা নিয়ে আগমন করবেন।

তাদের মধ্যে কেউ আত্মাকে খুব জোরে টানাটানি করবেন, আবার কেউ অতি শান্তির সাথে আত্মা বের করে আনবেন। কন্ঠ পর্যন্ত আত্মা পৌঁছলে স্বয়ং যমদূত তা কবজ করবেন। এবং এরই মাধ্যমে একজন মানুষের জীবন অবসান ঘটবে। পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে সে চলে যাবে অনন্ত কালের দুনিয়ায়। সেখানে পৃথিবীর রাজা-বাদশা কিংবা মাস্তান বা সুন্দরী কেউ আর ক্ষমতা দেখাতে পারবে না। তাই আসুন আমরা কবরে যাওয়ার আগে দুনিয়াতে কিছু পূণ্য করে যায়।

মহানবী (সাঃ) যে রঙের কাপড় পছন্দ করতেন

পোশাক শুধু শরীর আচ্ছাদনের উপকরণ নয় বরং এটি মন ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য প্রকাশের মাধ্যমও বটে। তাই ইসলামী শরিয়তের বিধান অনুযায়ী পোশাক হতে হবে পরিমার্জিত। এর রঙ ও ধরন এমন হতে হবে যাতে অন্যের কাছে তা উপস্থাপনযোগ্য হয়।

আল্লাহপাক বলেন, ‘হে আদম বংশধরগণ! আমি অবশ্য তোমাদের প্রতি এরূপ পরিচ্ছদ অবতীর্ণ করেছি যা তোমাদের আবৃতাঙ্গ আচ্ছাদিত ও সুসজ্জিত করে এবং সংযমশীলতার পরিচ্ছদই উত্তম। ইহা আল্লাহর নিদর্শনাবলীর অন্তর্গত, যেন তোমরা স্মরণ কর।’ এ আলোচনায় যে রঙের কাপড় নবিজির [সা.] প্রিয় ছিল তা নিয়ে আলোচনা করা হলো।

নবিজির [সা.] সাদা রঙের কাপড় বা পোশাক প্রিয় ছিল। তিনি বলেন, ‘তোমাদের জন্য আল্লাহর সামনে যাওয়ার সর্বোত্তম পোশাক সাদা পোশাক।’ (আবু দাউদ,ইবনে মাজা) তিনি আরো বলেন, ‘সাদা কাপড় পর এবং সাদা কাপড় দ্বারা মৃতদের কাফন দাও। কেননা এটা অপেক্ষাকৃত পবিত্র ও পছন্দনীয়।’ (আহমদ, তিরমিযী, নাসায়ী, ইবনে মাজাহ) সাদার পরেই তাঁর পছন্দনীয় রং ছিল সবুজ।

তবে তাতে হালকা সবুজ ডোরা থাকা পছন্দ করতেন। একেবারে নির্ভেজাল লাল পোশাক খুবই অপছন্দ করতেন। (শুধু পোশাক নয়, বরং অন্যান্য জিনিসে লাল রং ক্ষেত্র বিশেষে নিষিদ্ধ করেছেন। তবে হালকা লাল রং এর ডোরাকাটা কাপড় তিনি পরতেন। অনুরূপ হালকা হলুদ (মেটে রং) এর পোশাকও পরেছেন।

পোশাকের মধ্যে সাদা পোশাক স্বাস্থ্যসম্মত সে বিষয়ে শরীরবিজ্ঞানীদের দ্বিমত নেই। কেননা সাদা পোশাকে মন যেমন সাদা ও প্রফুল্ল হয় অন্য কোনো পোশাকে তা হয় না। দ্বিতীয়ত, সাদা কাপড়ে ময়লা জমলে তা চোখে পড়ে। অন্য যে কোনো রংয়ের কাপড়ে তা দেখা যায় না। শরীরে ময়লা লাগা, ময়লা ও দুর্গন্ধযুক্ত পোশাক ব্যবহার করা স্বাস্থ্যসম্মত নয়। তাই সাদা কাপড়ই উত্তম।

সবুজ রং সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে, চোখের দৃষ্টিশক্তিকে প্রখর করে। সূর্যের যে সাতটি রং আছে সবুজ তার মধ্যে অন্যতম। যদি গাছের পাতা এই সূর্যরশ্মি না পায় তবে সবুজ রং ধারণ করতে পারে না।

আপনার মন্তব্য দিন

শেয়ার