বিপদে পড়লে আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা:) এই ৩টি দোয়া পাঠ করতে বলেছেন

: আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) মহান আল্লাহর দীন প্রতিষ্ঠাকালে বহু বিপদের সম্মুখীন হয়েছেন। বেশ কয়েকবার কাফেরদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হয়েছে। অনেক জুলুম, অন্যায়, অত্যাচার পাড়ি দিয়ে তিনি ইসলাম প্রতিষ্ঠা করেছেন। বিপদের সময় মহানবী (সা.) যে ৩টি দোয়া পাঠ করতেন সেই দোয়াগুলো উম্মতদেরও পাঠ করাতে বলেছেন।

দোয়া ৩টি হলো-
১। সাদ ইবনে আবি ওক্কাস রা. বলেন, নবীজি সা. দুঃখ-কষ্টের সময় বলতেন :
লা-ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ জোয়ালিমিন। (দোয়া ইউনূস)

অর্থ : একমাত্র তুমি ছাড়া কোনো মাবুদ নেই। তোমার পবিত্রতা বর্ণনা করছি। নিশ্চয়ই আমি সীমালঙ্ঘনকারী। (তিরমিজি : ৩৫০০)

২। আসমা বিনতে ওমাইর রা. থেকে বর্ণিত, নবীজি সা. বলেন, আমি কি তোমাদের এমন কিছু শিখিয়ে দেব না যা তুমি দুশ্চিন্তা ও পেরেশানির মধ্যে পড়বে। সাহাবী বললেন, অবশ্যই শেখাবেন। নবীজি বললেন, দোয়াটি হচ্ছে : ‘আল্লাহু আল্লাহ রব্বী লা উশরিকু বিহি শাইয়ান।’

অর্থ : আল্লাহই আল্লাহ আমার প্রতিপালক। আমি তার সঙ্গে কোনো কিছু শরিক করি না। (আবু দাউদ : ১৫২৫)

৩। আনাস রা. থেকে বর্ণিত, নবীজি সা. বলেন :
আল্লাহুম্মা লা সাহলা ইল্লা মা জায়ালতাহু সাহলান, ওআনতা তাজআলুল হুযনা সাহলান ইযা শিইতা।

অর্থ : ইয়া আল্লাহ, কোনো বিষয় সহজ নয়। হ্যাঁ, যাকে তুমি সহজ করে দাও। যখন তুমি চাও তখন তুমি মুশকিলকে সহজ করে দাও। (ইবনে হিব্বান : ৯৭৪)

ইসলাম ধ্বংস করতে এসে নিজেই মুসলিম হয়ে গেলাম!!

যখন তিনি দাওয়াত দিলেন, তা আমার মাঝে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলো। আমি তা বুঝতে পেরেছিলাম। আমি জানতাম আমি সত্যের মুখোমুখি হয়েছি, তাই আমাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। গল্পটি হলো কিভাবে বিভিন্ন পরিকল্পনার মাঝে আমি ইসলাম গ্রহণ করলাম।

আমি নিজে ও যে দলের সাথে কাজ করতাম আমরা পরিকল্পনা সাজিয়েছিলাম। আর আল্লাহও পরিকল্পনা করলেন। আল্লাহই হলেম সর্বোত্তম পরিকল্পনাকারী। যখন আমি তরুণী ছিলাম, আমি একটি দলের নজরে পড়ে যাই, যারা মূলত একটি অশুভ উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করত। তারা ছিলো, সম্ভবত এখনো আছে এমন ব্যক্তিদের নিয়ে যারা মূলত সরকারের বিভিন্ন দফতরে কাজ করেন এবং তাদের মূল উদ্দেশ্যই হল ইসলামের সর্বনাশ করা। যতদূর জানি এটি কোন সরকারি দল নয় কিন্তু তারা তাদের উদ্দেশ্য হাসিলে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি দফতরগুলোকে ব্যবহার করে থাকে।

তাদের একজন সদস্য আমাকে পছন্দ করেছিলেন, কারণ তিনি দেখেছিলেন আমি নারীবাদী আন্দোলনের ব্যাপারে অগ্রগামী। তিনি আমাকে বললেন, যদি আমি আরব বিশ্বকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নিয়ে অধ্যয়ন করি তবে সুনিশ্চিত ভাবেই আমাকে মিশরের আমেরিকান দূতাবাসে চাকরি পেয়ে যাবো। তিনি চাচ্ছিলেন আমি যেন সেখানে আমার দেশের অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে সেখানকার নারীদের মাঝে নারীবাদী আন্দোলনকে ছড়িয়ে দেই।

আমার কাছে তা অত্যন্ত ভালো কিছুই মনে হয়েছে। টিভিতে আমি মুসলিম মহিলাদের দেখতাম; আমি জানতাম তারা ছিলো অত্যন্ত নির্যাতিত সম্প্রদায়, তাই আমিও চাচ্ছিলাম তাদের বিংশ শতকের আলোর দিকে নিয়ে আসতে।

এই উদ্দেশ্যে নিয়ে আমি কলেজে ভর্তি হলাম ও লেখাপড়া আরম্ভ করলাম। আমি কোরআন, হাদিস ও ইসলামের ইতিহাস নিয়ে অধ্যয়ন করেছি। আমার অধ্যয়ন ছিল মূলত কিভাবে তা নিজের কাজে লাগাবো সে কেন্দ্রিক। আমি শিখেছিলাম নিজের উদ্দেশ্য হাসিলে কিভাবে বিষয়গুলোকে বিকৃতরূপে উপস্থাপন করতে হবে। এটিই ছিল সর্বাপেক্ষা মূল্যবান অস্র।

যখন আমি শিখতে শুরু করে ক্রমাগত বিভ্রান্ত হতে থাকলাম। এর মর্মার্থও ছিলো অত্যন্ত ভয়াবহ। এই ধাক্কা কাটিয়ে উঠার জন্য আমি খ্রিষ্টবাদের উপর ক্লাস করতে শুরু করলাম। হার্বার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ধর্মতত্ত্বের উপর পি,এইস,ডি. ধারী স্বনামধন্য প্রফেসারের সাথেই ক্লাস নিতে পছন্দ করতাম। আমার কাছে মনে হয়েছিলো আমি অত্যন্ত ভালো কারো তত্ত্বাবধানে আছি। আমি জানতে পারলাম তিনি একেশ্বরবাদী খ্রিষ্টান। তিনি ত্রিতত্ত্ববাদ কিংবা যিশুর দেবত্বে বিশ্বাস করতেন না। বরং তিনি বিশ্বাস করতেন, যিশু একজন নবী ছিলেন।

গ্রিক, হিব্রু ও আর্মারিক বাইবেল দিয়েই তিনি প্রমাণ করেছেন কিভাবে বাইবেল পরিবর্তিত হয়েছে। সেই সাথে তিনি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটগুলোও তিনি সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেছিলেন।

সময়ের সাথে সাথে এই ক্লাসগুলো শেষ হয়ে গেল, আমার ধর্মও তার আবেদন হারিয়ে ফেলেছিলো কিন্তু আমি ইসলাম গ্রহণে তখনো প্রস্তুত ছিলাম না।

সময় গড়িয়ে চললো আপন গতিতে, নিজের ও ভবিষ্যতের ক্যয়ারিয়ারে জন্য তিন বছর অধ্যয়নের পিছনে ব্যয় করলাম। এ সময় আমি বিভিন্ন মুসলিমকে তাদের বিশ্বাস সমন্ধে প্রশ্ন করতে আরম্ভ করি। MSA [Muslim Student Association] এর এক ভাইকে এ বিষয়ে ব্যক্তিগতভাবে প্রশ্ন কিরেছিলাম। ইসলামের প্রতি আমার আগ্রহ দেখে তিনি ব্যক্তিগতভাবে আমাকে শিক্ষা দেওয়ার ব্যাবস্থা করলেন। তিনি যে কোন বিষয়েই আমাকে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আলোচনা করতেন।

একদিন এই মানুষটি আমার কাছে এসে বললেন, একটি মুসলিম দল আমাদের শহরে এসেছেন। তিনি চান আমি যেন তাদের সাথে দেখা করি। আমি রাজি হলাম। এশার নামাজের পর আমি সেখানে গেলাম। আমাকে একটি কক্ষে নিয়ে গেলেন যেখানে প্রায় জনা বিশেক লোক বসে ছিলেন। সবাই আমাকে দেখে বসার জন্য যায়গা ছেড়ে দিলেন। একজন বয়োবৃদ্ধ পাকিস্তানির মুখোমুখি আমাকে বসানো হল।

মাশা’আল্লাহ, খ্রিস্টবাদ সমন্ধে ভাইটি অত্যন্ত জ্ঞান রাখেন। আমরা দুজন ফজর পর্যন্ত কোরআন ও বাইবেল নিয়ে নানান বিষয়ে আলোচনা ও যুক্তিতর্ক চালিয়ে যাই। উনার বক্তব্য শুনার পর আমি যা খ্রিষ্টবাদ সমন্ধে ক্লাসে জেনেছিলাম তাই যেন নতুন করে জানলাম, তিনি এমন এক কাজ করে বসলেন যা উনার পূর্বে আর কেও করেননি। তিনি আমাকে মুসলিম হতে আহবান জানালেন।

গত তিনটি বছর আমি ইসলাম সমন্ধে জানতে চেয়েছি, গবেষণা করেছি কিন্তু কেও আমাকে দাওয়াত দেয়নি। আমি শিখেছি, যুক্তিতর্ক করেছি এমনকি অপমানিতও হয়েছি কিন্তু কখনো দাওয়াত পাইনি।

তাই, যখন তিনি দাওয়াত দিলেন, তা আমার মাঝে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলো। আমি তা বুঝতে পারেছিলাম। আমি জানতাম আমি সত্যের মুখোমুখি হয়েছি, তাই আমাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আলহামদুলিল্লাহ (সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য), আল্লাহ আমার অন্তর খুলে দিলেন, আর আমিও বললাম, “আমি মুসলিম হতে চাই।”

অতঃপর তিনি আমাকে আরবি ও ইংরেজিতে শাহাদাৎ পাঠ করালেন।

শাহাদাৎ পাঠ করার পর অদ্ভুত এক অনুভূতি আমাকে আচ্ছন্ন করে ফেললো। মনে হচ্ছিলো বুকের উপর চেপে থাকা বিরাটকায় পাথরটা নেমে গেল। মনে হচ্ছিল জীবনের প্রথমবারের মত নিশ্বাস নিচ্ছি যার জন্য এতদিন আমি হাসফাস করছিলাম।

আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহ জান্নাতের পথে আমাকে পরিচ্ছন্ন এক নতুন জীবন দান করেছেন, দোয়া করি আল্লাহ যেন বাকি জীবন এমনকি মুসলিম হিসেবেই মৃত্যু দান করেন। আমিন। উৎস: ইসলামী বার্তা

ইসলাম সরল ধর্ম এটাকে জটিল করবেন না

আল কুরআনে আল্লাহতায়ালা বলছেন, ‘আমি আপনার প্রতি গ্রন্থ নাজিল করেছি; সেটি এমন যে, প্রত্যেক বস্তুর সত্য ও সুস্পষ্ট বর্ণনা; হেদায়াত, রহমত এবং মুসলমানদের জন্য সুসংবাদ (সূরা নাহল, আয়াত ৮৯)।

এটা আমাকে মনে করিয়ে দিয়েছে সম্প্রতি পড়া, ফেসবুকের একটি পোস্ট সম্পর্কে। ভাবলাম, এটা কতই না সত্য; আবার ভুলে যাওয়াও সহজ। সমাজকে এমনভাবে তুলে ধরা হয় যে, খুঁজে বের করা হয় সমস্যার জটিল সমাধান। অথচ এর সুরাহা আগে থেকেই আমাদের সামনে করা আছে। বিশেষ করে, মুসলমানদের জন্য এতে শেখার বিষয় রয়েছে।

আল্লাহ আপনার জীবন সহজ করতে চান
এই ধর্ম (ইসলাম) সহজ, সুন্দর এবং সোজা কথায় পরিপূর্ণ। তবুও কেন বিভিন্ন বিষয়কে কঠিন করে তুলবেন? আল কুরআনের আয়াত থেকে বোঝা যায়, ইসলামের অনুসরণ করা সহজ। বরং, ইসলাম আমাদের উৎসাহ দেয় ধর্মীয় ব্যাপারগুলোকে সহজ করে তোলার জন্য। দুর্ভাগ্যের কথা, কিছু মুসলমান এই ভুল ধারণা পোষণ করেন যে, ধর্ম পালনের ক্ষেত্রে তারা যত কঠোর হবেন, তত বেশি তারা পরহেজগার হতে পারবেন। আমাদের ধর্ম যে শিক্ষা দেয়, এর সম্পূর্ণ পরিপন্থী ধারণা ওই দৃষ্টিভঙ্গি।

ধর্ম সম্পর্কে উপলব্ধির অভাবে এমন ভ্রান্ত ধারণা সৃষ্টি হয়ে থাকে। তা মাঝে মাঝে কিছু লোককে ধর্ম থেকে সরিয়ে নেয়। কারণ ধর্মকে তাদের কাছে ভুল পন্থায় উপস্থাপন করা হয়।
কিছু ব্যক্তির লক্ষ্য হলো ধর্মকে এর সারবস্তু থেকে বিচ্যুত করা। ধর্মের সাথে তারা কঠিন আচার অনুষ্ঠান, এমনকি কুসংস্কার যোগ করে ধর্ম পালন করা থেকে মানুষকে বিরত রাখে। এসব আচার-প্রথা মানুষকে ইসলাম থেকে বিচ্যুত করেছে।

যা হোক, আল কুরআনের বিভিন্ন আয়াতের বক্তব্য এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বহু হাদিস থেকে আমরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারি, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতা থাকলে ভালো মুসলমান হওয়া সহজ।

দুনিয়ার এই জীবনে আমাদের পরীক্ষা করা হচ্ছে। ইহকালীন জীবনে আমরা যে বিশ্বাস পোষণ করি, যে নৈতিকতা অবলম্বন করে থাকি, সে মোতাবেক আল্লাহতায়ালা নির্ধারণ করবেন, আমাদের প্রকৃত জীবন আমরা কোথায় কাটাব জাহান্নাম নাকি জান্নাতে। আমাদের পরীক্ষাটা মোটেও কঠিন নয় : আল্লাহ চান, আমরা এ পৃথিবীতে যেন এমন জীবনযাপন করি যা প্রকৃত সুখ ও শান্তি বয়ে আনবে। সংক্ষেপে বলা যায়, আমাদের জীবন হতে হবে মধ্যপন্থা বা পরিমিতির অনুগামী।

চরমের দিকে যাবেন না
এটা জানা কথা যে, রাসূল মুহাম্মদ সা: ধর্মীয় বিষয়ে বাড়াবাড়ি বা চরম পন্থাকে সর্বদাই প্রতিরোধ করেছেন। তাঁর ঘনিষ্ঠ সাহাবি হজরত আবদুল্লাহ ইবন আমর রা:-কে এক দিন তিনি বললেন, আমি কি এটা ঠিক শুনেছি যে, তুমি প্রতিদিনই রোজা রাখো এবং সারা রাত সালাত আদায় করো?’ তিনি জবাব দিলেন, হ্যাঁ, আল্লাহর রাসূল সা:।’ তখন রাসূল সা: বলেছিলেন, তা কোরো না। রোজা রাখবে। আবার খাওয়াপিনাও করবে। সালাত আদায়ের জন্য দাঁড়াবে; আবার ঘুমাবেও। কারণ তোমার ওপর তোমার দেহের অধিকার আছে; তোমার ওপর তোমার চোখের অধিকার আছে; তোমার স্ত্রীর অধিকার রয়েছে তোমার ওপর; তোমার মেহমানেরও অধিকার আছে তোমার ওপর’ (আল বুখারি, ১২৭)।

এই হাদিস ইঙ্গিত দেয়, আমাদের মনোযোগ দিতে হবে যেসব বাধ্যবাধকতার প্রতি, সেগুলোর মধ্যে সূক্ষ্ম ভারসাম্য রক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ। আল্লাহর প্রতি, অন্যান্য মানুষের প্রতি এবং নিজেদের প্রতি দায়িত্বের মধ্যে ভারসাম্য থাকতে হবে বৈকি। কুরআন শরীফের অনেক আয়াতে এ বিষয় তুলে ধরা হয়েছে এবং জানিয়ে দেয়া হয়েছে, আল্লাহ তায়ালা পরম করুণাময় ও দয়ালু।

(প্রাচীনকালের চীনা দার্শনিক) কনফুসিয়াস বলেছিলেন, ‘জীবন প্রকৃতপক্ষে সরল। কিন্তু এটাকে কঠিন করে তোলার ওপর জোর দিই।’ এ কথা বারবার মনে প্রতিধ্বনি তোলে, যখন আমরা জানতে পারি যে, অনেক সময় মানুষ ইসলামের সৌন্দর্য উপলব্ধি করতে ব্যর্থ হয়ে ইসলাম থেকে দূরে সরে গেছে। নানা ধরনের বিধিনিষেধের কড়াকড়ির দরুন তারা ভীত হয়ে পড়েছিল। তখন তারা মনে করেছে, ইসলামের সীমারেখার গণ্ডিতে তারা সুখী হতে পারবে না। এসব ভুল ধারণা দূর করা জরুরি। ভেবে দেখা দরকার, আমাদের প্রচলিত বিশ্বাসের উৎস কী? এটা কি কুরআন-সুন্নাহ থেকে উৎসারিত? নাকি এমন কোনো প্রথা বা রেওয়াজ আমরা অনুসরণ করছি, যার উৎস জানা নেই।

বাস্তবতা হচ্ছে, আল্লাহ আমাদের সৃষ্টি করেছেন। তিনিই জানেন, আমাদের জন্য সর্বোত্তম হবে কোন বিষয়। যারা এসব সত্য জানে না, তারা মনে করে, ইসলামের নির্দেশিত সীমারেখা তুলে দিলে আরো সুখী ও আরামদায়ক জীবনের সন্ধান মিলবে। আল্লাহতায়ালা কুরআনে বলেছেন ইহজীবন ও পরজীবন, দুটোরই কল্যাণের জন্য প্রার্থনা করতে।

এ প্রসঙ্গে জীবন উপভোগ করার বিষয়ের উল্লেখ করতে হয় : আল কুরআনের সূরা আল আরাফের ৩১ ও ৩২ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে হে আদম সন্তানেরা! নামাজের সব সময় ও স্থানে তোমার সুন্দর পোশাক পরিধান করো; খাও, পান করো, তবে এসব অতিরিক্ত করে অপচয় ঘটাবে না; কেননা, আল্লাহ অপচয়কারীদের ভালোবাসেন না। বলো : কে নিষিদ্ধ করেছে আল্লাহর সুন্দর উপহারগুলো, যেগুলো তিনি তাঁর বান্দাদের জন্য তৈরি করেছেন এবং পরিষ্কার ও পবিত্র সেসব জিনিস, যা তিনি স্বয়ং তাঁর বান্দাদের জন্য উদ্ভাবন করেছেন।
ইসলামে যেসব বিষয় চর্চা বা প্রতিপালনের সাথে সংশ্লিষ্ট, সেগুলোর ব্যাপারে এই শিক্ষাই আমরা পেয়েছি, যতটা সম্ভব হয় ততটা অনুসরণ করতে হবে সত্যকে। আল্লাহ অঙ্গীকার করেছেন যে, মানুষের কাছে তাঁর প্রত্যাশা সহজ। সে প্রত্যাশা পূরণের লক্ষ্যে আমাদের উপলব্ধি প্রয়োজন। সে অনুসারে আমাদের জীবনকে সহজ সরল রাখতে হবে।

ইসলামের সুমহান বাণী মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেয়ার ক্ষেত্রে আল কুরআনে মুহাম্মদ সা:-কে উপদেশ দেয়া হয়েছে, ‘এটা আল্লাহর করুণার অংশ যে, আপনি তাদের সাথে সব্যবহার করবেন। আপনি কঠোর বা কঠিন হৃদয় হলে তারা আপনার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে সরে যাবে (সূরা আলে ইমরান)।

এ প্রসঙ্গে আরো বলা প্রয়োজন, রাসূল সা: যখন তাঁর সাহাবিদের পাঠালেন জনগণকে ইসলাম শিক্ষাদানের জন্য, তিনি তাদের পরামর্শ দিয়েছিলেন, ‘দ্বীন বা ধর্মের বিষয়গুলো মানুষের সামনে সহজ করে তুলে ধরো এবং সেগুলোকে কঠিন করে ফেলো না। পরস্পরকে মান্য করো, আর নিজেদের মধ্যে মতানৈক্য সৃষ্টি করবে না (আল বুখারী)।

মানুষের জন্য যা মেনে চলা সহজ এবং যা নৈতিক ও আধ্যাত্মিকভাবে একজন ধর্মপ্রাণ মানুষ হওয়ার জন্য ন্যূনতম প্রয়োজন এই দুয়ের মধ্যে আল্লাহ প্রাকৃতিক ভারসাম্য তৈরি করে দিয়েছেন। এর একটি দৃষ্টান্ত যখন আমরা ‘কোনো পণ্যের দাম বাড়াই’ অর্থাৎ ধর্মের বিভিন্ন ব্যাপারে আরো কঠোরতা অবলম্বন করি, তখন পণ্যের গ্রাহক কমে যাওয়ার মতো ধর্মের দিকে আগ্রহী মানুষও কমে যাবে। অবশ্য আমাদের মনে রাখা চাই, আল্লাহ’র নির্দেশিত পন্থায়ই ইসলামকে সহজভাবে উপস্থাপন ও পালন করতে হবে। এই ‘সহজ’ হওয়ার অর্থ, ঢিলেমি দেয়া হয়।

আমি নিজে এবং সবাইকে স্মরণে রাখতে হবে যে, কোনো কোনো সময়ে শয়তান আমাদেরকে ধর্ম থেকে, আল্লাহতায়ালার আদেশ-নিষেধ থেকে বিচ্যুত করতে অপপ্রয়াস পায়। শয়তান চেষ্টা করে আমাদেরকে অনৈতিক পথে নিতে; এমনকি ঈমান পর্যন্ত নস্যাৎ করতে।
শয়তান আমাদের চিন্তা-চেতনায় ভিত্তিহীন সন্দেহের বীজ বপন করে এবং আমাদের কথা ও কাজের মাধ্যমে আমাদেরকে ইসলাম থেকে সরিয়ে নিতে চেষ্টা চালায়। শয়তান নানা ধরনের ফাঁদ পেতে ইসলামের অনুসরণ করাকে আমাদের জন্য কঠিন করে তোলে। শয়তান আমাদের দুশমন। কুরআনে বর্ণিত আছে তোমরা, যারা ঈমানদার, ইসলামে প্রবেশ করো পরিপূর্ণরূপে। শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ কোরো না; সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু (সূরা বাকারা)।

ভারসাম্যপূর্ণ ধর্ম
ইসলামের একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো, এটা একটি ভারসাম্যপূর্ণ ধর্ম। যখনই রাসূল সা:-কে বেছে নিতে হতো দুটো জিনিস বা বিষয়ের মাঝে যে কোনো একটি, সব সময় তিনি বেছে নিতেন সহজটি, যদি না তা নিঃসন্দেহে নিষিদ্ধ কিছু হতো। এটা ইসলামের সৌন্দর্যের একটি নজির এবং আমাদের প্রতি আল্লাহর রহমত বটে।

মানুষের আধ্যাত্মিক ও বস্তুগত চাহিদার মধ্যে সমন্বয়ের ক্ষেত্রে আমার উপলব্ধি হলো, আমাদের জীবনকে সহজ এবং ‘বস্তুগত বোঝা’ হালকা করে এটা সম্ভব করা যায়। এ জন্য দরকার আমাদের আধ্যাত্মিক ও মানসিক চাহিদার দিকে বেশি গুরুত্ব দেয়া। দারিদ্র্য অবলম্বনের কথা বলছি না। বলছি বস্তুগত সম্পদ আহরণের প্রবণতা হ্রাসের পক্ষে। সেটা হবে এই পৃথিবীতে একটি সহজ ও ভারসাম্যপূর্ণ কাজ এবং পরকালের পুঁজিতুল্য ভালো কাজ।

আল্লাহ তায়ালার নৈকট্য অর্জন এবং ইসলামের একটি ‘স্তম্ভ’ বা রুকন বাস্তবায়নের উপায় হচ্ছে জাকাত প্রদান করা। এভাবে আমরা তাদের সুখী করতে পারি, যারা আর্থিকভাবে কম সৌভাগ্যবান। আমরা সন্তানদের এ শিক্ষাই দেবো এবং নিজেদের মনে করিয়ে দেবো যে, আমাদের যা আছে, তা থাকার সার্থকতা দান করার মাঝে। আখেরাতে এটা সুফল দেবে।

ব্যক্তিগত অধিকার ও দায়িত্বের মাঝে ভারসাম্য আনতে গিয়ে আমরা দেখি, ইবাদাত-বন্দেগিসহ সবকিছুকে সহজ করাই প্রয়োজন। আমরা যদি চূড়ান্ত গন্তব্য, তথা জান্নাতের দিকে অব্যাহত পদক্ষেপে এগিয়ে যেতে চাই, তা হলে এটাই আমাদের করণীয়।
মনে রাখতে হবে, আমাদের ভুল হলে অন্যেরা যাতে তা সংশোধন করে দিতে পারেন, সে সুযোগ দিতে হবেই। যা হোক, আল্লাহ তায়ালা ওয়াদা করেছেন, কারো সাধ্যাতীত কোনো কিছুর জন্য তিনি কাউকে দায়ী করবেন না। যারা তওবা করে, তাদের ক্ষমা করার প্রতিশ্রুতি তিনি দিয়েছেন।
সৌজন্যে : অন ইসলাম ডট নেট

ভাষান্তর : মীযানুল করীম

আপনার মন্তব্য দিন

শেয়ার