ফজর নামাজের ফযিলতঃ ইসলামে এর গুরুত্ব জেনে নিন?

ওমর শাহ : মন দিলের প্রশান্তির আহার নামাজ। কোরআনের ভাষায়, ‘নিশ্চয় নামাজ মানুষকে সকল অশ্লীল কাজ থেকে বিরত রাখে’। নামাজ আল্লাহর নিকটও সবচেয়ে প্রিয় আমল। বান্দার জন্য পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আল্লাহ তায়ালা ফরয করেছেন। প্রতিটি নামাজেরই রয়েছে বিশেষ বিশেষ ফযিলত। রাসুলুল্লাহ সা. বলেছেন, “যে ব্যক্তি এশার নামাজের জামাতে হাযির হবে, তার জন্য অর্ধ-রাত পর্যন্ত কিয়াম করার (অর্থাৎ নামাজে দাঁড়িয়ে থাকা) নেকি হবে। আর যে এশাসহ ফজরের নামাজ জামাতে পড়বে, তার জন্য সারা রাতব্যাপী কিয়াম করার সমান নেকি হবে।” (মুসলিম)।

অপর একটি হাদিসে রাসুল সা. কে বলতে শুনেছি, “যে ব্যক্তি জামাতের সাথে এশার নামাজ আদায় করল, সে যেন অর্ধেক রাত পর্যন্ত কিয়াম (ইবাদত) করল। আর যে ফজরের নামাজ জামাতসহ আদায় করল, সে যেন সারা রাত নামাজ পড়ল।”
উমার ইবনে খাত্তাব রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সা. বলেছেন, “যে ব্যক্তি স্বীয় অযীফা (দৈনিক যথা নিয়মে তাহাজ্জুদের নামাজ) অথবা তার কিছু অংশ না পড়ে ঘুমিয়ে পড়ে, অতঃপর যদি সে ফজর ও যোহরের মধ্যবর্তী সময়ে তা পড়ে নেয়, তাহলে তার জন্য তা এমনভাবে লিপিবদ্ধ করা হয়, যেন সে তা রাতেই পড়েছে। (মুসলিম)।
আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, “মুনাফিকদের উপর ফজর ও এশার নামাজ অপেক্ষা অধিক ভারী নামাজ আর নেই। যদি তারা এর ফজিলত ও গুরুত্ব জানত, তাহলে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও অবশ্যই (মসজিদে) উপস্থিত হত।” (বুখারি)।
আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, “যদি লোকে এশা ও ফজরের নামাজের ফজিলত জানতে পারত, তাহলে তাদেরকে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও তারা অবশ্যই ঐ নামাজদ্বয়ে আসত।”

(বুখারি)
আবু যুহাইর ‘উমারাহ ইবনে রুআইবাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সা.কে বলতে শুনেছি যে, “যে ব্যক্তি সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের পূর্বে (অর্থাৎ ফজরের ও আসরের নামাজ) আদায় করবে, সে কখনো জাহান্নামে প্রবেশ করবে না।”
(মুসলিম)
জাবের ইবনে সামরা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সা. যখন ফজরের নামাজ সমাপ্ত করতেন তখন ভালোভাবে সূর্যোদয় না হওয়া অবধি নামাজ পড়ার জায়গাতেই দুই বা গুটিয়ে (বাবু হয়ে) বসে থাকতেন।’ (মুসলিম)।

মোহাম্মাদ (সাঃ) এর সাথে জান্নাতে যাওয়ার আমল..?

হজরত মুনজির [রা.] বলেন: আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যে ব্যক্তি প্রতিদিন সকালে এ দোয়াটি পড়বে আমি তার দায়িত্ব নিলাম, কেয়ামতের দিন আমি তাকে তার হাত ধরে জান্নাতে নিয়ে যাব।

[মুজামে কাবির-৮৩৮ মুজামুস সাহাবাহ-১৬৯৬]

বাংলা উচ্চারণ
রদিতু বিল্লাহি রববাও ওয়া বিল ইসলামি দিনাও ওয়া বিমুহাম্মাদিন [সা.] নাবিইয়াও।
বাংলা অর্থ
আমি আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট আমার প্রতিপালক হিসেবে এবং ইসলামের প্রতি সন্তুষ্ট আমার দীন হিসেবে এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি সন্তুষ্ট আমার নবী হিসেবে।

জেনে নিন, যে কারণে মক্কা-মদিনায় হিন্দু খ্রিস্টানরা প্রবেশ করতে পারে না

ডা. জাকির নায়েকের প্রশ্ন উত্তর পর্বে নানাজন নানাভাবে প্রশ্ন করে থাকেন। এবার এক হিন্দু মেয়ে জিজ্ঞেস করেন, আচ্ছা ডা. জাকির! আপনি বলে থাকেন, হিন্দু-মুসলিম-খ্রিস্টান সবাই ভাই ভাই। আমরা সবাই যদি ভাই ভাই হয়ে থাকি তাহলে মক্কা-মদিনায় প্রবেশ করতে পারি না কেন?

মেয়েটির প্রশ্নের প্রশংসা করে ডা. জাকির নায়েক বলেন, আপনার বাসা কোথায়?
মেয়েটির উত্তর : ইন্ডিয়ায়।
জাকির নায়েক : জন্মস্থান কোথায়?
মেয়েটির উত্তর : ইন্ডিয়ায়।
বোন আপনি কি জানেন, ইন্ডিয়ায় বসবাস বা ইন্ডিয়ায় জন্ম নিয়েও আপনি ইন্ডিয়ার এমন কিছু জায়গা আছে যেখানে প্রবেশ করতে পারবেন না?
মেয়েটির উত্তর, না, এমন কোনো জায়গা থাকতে পারে না। আমি ইন্ডিয়ার সব জায়গায় প্রবেশ করতে পারি।

ডা. জাকির নায়েক ফের বলেন, আপনি সব জায়গায় প্রবেশ করতে পারলেও একটা জায়গায় প্রবেশ করতে পারবেন না। আর সেটা হলো ক্যান্টনমেন্ট। এখানে তাদেরই প্রবেশ করতে দেয়া হয়, যারা দেশের যেকোনো কল্যাণের জন্য ঝাঁপিয়ে পড়তে পারে।

বোন ইসলামের একটা ক্যান্টনমেন্ট আছে, সেটা হলো মক্কা ও মদিনা শরিফ। এখানে তারাই প্রবেশ করতে পারে, যারা আল্লাহর জন্য জানমাল দিতে পারে। আপনি ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ’- এই ক্লাবের পাসপোর্টধারী হলেই আপনি মক্কা ও মদিনায় প্রবেশ করতে পারবেন।

ডা. জাকির নায়েকের এমন চমৎকার উত্তর শুনে অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাই হতবাক হয়ে যান। প্রশ্নকারী হিন্দু মেয়েটি মাথা নিচু করে নিজ আসনে বসে যান।

রাসুল (সা.) সাতটি খেজুর ও দুধ দিয়ে সকালের নাস্তা করতেন কেন?

আমাদের নবী (সা.) -এর সকল কাজই আমাদের জন্য আদর্শ। নবী (সা.) -এর ঘুম, খাওয়া, হাটা, চলা এই সকল বিষয়ের মাঝেই আমাদের জন্য রয়েছে উত্তম আদর্শ।

মহানবী হজরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রতিদিন সকালে সাতটি খেজুর ও দুধ দিয়ে নাস্তা করতেন। এমনকি তিনি তার নাস্তার এই মেনু কখনো পরিবর্তন করেননি। নবীর (সা.) সাহাবারা নবীর (সা.) কাছে জানতে চেয়েছিলেন তিনি কেন প্রতিদিন সাতটি খেজুর ও দুধ দিয়ে নাস্তা করেন?

তিনি বলেছিলেন, সাতটি খেজুর ও দুধ দিয়ে নাস্তা করা মস্তিষ্কের জন্য ভালো। এরপরে সাহাবিরাও সাতটি খেজুর ও দুধ দিয়ে নাস্তা করতেন।

কয়েক বছর আগে বিজ্ঞানীরা গবেষণা করেছেন, কেন নবী (সা.) সাতটি খেজুর ও এক দুধ দিয়ে নাস্তা করেছেন। তারা গবেষণার ফলাফল হিসেবে যেটা পেয়েছেন সেটা হচ্ছে প্রতিদিন সকালে সাতটি খেজুর ও দুধ দিয়ে নাস্তা করলে মানুষের শরীরের হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড ও এনজাইমগুলো দ্রুত কাজ করা শুরু করে। এতে করে মানুষের শরীর খালো থাকে।

বিজ্ঞানীরা তাদের গবেষণায় আরো পেয়েছে যে প্রতিদিন সকালে সাতটি খেজুর ও এক কাপ দুধ নিয়ে নাস্তা করলে মানুষের মস্তিষ্কের বুদ্ধিমত্তা বৃদ্ধি পায়। লিভার ভালো থাকে। ত্বক সুন্দর হয়।

আমাদের নবীর (সা.) প্রতিটি সুন্নত মানার মাঝেই যে কল্যাণ বিজ্ঞানীদের এই একটি বিষয়ের উপর গবেষণা থেকেই বোঝা যায়। আজ থেকে ১৪০০ বছর আগে আমাদের নবী (সা.) যেভাবে নাস্তা করেছেন সেই ভাবে নাস্তা করার মাঝে বিজ্ঞানীরা কল্যাণ খুঁজে পেয়েছে।

অথচ আমাদের নবী বিজ্ঞানীও ছিলেন না আবার ডাক্তারও ছিলেন না। আমরা মুসলিম হিসেবে আমাদের সবার উচিত নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতিটি সুন্নতের উপর আমল করা। নি:সন্দেহে এতেই আমাদের মাঝে রয়েছে কল্যাণ।

সূত্র : মুসলিমস্টোরিজ.টপ

আপনার মন্তব্য দিন

শেয়ার