পড়বেন কিন্তু কাঁদবেন না! এ পি জে আব্দুল কালামের জীবন থেকে নেয়া কিছু বাস্তবতা

যখন আমি ছোট ছিলাম, আমার মা আমাদের জন্য রান্না করতেন। তিনি সারাদিন প্রচুর পরিশ্রম করার পর রাতের খাবার তৈরি করতেন। এক রাতে তিনি বাবাকে এক প্লেট সবজি আর একেবারে পুড়ে যাওয়া রুটি খেতে দিলেন। আমি অপেক্ষা করছিলাম বাবার প্রতিক্রিয়া কেমন হয় সেটা দেখার জন্য। কিন্তু বাবা চুপচাপ রুটিটা খেয়ে নিলেন এবং আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন স্কুলে আমার আজকের দিনটা কেমন গেছে।

আমার মনে নেই বাবাকে সেদিন আমি কি উত্তর দিয়ে ছিলাম কিন্তু এটা মনে আছে যে, মা পোড়া রুটি খেতে দেয়ার জন্য বাবার কাছে ক্ষমা চেয়েছিলেন। এর উত্তরে বাবা মা’কে যা বলেছিলেন সেটা আমি কোনদিন ভুলব না। বাবা বললেন, ‘প্রিয়তমা, পোড়া রুটিই আমার পছন্দ।’

পরবর্তীতে সেদিন রাতে আমি যখন বাবাকে শুভরাত্রি বলে চুমু খেতে গিয়েছিলাম তখন আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম যে তিনি কি আসলেই পোড়া রুটিটা পছন্দ করেছিলেন কিনা।

বাবা আমাকে দুহাতে জড়িয়ে ধরে বললেন, ‘তোমার মা আজ সারাদিন অনেক পরিশ্রম করেছেন এবং তিনি অনেক ক্লান্ত ছিলেন। তাছাড়া একটা পোড়া রুটি খেয়ে মানুষ কষ্ট পায় না বরং মানুষ কষ্ট পায় কর্কশ ও নিষ্ঠুর কথায়। জেনে রেখো, জীবন হচ্ছে ত্রুটিপূর্ণ জিনিস এবং ত্রুটিপূর্ণ মানুষের সমষ্টি।

আমি কোনক্ষেত্রেই সেরা না বরং খুব কম ক্ষেত্রেই ভাল বলা যায়। আর সবার মতোই আমিও জন্মদিন এবং বিভিন্ন বার্ষিকীর তারিখ ভুলে যাই। এ জীবনে আমি যা শিখেছি সেটা হচ্ছে, আমাদের একে অপরের ভুলগুলোকে মেনে নিতে হবে এবং সম্পর্কগুলোকে উপভোগ করতে হবে।

জীবন খুবই ছোট; প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে অনুতপ্ত বোধ করার কোন মানেই হয় না। যে মানুষগুলো তোমাকে যথার্থ মূল্যায়ন করে তাদের ভালোবাসো আর যারা তোমাকে মূল্যায়ন করে না তাদের প্রতিও সহানুভূতিশীল হও।”

তখন ১৯৪১ সাল, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলছে। আমরা থাকতাম রামেশ্বরম শহরে। এখানে আমাদের পরিবার বেশ কঠিন বাস্তবতার মধ্য দিয়ে সময় পার করছিল।

আমার বয়স তখন মাত্র ১০ বছর। কলম্বোতে যুদ্ধের দামামা বাজছে, আমাদের রামেশ্বরমেও এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। খাবার থেকে শুরু করে নিত্যব্যবহার্য পণ্য, সবকিছুরই দারুণ সংকট।

আমাদের সংসারে পাঁচ ভাই, পাঁচ বোন। তাদের মধ্যে তিনজনের আবার নিজেদেরও পরিবার আছে, সব মিলিয়ে এক এলাহি কাণ্ড। আমার দাদি ও মা মিলে সুখে-দুঃখে এই বিশাল সংসার সামলে রাখতেন।

আমি প্রতিদিন ভোর চারটায় ঘুম থেকে উঠে অঙ্ক শিক্ষকের কাছে যেতাম। বছরে মাত্র পাঁচজন ছাত্রকে তিনি বিনা পারিশ্রমিকে পড়াতেন। আমার মা আশিয়াম্মা ঘুম থেকে উঠতেন আমারও আগে। তিনি আমাকে গোসল করিয়ে, তৈরি করে তারপর পড়তে পাঠাতেন।

পড়া শেষে সাড়ে পাঁচটার দিকে বাড়ি ফিরতাম। তারপর তিন কিলোমিটার দূরের রেলস্টেশনে যেতাম খবরের কাগজ আনতে। যুদ্ধের সময় বলে স্টেশনে ট্রেন থামত না, চলন্ত ট্রেন থেকে খবরের কাগজের বান্ডিল ছুড়ে ফেলা হত প্ল্যাটফর্মে।

আমার কাজ ছিল সেই ছুড়ে দেওয়া কাগজের বান্ডিল সারা শহরে ফেরি করা, সবার আগে গ্রাহকের হাতে কাগজ পৌঁছে দেওয়া।

কাগজ বিক্রি শেষে সকাল আটটায় ঘরে ফিরলে মা নাশতা খেতে দিতেন। অন্যদের চেয়ে একটু বেশিই দিতেন, কারণ আমি একই সঙ্গে পড়া আর কাজ করতাম।

সন্ধ্যাবেলা স্কুল শেষ করে আবার শহরে যেতাম লোকজনের কাছ থেকে বকেয়া আদায় করতে। সেই বয়সে আমার দিন কাটত শহরময় হেঁটে, দৌড়ে আর পড়াশোনা করে।

একদিন সব ভাইবোন মিলে খাওয়ার সময় মা আমাকে রুটি তুলে দিচ্ছিলেন, আমিও একটা একটা করে খেয়ে যাচ্ছিলাম (যদিও ভাত আমাদের প্রধান খাবার, কিন্তু রেশনে পাওয়া যেত গমের আটা)।

খাওয়া শেষে বড় ভাই আমাকে আলাদা করে ডেকে বললেন, ‘কালাম, কী হচ্ছে এসব? তুমি খেয়েই চলছিলে, মাও তোমাকে তুলে দিচ্ছিল। তার নিজের জন্য রাখা সব কটি রুটিও তোমাকে তুলে দিয়েছে। এখন অভাবের সময়, একটু দায়িত্বশীল হতে শেখো। মাকে উপোস করিয়ে রেখো না।’ শুনে আমার শিরদাঁড়া পর্যন্ত শিউরে উঠল। সঙ্গে সঙ্গে মায়ের কাছে গিয়ে তাঁকে জড়িয়ে ধরলাম।

মাত্র পঞ্চম শ্রেণিতে পড়লেও পরিবারে ছোট ছেলে হিসেবে আমার একটা বিশেষ স্থান ছিল। আমাদের বাড়িতে বিদ্যুৎ ছিল না। কেরোসিন দিয়ে বাতি জ্বালানো হতো; তাও শুধু সন্ধ্যা সাতটা থেকে নয়টা পর্যন্ত।

মা আমাকে কেরোসিনের ছোট্ট একটা বাতি দিয়েছিলেন, যাতে আমি অন্তত রাত ১১টা পর্যন্ত পড়তে পারি। আমার চোখে এখনো পূর্ণিমার আলোয় মায়ের মুখ ভাসে।আমার মা ৯৩ বছর বেঁচে ছিলেন।

ভালোবাসা আর দয়ার এক স্বর্গীয় প্রতিমূর্তি ছিলেন আমার মা। মা, এখনো সেদিনের কথা মনে পড়ে,যখন আমার বয়স মোটে ১০। সব ভাইবোনের ঈর্ষাভরা চোখের সামনে তোমার কোলে মাথা রেখে ঘুমাতাম।

সেই রাত ছিল পূর্ণিমার। আমার পৃথিবী শুধু তোমাকে জানত মা! আমার মা! এখনো মাঝরাতে ঘুম ভেঙে উঠি। চোখের জল গড়িয়ে পড়ে। তুমি জানতে ছেলের কষ্ট মা। তোমার আদরমাখা হাত আমার সব কষ্ট ভুলিয়ে দিত।

তোমার ভালোবাসা, তোমার স্নেহ, তোমার বিশ্বাস আমাকে শক্তি দিয়েছিল মা। সৃষ্টিকর্তার শক্তিতে ভয়কে জয় করতে শিখিয়েছিল।

[সূত্র: এ পি জে আবদুল কালামের নিজস্ব ওয়েবসাইট। ইংরেজি থেকে সংক্ষেপিত অনুবাদ: অঞ্জলি সরকার]

কবরস্থানে থাকা অবস্থায় একদিন বাদশাহ হারুনুর রশীদ তার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন…

কবরস্থানে থাকা অবস্থায় একদিন বাদশাহ হারুনুর রশীদ তার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন…

( ৭৮৬ – ৮০৯খ্রি. ) বাহলুল নামে এক পাগল ছিল ।
যে অধিকাংশ সময় কবরস্থানে কাটাতো ।
কবরস্থানে থাকা অবস্থায় একদিন বাদশাহ হারুনুর রশীদ
তার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন…..
বাদশাহ তাকে ডাক দিলেন: বাহলুল ! ওই পাগল ! তোর কি আর জ্ঞান ফিরবে না ?
বাহলুল বাদশাহর এ কথা শুনে নাচতে নাচতে গাছের উপরের ডালে চড়লেন এবং
সেখান থেকে ডাক দিল: হারুন ! ওই পাগল ! তোর কি কোনদিন জ্ঞান ফিরবে না ?
বাদশাহ গাছের নিচে এসে বাহলুলকে বললেন, আমি পাগল নাকি তুই, যে সারা দিন কবরস্থানে বসে থাকে ? বাহলুল বলল, আমিই বুদ্ধিমান ।
বাদশাহ: কীভাবে?
বাহলুল রাজপ্রাসাদের দিকে ইঙ্গিত দিয়ে বললেন: আমি জানি এই রঙ্গীলা দালান ক্ষণিকের আবাসস্থল, এবং এটি (কবরস্থান) স্থায়ী নিবাস;
এজন্য আমি মরার পূর্বেই এখানে বসবাস শুরু করেছি । অথচ তুই গ্রহণ করেছিস ঐ রঙ্গশালাকে আর এই স্থায়ীনিবাসকে (কবর) এড়িয়ে চলছিস ।
রাজপ্রসাদ থেকে এখানে আসাকে অপছন্দ করছিস !
যদিও তুই জানিস এটাই তোর শেষ গন্তব্য ।
এবার বল, আমাদের মধ্যে কে পাগল ?
বাহলুলের মুখে এ কথা শোনার পর বাদশাহর অন্তর কেঁপে উঠল, তিনি কেঁদে ফেললেন। তাঁর দাড়ি ভিজে গেল ।
তিনি বললেন: আল্লাহ’র কসম ! তুমিই সত্যবাদী । আমাকে আরও কিছু উপদেশ দাও !
বাহলুল: তোমার উপদেশের জন্য আল্লাহর কিতাবই যথেষ্ট ।
তাকে যথার্থভাবে আকড়ে ধর ।
বাদশাহ: তোমার কোন কিছুর অভাব থাকলে আমাকে বল, আমি তা পূরণ করব ।
বাহলুল: হ্যা, আমার তিনটি অভাব আছে, এগুলো যদি তুমি পূরণ করতে পার তবে সারা জীবন তোমার কৃতজ্ঞতা স্বীকার করব ।
বাদশাহ: তুমি নিঃসঙ্কচে চাইতে পার ।
বাহলুল: মরণের সময় হলে আমার আয়ূ বৃদ্ধি করতে হবে ।
বাদশাহ: আমার পক্ষে সম্ভব নয় ।
বাহলুল: আমাকে মৃত্যুর ফেরেশতা থেকে রক্ষা করতে হবে ।
বাদশাহ: আমার পক্ষে সম্ভব নয় ।
বাহলুল: আমাকে জান্নাতে স্থান করে দিতে হবে এবং
জাহান্নাম থেকে আমাকে দূরে রাখতে হবে ।
বাদশাহ: আমার পক্ষে সম্ভব নয় ।
বাহলুল: তবে জেন রাখ, তুমি বাদশাহ নও বরং তুমি অন্য কারও অধীনস্থ ।
অতএব তোমার কাছে আমার কোন চাওয়া বা প্রার্থনা নেই ।
“প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে…”
[ সূরা আল-ইমরান, আয়াত – ১৮৫ ]

মৃৃত ব্যক্তিকে নিয়ে আজকের বিজ্ঞান যা বলছে তা রাসূল (সাঃ) ১৪০০ বছর আগে..

রাসূল সাঃ সাড়ে ১৪০০ বছর আগে যা বলেছেন তা আজ গবেষকরা প্রমাণ করছেন।হযরত আনাস রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, বান্দাকে কবরে রাখার পর তার সঙ্গীরা যখন চলে যায় (এমনকি ফিরার সময়)

মৃত ব্যক্তি তাদের পায়ের জুতোর আওয়াজ শুনতে পায় তখন দু’ জন ফেরেশতা তার নিকট আসেন।[সহীহ বুখারী, হাদীস : ১৩৭৪; সহীহ মুসলিম, হাদীস : ২৮৭০]

বুখারীর আরেকটি হাদীসেও এসেছে,হজরত আবু সাঈদ খুদরি রাদিয়াল্লাহ আনহু রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, যখন মৃত ব্যক্তিকে পুরুষেরা তাদের কাঁধে করে নিয়ে যায়, তখন যদি সে (মৃত ব্যক্তি) নেককার হয়, তাহলে সে বলে, আমাকে পৌছে (জান্নাতে) দাও।

আর যদি গুনাহগার হয়, তাহলে বলতে থাকে, হায় আফসোস! একে (মৃত ব্যক্তিকে) কোথায় নিয়ে যাচ্ছে ওরা। মানুষ ব্যতিত সবাই তার আর্তনাদ শুনতে পাবে। আর মানুষ যদি তা (মৃত ব্যক্তির এ সব আহ্বান) শুনতো তবে তারা বেহুশ হয়ে পড়েতো।

মৃত্যুর ঘোষণা শুনতে পায় মৃত?শিরোনামের প্রতিবেদনে বলা হ​য় , হৃৎপিণ্ড থেমে গেছে। শরীরটা নিথর। চিকিৎসক ঘোষণা দিলেন, তিনি আর বেঁচে নেই। এ কথা শুনে শোকে আকুল তাঁর স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা। কিন্ত এ কথা মৃত ব্যক্তিটিও যে শুনছেন! এমনটাই দাবি করছেন এ নিয়ে গবেষণা করা একদল গবেষক।

বলা হচ্ছে, তাত্ত্বিকভাবে কোনো ব্যক্তির জীবনপ্রদীপ নিভে গেলেও একেবারে ফুরিয়ে যান না তিনি। তাঁর চেতনা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সজাগ থাকে। এ জন্য মৃত ব্যক্তি কবরে যাওয়ার আগেও অন্যের কথা শুনতে পান। কিন্তু তাঁর কিছু করার মতো শক্তি বা সামর্থ্য থাকে না।

নিউইয়র্ক শহরের এনওয়াইইউ ল্যাংগোন স্কুল অব মেডিসিনের ক্রিটিক্যাল কেয়ার অ্যান্ড রেসাসিটেশন রিসার্স বিভাগের প্রধান ড. স্যাম পারনিয়া গবেষণায় এমন তথ্য পাওয়ার কথা দাবি করেন।

তিনি এবং তাঁর গবেষণা দলের সদস্যরা হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত রোগীদের পর্যবেক্ষণ করছেন, যাঁরা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কার্যকারিতার দিক দিয়ে মৃত (টেকনিক্যালি ডেড), কিন্তু পুনরায় বেঁচে উঠেছেন। এ ধরনের গবষণার ক্ষেত্রে এটাই সবচেয়ে বড় বলে দাবি করেন তিনি।

কিছু কিছু ক্ষেত্রে দেখা গেছে, এসব রোগী তাঁদের মৃত ঘোষণা করারপরও আশপাশের সব কথাবার্তা বুঝতে পারেন এবং সবকিছু দেখতে পান। মেডিকেল ও নার্সিং স্টাফরা পরবর্তী সময়ে এসব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

চিকিৎসকেরা এখানে মৃত্যুর সময় বলতে ঠিক সেই সময়টা বোঝান, যখন থেকে কারও হৃৎস্পন্দন থেমে যায় এবং মস্তিস্কের রক্ত সরবরাহও বন্ধ হয়ে যায়। ড. স্যাম পারনিয়া বলছেন,

‘যখনই কারও হৃদ্‌যন্ত্র বন্ধ হয়, কারিগরি দিক মেনে ঠিক সেই সময়টিকেই আমরা মৃত্যুর ক্ষণ বলে ধরে নিই। যখনই এটা ঘটে, তখন থেকেই মস্কিষ্কে রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এর অর্থ হলো তখন থেকেই মস্তিষ্কের কর্মকাণ্ড থেমে যায়।’

এর আগে ২০১৩ সালে ইউনিভার্সিটি অব মিশিগানের গবেষকেরা হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত এবং অসাড় নয়টি ইঁদুরের মস্তিষ্কের অভ্যন্তরে বৈদ্যুতিক সংকেত পর্যবেক্ষণ করেন। চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করার পরও স্বল্প সময় পর্যন্ত তাঁরা সেখানকার কার্যকারিতা দেখতে পান।

আপনার মন্তব্য দিন

শেয়ার