প্রশ্নঃ তাবিজ কি শিরক ? ( হাদিসের আলোকে )

এক ভাই প্রশ্ন করেছেন, আমার মা এক বড় হুজুরের নিকট থেকে (বড় হুজেরের নিকট থেকে!) খুব দামী দুটি তাবিজ এনে দিয়েছে। কিন্তু এখানে সৌদি আরবে কিছু লোক বলে তাবিজ নাকি শিরক। তাদের কথায় আমি তাবিজ খুলেছি, কিন্তু এখন মন খুব দুর্বল হয়ে পড়েছে, ভয় করছে। আপনি কিছু বলুন।

উত্তরঃ দেখুন নবী করীম (সাঃ) বলেছেন, “আত-তামায়িমু শিরকুন” – তাবিজ হচ্ছে শিরক। এটা আল্লাহর নবীর কথা (হাদীস), কোনো আলেমের ফতোয়া না! ফতোয়া হলে ভাবতেন মানুষের মত, ভুল-ত্রুটি হতে পারে। কিন্তু এটি কার কথা? নবী (সাঃ) এর কথা।

আচ্ছা কেউ যদি বলে, তাবিজ যার মধ্যে শিরক থাকবে সেটা শিরক, আর যেটা কুরানের দুয়া দিয়ে করবো, কুরানের সুরা বা নবীর হাদীসের দুয়া দিয়ে করবো সেগুলোতে কোনো সমস্যা নেই।

নবী (সাঃ) এগুলোর মাঝে কোনো পার্থক্য করেননি, যদি পার্থক্য করতেন তাহলে তিনি অবশ্যই বলে দিতেন, দেখো তোমরা কুরআন হাদীসের দুয়া দিয়ে তাবিজ করিও কোনো অসুবিধা নেই। আর শিরকি কথা দিয়ে বা বুঝা যায়না এমন কথা বার্তা দিয়ে তাবিজ করিওনা। এভাবে তিনি ভেঙ্গে দুইটাকে আলাদা করে বলতেন, কারণ তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে শরীয়ত স্পষ্ট করে মানুষের কাছে পোঁছে দেওয়ার জন্যই এসেছিলেন। কিন্তু তিনি এইরকম কোনো পার্থক্য করেন নি, সব তাবিজকেই শিরক বলেছেন। সুতরাং, তাবিজ তা যেকোনো রকমেরই হোকনা কেনো, আল্লাহর নবী বলেছেন – তাবিজ হচ্ছে শিরক সুতরাং শিরক।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, তাবিজ শিরক হয় কিভাবে? তাবিজ পূজার শিরক নয়, সেজদা করার শিরক না কারণ তাবিজকে কেউ পূজা বা সেজদা করেনা। কিন্তু এটা হচ্ছে ভরসা করার শিরক। আল্লাহর উপর ভরসা করতে হবে, আস্থা রাখতে হবে আর আস্থা ও ভরসা পুরোপুরি হয়ে গেছে তাবিজের উপরে। এইজন্য যারা তাবিজ ঝুলায় তারা গর্বের সাথে বলে, তাবিজ আছে, কোনো যাদু আমার ক্ষতি করতে পারবেনা, তাবিজ আছে কোনো পরোয়া নেই – কোনো জিন আমাকে স্পর্শ করতে পারবেনা। তাদের মনে বল কিজন্য? তাদের মনের বল পুরোপুরি এই তাবিজের উপরে। এইযে প্রশ্নকারীর মন খুব দুর্বল হয়ে পড়েছে ভয় লাগছে, কেনো? তার আস্থা ছিলো এই তাবিজের উপরে। আল্লাহর উপর ভরসা না করে তাবিজের উপর ভরসা করা সেটা কি? সেটা হচ্ছে শিরক – সেটা কুরানের দুয়া দিয়েই তাবিজ করুক না কেনো আর শিরকি কথা বা গাছ-গাছড়া দিয়ে তাবিজ করা হোকনা কেনো।

এ সম্পর্কে কুরআনে অনেক আয়াত আছে, “যদি তুমি মুমিন হয়ে থাকে তাহলে শুধুমাত্র আল্লাহর উপরেই ভরসা করো” তাহলে তাবিজের উপর যে ভরসা করবে সে মুমিন না মুশরেক? সে মুশরকে হয়ে যাবে।

 

আবার অনেকে বলে, কুরআন হাদীস দিয়ে তাবিজ করবো এটা এমন কি খারাপ কথা? হ্যা আরেকটি খারাপ কথা আছে। বাথরুমে প্রস্রাব-পায়খানা করতে গিয়ে আলাহর আয়াতের কত অবমাননা করা হচ্ছে। এটা কি হারাম নয় আপনার জন্য? আপনি দিনে কতবার গুনাহগার হচ্ছেন, আল্লাহর আয়াত বা নবীর দুয়া দিয়ে তাবিজ ঝুলিয়ে টয়লেটে বা গোসল খানায় গিয়ে, স্বামী বা স্ত্রীর কাছে গিয়ে। সুবহা’ন আল্লাহ! আপনি কি একবারের জন্যও চিন্তা করেন না? তাহলে এই তাবিজে শিরকও আছে আবার কুরআন হাদীস বা আল্লাহর আয়াত ও নবীর দুয়ায় অবমাননা বা মানহানির অপরাধও আছে যা আপনার জন্য কুফুরী হওয়ার আশংকা আছে।

সুতরাং, খবরদার তাবিজের উপর ভরসা না করে আল্লাহর উপর ভরসা করেন। আমরা যারা তাবিজ করিনা বা লিখিনা তাদের কি এমন ক্ষতি হয়ে গেছে বলুন দেখি? আল্লাহ না চাইলে কারো কোনো ক্ষতি হবেনা, আর আল্লাহ যদি চান কারো বালা-মুসিবত তাহলে ভালো মানুষের উপরেও বালা মুসিবত আসতে পারে। খারাপ লোকের উপর বালা মুসিবত খারাপ কাজের আজাব হিসেবে আসতে পারে আর ভালো লোক বা সৎ লোকের উপরে পরীক্ষা হিসেবে বিপদ-আপদ বা বালা মুসিবত আসতে পারে। আল্লাহ ইব্রাহিম (আঃ) কে আগুনে ফেলে, ইউসুফ (আঃ) কে দীর্ঘদিন জেলে রেখে, আইয়ুব (আঃ) কে কঠিন অসুস্থতা দিয়ে, ইউনুস (আঃ) কে মাছের পেটে রেখে পরীক্ষা করেছিলেন। সুতরাং তাবিজ না করে আল্লাহর উপরে ভরসা করুন।

দলিল হচ্ছে-

০১). নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ (من علق شيئا وكل إليه) “যে ব্যক্তি কোন জিনিষ লটকাবে, তাকে ঐ জিনিষের দিকেই সোপর্দ করে দেয়া হবে”।-তিরমিযী, অধ্যায়ঃ কিতাবুত্‌ তিব্ব।-( দেখুনঃ সহীহুত্‌ তিরমিযী হা নং- ২০৭২ )

০২). আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত; তিনি বলেনঃ আমি রসূল (সঃ)-কে বলতে শুনেছি ঝাড়-ফুঁক, তাবীজ এবং যাদুটোনা করা শির্ক। (আবু দাউদ ২য় খন্ড ৫৪২ পৃষ্ঠা, আহমাদ)

০৩). কোন এক সফরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একজন লোক পাঠিয়ে বলে দিলেন যেঃ أَنْ لاَ يَبْقَيَنَّ فِي رَقَبَةِ بَعِيرٍ قِلاَدَةٌ مِنْ وَتَرٍ أَوْ قِلاَدَةٌ إِلاَّ قُطِعَتْ “কোন উটের গলায় ধনুকের রশি বা গাছের ছাল দিয়ে তৈরী হার ঝুলানো থাকলে অথবা যে কোন মালা থাকলে সেটি যেন অবশ্যই কেটে ফেলা হয়।”(বুখারী, অধ্যায়ঃ কিতাবুত্‌ তিব্ব)।

০৪). নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ إِنَّ الرُّقَى وَالتَّمَائِمَ وَالتِّوَلَةَ شِرْكٌ) “ঝাড়-ফুঁক করা, তাবীজ লটকানো এবং স্বামী বা স্ত্রীর মাঝে ভালবাসা সৃষ্টির জন্যে যাদুমন্ত্রের আশ্রয় নেয়া শির্ক”। (আবু দাউদ, অধ্যায়ঃ কিতাবুত্‌ তিব্ব। দেখুনঃ সিলসিলায়ে সহীহা হাদীছ নং- (৬/১১৬১)) এখানে যে ঝাড়ফুঁক করাকে শির্ক বলা হয়েছে, তা দ্বারা শির্কী কালামের মাধ্যমে ঝাড়ফুঁক উদ্দেশ্য। তবে ঝাড়ফুঁক যদি আল্লাহর কালাম, আল্লাহর সিফাত বা সহীহ হাদীছে বর্ণিত কোন বাক্যের মাধ্যমে হয়, তাতে কোন অসুবিধা নেই।

০৬). নবী (সাঃ) এক ব্যক্তির হাতে পিতলের একটি আংটা দেখে বললেনঃ এটি কী? সে বললঃ এটি দুর্বলতা দূর করার জন্যে পরিধান করেছি। তিনি বললেনঃ (انْزِعْهَا فَإِنَّهَا لَا تَزِيدُكَ إِلَّا وَهْنًا فَإِنَّكَ لَوْ مِتَّ وَهِيَ عَلَيْكَ مَا أَفْلَحْتَ أَبَدًا) “তুমি এটি খুলে ফেল। কারণ এটি তোমার দুর্বলতা আরো বাড়িয়ে দিবে। আর তুমি যদি এটি পরিহিত অবস্থায় মৃত্যু বরণ কর, তাহলে তুমি কখনই সফলতা অর্জন করতে পারবে না”। (মুসনাদে আহমাদ, দেখুনঃ আহমাদ শাকেরের তাহকীক, (১৭/৪৩৫) তিনি হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।)

০৭). হুজায়ফা (রাঃ) দেখলেন এক ব্যক্তির হাতে একটি সুতা বাঁধা আছে। তিনি তা কেটে ফেললেন এবং কুরআনের এই আয়াতটি পাঠ করলেনঃ )وَمَا يُؤْمِنُ أَكْثَرُهُمْ بِاللَّهِ إلاَّ وَهُمْ مُشْرِكُونَ (“তাদের অধিকাংশই আল্লাহকে বিশ্বাস করে; কিন্তু সাথে সাথে শিরকও করে”। (সূরা ইউসুফঃ ১০৬)

০৮). সাঈদ বিন জুবায়ের (রাঃ) বলেনঃ যে ব্যক্তি কোন মানুষের শরীর থেকে একটি তাবীজ কেটে ফেলল, সে একটি গোলাম আযাদ করার ছাওয়াব পেল। সাঈদ বিন জুবায়েরের এই কথাটি নবী (সাঃ) হতে বর্ণিত মারফু হাদীছের পর্যায়র্ভূক্ত।

০৯). উকবা বিন আমের রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূলকে বলতে শুনেছি: من تعلق تميمة فلا أتم الله له ومن تعلق ودعة فلا ودع الله له. (أحمد وحاكم) ‘যে ব্যক্তি তাবিজ লটকালো, আল্লাহ তাকে পূর্ণতা দেবেন না, আর যে কড়ি বহার করবে, আল্লাহ তাকে মঙ্গল দান করবেন না।’ আহমদ, হাকেম।

১০). উকবা বিন আমের আল-জোহানি রাদিআল্লাহু আনহু বলেন : أن رسول الله صلى الله عليه وسلم أقبل إليه رهط فبايع تسعة وأمسك عن واحد فقالوا يا رسول الله بايعت تسعة وتركت هذا قال: إن عليه تميمة فادخل يده فقطعها فبايعه وقال من علق تميمة فقد أشرك. (أحمد وحاكم) ‘একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খেদমতে একদল লোক উপস্থিত হল। তিনি দলটির নয়জনকে বায়আত করলেন একজনকে করলেন না। তারা বলল, হে আল্লাহর রাসূল! নয়জনকে বায়আত করলেন একজনকে করলেন না? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: তার সাথে তাবিজ রয়েছে। অতঃপর তিনি স্বহস্তে তা ছিড়ে ফেললেন এবং তাকে বায়আত করলেন, আর বললেন, যে ব্যক্তি তাবিজ ব্যবহার করল সে শিরক করল।’ সহিহ মুসনাদে আহমদ, হাকেম।
.
❑ কুরআন-হাদিসের তাবিজ
.
কুরআন-হাদিসের তাবিজ সম্পর্কে আলেমগণ দ্বিমত পোষণ করেছেন। পূর্বোক্ত দলিলের ভিত্তিতে একদল আলেম বলেন, কুরআন-গায়রে কুরআন সর্বপ্রকার তাবিজ শিরক। কতক আলেম বলেন, কুরআন-হাদিসের তাবিজ বৈধ। তারা দলিল হিসেবে আব্দুল্লাহ বিন আমর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর ব্যক্তিগত আমল পেশ করেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমাদের কেউ যখন ঘুমে ঘাবড়ে যায়, তার বলা উচিত:
«أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ مِنْ غَضَبِهِ وَعِقَابِهِ وَشَرِّ عِبَادِهِ وَمِنْ هَمَزَاتِ الشَّيَاطِينِ وَأَنْ يَحْضُرُونِ، فَإِنَّهَا لَنْ تَضُرَّهُ»
“আল্লাহর পরিপূর্ণ বাণীসমূহ দ্বারা আশ্রয় প্রার্থনা করছি, তাঁর গজব ও শাস্তি থেকে, তাঁর বান্দাদের অনিষ্ট থেকে এবং শয়তানসমূহের কুমন্ত্রণা ও তাদের উপস্থিতি থেকে”।[14]
ইমাম তিরমিযি রহ. বলেন: “হাদিস বর্ণনাকারী সাহাবি আব্দুল্লাহ ইবনে আমর সম্পর্কে আছে, তিনি তার সাবালক বাচ্চাদের দোয়াটি শিক্ষা দিতেন, আর যারা সাবালিগ হয়নি কাগজে লিখে তাদের গলায় দোয়াটি ঝুলিয়ে দিতেন”।[15]
ইমাম আবু দাউদ রহ. বলেন, “আব্দুল্লাহ বিন আমের বর্ণিত হাদিসের সনদ মুহাদ্দিসদের নিকট বিশুদ্ধ নয়। বিশুদ্ধ মানলেও এটা তার ব্যক্তিগত আমল, অসংখ্য সাহাবির বিপরীত তার ব্যক্তিগত আমল দলিল যোগ্য নয়।
ইমাম শাওকানি রহ. বলেন: এ হাদিসের সনদে মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক রয়েছে, তার সম্পর্কে মুহাদ্দিসদের অভিযোগ প্রসিদ্ধ।
আলবানি রহ. বলেন, হাদিসের শেষাংশ: আব্দুল্লাহর ঘটনা ব্যতীত অবশিষ্টাংশ সহি”।[16]
অতএব আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু নিজের নাবালিগ বাচ্চাদের গলায় দোয়াটি লিখে ঝুলাতেন কথাটি সঠিক নয়।
____________
.
.
❑ তাবিজ কোন প্রকার শিরক

উক্ত আলোচনার পর তাবিজ ত্যাগ করার জন্য কারো ফতোয়ার প্রয়োজন হয় না, তাবিজ ব্যবহার করা ছোট-শিরক, না বড় শিরক। কুরআনুল কারিমের তাবিজ ব্যবহার করা কারো নিকট শিরক, কারো নিকট শিরক নয়, কুরআন ব্যতীত অন্যান্য তাবিজ সবার নিকট শিরক। যারা বলেন কুরআনের তাবিজ শিরক নয়, তাদের নিকট তাবিজ ত্যাগ করার কারণে কেউ গুনাগার হবে না, কিন্তু যারা শিরক বলেন, যদি তাদের ফতোয়া ঠিক হয়, তাহলে তাবিজ ব্যবহারকারীর পরিণতি কী হবে!?
.
অতএব তাবিজে কোনো কল্যাণ নেই। বর্তমান মুসলিমদের শরীরে যে, তাবিজ-কবচ, মাদুলি-কড়ি, শামুক-ঝিনুক, প্রাণীর হাড়, গাছের ছাল, তামা-লোহা-সুতা-রাবার-তাগা ও অন্যান্য ধাতব বস্তু দেখা যায়, আবার কখনো জীব-জন্তুর শরীরে, ঘরের খুঁটি ও গাছের ডালে; মাটির ভিতর ও বিছানার নিচে এসব বস্তু পুঁতে রাখতে দেখা যায়, তার অধিকাংশই তাবিজের রূপে মুসলিম সমাজে প্রবেশ করেছে,এতে সন্দেহ নেই। ইতিহাস থেকে জানা যায়, মাদুলি, তাবিজ ও তাগা ইত্যাদি কতক অমুসলিম সম্প্রদায়ের ধর্মীয় প্রতীক ছিল। আল্লাহ মুসলিম সমাজকে এসব বস্তু থেকে পবিত্র করুন।
____________
.
.
❑ চিকিৎসা পদ্ধতি, শরয়ী ঝাড়-ফুঁক ও তাবিজের পার্থক্য
.
আল্লাহ তা‘আলা রোগ নাযিল করেছেন, রোগের সাথে ওষুধও নাযিল করেছেন। আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
«مَا أَنْزَلَ اللَّهُ دَاءً إِلَّا أَنْزَلَ لَهُ شِفَاءً »
“আল্লাহ কোনো রোগ নাযিল করেননি, তবে অবশ্যই তার জন্য আরোগ্য নাযিল করেছেন”।[17]
.
জাবের রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
«لِكُلِّ دَاءٍ دَوَاءٌ فَإِذَا أُصِيبَ دَوَاءُ الدَّاءِ بَرَأَ بِإِذْنِ اللَّهِ »
“প্রত্যেক রোগের জন্য ওষুধ রয়েছে, যখন রোগের সাথে ওষুধের মিল হয়, আল্লাহর ইচ্ছায় আরোগ্য লাভ হয়”।[18]
.
ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
«إِنَّ اللَّهَ لَمْ يُنْزِلْ دَاءً إِلا أَنَزَلَ مَعَهُ دَوَاءٌ، جَهِلَهُ مَنْ جَهِلَهُ، وَعَلِمَهُ مَنْ عَلِمَهُ»
“নিশ্চয় আল্লাহ কোনো রোগ নাযিল করেননি, তবে অবশ্যই তার সাথে ওষুধ নাযিল করেছেন, যে জানতে পারেনি সে জানেনি, আর যে জানতে পেরেছে সে জেনেছে”।[19]
.
উসামাহ ইবনে শারিক বলেন, গ্রামের লোকেরা জিজ্ঞাসা করল, হে আল্লাহর রাসূল, আমরা চিকিৎসা গ্রহণ করব না? তিনি বললেন:
«نَعَمْ يَا عِبَادَ اللَّهِ، تَدَاوَوْا، فَإِنَّ اللَّهَ لَمْ يَضَعْ دَاءً إِلَّا وَضَعَ لَهُ شِفَاءً، أَوْ قَالَ: دَوَاءً، إِلَّا دَاءً وَاحِدًا، قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، وَمَا هُوَ؟ قَالَ: الْهَرَمُ»
“অবশ্যই হে আল্লাহর বান্দাগণ, তোমরা চিকিৎসা গ্রহণ কর, কারণ আল্লাহ কোনো রোগ রাখেননি, তবে অবশ্যই তার জন্য নিরাময় রেখেছেন, অথবা বলেছেন: ওষুধ রেখেছেন, তবে একটি রোগ ব্যতীত, তারা বলল: হে আল্লাহর রাসূল, সে রোগটি কী? তিনি বললেন: বার্ধক্য”।[20]
.
অবশ্য কোনো হারাম বস্তুতে আল্লাহ্‌ তার বান্দাদের জন্য আরোগ্য রাখেননি। উম্মে সালামাহ বলেন, আমার এক মেয়ে অসুস্থ হয়েছিল, আমি একটি পাত্রে তার জন্য ‘নাবিজ’[21] তৈরি করলাম, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘরে প্রবেশ করলেন, তখন পাতিলটি উতরাতে ছিল, তিনি বললেন: এটা কী? উম্মে সালামাহ উত্তর দিলেন: আমার মেয়েটা অসুস্থ, আমি তার জন্য ইহা তৈরি করছি। তিনি বললেন:
«إِنَّ اللَّهَ لَمْ يَجْعَلْ شِفَاءَكُمْ فِي حَرَامٍ»
“নিশ্চয় আল্লাহ হারাম বস্তুতে তোমাদের আরোগ্য রাখেননি”।[22]
.
অতএব আল্লাহ তা‘আলা রোগের জন্য আরোগ্য রেখেছেন, এতে কোনো সন্দেহ নেই, তবে আরোগ্য লাভের জন্য অবশ্যই হালাল বস্তু ও বৈধ পদ্ধতি অবলম্বন করতে হবে।
____________
.
.
● বৈধ চিকিৎসা দু’প্রকার:

১. কুরআনুল কারিম বা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিস দ্বারা প্রমাণিত বিভিন্ন বস্তুর গুণাগুণের ভিত্তিতে চিকিৎসা করা; অনুরূপ কুরআন বা হাদিসের দোয়া দ্বারা ঝাড়-ফুঁক করা, এ জাতীয় তদবিরকে নববী চিকিৎসা ও শরয়ী ঝাড়-ফুঁক বলা হয়; যার বর্ণনা হাদিসের কিতাবে রয়েছে। এ জাতীয় চিকিৎসা দ্বারা আল্লাহর ইচ্ছায় বান্দা আরোগ্য লাভ করে।
.
২. জেনারেল চিকিৎসা তথা বস্তুর গুণাগুণ ও তার প্রভাবের উপর পরিচালিত গবেষণার ভিত্তিতে চিকিৎসা করা। বস্তুর প্রভাব স্পষ্ট ও উপলব্ধি করা যায়, যেমন কেমিক্যাল দ্বারা তৈরি ওষুধের প্রভাব। এ জাতীয় চিকিৎসা ইসলামের দৃষ্টিতে বৈধ। কারণ, এ চিকিৎসা গ্রহণ করার অর্থ আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া, তিনি এতে কিছু গুণাগুণ রেখেছেন, তবে আল্লাহ যখন ইচ্ছা তা বাতিলও করতে পারেন, যেমন ইব্রাহিম ‘আলাইহিস সালামের জন্য প্রজ্বলিত অগ্নির দাহন ক্রিয়া বাতিল করেছিলেন।
.
পক্ষান্তরে তাবিজ-কবচ ও অন্যান্য জড়-বস্তু শরীরে ঝুলানোর ফলে কোনো প্রভাব পরিলক্ষিত হয় না, গবেষণার দ্বারা তার ক্রিয়া প্রমাণিত হয়নি এবং কুরআন-হাদিসে তার স্বীকৃতি নেই। যেমন ভাত খেলে খিদে নিবারণ হয়, কিন্তু পেটের উপর ভাত রেখে খিদে নিবারণের আশা করা মিথ্যা। শরয়ী ঝাড়-ফুঁক ও ওষুধের চিকিৎসা ভাত খাওয়ার ন্যায়, আর তাবিজের চিকিৎসা পেটের উপর ভাত রেখে খিদে নিবারণের চেষ্টা করার ন্যায়।
.
তাবিজ-কবচ ও এ জাতীয় জড়-বস্তুকে আল্লাহ তা‘আলা রোগ-ব্যাধি থেকে মুক্তির উপায় করেননি, আবার তার উপকারিতা মানুষের অভিজ্ঞতায় প্রমাণিত নয়। বাহ্যিকভাবে তার প্রভাব দেখা যায় না, অনুভবও করা যায় না। তাই অনেকে বলেন, এসব বস্তুর ওপর ভরসা করার অর্থ মুশরিকদের ন্যায় মৃত ব্যক্তি ও মূর্তির ওপর ভরসা করা; যা শুনে না-দেখে না, উপকার বা অপকারের ক্ষমতা রাখে না, অথচ তারা ভাবে এগুলো তাদের জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে, অথবা তাদের থেকে অকল্যাণ প্রতিহত করবে।
____________
.
.
ফুটনোটঃ
.
[1] অহেনা অর্থ এক প্রকার হাড়, যার অংশ বিশেষ তাবিজে ব্যবহার করা হয়।
[2] মুসনাদে আহমদ: (১৯৫৪৯), নাসায়ী: (৯/৩৪৯), ইবনে মাজাহ: (৩৫৩১), ইবনে হিব্বান: (৬২২২), হাদিসটি সহিহ্।
[3] তামিমার সংজ্ঞা: রোগ-ব্যাধি থেকে আরোগ্য লাভ অথবা বদ-নজর প্রতিরোধ অথবা সম্ভাব্য কোনো অনিষ্ট দূর করার জন্য শরীরে ঝুলানো বস্তুকে তামিমাহ বলা হয়, হোক সেটা কড়ি, অথবা লাকড়ি, অথবা তাগা, অথবা কাগজ কিংবা কোনো বস্তু। ইসলাম পূর্বযুগে বদ-নজর থেকে সুরক্ষা এবং গৃহ-পালিত পশু-পাখী ও দুষ্ট প্রাণীকে বশ করার জন্য, কখনো আত্মরক্ষার জন্য মুশরিকরা তামিমাহ গলায় বা শরীরের কোনো অংশে ঝুলাত। তাদের বিশ্বাস ছিল, তাকদির প্রতিরোধ ও অনাগত অনিষ্ট দূর করার ক্ষমতা রাখে তামিমাহ। তারা কখনো তামিমাহ দ্বারা গায়রুল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করত, যা ছিল সরাসরি শিরক ও তাওহীদ পরিপন্থী। ইসলাম তার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
[4] আহমদ: (১৬৯৫১), হাকেম: (৪/২১২), মুসনাদে আবি ইয়ালা আল-মুসিলি: (১৭৫৯)
[5] সহি মুসনাদে আহমদ: (১৬৯৬৯), সহি হাদিস সমগ্র : (৪৯২), হাকেম।
[6] ইউসুফ: (১০৬) তাফসিরে ইবনে কাসির।
[7] বুখারি: (৩০০৫), মুসলিম: (২১১৮)
[8] সুনানে নাসায়ী সুগরা: (৩৫৬৫), মুসনাদে আহমদ: (১৮৫৫২)
[9] রুকা অর্থ নিষিদ্ধ ঝাড়-ফুঁক, আউনুল মাবুদ, হাদিস নং: (৩২৭২)
[10] আসমায়ি বলেন: তিওয়ালাহ: একপ্রকার যাদু, স্বামীর নিকট স্ত্রীকে প্রিয় করার জন্য যার ব্যবহার করা হয়। মোল্লা আলি কারি বলেন: ‘তিওয়ালাহ’ একপ্রকার যাদু, অথবা যাদুর মন্ত্র পাঠ করা তাগা, অথবা কাগজ, তাতে মহব্বত সৃষ্টির মন্ত্র পাঠ করা হয়। আউনুল মাবুদ, হাদিস নং: (৩২৭২)
[11] আবু দাউদ: (৩৮৮৩), আহমদ: (৩৬০৪), ইবনে হিব্বান: (৬০৯০), ইবনে মাজাহ: (৩৫৩০), সহি হাদিস সমগ্র: (১৩১)
[12] মুসলিম : (২২০২), ইবনে হিব্বান: (৬০৯৪)
[13] ফতহুল মজিদ।
[14] আহমদ : (১৬১৩৭), তিরমিযি : (৩৫২৮), আবু দাউদ: (৩৮৯৩)
[15] তিরমিযি: (৩৫২৮), আহমদ: (৬৬৫৭) এ হাদিস সহি হলে সাবালিগ বাচ্চা কিংবা বড়দের গলায় তাবিজ ঝুলানো বৈধ প্রমাণ হয় না, শুধু বাচ্চাদের ক্ষেত্রে বৈধ বলা যায় তাও যারা দোয়া পড়তে পারে না।
[16] সহি তিরমিযি: (৩৫২৮), সহি হাদিস সমগ্র: (১/৫২৯), আত-তালিক আলা-মুসনাদি আহমদ: (১১/২৯৬), ‘আন-নাহজুজ সাদিদ’ লিদ-দুসারি: (১১১)
[17] বুখারি: (৫৬৭৮),
[18] মুসলিম: (২২০৬)
[19] সহি ইবনে হিব্বান: (১৩/৪২৭)
[20] তিরমিযি: (২০৩৮)
[21] আঙ্গুরের রস দ্বারা তৈরি নেশা জাতীয় পানীয়।
[22] সহি ইবনে হিব্বান: (১৩৯১), আস-সুনানুস সাগির লিল-বায়হাকি: (৪৩২৪), হাকিম: (৪/৪০৭)
▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂
:
সংকলন: সানাউল্লাহ নজির আহমদ
সূত্র: ইসলাম প্রচার ব্যুরো, রাবওয়াহ, রিয়াদ, সৌদিআরব
:
:
সুন্নাহ্
অতএব যে সকল নামধারী আলেম তাবিজ দিয়ে থাকেন তাদের থেকে নিরাপদ দূরততে থাকুন।

শিক্ষণীয় একটি গল্পঃ….চোখের পানি ধরে রাখা যায় না

এক বিবাহিত যুবক, কঠিন রোগে মৃত্যু শয্যায় তার স্ত্রীকে ডাকলেন।তার চোখ দিয়ে অনুশোচনার অশ্রু ঝরছে।যুবকের স্ত্রী গর্ভবতী ছিলেন,এবং এটিই তাদের প্রথম সন্তান!
সে স্ত্রী কে বললো: দেখো,আমি সারা জীবনে নামাজ-রোজা করিনি!আজ মৃত্যু সময়ে ভুল ভেঙ্গে গেছে,কিন্তু আমি নিরুপায় আমার আর কিছু করার সময় সুযোগ হলো না। যদি তোমার গর্ভের সন্তান বেঁচে থাকে,বড় হয় তাহলে তুমি তাকে মাদ্রাসায় ভর্তি করে দিও।শুনেছি সন্তানের উসিলায়ও বাবা মা বেহেশতে যেতে পারে!
স্ত্রী তাকে শান্তনা দিয়ে বললেন,তোমার কথাই রাখবো!
দু দিন পর যুবক মারা গেলেন।এর কয়েক দিন পর তার স্ত্রীর একটি ছেলে জন্ম নিলো!অনেক কষ্টের মাঝে যখন
ছেলেটির বয়স ছয় বছর পুর্ণ হলো তার মা তাকে মাদ্রাসায় ভর্তি করে দিলেন!
প্রথম দিন মাদ্রাসায় শিক্ষক তাকে একটি আয়াত শিখালেন।

আয়াতটি হলো: ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম!
(পরম করুনাময় মহান আল্লাহ্ তায়ালার নামে শুরু করছি! )
মাদ্রাসা থেকে বাড়ীতে যাওয়ার পর ছেলেকে নিয়ে স্ত্রী স্বামীর কবরের কাছে জিয়ারতে গেলেন!
ছেলেকে কবরের কাছে পাঠিয়ে দিয়ে মা বললেন,ঐ তোমার বাবার কবর।ওখানে গিয়ে তোমার বাবার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করবে!
(মাদ্রাসায় পড়া শিশুরা প্রায় সব সময় তাদের শিখিয়ে দেয়া আয়াত বা কালাম এমনি এমনি পড়তে থাকে)
এত ছোট্ট শিশু কিভাবে দোয়া করতে হয়,কিছুই জানে না।কিন্তু মাদ্রাসায় শিখানো জীবনের প্রথম আয়াতখানা বার বার কবরের সামনে তিলাওয়াত করতে লাগলো।

ওই ছোট্ট মুখের তিলাওয়াতের এমন শক্তি,আমার আল্লাহর দরবারে বিনা বাধায় পৌঁছে গেলো।মালিকের রহমতের দরিয়ায় বাঁধভাঙা জোয়ারের ডাক এসে গেলো!
মহান আল্লাহ্ তায়ালা আজাবের ফেরেশতাদের
বললেন,এই মুহুর্তে ওই কবরবাসীর কবর আজাব বন্ধ করে দাও!
ফেরেশতারা বললোঃ হে দয়াময় পরোয়ারদিগার এই লোকটির আমলনামায় এমন কী পুণ্য পাওয়া গেলো?
যে তার জন্য নির্ধারিত কঠিন কবরের আজাব ক্ষমা করে দেয়া হলো?
ফেরেশতারা শোনো:
কবরের উপরে একটা অবুঝ শিশু বার বার তিলাওয়াত করছে,”বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম”!
তিলাওয়াতকারী এই কবরবাসীর ওয়ারিশ,তার অবুঝ সন্তান।সে স্বাক্ষী দিচ্ছে আল্লাহ্ রাহমানির রাহিম!
-আল্লাহ্ পরম দয়ালু।
আমি যদি কবরবাসীকে ক্ষমা না করি,তাহলে আমি কেমন দয়ালু?
(সুবহানাল্লাহ)
আল্লাহ আমাদেরকে বোঝার ও আমল করার তৌফিক দান করুন…
বাবা মার জন্য বেশি বেশি দোয়া করুন।

যদি ভালো লাগে তাহলে অবশ্যই শেয়ার করবেন
আপনাদের লাইক কমেন্ট শেয়ারই আমাদের নতুন
একটি পোস্ট করার অনুপ্রেরণা যোগায়…

মুখ দিয়ে যৌনকর্ম : ইসলাম ও স্বাস্থ্যবিজ্ঞান কি বলে জানতে পড়ুন

দয়া করে এড়িয়ে যাবেন না। সচেতনতা জরূরী। আপনি মুখে ও গলায় ক্যান্সারাক্রান্ত হতে চান না নিশ্চয়ই।

আমার এই পোস্টের জন্য আমার কন্যা, বোন ও মায়েদের কাছে শুরুতে ওজর পেশ করছি। কিন্তু জরূরী বলে লিখতে বাধ্য হচ্ছি। এছাড়াও আমার লিস্টের একজন ভাই [সম্ভবত এমদাদুল্লাহ] এ বিষয়ে পোস্ট করেছিলেন। সেখানে কমেন্টে লিখার পরিবর্তে আমি একটা পূর্নাঙ্গ পোস্ট লিখাকে সঙ্গত মনে করেছি।
বিষয়টা হল ওরাল_সেক্স বা মুখ দিয়ে যৌন কর্ম। পশ্চিমা অপঃসংস্কৃতির প্রসারের শিকার আমাদের মুসলিম সংস্কৃতিগুলোও। এমন কিছু বিষয় যা আগে মুসলিম সমাজে প্রচলিত ছিল না এবং সেগুলো নিয়ে কেউ প্রশ্নও উঠাত না তা এখন মহামারী আকারে আমাদের সমাজগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে। পর্নোগ্রাফি এ ক্ষেত্রে বিরাট ভূমিকা পালন করছে।

আমাদের মুসলিম শুয়ূখগণ পশ্চিমে অবস্থানকারী মুসলিমদের কাছ থেকে প্রথম এ বিষয়ে প্রশ্নের সম্মুখীন হন। এ কথা কিছু কিছু শুয়ুখ ক্লিয়ারলী বলেছেনও যে তাঁরা পশ্চিমে আসার আগে এ ধরণের প্রশ্নের সম্মুখীন হন নি। বিগত শতাব্দীর ৮০-৯০ এর দশক থেকে তারা এই প্রশ্নের মুক্বাবিলা করছেন। আমি নিজে আমার ১০ ও ১১ শ্রেণির ছাত্রদের কাছ থেকে প্রায়ই এ প্রশ্নের মুখোমুখি হই। তাদেরকে এড়িয়ে যাওয়ারও কোন উপায় দেখি না।

তাঁরা যে প্রশ্নের মুক্বাবিলা করছিলেন তা হল, ওরাল সেক্স হালাল কিনা?। এ ক্ষেত্রে কিছু শুয়ুখদের মতামত হল এটা মাকরূহ। আরেক দলের মত হল যদি হারাম এড়ানো যায় তাহলে এটা হালাল, কারণ কুরআন ও সুন্নাহ থেকে এর হারাম হবার পক্ষে কোন প্রমান নেই।

আমি বিষয়টা নিয়ে ভেবেছি এবং নিম্নলিখিত ব্যাপারগুলো লক্ষ্য করেছিঃ
1. যৌন উত্তেজনার সময় যৌনাঙ্গ থেকে দু’ধরণের পদার্থ নিসৃত হয়। একটা হল প্রিসেমিনাল ফ্লুইড বা মজ়ী; এটা সর্বসম্মতভাবে নাপাক। আরেকটা হল সিমেন বা মনি; এটা একদল উলামাদের মতে পাক এবং আরেকদলের মতে নাপাক। আরেকটা বিষয় হল মজ়ি ব্যতিরেকে কখনো খালি মনি নির্গত হয় না। এখন কেউ যদি স্ত্রীর মুখে যৌনাঙ্গ প্রবেশ করায় তাহলে সেখানে সে নাপাকি প্রবেশ করাবেই। আর এটা শরীয়ত অনুমোদিত নয়।

2. স্ত্রীর মুখ যৌনাঙ্গ নয়। আল্লাহ তা’আলা বলেছেন, তোমাদের নারীরা তোমাদের শস্যক্ষেত্রের ন্যায়; সুতরাং তোমরা তোমাদের শস্যক্ষেত্রে যেভাবে ইচ্ছা গমন করো এবং নিজেদের ভবিষ্যতের জন্য প্রেরণ কর; আর আল্লাহর অসন্তোষ থেকে বেঁচে থাকো। [২: ২২৩] শস্যক্ষেত্রে বীজ বপন করা হয় যাতে ফসল উৎপাদিত হয় ভবিষ্যতে। আর বীজ বপনের দ্বার হচ্ছে যোনি। সুতরাং বীজ সেখানে বপন করতে হবে; মুখে নয়।

3. স্ত্রীর যৌনাঙ্গে স্বামীর মুখ দিয়ে উত্তেজনা দান করার বিষয়ে কথা হচ্ছে, এটা একটা জঘন্য রুচির বিষয়। আমি একজন ডাক্তারের সেমিনারে উপস্থিত ছিলাম। সেখানে তিনি দেখিয়েছেন স্ত্রীর যোনি দ্বার ও পায়ুপথ খুব কাছাকাছি হওয়ায় এখানে নানান ধরণের ভাইরাস ও ব্যাক্টেরিয়ার সমাগম ঘটে। STD এর বিভিন্ন ধরণের জীবাণুর জমা হওয়ার স্থান এটা। আর এটা এখন প্রমাণিত হয়েছে যে পুরুষের মুখের ও গলার ক্যান্সার হওয়ার বড় একটা কারণ হল পুরুষ কর্তৃক নারীর যোনিতে মুখ দিয়ে যৌনকর্ম। HPV ভাইরাসের কারণে এই ক্যান্সার হয় এবং এটা ওরাল সেক্সের কারণে হয় যা এখন প্রমাণিত। এছাড়াও সব ধরণের সেক্সুয়ালী ট্রান্সমিটেড ডিজ়িস (STD) এ কর্মের মাধ্যমে হতে পারে, এইডস সহ। মন্তব্যে এ বিষয়ে গবেষণার লিঙ্ক দেব, ইনশা’আল্লাহ্‌। রোগ জীবানু ছাড়াও স্ত্রীর মজ়ি পুরুষের মুখে ও পেটে যেতে পারে; আর মজ়ি নাপাক তা আমরা আগেই উল্লেখ করেছি।

4. কুরআনে সঙ্গম কোথায় করতে হবে তার নির্দেশনা আমরা ২:২২৩ আয়াত থেকে পাই। হাদীসে ওরাল সেক্স সম্পর্কে কিছু বলা হয় নি এ কারণে যে রসূলুল্লাহর সময়ে এই প্রশ্নই উঠেনি। মুসলিমরা এধরণের কোন চিন্তাই তখন করেন নি। আমরা আগেই দেখেছি যে এই প্রশ্ন মুসলিম সমাজগুলো থেকেও উত্থিত হয় নি; বরং পশ্চিমে বসবাসরত মুসলিমদের কাছ থেকেই প্রথম উত্থিত হয়েছে। তাই বুঝা যায় এটা ছিল আউট অফ কোয়েশ্চেন।

এই সবগুলো বিষয় চিন্তা করলে আমি যা দেখতে পাই তা হল, এই ধরণের কর্ম শরীয়ত অনুমোদিত হবার মত নয়। আমাদের জন্য শরীয়তের মূলনীতি হলঃ “ক্ষতিগ্রস্ত করবে না, ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।“ আমি বিষয়টাকে এখানেই রেখে দিতে চাই।

আপনার মন্তব্য দিন

শেয়ার