প্রতিকূলতার মাঝে এগিয়ে চলার পথে আয়েশা আরেফিনের সাফল্য জেনে নেই

পাশাপাশি দুটো ছবি দিয়েছি। দুজনই বাংলাদেশের মেয়ে, আশা করি চিনতে পারছেন? কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। দ্বিতীয় জনকে পচানব্বই ভাগ লোক চিনলেও প্রথম জনকে পাচ ভাগ লোক চিনবেন কিনা সন্দেহ! দ্বিতীয় জন আমেনা থেকে এভ্রিল হওয়া মাফিয়া গার্ল, সোশ্যাল মিডিয়ায় যাকে নিয়ে সকাল সন্ধ্যা আলোচনা সমালোচনা। কিন্তু প্রথম জন তেমন কেউ নন। তবে পরিচয় করিয়ে দিই-
প্রথম ছবির মেয়েটি হল আয়েশা আরেফিন টুম্পা যিনি ন্যানো প্রযুক্তির মাধ্যমে লস আলামস ন্যাশনাল ল্যাবেরটরিতে তৈরি করেছেন বিশ্বের প্রথম কৃত্রিম মানব ফুসফুস।
টুম্পা শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ও বায়োটেকনোলজি বিভাগের ২০০৫-০৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। ২০১১ সালে আমেরিকার আলামস ন্যাশনাল ল্যাবেরটরির গবেষক ক্রিস ডেটার ও তাঁর সহকর্মী ল্যান্স গ্রিনের সহযোগিতায় আয়েশা লস আলামস ন্যাশনাল ল্যাবেরটরিতে উচ্চতর পড়াশোনা ও গবেষণার সুযোগ পেয়েছিলেন।
আয়েশা আরেফিন প্রথমে তাঁর ক্যারিয়ার শুরু করেন লস আলামস ন্যাশনাল ল্যাবেরটরির বায়ো-সিকিউরিটি বিভাগে। এরপর ল্যাবের ভারতীয় গবেষক প্রখ্যাত টক্সিকোলজিস্ট রাশি আইয়ার আয়েশাকে অপ্টোজেনিক্স সংক্রান্ত গবেষণা কাজের জন্য নিয়োগ দেন। অপ্টোজেনিক্স হচ্ছে জিন বিদ্যা ও প্রোটিন প্রকৌশলের মাধ্যমে জীবন্ত টিস্যুর মাঝে ঘটতে থাকা বিভিন্ন স্নায়বিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করা। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃত্রিম অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ও কৃত্রিম টিস্যু বা কলা তৈরি করা সম্ভব।
আয়েশা ও রাশি আয়ারের দলের অন্যান্য সদস্যরা বিভিন্ন জীবাণু দ্বারা সৃষ্ট বিষক্রিয়া, রোগ ও কৃত্রিম অঙ্গ সংস্থাপনের জন্য সম্পূর্ণ নতুন প্রযুক্তির উদ্ভাবন করেছেন। তাঁরা একটি কৃত্রিম মানব ফুসফুস তৈরি করেন। তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল, Chronic Obstructive Pulmonary Disease এর সময় ফুসফুসের কোষগুলো কিভাবে কাজ করে তা জানা ও এর প্রতিষেধক উদ্ভাবন করা। আয়েশা আরেফিন একই সাথে বিভিন্ন স্নায়বিক ব্যাধি ও মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ নিয়েও গবেষণা করছেন।
আয়েশা আরেফিন বর্তমানে ইউনিভার্সিটি অব নিউ মেক্সিকোতে ন্যানো-সায়েন্সের উপর ডক্টরেট করছেন। একই সাথে লস আলামস ন্যাশনাল ল্যাবেরটরিতে চলছে তাঁর গবেষণা।
বাংলাদেশে । সেটা মিডিয়ায় আসুক বা না আসুক।
রেফারেন্স : দ্যা ডেইলি স্টার, ওমেন্স ওয়ার্ড, দ্যা আটলান্টিক, এলএএনএল ওয়েবসাইট।

আপনার মন্তব্য দিন

শেয়ার