পরিবেশবিদ হিসেবে হজরত মুহাম্মদ সা:

পরিবেশের জন্য কাজ করে, এমন একটি সংগঠনের তৈরি, একটি বিজ্ঞাপনে একটি শিশু সিলের ছবি রয়েছে যার দেহ রক্তে রঞ্জিত। শ্বেত শুভ্র বরফের পটভূমিতে এই রক্তের উজ্জ্বল লাল রঙ মানুষের নিষ্ঠুর কাণ্ডজ্ঞানহীনতার নগ্ন নজির।

সিল শিশুটির সুন্দর নীলচে কালো চোখ দুটোতে নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের জন্য নীরব আবেদন মূর্ত হয়ে উঠেছে। তবে মনে হয়, এই আবেদন জানানো হয়েছে খুব দেরিতে। কারণ, সিল শাবকটি এর মধ্যে মারা গেছে। তার চোখের আকুতি দর্শককে মন্ত্রমুগ্ধ না করে পারে না। ছোট্ট সিলটি একটি বড় আবেদন জানাচ্ছে। এই আবেদনের তাৎপর্য তার নিজের প্রাণহানির চেয়ে বড়। যারা এর জীবন নিয়েছে, তাদের কারো হৃদয়কে কি এ ঘটনা স্পর্শ করতে পারে? আমার ধারণা, মানুষের দাবি-দাওয়ার সোচ্চার কণ্ঠস্বর সেদিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে। মানুষ দাবি জানাচ্ছে প্রাণীর বেপরোয়া ও কাণ্ডজ্ঞানহীন শিকার ও হত্যা নিষিদ্ধ করার জন্য। তাদের দাবি, এ জন্য দায়ী ব্যক্তিদের কঠোর শাস্তি দিতে হবে।

হতে পারে, নীরব সিল শিশু তার মনের কথাটি প্রকাশ করতে পেরেছে এবং এর ফলে কিছু প্রাণী নিরাপদে জীবন কাটাতে সক্ষম হবে।
আল গোরের প্রামান্য চলচ্চিত্র ‘একটি অসুবিধাজনক সত্য’। এই সুন্দর গ্রহের প্রতি চরম খামখেয়ালির মাধ্যমে মানবজাতি যে বিশৃঙ্খলার জন্ম দিয়েছে, তা চলচ্চিত্রটিতে এমনভাবে তুলে ধরা হয়েছে যে, এতে আমাদের মনে তোলপাড় না হয়ে পারে না।

প্রাকৃতিক ব্যবস্থাগুলোকে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। বাতাস, পানি, এমনকি যে মাটিতে আমরা খাদ্য উৎপাদন করি সব জায়গাতেই দূষণ। বনগুলো হারিয়ে যাচ্ছে দ্রুত। সুন্দর সুন্দর পাখিসহ প্রাণীগুলো বিলুপ্ত হয়ে গেছে। আর এখন আমাদের যে ‘ফুড চেইন’ আছে, তার যোগসূত্র মাঝে মাঝে বিচ্ছিন্ন।

পরিবেশ দূষিত ও বিপন্ন হওয়ার এমন তালিকা এত দীর্ঘ যে, তা বিরক্তিকর ঠেকতে পারে। এই তালিকা ভ্রান্তি ও স্বার্থপরতার অশেষ খতিয়ান। এর পরিণামে যে দুষ্টচক্রের উদ্ভব ঘটেছে, সেটি পুরোদমে ফিরে আসবে ওই সব প্রজাতিরও দোরগোড়ায় যেগুলোর জন্মদাতা মানুষের এই সংকীর্ণ স্বার্থ। এসব আত্মবিধ্বংসী কার্যকলাপের উপলব্ধি মানুষকে প্রকৃতির ব্যাপারে সচেতন ও সুবিবেচক করে তুলছে।
পরিবেশগত অনেক সমস্যার সমাধান অসম্ভব। তবে ক্ষতির মাত্রা কমানো যায় এবং তা করা হচ্ছেও। ‘সবুজ আন্দোলন’ গতিবেগ পাচ্ছে। মানুষের নিজের কর্মফল হিসেবে পরিবেশে যে বিপর্যয় দেখা দিয়েছে, সারাবিশ্বে সে সম্পর্কে সৃষ্টি হচ্ছে সচেতনতা। জনগণ সভা-সমাবেশ করে প্রতিবাদ জানাচ্ছে; রাষ্ট্রপ্রধানদের কাছে পাঠাচ্ছে ই-মেইল। ‘আসুন, গ্রহটাকে বাঁচাই’ শীর্ষক প্রচারণা কোনো হালকা বিষয় নয়।
ভারসাম্য সৃষ্টি করা

পরিবেশের ব্যাপারে উদ্বেগ ও পরিচর্যা মহানবী মুহাম্মদ সা:-এরও শিক্ষা। তাই এটা সব মুসলমানের দায়িত্ব।
হজরত মুহাম্মদ সা: মানব জাতিকে এমন এক আদর্শের দিকে পরিচালিত করেছিলেন, যেখানে মানুষের উন্নয়নের জন্য ন্যায়বিচার, উদারতা ও সুশাসন অপরিহার্য। তাই, মানবসমাজের অগ্রগতি অবশ্যই এমন হওয়া উচিত যাতে পুরুষ, নারী, প্রাণী, প্রকৃতি সবার প্রতি সুবিচার হয় নিশ্চিত।

রাসূল সা: মানুষকে উৎসাহিত করেছেন সরল জীবনযাপনের জন্য। তাঁর এই বৈশিষ্ট্য পরিবেশবান্ধব হওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের জন্য একটি উত্তম উদাহরণ। আর এভাবে জীবনযাপনের মানে হলো, এমন সব বুলিবচনের কল্পনাবিলাস কিংবা জটিল-কঠিন আঁচপ্যাঁচের কারিগরি ব্যাপার-স্যাপার থাকবে না যা হয়তো জ্বালানি বাঁচাতে পারে, তবে পৃথিবীর প্রাণ হবে ওষ্ঠাগত। এমন অনেক সমস্যা আছে যেগুলো অতীতে এড়িয়ে চলা যেত। বর্তমানে তা সম্ভব না হলেও কমপক্ষে সেসব নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এগুলোর সহজ ও বাস্তব সমাধানই আমাদের খোঁজা উচিত।

পরিবেশের সাথে মানুষের সম্পর্কের ব্যাখ্য দেয়ার ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ সা: তিনটি বিষয়কে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। ক. বিনয় জগতের সব সৃষ্ট বস্তুই আল্লাহর বলে উপলব্ধি করা; খ. ন্যায়বিচার মানুষের সব কাজ সংশ্লিষ্ট সবার ক্ষেত্রে সুষ্ঠু ও ন্যায়ভিত্তিক হতে হবে; গ. স্থায়িত্ব সর্ববিধ অপচয়-আধিক্য পরিহার করা এবং প্রাকৃতিক ও অন্য যেকোনো ধরনের সম্পদের সঠিক ও পরিমিত ব্যবহার।
এই বিশ্বজগত আল্লাহতায়ালাই সৃষ্টি করেছেন। আজো হয়তো সৃষ্টি জগতের অনেক কিছুই অনাবিষ্কৃত। সেসবও সৃষ্টি করেছেন আল্লাহই। সৃষ্টিজগত তাঁর শক্তি, ক্ষমতা ও কুদরতের নিদর্শন। এর কোনোকিছুই মানুষের তৈরি নয়। বরং আল্লাহ দয়া করে মানুষকে সবকিছু দিয়েছেন। তাই সৃষ্টিজগতের সবকিছুর মর্যাদা দিতে হবে এবং সব ক্ষেত্রেই অবলম্বন করতে হবে ন্যায়নীতি।

যদি এই উপলব্ধি আমাদের চিন্তাচেতনায়, দৃষ্টিভঙ্গিতে ও কাজকর্মে প্রোথিত হয়ে যায়, তাহলে আমরা আরো অগ্রসর হয়ে অনুধাবন করতে পারি সৃষ্টির মর্যাদা দিয়ে কীভাবে আমাদের সব কাজে ন্যায় প্রতিষ্ঠা করা যায়।

আল কুরআন অনুসারে, মানুষ এই জগতে সর্বশক্তিমান আল্লাহর প্রতিনিধি এবং পৃথিবীর উত্তরাধিকারী। আল্লাহ বলছেন, ‘তিনিই তোমাদেরকে তাঁর প্রতিনিধি, পৃথিবীর উত্তরাধিকারী বানিয়েছেন’ (সূরা আল আনআম, আয়াত-১৬৫)।

একজন প্রতিনিধির ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব থাকে। একই সাথে, তার দায়িত্ব আছে সব প্রাণীর প্রতি যাদের ওপর তাকে কর্তৃত্ব দেয়া হয়েছে। এটা এমন এক ভারসাম্যমূলক ব্যবস্থা যাতে মানুষ ও প্রাণীর মধ্যকার সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য। মানুষ প্রকৃতির সাথে বিবেকসম্মত আচরণ করবে এবং সংশ্লিষ্ট যেকোনো সাফল্য ও অর্জন হতে হবে টেকসই।

আল্লাহতায়ালা কুরআন শরীফে বলছেন, ‘আর আসমান, তিনি এটাকে উচ্চে তুলেছেন এবং তিনি সৃষ্টি করেছেন ভারসাম্য’ (আর রাহমান, আয়াত নং-৭)

রাসূলে করীম সা: বলেছেন, এই পৃথিবী সুন্দর ও সবুজ এবং নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদেরকে এখানে পাঠিয়েছেন প্রতিনিধিরূপে, যাতে তোমরা কেমন কাজ করো, তা তিনি দেখতে পারেন… (মুসলিম)।

অতএব, মানুষের দায়িত্বের সাথে আছে তার পরীক্ষা। এটা এমন এক কর্তব্য যা হলো যাবতীয় কাজকর্ম সুষ্ঠু-সঠিক ও প্রশংসনীয় হওয়ার বিষয় নিশ্চিত করা। এই কাঠামোর আওতায় অনুসন্ধান ও অনুধাবন করা যায় পরিবেশের যত্ন নেয়ার জন্য রাসূল মুহাম্মদ সা:-এর দর্শনকে।

জীবনধারণের উপায়-উপকরণগুলো সর্বশক্তিমান আল্লাহর দেয়া নিয়ামত বা আশীর্বাদ। আমরা যে পানি পান করি আর যে বাতাসে শ্বাস নিই তা এর দৃষ্টান্ত। কারণ পানির স্বাদ তো তিক্তও হতে পারতো। আর বাতাস হতে পারতো বিষাক্ত ধোঁয়া যাতে শ্বাস নেয়া অসম্ভব হয়ে দাঁড়াতো।

এসব প্রাকৃতিক সম্পদসমেত সবকিছু অবশ্যই পরিমিতভাবে ব্যবহার করতে হবে। সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়াগুলো হতে হবে টেকসই। তাহলে আমাদের উত্তরপুরুষের ব্যবহারের স্বার্থে পর্যাপ্ত সম্পদ রেখে যাওয়ার নিশ্চয়তা থাকবে।

প্রাণীর প্রতি সদাচরণ
পশুপাখিরও সমাজ আছে মানুষের মতো। এদেরকেও সম্মিলিতভাবে আল্লাহর কাছে হাজির করা হবে। তাদের প্রতি যে কোনোরকম দুর্ব্যবহারের হিসাব নেয়া হবে। ওদের প্রতি যেকোনো প্রকার দয়ার জন্য রয়েছে প্রতিফল। মহানবী সা: বলেছেন, যারা দয়ালু, তাদের প্রতি সেই মহাদয়াবান সত্তা দয়া করবেন। যারা আছে এই পৃথিবীতে, তাদের প্রতি তোমরা দয়া দেখালে আল্লাহ তোমাদের প্রতি করুণা প্রদর্শন করবেন (আত্ তিরমিযী)।

কোনো পশুপাখি বা প্রাণীকে বিনা প্রয়োজনে হত্যা করতে আল্লাহ নিষেধ করেছেন, সে প্রাণী যত ক্ষুদ্রই হোক না কেন। মানুষের সঙ্গত ব্যবহারের জন্য প্রাণী হত্যা করা যেতে পারে। কিন্তু নিছক তামাশার বশে শিকার করা কাণ্ডজ্ঞানহীনদের অন্যায় কাজ মাত্র। যদি ন্যায়নীতি মেনে চলা হতো, তাহলে এই লেখার শুরুতে উল্লিখিত শিশু সিলটির জীবন রক্ষা পেতো বৈ কি।

খেলা বা বিনোদনের নামে পশুপাখিকে উত্তেজিত করা বা উসকিয়ে দেয়ার পরিণামে ওরা আঘাত ও ব্যথা পায়। তাই এমন কাজের তীব্র নিন্দা করেছেন রাসূল সা:। ‘ম্যাটাডোর’ ষাঁড়কে উত্তেজিত করে তোলে এবং বোকার মতো নিষ্ফলা ধাওয়া করতে বাধ্য করে। শেষ পর্যন্ত ষাঁড়টির মৃত্যু ঘটে। তাই ম্যাটাডোর ওই সব লোকজনের মতোই নিষ্ঠুর যারা রাস্তায় কোনো ষাঁড়কে তাড়াতে থাকে।

এ জাতীয় কাজ ও আচরণ একটি পশুকে তার প্রাপ্য অধিকার ও গুরুত্ব থেকে বঞ্চিত করে। পরিবেশ সচেতন বিশ্বে এসব কাজের কোনো স্থান নেই। জানা যায়, ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হজরত উমর রা:-এর পুত্র ইবনে উমর কয়েকটি ছেলে একটি মুরগি ছানাকে লক্ষ্য করে ‘টার্গেট প্র্যাকটিস’ করছে দেখে তাদের থামিয়ে দিয়েছিলেন।

গৃহপালিত পশুপাখি বা প্রাণীর সাথে রাসূল সা:-এর আচরণের ভিত্তি ছিল দয়া। তিনি বর্ণনা করেছেন এমন কয়েকটি ঘটনা, যা থেকে জানা গেছে, প্রাণীর প্রতি সামান্য দয়া দেখানোর কারণে পাখীরাও আল্লাহর ক্ষমা লাভ করেছে। অপর দিকে, প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতার দায়ে শাস্তি হিসেবে দোজখে গেছে, এমন লোকদের কাহিনীও বর্ণিত হয়েছে।

মহানবী সা: বলেছেন, যে ব্যক্তি গাধার গায়ে গরম কিছু দিয়ে দাগ দেয়, তাকে আল্লাহ যেন শাস্তি দেন (মুসলিম)। নিজ আওতাভুক্ত প্রাণীকে বন্দী করে রাখলে গুনাহগার হতে হবে।

রেওয়ায়েত থেকে জানা যায়, রাসূল সা:-এর কয়েকজন সাহাবি একটি পাখির কয়েকটি ছানা ধরেছিলেন। ক্রুদ্ধ হয়ে মা পাখি তার দু’পাখা ছড়িয়ে ছানাগুলোকে ফিরিয়ে নিতে চেষ্টা করছিল। এটা দেখে রাসূল সা: বললেন, ‘কে বাচ্চাগুলোকে ছিনিয়ে নিয়ে পাখিটিকে কষ্ট দিলো? তাকে সেগুলো ফিরিয়ে দাও’ (আবু দাউদ)।

পরিশেষে, বৃক্ষের জন্য রাসূল সা:-এর মমতার দৃষ্টান্ত তুলে ধরা সমীচীন হবে। তিনি বলেছেন, ঈমানদারদের মধ্যে এমন কেউ নেই যিনি একটি গাছের চারা রোপণ করলেন, অথবা বপন করলেন একটি বীজ; তারপর কোনো পাখি, মানুষ কিংবা পশু সে গাছের ফল খেলো, আর তা দান হিসেবে গণ্য হলো না (বুখারী)।

রাসূলুল্লাহ সা: যুদ্ধের সময়ে বৃক্ষসম্পদ ধ্বংস করতে নিষেধ করেছেন। তিনি আরো বলেছেন, ‘যদি তুমি একটি বৃক্ষ রোপণের কাজে ব্যস্ত থাকো, আর পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাওয়ার মতো মারাত্মক কোনো ঘটনা আপতিত হয়, তবুও তোমার সে কাজ চালিয়ে যাবে।’
রাসূল সা:-এর পথ এটাই। সে পথে চলতে গেলে মানবজাতি অন্যান্য সৃষ্টিকে সম্মান করতে হবে, যাদের সাথে শরিকানায় আমরা বাস করছি এই গ্রহটিতে।

লেখিকা :

ভারতীয় এই মহিলা ১৩ বছর আগে ইসলামে দীক্ষিত হয়েছেন। ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা বিষয়ে মাস্টার্স ডিগ্রি নিয়েছেন। অভিজ্ঞ মানবসম্পদ পেশাজীবী। বর্তমানে ‘মুসলিম নারী ও একাত্মকরণ’ বিষয়ে ডক্টরেট করছেন। প্রস্তুতি নিচ্ছেন দাওয়াহ ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমকে পেশা হিসেবে নেয়ার।
ভাষান্তর : মীযানুল করীম

রাসুল সা. এর আঙ্গুলের ইশারায় চাঁদ দিখন্ডিত, এক ভারতীয় রাজা সাক্ষী- প্রমাণ

আগে ১৪ জিলহজ বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)’র মোজেযার প্রকাশ হিসেবে তাঁর আঙ্গুলের ইশারায় পূর্ণ চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হয়েছিল।

ভারতের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত মালাবার রাজ্যের (বর্তমান কেরালা অঞ্চল) তৎকালীন রাজা চক্রবর্তী ফারমাস (চেরামান পিরুমেল) আকাশে চাঁদ দুই টুকরো হয়ে যাওয়ার ওই অলৌকিক ঘটনাটি স্বচক্ষে দেখেছিলেন।

যখন তিনি জানতে পারেন যে, আরব দেশে শেষ নবীর আবির্ভাব ঘটেছে এবং রাসুলই (সা.) চাঁদ দ্বিখণ্ডিত করেছেন, তখন তিনি মক্কায় গিয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন।

আজ থেকে ১৪৪১ চন্দ্রবছরেরও আগে ১৪ জিলহজ বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)’র মোজেযার প্রকাশ হিসেবে তাঁর আঙ্গুলের ইশারায় পূর্ণ চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হয়েছিল।

আবু জেহেলের নেতৃত্বে একদল মূর্তিপূজারী ও ইহুদি জানায় যে, মুহাম্মাদ (সা.) যে আল্লাহর রাসূল তা তারা মেনে নেবে, যদি তিনি চাঁদকে দ্বিখণ্ডিত করে দেখাতে পারেন।

তখন রাসূল (সা.) আল্লাহর কাছে মোনাজাত করে আঙ্গুলের ইশারা করলে ওই অলৌকিক ঘটনাটি ঘটে।
ওই আরব মুশরিকরা এই মোজেজা অস্বীকার করে একে যাদু বলে অভিহিত করে। কিন্তু উপস্থিত ইহুদিরা চাঁদ দুই ভাগ হওয়ার ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গেই ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে।

কারণ, ওই ইহুদিরা তাওরাতে পড়েছিল যে হযরত মূসার (আ.) উত্তরসূরী হযরত ইউশার (আ.) জন্য মহান আল্লাহ চাঁদ ও সূর্যকে স্থির করে রেখেছিলেন।

ভারতের ইতিহাস গ্রন্থ ‘তারিখ-ই-ফেরেশতা’য় ওই ঘটনা উল্লেখিত হয়েছে। চেরামানের নামে ভারতের কেরালা রাজ্যে একটি মসজিদও রয়েছে।

ভারতীয় রাজা যে ওই ঘটনা দেখেছিলেন, তার লিখিত বিবরণের একটি প্রাচীন দলিল বর্তমানে লন্ডনে ভারতীয় দূতাবাসের লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত রয়েছে।

ওই দলিলে ভারতীয় সেই রাজার ভ্রমণের বিস্তারিত বর্ণনা আছে। ওই রাজা ভারতে ফেরার পথে ইয়েমেনে মারা যান।
সূত্র : রেডিও তেহরান

মহানবী (সা.) ঘুমানোর আগে যা করতেন

আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর প্রতিটি কাজ তাঁর আদর্শ এবং রেখে যাওয়া পথ-পদ্ধতি সম্পর্কে একজন মুসলমান হিসেবে আমাদের প্রত্যেকেরই জ্ঞ্যান থাকাটা খুব জরুরি। ঘুম বান্দার প্রতি আল্লাহ প্রদত্ত এক বিরাট নেয়ামত । সেই নেয়ামতের শোকর তখনই হবে, যখন আমরা আল্লাহর নেয়ামতকে রাসুলের (সা.) এর সুন্নাত মোতাবেক পালন করবো । এতে একদিকে আমাদের আমলের সাওয়াব লাভ হবে, নেয়মাতের শোকার আদায় হবে, একই সাথে আল্লাহ রাসুলের (সা.) এর নির্দেশনায় যে কল্যাণ রয়েছে, তা থেকেও বঞ্চিত হবো না ।

হাদিসে বর্ণিত ঘুমানোর আগে যে-সব সুন্নাত রয়েছে, তা হলো-

১. ভালোভাবে বিছানা ঝেড়ে নেয়া।
২. ঘরের দরজা আল্লাহর নামে বন্ধ করে ঘুমানো।
৩. ঘুমের সময় ঘুমের দোয়া পাঠ করা। হাদিসে বর্ণিত ঘুমের দোয়া হলো, ‘আল্লাহুম্মা বিসমিকা আমুতু ওয়া আহইয়া।’ অর্থাৎ, হে আল্লাহ আপনার নামে আমরা মৃত্যুবরণ করি আবার আপনার নামেই জীবিত হই। কেননা, ঘুমকে বলা হয় মৃত্যুর ভাই । মানুষ যখন ঘুমে যায়, তখন তার রুহ আসমানে উঠিয়ে নেয়া হয়। এরপর তার জাগরণের পূর্বে রুহ আবার তার দেহে ফিরিয়ে দেয়া হয়। (বুখারি)

৪. ডান কাত হয়ে শোয়া। অর্থাৎ ঘুমের শুরুটা যেনো ডান কাতে হয়। এরপর ঘুমের ঘোরে অন্য যে কোনোভাবে ঘুমালেও সুন্নাত পরিপন্থী হবে না।
৫. অপবিত্র অবস্থায় ঘুমাতে হলে শরীরের বাহ্যিক অপবিত্রতা ধুয়ে অযু করে ঘুমানো ।

৬. নগ্ন হয়ে না ঘুমানো । (বুখারি)
৭. একান্ত প্রয়োজন না হলে উপুড় হয়ে না ঘুমানো সুন্নাত ।

৮. ঘুমানোর সময় আগুন জ্বালানো বাতি নিভিয়ে ঘুমানো । (তিরমিযি)
৯. ঘুম ঘোরে দুঃস্বপ্ন দেখলে পার্শ্ব পরিবর্তন করে শোয়া ।
১০. দুঃস্বপ্ন দেখলে বাম দিকে তিনবার থুথু ছিটানো এবং দোয়া করা, ‘হে আল্লাহ আমি তোমার নিকট দুঃস্বপ্ন ও শয়তান থেকে পানাহ চাই ।’ এভাবে তিনবার বলা । তবে দুঃস্বপ্ন কাউকে না বলা সুন্নাত। (মুসলিম)

আপনার মন্তব্য দিন

শেয়ার