পবিত্র কাবা শরিফ সম্পর্কে অজানা ১০টি তথ্য !

পবিত্র কাবা শরিফ পৃথিবীতে আল্লাহপাকের একটি নিদর্শন। পৃথিবী সৃষ্টির সূচনাকাল থেকেই আল্লাহপাক কাবাকে তাঁর মনোনীত বান্দাদের মিলনমেলা হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। কাবা ইসলামের রাজধানী হিসেবে একটি পরিচিত নামও। পৃথিবীতে মাটির সৃষ্টি এ কাবাকে কেন্দ্র করেই।

 

হাদিসে এমন এসেছে যে কাবার নিচের অংশটুকু পৃথিবীর প্রথম জমিন। বিশাল সাগরের মাঝে এর সৃষ্টি। ধীরে ধীরে এর চারপাশ ভরাট হতে থাকে। সৃষ্টি হয় একটি বিশাল মহাদেশের। এক মহাদেশ থেকেই সৃষ্টি হয় সাত মহাদেশের।

 

মক্কা ও কাবার পরতে পরতে লুকিয়ে আছে ইবরাহীম (আ.)-এর পদচিহ্ন-স্মৃতি। বর্তমান আহলে কিতাব (আসমানি ধর্মগ্রন্থপ্রাপ্ত) ইহুদি ও নাসারাদের নবীরা তারই পুত্র ইসহাক (আ.)-এর বংশোদ্ভূত হওয়ায় কাবার মর্যাদা ও মাহাত্ম্য তাদের কাছেও সমানভাবে সমাদৃত।

 

পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহপাক কাবা সম্পর্কে বলেছেন, স্মরণ করুন সে সময়কে যখন আমি ইবরাহীমকে বাইতুল্লাহর স্থান নির্ধারণ করে বলেছিলাম যে আমার সঙ্গে কাউকে শরিক করো না। (সুরা হজ, ২৬) এখলাস ও একনিষ্ঠতা এ নির্মাণের অন্যতম উপকরণ ছিল।

 

পবিত্র কাবা শরিফ সম্পর্কে অজানা ১০টি তথ্য

আল্লাহ বলেন, স্মরণ করো, যখন ইবরাহীম ও ইসমাইল কাবাগৃহের ভিত্তি স্থাপন করছিল। তারা দোয়া করেছিল, হে আমাদের রব! (এ কাজ) আপনি আমাদের পক্ষ থেকে কবুল করুন। (সুরা বাকারা, ১২৭) এই কাবা সর্ম্পকে কিছু অজানা ১০টি তথ্য নিম্নে তুলে ধরা হলো।

 

১.কাবার পুনর্গঠিন : কাবা অনেক বার পুনর্গঠিত হয়েছে। বন্যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আবার হামলার কারণেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইতিহাসবিদরা মনে করেন কাবা মোট ১২ বার পুনর্গঠিত হয়েছে। সর্বশেষ কাবায় পুনর্গঠনের কাজ হয় ১৯৯৬ সালে। কাবা নির্মাণে অংশগ্রহণ করেছেন, আদম (আ.) ইবরাহিম (আ.) এবং সর্বশেষ নবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.)

 

২.গিলাফের রঙ পরিবর্তন : কাবার গিলাফ বললেই কালো রংটা আমাদের সামনে ভেসে উঠে। আচ্ছা কাবা নির্মিণ হওয়ার পর থেকেই কি কাবার গিলাফের রং কালো? কাবাকে গিলাফ দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে এই প্রচলনই বা আসলো কবে? কাবাকে গিলাফ দিয়ে ঢেকে রাখার প্রচলন শুরু হয় মূলত জুরহাম গোত্রের শাসনামলে।

 

পরে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি সাদা ইয়েমেনি কাপড় দিয়ে কাবাকে আব্রিত করেছিলেন। এর পর বিভিন্ন খলিফারা কাবার গিলাফের বিভিন্ন রং ব্যবহার করেছেন। কেউ ব্যবহার করেছেন লাল রংয়ের গিলাফ আবার কেউ ব্যবহার করেছেন সাদা রংয়ের গিলাফ। তবে আজকে যে আমরা কালো গিলাফ দেখতে পাই তার প্রচলন শুরু হয়েছে আব্বাসী শাসন আমলে।

 

৩.কাবার আকৃতি : কাবার মূলত ডি আকৃতির (আধা গোলাকার) ছিল, যা হযরত ইবরাহীম (আ.) নির্মাণ করেছিলেন। ইবরাহীম (আ.) এর পরে ইসলামের আগে কুরাইশরা কাবার পুনর্নির্মাণ করে। তখন তাদের টাকার অভাবের কারণে পুরো কাঠামো পুনর্গঠন করতে পারেনি। বর্তমানে যেমন আছে। বাকি স্থানটি এখন হাটিম বলা হয়। একটি ছোট প্রাচীর দ্বারা চিহ্নিত করা আছে।

 

৪.কাবার দরজা কয়টি : মূল কাবার দুটি দরজা ছিলো যার একটি দিয়ে প্রবেশ করা হত আর একটি বের হওয়ার জন্য ব্যবহৃত হত। এমন ছোট্ট একটি জানালাও ছিলো। তবে বর্তমানে কাবার মূল দরজা একটি। কিন্তু ভেতর দিয়ে কাবার ছাদে উঠার জন্য একটি দরজা আছে।

 

৫.কাবা ঘরের অভ্যন্তরে কী আছে? এ নিয়ে সবার মনেই প্রশ্ন জাগে। কাবার অভ্যন্তরে তিনটি পিলার মূল ছাদটিকে ধরে রেখেছে। দুই পিলারের মাঝে একটি টেবিলে সুগন্ধি রাখা আছে। দেয়ালের উপরাংশকে একটি সবুজ কাপড়াবৃত করে রেখেছে। কাপড়টিতে কোরআনের বিভিন্ন আয়াত ক্যালিগ্রাফি খচিত।

 

৬.হাজরে আসওয়াদ : হাজর আল আসওয়াদ পাথরটি এখন একটি ফ্রেমের মাঝে রাখ। এমনকি এখন এই পাথরটি বেশ কয়েকটি টুকরো। অবশ্য এক সময় একটি পাথরই ছিলো। কিন্তু বিভিন্ন কারণে পাথরটা ভেঙ্গে টুকরো টুকরো হয়ে গেছে। তবে এই পাথর গুলোকে ফ্রেমের ভিতরে রাখার কাজটা করেছেন আব্দুল্লাহ বিন জুবাইর।

 

৭.আল-শিবীবী পরিবার সর্বদা কাবার রক্ষক ছিলেন : ইসলাম আসার পূর্ব থেকেই এই পরিবারটি কাবার রক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছে। মূলত তারা ১৫ শতাব্দির রক্ষক। এবং এই পরিবারের লোকেরাই উত্তরাধিকার সূত্রে কাবার রক্ষক হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে থাকেন।

 

৮. বছরে দুইবার কাবা পরিষ্কার করা হয় : আল-শিবীবী পরিবার শাওয়ান ও দুল-কায়েদা জুড়ে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। একটি বিশেষ পরিস্কার মিশ্রণ জমজম পানি থেকে প্রস্তুত করা হয়, তাফ রাশওয়াটার এবং ব্যয়বহুল তেল এতে ব্যবহার করা হয়। এই পরিষ্কার করার অনুষ্ঠানে গভর্নর কয়েকজনকে আমন্ত্রণ জানান।

 

৯.কাবা দরজা সকলের জন্য উন্মুক্ত : প্রথম দিকে প্রত্যেকে কাবার ভিতরে ঢুকতে পারতো এবং ভিতরে ইবাদত করতে পারবো। কেননা তখন কাবার দরজা সবার জন্যই উন্মুক্ত ছিলো। দিন দিন যেহেতু কাবার তোওয়াফকারীর সংখ্যার বৃদ্ধি পাচ্ছে তাই কাবার ভিতরে এখন আর সবাই প্রবেশ করতে পারে না। কাবার দরজা এখন বিশেষ অতিথিদের জন্য মাঝে মাঝে মাঝে খোলা হয়।

১০. কাবার তোওয়াফ কখনো থামে না : কাবার বিষয়ে সব থেকে বেশি আর্শ্চযের বিষয় হলো কাবার তোওয়াফ কখনো বন্ধ হয় না। ইতিহাস ঘাটলে এমন ঘটনাও পাওয়া যায় যে, বন্যার সময় মানুষ সাঁতার কেটে কেটে তোওয়াফ করেছে। তবুও কাবার তোওয়াফ কখনো বন্ধ হয়নি।

টপ স্টোরিস

আজানের উপকারিতা ও মুয়াজ্জিনের মর্যাদা !!

আজান হলো মানুষের দুনিয়া ও পরকালের কল্যাণ লাভে আল্লাহ তাআলার ফরজকৃত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ প্রতিষ্ঠার আহ্বান। নামাজের দিকে আহ্বান করা সবচেয়ে কল্যাণজনক কাজ। এ কাজের ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা কুরআনুল কারিমে ইরশাদ করেন, ‘তার চেয়ে উত্তম কে আছে? যে মানুষকে আল্লাহর দিকে আহ্বান করে।’

আজানের শাব্দিক অর্থ হলো জানিয়ে দেয়া, আহ্বান করা, নামাজের জন্য আহ্বান করা, জামাআতে নামাজ আদায়ের প্রতি মানুষকে আহ্বানের উচ্চ আওয়াজই হলো আজান।

‘আজান’ শব্দটি কাউকে আহ্বান বা ঘোষণা করা অর্থে ব্যবহৃত হয়। তার প্রমাণ মিলে কুরআনুল কারিমে। আল্লাহ তাআলা তাআলা আহ্বান বুঝাতে কুরআনে আজান শব্দের উল্লেখ করেছেন। আল্লাহ বলেন, ‘হজের দিন আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের পক্ষ থেকে মানুষের প্রতি এ এক আহ্বান বা ঘোষণা যে, আল্লাহর সঙ্গে অংশীবাদীদের কোনো সম্পর্ক নেই এবং তাঁর রাসুলের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই।’ (সুরা তাওবা : আয়াত ৩)

আল্লাহ তাআলার ইবাদত-বন্দেগি ও হুকুম আহকাম পালনের জন্যই আজান দেয়া হয়। আজান দেয়ার কারণেই মুয়াজ্জিনের মর্যাদা বৃদ্ধি পেয়েছে। সুতরাং ইসলামে আজানের উপকারিতা ও মুয়াজ্জিনের মর্যাদা ও গুরুত্ব অনেক বেশি।

প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘কেয়ামতের দিন নবিগণ প্রথমে বেহেশতে প্রবেশ করবে; অতঃপর প্রবেশ করবে বাইতুল্লাহ শরীফের মুয়াজ্জিনগণ; অতঃপর বাইতুল মুকাদ্দিসের মুয়াজ্জিনগণ; অতঃপর আমার মসজিদের মুয়াজ্জিনগণ; অতঃপর দুনিয়ার মসজিদের মুয়াজ্জিনগণ জান্নাতে প্রবেশ করবে।’ (মিশকাত)
হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘মুয়াজ্জিনের আজানের ধ্বনির শেষ সীমা পর্যন্ত সজীব ও নির্জীব সব বস্তু তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে ও সাক্ষ্য প্রদান করে।
ঐ আজানে শুনে যে ব্যক্তি নামাজে যোগ দিবে, সে ২৫ নামাজের সমপরিমাণ সাওয়াব পাবে। মুয়াজ্জিনও ঐ মুসল্লীর সমপরিমাণ সাওয়াব পাবে এবং তার দুই আজানের মধ্যবর্তী সব ছোট গোনাহ মাফ করা হবে।’ (নাসাঈ, মুসনাদে আহমদ, মিশকাত)

হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘ইমাম হলেন দায়িত্বশীল আর মুয়াজ্জিন হলেন আমানতদার। হে আল্লাহ! আপনি ইমামদেরকে সঠিক পথে পরিচালিত করুন আর মুয়াজ্জিনদের ক্ষমা করে দেন।’ (মুসনাদে আহমদ, আবু দাউদ, তিরমিজি, মিশকাত)

হাদিসে পাকে আরো এসেছে, ‘কেয়ামতের দিনে লোকেরা পিপার্সত হয়ে পড়বে। আর মানুষ যখন পিপাসা-কাতর হয় তখন তার ঘাড় ভাঁজ ও খাটো হয়ে যায়। কিন্তু মুয়াজ্জিনগণ কেয়ামতের দিন পিপাসা-কাতর হবে না; তাই তাদের ঘাড় উর্ধ্বে উন্নত ও দীর্ঘ থাকবে।’

সুতরাং নামাজের ওয়াক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আজান দিয়ে নামাজ আদায় করা উচিত। নামাজি একাকি হোক আর অনেক হোক নামাজের জন্য আজান দেয়া উত্তম। উল্লেখিত আয়াত ও হাদিসই এর প্রমাণ।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে আজান দিয়ে নামাজ পড়ার তাওফিক দান করুন। আর মুয়াজ্জিনদেরকে যথাযথ মর্যাদা ও উত্তম প্রতিদান দান করুন। আমিন।

জমজমের পানি দাঁড়িয়ে পান করতে হয় কেন, না করলে সমস্যা কী?

ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান। একজন মানুষের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত এবং সকালবেলা ঘুম থেকে উঠার পর দিন শেষে আবার ঘুমাতে যাওয়া পর্যন্ত গোটা জীবনের সব ধরনের কাজের দিক-নির্দেশনা ইসলামে প্রদত্ত হয়েছে। ইসলামের কিছু বিধান এসেছে সরাসরি আল্লাহ মহানের পক্ষ থেকে। যাকে আমরা পবিত্র কুরআনের মাঝে পেয়ে থাকি। এছাড়া ইসলামের আরো কিছু বিধান সাব্যস্ত হয়েছে ইসলামের নবী হজরত মুহাম্মাদ (সা.)-এর জীবন যাপন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। তবে জেনে রাখার বিষয় হলো- রাসূলের (সা.) জীবন যাপন প্রক্রিয়াও মূলত আল্লাহ মহানের নির্দশনায় বাস্তবায়িত হয়েছে।

 

মুসলিম সমাজে এখন পবিত্র হজের পবিত্র আবহ বিরাজ করছে। বাংলাদেশসহ বিভিন্ন মুসলিম দেশ থেকে হজব্রত পালনের উদ্দেশ্যে অনেকেই সৌদি আরবের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছেন। পবিত্র হজ পালনের মৌসুমে কিছু বিষয় বা বস্তু নিয়ে বিশ্বব্যাপি আলোচনা হয়। তার মাঝে জমজমের কূপের পানির বিষয়টি অন্যতম। এমন কোনো হাজি সাহেব পাওয়া যাবে না, যিনি হজ শেষে পবিত্র এই কূপের পানি সঙ্গে করে না নিয়ে আসেন। জমজম কূপের পানি আল্লাহ মহান প্রদত্ত একটি নেয়া্মত। আমরা জানি, সাধারণত পানি বসে পান করা সুন্নাত। কিন্তু জমজমের পানি দাঁড়িয়ে খাওয়ার বিধান রয়েছে ইসলামে। এটা কেন? এই বিধান কতটুকু কোরআন-হাদিস সম্মত?

 

সাধারণত বা স্বাভাবিক নিয়মে পানি বসে পান সুন্নাত। এ ব্যাপারে রাসূল (সা.)-এর হাদিস রয়েছে এবং এ বিষয়টির প্রতি রাসূল (সা.) গুরুত্বারোপও করেছেন। হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) দাঁড়ানো অবস্থায় পানি পান করাকে তিরস্কার করেছেন। (মুসলিম শরীফ ৫১১৩, বাংলা, ইসলামিক ফাউণ্ডেশন কর্তৃক প্রকাশিত)

 

এছাড়া হজরত আবু হোরায়রা (রা.) বর্ণনা করেছেন, রাসূল (সা.) ইরশাদ করেছেন- তোমাদের কেউ যেন দাঁড়িয়ে পান না করে। (মুসলিম শরীফ ৫১১৮, বাংলা, ইসলামিক ফাউণ্ডেশন কর্তৃক প্রকাশিত) সুতরাং পানি বসে খাওয়া সুন্নাত এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ বা সমস্যা নেই।

 

এখন প্রশ্ন হলো জমজমরে কূপের পানি বসে পান করতে হবে নাকি দাঁড়িয়ে পান করতে হবে- এ ব্যাপারে ইসলামি দিক-নির্দেশনা কী? হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলকে (সা.) জমজমের পানি পান করিয়েছি। তিনি তা দাঁড়িয়ে পান করেছেন। [বুখারি ১৬৩৭, ৫৬১৭, মুসলিম ২০২৭, তিরমিযি ১৮৮২]

 

এছাড়া রাসূল (সা.) থেকে আরো আলোচনা পাওয়া যায়। হজরত জাবের (রা.) থেকে বর্ণিত। রাসূল (সা.) ইরশাদ করেছেন- জমজমের পানি যে জন্য পান করা হয়ে থাকে; তা সে জন্যই হবে । অর্থ্যাৎ জমজমের পানি পান যে উদ্দেশ্যে পান করা হবে তাই পূর্ণ হতে পারে। (সুনানে ইবনে মাজাহ, ৩০৬২; মুসনাদে আহমাদ, ১৪৮৪৯)

 

বিজ্ঞ ফকিহ বা ইসলামী স্কলারদের মতে, জমজমের পানি কিবলা দিকে ফিরে দাঁড়িয়ে পান করা সুন্নাত না, মুস্তাহাব একটি আমল এবং এটাকে খুব গুরুত্ব প্রদান করা বা আবশ্যক ভাবা ঠিক না। এছাড়া অন্য ফকিহরা বলেছেন, জমজমের পানি দাঁড়িয়ে পান করা মুস্তাহাবও না, বরং জায়েজ । (ফাতওয়ায়ে শামী-১/২৫৪-২৫৫)

 

জমজম কূপের পানি রাসূল (সা.) দাঁড়িয়ে পান করেছেন, মর্মে সহিহ হাদিস রয়েছে। তবে তিনি জমজমরে পানি দাঁড়িয়ে পান করার নিদের্শ দিয়েছেন এমন কোনো সহিহ হাদিস নেই বা খুঁজে পাওয়া যায় না। গুরুত্বপূর্ণ কথা হলো রাসূল (সা.) জমজমের পানি পান করার জন্য দাঁড়িয়েছেন, ব্যাপারটি এমন নয়। যখন তিনি জমজমরে পানি পন করেছেন, তখন সেখানে বসার মতো কোনো ব্যবস্থা ছিল না। ফলে রাসূল (সা.) দাঁড়িয়ে জমজমের পানি পান করেছেন। সুতরাং বিষয়টিকে খুব কঠিনভাবে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই এবং জমজমের পানিকে দাঁড়িয়ে পান করার বিধান বানানো বা আবশ্যক ভাবার কোনো অবকাশও নেই। রাসুল (সা.) পরিস্থিতির কারণে জমজমরে পানি দাঁড়িয়ে পান করেছেন। এখন পরিস্থিতি অনুকূলে থাকার পর বা বসার ব্যবস্থা থাকার জমজমরে দাঁড়িয়ে পান না করাই উচিত।

আপনার মন্তব্য দিন

শেয়ার