নারীদের জন্য শরিয়াহ আইন নির্মম ও নিষ্ঠুর! – ফারজানা কাজী

লেখকঃ কমরেড মাহমুদ, ব্লগার ও অনলাইন এক্টিভিষ্ট

উইমেন চ্যাপ্টারের নারীবাদী লেখিকা ফারজানা কাজী বলেছেন, নারীদের জন্য শরিয়াহ আইন নির্মম ও নিষ্ঠুর! 

উইমেন চ্যাপ্টারকে নারীবাদী লেখিকাকের আড্ডাখানা বলা হলেও আসলে একে ভুল তথ্যের আঁতুড় ঘর বলাই ভাল। কিছু ইসলাম বিদ্বেষী মুর্খদের আড্ডাখানা বলাই শ্রেয়। আগে কখনো ঘুরে দেখা হয়নি সেখানে কি লেখা ধরনের লেখা থাকে। আজ এক ভাই তাদের একটি লেখায় আমাকে ট্যাগ করলে লেখাটি পড়লাম। লেখাটি পড়ে অনেক্ষন নিজে নিজে হাসলাম। কিছু মুর্খ অশিক্ষিত নারীদের লেখা দিয়ে মানুষকে সাময়িক বিভ্রান্ত করা যায় কিন্তু আল্টিমেটলি এটি একটি সাইটের জন্য ক্ষতিকর। মানুষ যখন বুঝবে এখানে অশিক্ষিতরা ভুল তথ্য দিয়ে লেখালেখি করে তখন সাইটের মুল্য শুন্যের কোঠায় নেমে যাবে। আর যদি এই ওয়েব সাইটের সম্পাদকীয় উদ্দেশ্যই থাকে মানুষকে ইসলামের বিষয়ে ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করবে তাহলে ভিন্ন বিষয়।

যে লেখাটিতে আমাকে ট্যাগ দেওয়া হয়েছিল সেটার হেড লাইন করা হয়েছে “ তিন তালাক ও কিছু কথা” লেখিকা- ফারজানা কাজী। লেখাটি দেখতে  চাইলে এখানে ক্লিক করুন

লেখিকা এখানে দুইটি বিষয় নিয়ে আলোকপাত করেছেন, (এখানে লেখিকার ক্ষেত্রে “আপনি” কোন সন্মানসূচক শব্দ হিসাবে ধরবেন না, কোন কোন লেখায় আমি শুয়রকেও আপনি বলে সম্বোধন করি) এক তালাক প্রথা, দুই মুসলিম সম্পত্তি আইন। তিনি সুচনাতেই তার পৃত্বীভুমি ভারতের কথা টেনেছেন। ভারতের সুপ্রিম কোর্ট এক সাথে তিন তালাক প্রথাকে অসাংবিধানিক ঘোষনা করছে। এরপরে উল্লেখ করেছেন আইয়ুব খানের মুসলিম পারিবারিক আইন সংস্কার নিয়ে। যে আইন এখনো বাংলাদেশে চালু আছে। তালাক নিয়ে তিনি যেটা বলেছেন-

বাংলাদেশে ১৯৬১ সালে মুসলিম পারিবারিক আইনে সংস্কার করেছিল আইয়ুব খান সরকার। তৎতালীন পূর্ব পাকিস্তান এবং পশ্চিম পাকিস্তানে শরীয়াহ্ আইনের সংস্কার হয়েছিলো। তখন বলা হয়েছিলো, মুখে-মুখে তিন তালাকের কোনো আইনগত বৈধতা থাকবে না। মূলত নারী অধিকার কর্মীদের আন্দোলনেই এটি হয়েছিলো। স্বামী বা স্ত্রী যে কেউ তাদের বিবাহ বিচ্ছেদের ইচ্ছা প্রকাশ করতে পারেন। কিন্তু তিন মাসের মধ্যে তারা যদি মত পরিবর্তন করে ফেলেন তাহলে সে তালাক কার্যকরি হবে না। তিন মাসের মধ্যে যদি তারা মত না বদলায়, তাহলে তিনমাস পরে সে তালাক কার্যকরি হবে”

আর সম্পত্তি নিয়ে যেটা লিখেছেন সেটাও উল্লেখ করার প্রয়োজন মনে করছি-

সেই সময়ে সম্পত্তি আইনেরও সংস্কার হয়েছিলো। ইসলামিক শরিয়াহ আইনে আছে- যদি পিতা বেঁচে থাকতে কোনো বিবাহিত ছেলে স্ত্রী এবং সন্তান রেখে মারা যায় তবে ঐ পিতার মৃত্যুর তার সম্পত্তির অংশ তার মৃত ছেলের সন্তানেরা পাবে না। কিন্তু ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশে উত্তরাধিকার সংক্রান্ত বিধান সংশোধন করে মৃত ব্যক্তির সম্পদে বিবাহিত মৃত পুত্রের ওয়ারিশরা অংশ পাবে- এই বিধান সংযুক্ত করা হয়

এরপর উপসংহার টানার সময় লুকিয়ে রাখা দাঁতাল শুয়োরের চেহারাটা বের করে দিয়েছেন। এই দুটি তথ্য যোগ করে শুরু করেলন শরীয়া নিয়ে গালাগাল। শরীয়া আইন নাকি তাকে দাসে পরিণত করেছে! পাকি শাসক যদি তখন এই আইন না পরিবর্তন না করতো তাইলে আজও সে পিতার সম্পদ থেকে বঞ্জিত হইতো এবং সকাল বিকাল তালাক খেয়ে দাস হিসাবে বেঁচে থাকতে হইতো। পাকি বাপ তাকে নাকি এই যায়গায় বাঁচিয়ে দিয়েছেন।

শরীয়া আইন নিয়ে তার অবজারভেশন হলো-

সম্পত্তি ভাগাভাগিতে শরীয়া আইন একটি আজব আইন! আর নারীদের জন্য শরীয়া আইন আরো নির্মম এবং নিষ্ঠুর। শরীয়া বিয়েতে নারী হয়ে উঠে পুরুষের যৌন দাস!

সর্বশেষ হুজুরদের গালাগাল করে লেখার পরিসমাপ্তি। তার ভাষায়-

‘’আমার ধারণা বাংলাদেশের কোনো সরকারই আল্লাহর আইন বাতিলের সাহস করতো না তেঁতুল হুজুরদের খুশি করার জন্যে। এখনো হয়তো এদেশের নারীরা তিন তালাকের খড়গের নিচে বসবাস করতো। পুরুষ তার মর্জি মতো যে কোনো সময় শুধু তিনবার তালাক উচ্চারণ করে ছেড়ে দিত স্ত্রীকে

অর্থাৎ আইয়ুব খান আল্লাহ্‌র আইন পরিবর্তন করেছিল মুসলিম পারিবারিক আইনে। এটা বাংলাদেশ সরকারের কেউ সাহস করতোনা তেতুল হুজুরদের ভয়ে।

আসলেই কি এই দুটি ক্ষেত্রে মুসলিম পারিবারিক আইনে আল্লহর আইন পরিবর্তন করা হয়েছিল নাকি আল্লহর আইনকে রাষ্ট্রীয় আইনে ধাবিত করা হয়েছিল? এসব ইসলাম বিদ্বেষীদের কোরআন হাদিস সম্পর্কে দুই ছটাকের জ্ঞান নেই অন্যদিকে ভাব দেখায় বিশাল পান্ডিত্বের। আসুন আমরা কোরআন হাদিসের আলোকে কি বিধান একটু দেখে নিই।

‘তালাক্ব’ (الطلاق) অর্থ : বদ্ধনমুক্তি। যেমন বলা হয়: أُطْلِقَ الْأسِيْرُ ‘বন্দী মুক্ত হয়েছে’। শারঈ পরিভাষায় তালাক অর্থ : স্বামী-স্ত্রীর বিবাহ বন্ধন ছিন্ন করা। ইসলামে তালাককে অপছন্দ করা হয়েছে। যদিও বেদ্বীনী, অবাধ্যতা, যেনাকারিতা প্রভৃতি চূড়ান্ত অবস্থায় এটাকে জায়েয রাখা হয়েছে এবং তালাকের মাধ্যমে বিবাহ বন্ধন ছিন্ন করার এখতিয়ার দেওয়া হয়েছে।

কোরআন হাদিসের আলোকে তালাকের পদ্ধতি :

(১) স্ত্রীকে তার ঋতুমুক্তির পর পবিত্র অবস্থার শুরুতে মিলন ছাড়াই স্বামী প্রথমে এক তালাক দিবে। অতঃপর সহবাসহীন অবস্থায় তিন ঋতুর ইদ্দত অতিক্রান্ত হওয়ার পূর্বে স্বামী স্ত্রীকে চাইলে ফিরিয়ে নিতে পারে। কিন্তু ইদ্দতকাল শেষ হওয়ার পরে ফেরত নিতে চাইলে তাকে উভয় পক্ষের সম্মতিক্রমে নতুন বিবাহের মাধ্যমে ফেরত নিতে হবে। ইদ্দতকালে স্ত্রী স্বামীগৃহে অবস্থান করবে। অবস্থানকালে স্বামী স্ত্রীকে খোরপোষ দিবে। এটিই হ’ল তালাকের সর্বোত্তম পন্থা।

(২) সহবাসহীন প্রথম তালাক দিয়ে ইদ্দতের মধ্যে পরবর্তী মাসে ২য় তালাক দিবে এবং ইদ্দতকাল গণনা করবে। অতঃপর পরবর্তী মাসের শুরুতে তৃতীয় তালাক দিবে ও ঋতু আসা পর্যন্ত সর্বশেষ ইদ্দত পালন করবে। তৃতীয়বার তালাক উচ্চারণ করলে স্ত্রীকে আর ফেরৎ নেওয়া যাবে না। এখানেও পূর্বের ন্যায় যাবতীয় বিধান বহাল থাকবে (বাক্বারাহ ২/২২৯; তালাক ৬৫/১)। ইসলামের সোনালী যুগে এই তালাকই চালু ছিল।

যেমন আল্লাহ স্বীয় রাসূলকে সম্বোধন করে বলেন,

يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ إِذَا طَلَّقْتُمُ النِّسَآءَ فَطَلِّقُوْهُنَّ لِعِدَّتِهِنَّ وَأَحْصُوا الْعِدَّةَ وَاتَّقُوا اللهَ رَبَّكُمْ لاَ تُخْرِجُوْهُنَّ مِنْ بُيُوْتِهِنَّ وَلاَ يَخْرُجْنَ إِلاَّ أَنْ يَأْتِيْنَ بِفَاحِشَةٍ مُّبَيِّنَةٍ وَتِلْكَ حُدُوْدُ اللهِ وَمَنْ يَّتَعَدَّ حُدُوْدَ اللهِ فَقَدْ ظَلَمَ نَفْسَهُ لاَ تَدْرِيْ لَعَلَّ اللهَ يُحْدِثُ بَعْدَ ذَلِكَ أَمْراً µ  (الطلاق )-

‘হে নবী! যদি আপনি স্ত্রীদের তালাক দিতে চান, তাহ’লে ইদ্দত অনুযায়ী তালাক দিন এবং ইদ্দত গণনা করতে থাকুন। আপনি আপনার প্রভু সম্বন্ধে হুঁশিয়ার থাকুন। সাবধান তালাকের পর স্ত্রীদেরকে গৃহ হ’তে বিতাড়িত করবেন না, আর তারাও যেন স্বামীগৃহ ছেড়ে বহির্গত না হয়। অবশ্য তারা যদি খোলাখুলিভাবে খারাপ কাজে লিপ্ত হয়, তাহ’লে স্বতন্ত্র কথা। এগুলি আল্লাহকৃত সীমারেখা। যে ব্যক্তি উক্ত সীমারেখা লংঘন করে, সে নিজের উপরে যুলুম করে। কেননা সে জানে না যে, তালাকের পরেও আল্লাহ কোন (সমঝোতার) পথ বের করে দিতে পারেন’ (তালাক্ব ৬৫/১)

উক্ত আয়াতের তাৎপর্য এই যে, তালাক হ’ল মূলতঃ আকস্মিক বা যুগপৎ তালাক নয়। স্বামী-স্ত্রীকে অবশ্যই নির্ধারিত ইদ্দত গণনা করতে হবে। এজন্য কমপক্ষে তিন ঋতু মুক্তির তিন মাস স্বামী অবকাশ পাবেন যে, তিনি স্ত্রীকে নিয়ে ঘর করতে পারবেন কি-না। এছাড়াও স্ত্রীকে স্বামীগৃহেই অবস্থান করতে হবে। এর দ্বারা উভয়কে পুনর্মিলনের প্রতি উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। আল্লাহ বলেন, এগুলি হলো আল্লাহকৃত সীমারেখা, যা অতিক্রম করা নিষিদ্ধ।

ফারাজানা কাজীর পাকি বাবা আইয়ুব খান তিন মাসের যে আইন করেছিল এটাকি তিনি স্বপ্নে পেয়েছিলেন নাকি কোরআন থেকে পেয়েছিলেন? এই গর্ধব মহিলা সেটা না জেনেই নিজের পান্ডিত্ব ফলাতে গিয়েছেন। তিন মাসের ভিতর যদি মত পরিবর্তন করেন তাহলে নিতে পারবেন এই প্রথা কোরআনই বলে দিয়েছে। আইয়ুব খান কোরআনের এই আইন রাষ্ট্রীয় আইনে অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন মাত্র।

এক্ষণে প্রশ্ন হ’ল : এক মজলিসে একসাথে তিন তালাক  দিলে উক্ত সীমারেখা পালন করা যায় কি? যেখানে প্রথম তালাকের ইদ্দতকাল এক ঋতু শেষে ২য় তালাক। অতঃপর ২য় তালাকের ইদ্দতকাল ২য় ঋতু শেষে ৩য় তালাক- এভাবে হিসাব করে বিরতিসহ ইদ্দত গণনার কোন সুযোগ থাকে কি? যদি না থাকে, তাহলে সেটা কোন্ ধরনের তালাক হবে?  কুরআন ও ছহীহ হাদীছের কোথাও এরূপ তালাকের কোন অস্তিত্ব আছে কি?

অনেক ফিকহ মতামত দিয়ে থাকেন এক সাথে তিন তালাক দিলেও তালাক হয়ে যাবে। তালাক হয়ে যাওয়া আর আইন এক জিনিস কি? ধরুন কেউ খুন করলে তাকে বিচারের সম্মুখীন করে ফাঁসি কার্যকর করে মৃত্যু নিশ্চিত করা হলো আইন। এখন কোন খুনিকে যদি কেউ উত্তেজিত হয়ে বিচারের আওতায় না এনে খুন করে ফেলে তাহলে কি তার মৃত্যু নিশ্চিত হবেনা? উভয়ভাবেই মৃত্যু নিশ্চিত হয়ে যায় কিন্তু সেটা আইন বিরোধী। এই কাজে হয়তো আপনাকে আল্লাহ্‌র কাছে জবাব দিহি করলেও করতে হতে পারে। একইভাবে এক সাথে তালাক দিয়ে তালাক হয়ে যেতে পারে যদিও এবিষয়ে বিস্তর মতভেদ আছে কিন্তু ইসলামের আইন হলো তিন মাসে তালাক দিতে হবে। এটা আল্লাহ্‌ প্রদত্ত স্পষ্ট বিধান।  

ইসলাম বাধ্যগত অবস্থায় তালাক জায়েয রাখলেও মূলতঃ সেটা তার কাম্য নয়। বরং স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে সমঝোতা সৃষ্টি ও তাদেরকে পুনরায় দাম্পত্য জীবনে ফিরে আসার সকল বৈধ সুযোগ সৃষ্টি করে রেখেছে। তাকে এক মাস, দু’মাস, তিন মাস যাবত চিন্তা করার সুযোগ দিয়েছে। ইদ্দতকালে স্ত্রীকে স্বামীগৃহে অবস্থানের সুযোগ দিয়েছে। সবশেষে দ্বিতীয়বার পর্যন্ত ‘তালাক্ব’ শব্দটি উচ্চারণ করলেও কুরআন ‘তৃতীয় তালাক’ বা ‘তালাক্বে বায়েন’ (বিচ্ছিন্নকারী তালাক) কথাটি উচ্চারণ করেনি। বরং ইঙ্গিতে বলেছে, দ্বিতীয়বার তালাক দেওয়ার পরে এক্ষণে সে তার স্ত্রীকে সুন্দরভাবে রাখুক অথবা সদ্ব্যবহারের মাধ্যমে বিদায় করুক’।

এত সুন্দর পারিবারিক সিস্টেম দুনিয়ার কোন আইন দিয়ে করা সম্ভব না।

শরীয়া আইনে উত্তোরাধীকারী বিধান কিঃ আসুন এবার জেনে নিই ইসলাম কিভাবে সম্পত্তির ভাগাভাগি করেছে। 

১. স্বামীর অংশ :

 স্বামী ২ ভাবে মৃত স্ত্রীর সম্পত্তির ভাগ পেয়ে থাকে। স্বামী কখনো তাঁর মৃত স্ত্রীর সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হবে না। মৃত স্ত্রীর কোন সন্তান বা পুত্রের সন্তান থাকলে স্বামী স্ত্রীর সম্পত্তির ১/৪ অংশ পাবে। মৃত স্ত্রীর কোন সন্তান বা পুত্রের সন্তান কেউই না থাকলে স্বামী স্ত্রীর সম্পত্তির ১/২ অংশ পাবে। 

২. স্ত্রীর অংশ : স্ত্রীও ২ ভাবে তাঁর মৃত স্বামীর সম্পত্তি পেয়ে থাকে। বিধবা স্ত্রী কোন ভাবে তাঁর স্বামীর সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হবে না। মৃত স্বামীর কোন সন্তান বা তাঁদের পুত্রের সন্তান থাকলে স্ত্রী, স্বামীর সম্পত্তির ১/৮ অংশ পাবে। যদি মৃত স্বামীর কোন সন্তান বা পুত্রের সন্তান কেউই না থাকলে তবে স্ত্রী, স্বামীর সম্পত্তির ১/৪ অংশ পাবে। স্ত্রী একাধিক হলেও সবাই মিলে ১/৪ অংশ সমান ভাগেই পাবে। 

৩. বাবার অংশ : বাবা তাঁর মৃত সন্তানের সম্পত্তির উত্তরাধিকারী ৩ ভাবে হয়ে থাকে। যদি মৃত সন্তানের পুত্র, পুত্রের পুত্র বা পুত্রের পুত্রের পুত্র এভাবে যতই নিচের হোক না কেন যদি থাকে, তবে মৃত সন্তানের পিতা পাবেন সন্তানের সম্পত্তির ১/৬ অংশ। 

যদি মৃত সন্তানের শুধু মাত্র কন্যা সন্তান বা তাঁর পুত্রের কন্যা সন্তান থাকলে তবে পিতা সন্তানের সম্পত্তির ১/৬ অংশ পাবেন। 

এই ক্ষেত্রে কন্যাদের ও অন্যান্যদের দেয়ার পর অবশিষ্ট যে সম্পত্তি থাকবে তাও পিতা পাবেন। আর যদি মৃত সন্তানের কোন পুত্র-কন্যা বা পুত্রের সন্তান কিছুই না থাকে তাবে বাকী অংশীদারদের তাঁদের অংশ অনুযায়ী দেয়ার পর অবশিষ্ট যা থাকবে তার সবটুকুই বাবা পাবেন। 
তবে মৃত ব্যক্তির কোন সন্তান ও বাবা কেউ না থাকলে তাঁর সম্পত্তি তাঁর জীবিত ভাই বা ভাইরা পাবে। আবার ভাই না থাকলে তাঁর ভাইয়ের সন্তানরা পাবে। 

৪. মায়ের অংশ :

 মা তাঁর মৃত সন্তানের সম্পত্তি পেয়ে ৩ ভাবে পেয়ে থাকে। – মৃত ব্যক্তির কোন সন্তান বা পুত্রের সন্তানাদি যত নিম্নেরই হোক থাকলে অথবা যদি মৃত ব্যক্তির আপন, পূর্ণ বৈমাত্রেয় বা বৈপিত্রেয় ভাইবোন থাকলে তবে মাতা ছয় ভাগের এক ভাগ (১/৬) পাবেন। 

মৃত ব্যক্তির কোন সন্তান বা পুত্রের সন্তানাদি যত নিম্নের হোক না থাকলে এবং মৃত ব্যক্তির যদি একজনের বেশি ভাই বা বোন না থাকে তবে মাতা তিন ভাগের এক ভাগ (১/৩) পাবেন। কোন সন্তান বা পুত্রের সন্তানাদি যত নিম্নের হোক না থাকলে অথবা কমপক্ষে দুইজন ভাইবোন না থাকলে এবং যদি মৃত ব্যক্তির স্বামী বা স্ত্রীর অংশ বাদ দেয়ার পর যা অবশিষ্ট থাকবে, তার তিন ভাগের এক ভাগ (১/৩) মাতা পাবেন। মৃত ব্যক্তির এক ভাই থাকলেও মাতা ১/৩ অংশ পাবেন। 

৫. পুত্র সন্তানের অংশ : মৃত ব্যক্তির ছেলে বা ছেলেরা সকল ক্ষেত্রেই সম্পত্তি পায়। যেক্ষেত্রে মৃত ব্যক্তির ছেলে ও মেয়ে রয়েছে সেই ক্ষেত্রে ছেলে বা ছেলেরা, মেয়ে বা মেয়েদের চেয়ে দ্বিগুন সম্পত্তি পাবে। মৃত ব্যক্তির সম্পত্তিতে মাতাপিতা ও স্বামী-স্ত্রী নির্দিষ্ট সম্পত্তি পাওয়ার পর অবশিষ্ট সম্পত্তি ছেলে মেয়ের মধ্যে বন্টন করা হবে। তবে মেয়ে না থাকলে অংশীদারদের অংশ দেয়ার পর অবশিষ্টাংশভোগী হিসেবে বাকী সম্পূর্ণ সম্পত্তি ছেলে বা ছেলেরাই পাবে। 
৬. কন্যা সন্তানের অংশ :
 উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে কন্যারা তিনভাবে মাতাপিতার সম্পত্তি পেতে পারে। একমাত্র কন্যা হলে তিনি রেখে যাওয়া সম্পত্তির দুই ভাগের এক ভাগ বা (১/২) অংশ পাবে। একাধিক মেয়ে হলে সবাই মিলে সমানভাগে তিন ভাগের দুই ভাগ বা (২/৩) অংশ পাবে। যদি পুত্র থাকে তবে পুত্র ও কন্যার সম্পত্তির অনুপাত হবে ২:১ অর্থাৎ এক মেয়ে এক ছেলের অর্ধেক অংশ পাবে। যাহোক কন্যা কখনো মাতাপিতার সম্পত্তি হতে বঞ্চিত হয় না। 

অর্থাৎ এখানে ইসলাম কাওকে বঞ্জিত করেন নি। আইয়ুব খান দিয়া দিছেন তাই মুসলিম উত্তরাধিকার প্রতিষ্ঠা হইছে এসব যারা মনে করে তাদের মাথায় ঘিলু আছে কিনা সন্দেহ।

শরীয়া আইনের মত এমন ইনসাবপূর্ন বিধান  মুর্খ ইসলাম বিদ্বেষীরা একটিও দেখাতে পারবেনা। ইসলামের শরীয়া আইন এই ফারজানাকে কয়েকজনের কাছ থেকে সম্পত্তি পাওয়ার বিধান দিয়েছে। সে যদি হিন্দু পিতার কন্যা হইতো তাহলে পিতার সম্পত্তির ভাগ চাইলে তাকে পশ্চাদেশে লাথি মেরে শ্বশুরবাড়ি পাঠিয়ে দিতো।

আপনার মন্তব্য দিন

শেয়ার