নবী সা:-কে হত্যার ষড়যন্ত্র

মহানবী সা:-এর মহাজীবন নাশের ষড়যন্ত্রে যেসব ঘাতকের কৃষ্ণ কুৎসিত রোমশ হাত ব্যবহৃত হয়েছিল তার কয়েকটি বিবরণ এখানে তুলে ধরা হলো।

এক. এক রাতে আবু জেহেল কুরাইশ গোত্রের কয়েকজন মুশরিক বন্ধুদের নিয়ে কাবা চত্বরে মিটিং করে সিদ্ধান্ত নিলো সে নিজেই একটি ভারী পাথর দিয়ে মাথায় আঘাত করে মুহাম্মাদ সা:-এর মাথা গুঁড়িয়ে দেবে।

পরদিন আবু জেহেল কাবা শরিফের এক পাশে বিশাল ভারী একখানা পাথর নিয়ে মহানবী সা:-এর আগমন অপেক্ষায় বসে রইল। অন্য দিনের মতো মহানবী সা: কাবা শরিফে নামাজ আদায় করার জন্য এলেন। তিনি নামাজে দাঁড়ালেন। মহানবী সা: যখন সেজদায় গেলেন তখন আবু জেহেল প্রকাণ্ড ভারী পাথরটিসহ অগ্রসর হলো। কিন্তু পরক্ষণেই ভীতসন্ত্রস্ত ও বিহ্বল অবস্থায় বিবর্ণ চেহারায় পিছু হটে ফিরে এলো। যে পাথরটি তার হাতে ছিল সেটি সে ছুড়ে ফেলে দিলো। এ সময় কুরাইশ বন্ধুদের কয়েকজন তার দিকে এগিয়ে গেল। তারা তাকে জিজ্ঞেস করল, কী হে আবুল হাকাম, তোমার কী হলো? সে বলল, আমি মুহাম্মাদের সা: সেজদারত অবস্থায় মাথায় আঘাত করার জন্য কাছাকাছি গিয়ে পাথর মারতে যেই উদ্যত হয়েছি, তখনই বিরাট আকৃতির ভয়ঙ্কর একটি উট আমার সামনে এসে আমাকে আক্রমণ করতে উদ্যত হয়। আল্লাহর কসম! এমন ভয়ঙ্কর দাঁতাল এবং হিংস্র উট আমি জীবনে আর কখনো দেখিনি।

দুই. জোটবদ্ধভাবে হত্যার ষড়যন্ত্র : মহানবী সা:-এর নিজ গোত্র ‘আবদ’ মানাফ ছাড়া কুরাইশ গোত্রের সব শাখা এবং মক্কার অন্যান্য গোত্রের নেতারা মহানবী সা:-এর মহাজীবন নাশের উপায় উদ্ভাবনের ষড়যন্ত্রে ‘দারুন্নদওয়ায়’ একটি গোপন সভায় সমবেত হয়। আবু জেহেলের কথামতো সিদ্ধান্ত নেয় তারা সবাই একযোগে একসাথে মুহাম্মাদ সা:-এর ওপর আক্রমণ চালিয়ে হত্যা করবে। সবাই মিলে একত্রে তারা যখন এ কাজটা করবে তখন মুহাম্মাদ সা:-এর হত্যার দায়ভার সব গোত্রের ওপরই পড়বে। ফলে আবদ মানাফ সমগ্র জাতির বিরুদ্ধে লড়াই করে খুনের প্রতিশোধ নিতে পারবে না; বরং রক্তপণ নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে বাধ্য হবে। আমরা সব গোত্র মিলে তাদের রক্তপণ পরিশোধ করে দেবো।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সবল সুঠাম দেহের নেতৃস্থানীয় ১১ জন দুর্বৃত্ত রাতের আঁধার ঘনীভূত হয়ে এলে মহানবী সা:-এর বাসগৃহের চার পাশে ওঁৎ পেতে অবস্থান নিলো। মহানবী সা: ওই রাতেই মহান আল্লাহর নির্দেশে অতন্দ্র, সশস্ত্র ঘাতকদের চোখে ধুলো দিয়ে মদিনায় হিজরতের উদ্দেশে গৃহত্যাগ করেন। দুরাচার আবু জেহেল মহানবী সা:-এর জীবননাশের জন্য ঘোষণা করে, যে মুহাম্মাদকে জীবিত কিংবা মৃত এনে দেবে তাকে একশো উষ্ট্রী পুরস্কার প্রদানের ঘোষণা প্রদান করা হবে। সুরাকা নামের এক দক্ষ তীরন্দাজ কুরাইশ যুবক একশো উটের লালসায় উন্মত্ত হয়ে বেগবান তেজী অশ্ব নিয়ে মহানবী সা:-কে হত্যার উদ্দেশ্যে তার গমন পথে ছুটতে থাকে। সুরাকা মহানবী সা:-কে নাগালের মধ্যে পেয়ে ধনুতে তীর সংযোজনে চেষ্টা করে। তার সংযোজনের প্রাণান্ত চেষ্টা অবশেষে ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। পরিশেষে, মহানবীর কাছে নিজ কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে প্রাণভিক্ষা লাভ করে। মহানবী সা: ঘাতক দলের সব ষড়যন্ত্র, সব কৌশল, সব প্রচেষ্টা অতিক্রম করে নির্বিঘেœ, অক্ষত দেহে, সশরীরে মদিনায় পৌঁছেন।

তিন. বদর যুদ্ধের পর হত্যার নীলনকশা : উমাইরের পুত্র ওহাব বদর যুদ্ধে মুসলমানদের হাতে বন্দী হয়। সে সাফওয়ানের পরামর্শক্রমে রাসূল সা:-কে হত্যার সিদ্ধান্ত নিলো। উমাইর তার জঘন্য অভিসন্ধি সিদ্ধির জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করতে লাগল। সে মহানবী সা:-এর মহাজীবন নাশের জন্য অস্ত্রে শান দিলো এবং তাতে তীব্র ক্রিয়াশীল বিষ মিশাল। এরপর একটি উট সংগ্রহ করে মদিনার দিকে রওনা দিলো। মদিনায় পৌঁছে সে মসজিদে নববীর সামনে উট বাঁধল। এ সময় হজরত ওমর রা: মসজিদের ভেতরে ছিলেন। হঠাৎ করে তাঁর দৃষ্টি পড়ে উমাইরের ওপর। তিনি বললেন, ওই নরাধম আল্লাহর দুশমন নিশ্চয় কোনো খারাপ মতবল নিয়ে এখানে এসেছে। তিনি রাসূল সা:-কে বললেন, দেখুন, আল্লাহর ওই দুশমন অস্ত্রসহ এসেছে। তিনি তার অস্ত্র জব্দ করে নিলেন। মহানবী সা: তাকে বললেন, উমাইরকে আমার কাছে নিয়ে এসো। হজরত ওমর রা: মহানবী সা:-এর কাছে উপবিষ্ট আনসারদের বললেন, আপনারা এই খবিস সম্পর্কে সতর্ক থাকুন। সে খুবই বিপজ্জনক ব্যক্তি। এরপর হজরত ওমর রা: উমাইরসহ মহানবী সা:-এর কাছে প্রবেশ করলেন। মহানবী সা: হজরত ওমর রা:-কে বললেন, তুমি ওকে ছেড়ে দাও এবং উমাইরকে বললেন, উমাইর এসো কাছে এসো।

উমাইর মহানবীর কাছে গিয়ে তাঁকে অভিবাদন জানিয়ে বলল, শুভ সকাল! এ অভিবাদন শুনে মহানবী বললেন, উমাইর, তোমাদের এই অভিবাদনের চেয়ে উত্তম অভিবাদনের রীতি শিক্ষা দান করে মহান আল্লাহ আমাদেরকে মহিমান্বিত করেছেন। আর সেটা হলো- ‘আস্সালামু আলাইকুম’; জান্নাতবাসীদের অভিবাদন। এরপর মহানবী সা: তাকে বললেন, উমাইর, বলো তো তুমি কেন এসেছ? সে বলল, আপনাদের হাতে আমার পুত্র বন্দী। তার ব্যাপারেই এসেছি। তার ব্যাপারে আপনারা দয়া করুন। মহানবী সা: বললেন, তাহলে কোমরে তরবারি বেঁধে আসার উদ্দেশ্য কী? সে বলল, এই তরবারি গোল্লায় যাক! এই তরবারি আমাদের আর কোনো কাজে আসবে? মহানবী সা: আবারো বললেন, আসলে সত্য কথা বলো, কেন এসেছ? সে বলল, বললাম তো, কেবল ওই বন্দী বিষয়ে কথা বলার জন্যই এসেছি। মহানবী সা: দ্ব্যর্থ স্বরে বললেন, না, তা নয়। তুমি ও সাফওয়ান কাবার হাতিমে বসে বদর যুদ্ধে তোমাদের পরাজয় এবং কূপে নিক্ষিপ্ত কুরাইশদের লাশ সম্পর্কে খেদালাপ করছিলে। তুমি বলেছিলে, আমি যদি ঋণগ্রস্ত না হতাম এবং আমার যদি পরিবার-পরিজন না থাকত আমি মদিনায় গিয়ে মুহাম্মাদ সা:-কে হত্যা করতাম। তুমি আমাকে হত্যা করবে এই শর্তে সাফওয়ান তোমাদের ঋণ পরিশোধ করবে এবং তোমার পরিবার-পরিজন প্রতিপালনের ভার গ্রহণ করেছে। তুমি জেনে রাখো! মহান আল্লাহ তোমার ও আমার মধ্যে প্রতিবন্ধক হয়ে আছেন। একান্ত এই গোপন তথ্য কিভাবে মহানবী সা: জানলেন তা ভেবে উমাইর হতভম্ভ হয়ে গেল। আততায়ীর জিঘাংসা তার অন্তর থেকে দূর হয়ে গেল। উমাইর মহানবী সা:-এর হাতে হাত রেখে ইসলাম কবুল করলেন।

চার : হুনায়েনের যুদ্ধের প্রথম ভাগে শত্রুপক্ষের আকস্মিক হামলায় মুসলিম বাহিনী বিমূঢ় হয়ে পড়ে। শাইবান ইবন উসমান মহানবী সা:-কে হত্যার জন্য অগ্রসর হয়। আর চিৎকার দিয়ে বলতে থাকে- ‘আজ মুহাম্মাদ সা:-কে হত্যা করে আমি কুরাইশদের সব খুনের বদলা নেব।’ কিন্তু শাইবা হত্যার জন্য মহানবী সা:-এর নিকটবর্তী হওয়ামাত্র ভয়ঙ্কর কিছু দেখে আতঙ্কিত হয়ে ওঠে। সে মহানবীকে আঘাত করার সামর্থ্য হারিয়ে ফেলে। ফলে মহানবী সা: ঘাতকের নিশ্চিত আঘাত থেকে নিরাপদ থাকেন।

পাঁচ : মক্কা বিজয়ের দিন মহানবী সা: যখন কাবা শরিফ তাওয়াফ করছিলেন তখন ফুজালা ইবন উমাইর তাকে হত্যার সংকল্প করে। হত্যার উদ্দেশ্যে সে যখন মহানবী সা:-এর নিকটবর্তী হয় তখন মহানবী সা: তাকে বললেন, কী ফুজালা নাকি হে! সে বলল, জি হ্যাঁ, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তিনি বললেন, মনে মনে কী ভাবছিলে? সে বলল, কিছুই না, আমি আল্লাহকে স্মরণ করছিলাম। মহানবী সা: বললেন, আল্লাহর কাছে তওবা করো। তারপর মহানবী সা: ফুজালার বুকের ওপর হাত রাখলেন। এর ফলে ফুজালার হৃদয়মনে প্রশান্তি আসে। পরবর্তী সময়ে ফুজালা বলত, মহানবী যে মুহূর্তে আমার বুকের ওপর থেকে হাত উঠিয়ে নিলেন, তখন থেকে দুনিয়ার আর কোনো কিছুই আমার কাছে তাঁর চেয়ে প্রিয় মনে হয় না।

ছয়. ইহুদি সম্প্রদায় বনি নজির গোত্রের সাথে একটি আলোচনা সভায় যোগদানের উদ্দেশ্যে মহানবী সা: হজরত আবু বকর, হজরত ওমর ও হজরত আলী রা:-কে সাথে নিয়ে গমন করেন। মহানবীর সা: জীবননাশের একটি মোক্ষম সুযোগ বিবেচনা করে তারা আমর ইবন জাহাশ নামে এক ইহুদি আততায়ীকে এ কাজে নিযুক্ত করে। মহানবী সা: এ সময় একটি প্রাচীরের ছায়ায় বসেছিলেন। আমর প্রাচীরসংলগ্ন একটি ঘরের ছাদে উঠে পাথর নিক্ষেপ করে হত্যার প্রস্তুতি নেয়। ইতোমধ্যে মহানবী সা: ওহির মাধ্যমে এ ষড়যন্ত্রের বিষয় জেনে ফেলেন। ফলে ঘাতকের কৃষ্ণ রোমশ হাত কুৎসিত কর্মটি সম্পাদন করার আগেই মহানবী স্থান ত্যাগ করেন এবং নিরাপদে মদিনায় বাসগৃহে ফিরে আসেন।
সাত. মহানবী সা:-কে হত্যার জন্য শত্রুরা বিভিন্ন ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পনা করেছিল। এমনকি খাবারের মধ্যে বিষ মিশিয়ে হত্যা করার জঘন্য ষড়যন্ত্রও বাদ যায়নি। খাবারে বিষ মিশিয়ে যন্ত্রণাদায়ক মৃত্যু ঘটানোর হীন চক্রান্ত করেছিল একজন ইহুদি মহিলা, তার নাম জয়নব। সে ছিল ইহুদি সাল্লাম ইবন মিশকামের স্ত্রী। তারা খয়বরে বসবাস করত। সে সময় মহানবী সা: খয়বরে অবস্থান করছিলেন।

জয়নব তার দুরভিসন্ধি বাস্তবায়নের জন্য মহানবী সা:-কে নিমন্ত্রণ করে। মহানবী সা: কী খেতে পছন্দ করেন জয়নব তাও জেনে নেয়। যথাসময়ে মহানবী সা:-এর প্রিয় উপাদেয় খাবারই মজলিসে পরিবেশন করা হয়। মহানবী ও সাহাবিরা খাবার গ্রহণ করেন। মহানবী সা: খাওয়া মাত্র জেনে যান যে তাতে বিষ মেশানো হয়েছে। তিনি তৎক্ষণাৎ সাহাবিদের খাবার খেতে নিষেধ করেন। কিন্তু ইতোমধ্যে বাশার ইবন বারা মহানবীর সা: সতর্কবাণীর আগেই খাবার গলধঃকরণ করে ফেলেছেন! কিছুক্ষণের মধ্যে তার দেহে তীব্র বিষক্রিয়া শুরু হয়। খাবারে মিশ্রিত বিষ ছিল খুবই তীব্র। ফলে অল্পক্ষণের মধ্যে বাশার রা: শাহাদাত বরণ করেন। মহানবী সা: খাবারে বিষ মেশানোর বিষয়টি ঠিকই অবগত হয়েছিলেন। বিষ মিশ্রিত খাবার খাওয়া সত্ত্বেও তাঁর পবিত্র অন্ত্রে কোনো ক্রিয়া করতে পারেনি। ফলে মহানবী সা:-এর প্রাণ রক্ষা হয় এবং ঘাতকের সব চেষ্টাই ব্যর্থ হয়।

ড. মুহাম্মদ আফাজউদ্দিন
লেখক : অধ্যাপক, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া

কালেমা শাহাদাতের বিনিময় জান্নাত!

আল্লাহ রাব্বুল আলামিন পৃথিবীতে মানুষ এবং জিন জাতিকে সৃষ্টি করছেন একমাত্র তার ইবাদত বা অনুগত করা জন্য! আর এই মানষ জাতির হেদায়াতের জন্য অনেক নবী রাসূলগন কে পাঠিয়েছেন! তারা সকলে উম্মতদেরকে কালিমার দাওয়াত দিয়েছেন। হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, যে ব্যক্তি লা ইলাহা ইল্লাহ পড়ল, সে একদিন হলেও জান্নাতে যাবে! এখন দেখা যায় মানুষ এতো পরিমান গোনাহ করে তার কোন সীমা থাকে না! প্রশ্ন হয় এই কালিমা কি তাকে জান্নাতে নিতে পারবে? প্রথমে জেনে নিন, কিয়ামতের দিন সমস্ত গোনাহকে পাল্লার একপাশে রাখা হবে! আর শুধু কালিমায়ে শাহাদতকে অন্যপাশে রাখা হবে তবুও কালিমার পাল্লা বেশি ভারি হবে!

মানুষের ভাল কাজ করা এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি নিয়ামত! আল্লাহ যার জন্য কোন ভালো কিছুর আসা করেন তাকে নেক আমল করার তৌফিক বা সুযোগ করে দেন! রাসূল (সা:) ইরশাদ করেছেন, আল্লাহ তা’য়ালা যে সমস্ত বান্দার সাথে সুন্দর মোয়ামেলা করার ইচ্ছে করেন! তাকে মৃত্যুর পূর্বমুহূর্ত হলেও ভাল আমল করার তৌফিক দান করেন! এই ব্যপারে হাদিস শরিফে হযরত আনাস (রা:) বর্ণনা করেন রাসূল (সা:) বলেছেন, আল্লাহ তায়ালা যখন কোন বান্দার সাথে সুন্দর মোয়ামেলা করার ইচ্ছা করেন তখন তাকে মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্ত হলেও ভাল কাজ করার তৌফিক দান করেন! কিয়ামতের দিন কালিমায়ে শাহাদাতের ওজন সব কিছুর থেকে ভারি হবে! বর্ণিত আছে আখেরি নবীর উম্মতের মধ্যে যে সমস্ত উম্মত গোনাহে কাবিরা করার পরে তাওবা করেনি! অথবা অন্যের হক অন্যায় ভাবে আহরণ করার পরে আদায় করেনি! অথবা কারোর উপর অন্যায়ভাবে জুলুম করে তার কাছ থেকে নিজের জুলুমকে মাফ করিয়ে নেইনি! সুতারাং আল্লাহ তায়ালা কিয়ামতের দিন ঐ সমস্ত ব্যক্তিদের গোনাহর হিসাব অনুযায়ী আজাব দিবেন!

আরো বর্ণিত আছে! হতে পারে ঐ মহান দিবসে আল্লাহ তায়ালা নিজের রহম এবং গফ্ফারের সাথে কিছু গোনাহগার মানুষের সাথে ভলো নরম ব্যবহার করে! তাকে জান্নাতে দিবেন! সেটার পদ্ধতি হলো তামাম মাখলুকের মধ্য থেকে উম্মতি মুহাম্মাদির কিছু সংখ্যক মানুষকে আলাদা করবে! এবং তাদের সবার সামনে নিজের খারাবি আমল অর্থাৎ যে খাতায় গোনাহ লেখা হয়েছিল সেই নিরনব্বই টি রেজিস্টার পেশ করবে এবং বলবে দেখো! এই রেজিস্টারের মধ্যে আমার নিজুক্ত করা ফেরেস্তা তোমাদের উপর কোন জুলুম ইত্যাদি করেনি তো? তারা কোন আমল কম বেশি করে লিখেননি তো? তখন ঐ সমস্ত ব্যক্তি উত্তরে বলবে! হে আমাদের রব তারা কোন জুলুম করেনি! তখন আল্লাহ তা’য়ালা বলবেন তোমাদের কাছে এখন কোন ওজর খায়েশ তো নেই? তখন ঐ সমস্ত ব্যক্তি বলবে হে আমাদের রব! না আমাদের কাছে কোন প্রশ্ন আছে আর না কোন আমল আছে? এরপর আল্লাহ তায়ালা বলবেন কেন নেই? তখন আল্লাহ বলবেন আজ তোমাদের উপর কোন জুলুম করা হবে না?
সুতারাং আল্লাহ তা’য়ালা কোরআনে কারীমের এ আয়াতের বানি দ্বারা বুজা যায় ! ‘আজ প্রত্যেক মানুষকে তার আমলের বদলা দেওয়া হবে! কারোর উপর কোন ধরনের জুলুম এবং বে ইনসাফি করা হবেনা! সত্যিই আল্লাহ তায়ালা অতি তাড়াতাড়ি হিসাব নিকাশ করনে ওয়ালা!’

এরপর আল্লাহ তা’য়ালা বলবেন তোমাদের একটা নেকি আমার কাছে আছে! সেটা তোমরা জনো? এ কথা বলার পরে ফেরেস্তা একটি রেজিস্টার বের করবে! যার মধ্যে লেখা থাকবে কালিমায়ে শাহাদাত। তখন আল্লাহ তা’য়ালা বলবেন এই কালিমার রেজিস্টার কে পাল্লার এক দিকে আর অন্য দিকে তোমাদের গোনাহর ৯৯ রেজিস্টার রাখো! তখন মানুষেরা বলবে হে আমাদের রব কোথায় ৯৯ রেজিস্টার, আর কোথায় একটা রেজিস্টার এর মধ্যেতো আসমান জমিনের পার্থক্য! তখন আল্লাহ তা’য়ালা বলবেন শুনো আজ তোমাদের উপর কোন জুলুম করা হবে না!

সুতারাং এক পাল্লাই ৯৯ রেজিস্টার এবং অন্য পাল্লাই কালিমা শাহাদতের এক রেজিস্টার রাখা হবে! তখন দেখা যাবে ঐ কালিমার একটা রেজস্টার নিরেনব্বই রেজিস্টার থেকে বেশি ভারি! ভারি হওয়ার কারন হল আল্লাহর নাম সমস্ত জিনিষের থেকে বরকতপূর্ণ এবং ভারি হয়!

আরো হাদিস শরীফে বর্নিত আছে! হযরত আমরুবনুল আচ(রা:) থেকে বর্ণিত আমি হুজুর (সা:) থেকে এ কথা বলতে শুনেছি কিয়ামতের দিন সমস্ত মাখলুকের থেকে আমার এক বান্দাকে আলাদা করা হবে!এবং তার সামনে গোনাহের ঐ ৯৯ রেজিস্টার উপস্থিত করা হবে! এবং সেই রেজিস্টার খোলা ও থাকবে! তারপর আল্লাহ তায়ালা বলবেন কি খবর দেখো এর মধ্যে কোন আমল তোমার অস্বিকার করার মতো আছে নাকি? আর আমার কোন ফেরেস্তা তোমাদের কোন ভাল আমল ছেড়ে তোমাদের উপর কোন জুলুম করেছে নাকি? তখন ঐ সমস্ত ব্যক্তি বলবে হে আমাদের রব, আপনার নিযুক্ত করা ফেরেস্তা কোন জুলুম করে নাই! তারপর আল্লাহ তায়ালা বলবেন এখন তোমাদের কোন অজুহাত আছে কিনা? ঐ সমস্ত ব্যক্তি বলবে নাই হে আমাদের রব তখন আল্লাহ তা’য়ালা বলবেন কেনো নেই? তোমরা জনোনা আমার কাছে তোমাদের একটা নেকি আছে যার কারনে তোমাদের কে জন্নাত দেওয়া হবে! আজ তোমাদের উপর কোন জুলুম করা হবে না! সুতারাং একটা কাগজ আনা হবে তার মধ্যে লেখা থাকবে শাহাদাত।
এরপর আল্লাহ তা’য়ালা বলবেন, এখন তোমাদের নিরেনব্বই রেজিস্টার কে সামনে আনো! তখন গোনাহগার বলবেন হে আল্লাহ কোথায় নিরেনব্বই রেজিস্টার আর কোথায় একটা কাগজ? আসমান জমিন পার্থক্য! তখন আল্লাহ বলবেন নিঃসন্দেহ আজ তোমাদের উপর কোন জুলুম করা হবে না! বর্ণিত আছে গোনাহগারদের ঐ নিরেনব্বই রেজিস্টার এক পাল্লাই এবং ঐ কাগজ অন্য পাল্লাই রাখা হবে তবুও ৯৯ পাল্লা একটি কাগজের কাছে হালকা হয়ে যাবে! এবং কালিমা শাহাদাতের কাগজ ভারি হয়ে যাবে! এ কারনে যে আল্লারর নামের বিপরিতে কোন জিনিষ ভারি হতে পারেনা! দেখো আল্লাহ যার সাথে সুন্দর ব্যবহার করে যে শুধু কালেমার পরিবর্তে জান্নাতে দিয়ে দিবে! কিন্তু এমন সবার সাথে করবে না! প্রায় সবার সাথে হিসাব নিকাসের অনুযায়ী মোআমেলা করবে! যে গোনাহর তাকে প্রথমে শাস্তি দিবে এর পরে জান্নাত দান করবে! আল্লাহ তায়ালার কাছে আমাদের আসা আছে আল্লাহ আমাদের সবার ঐ কিয়ামতের দিন রহমের মোআমেলা করবেন!

আপনার মন্তব্য দিন

শেয়ার