ডিম কাদের জন্য উপকারী, কাদের জন্য ক্ষতিকারক?

সবার কাছে অতি পরিচিত খাদ্য ডিম। এটি পরিপূর্ণ পুষ্টিকর খাবার, যা শরীরের নানা উপকার ও স্বাস্থ্যের জন্য অতি উত্তম। ডিম নিয়ে আমাদের মাঝে নানা ভুল ধারণাও আছে। স্বাস্থ্যসচেতন মানুষ ডিম খাওয়া নিয়ে অনুমাননির্ভর দুশ্চিন্তায় ভোগেন। অনেকে মনে করেন, ডিমের কোলেস্টেরল হৃদরোগ, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ (স্ট্রোক) সৃষ্টি করে। আবার কেউ মনে করেন ডিম খেলে উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপ্রেসার হয়। পেটে গ্যাস জমা হয়।

কিন্তু আসলে এসব ক্ষেত্রে ডিম কতটুকু দায়ী তা জানা দরকার। আর ডিম কাদের জন্য ক্ষতিকর এ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা দরকার। তা ছাড়া ডিমের উপাদান সম্পর্কে জানা থাকলে আমরা ডিমের মতো সুষম খাবার থেকে বঞ্চিত হবো না।

ডিম মুখরোচক, প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, আয়রন, কোলিন ও ভিটামিন সি ছাড়া অন্যান্য ভিটামিনে ভরপুর। ডিমের বাইরের শক্ত খোসা ছাড়া ভেতরের সব অংশই খাদ্য উপযোগী। একটি ডিমের গড় ওজন ৬০ গ্রাম প্রায়। পুুষ্টিমানের দিক দিয়ে হাঁস ও মুরগির ডিমের তেমন কোনো পার্থক্য নেই। দেশী ডিমের চেয়ে ফার্মের ডিমের পুষ্টিগুণ বেশি থাকে। তবে মুরগির ডিমের চেয়ে হাঁসের ডিমের পুষ্টিগুণ বেশি। কারণ হাঁসের ডিম মুরগির ডিমের চেয়ে বড়।

বাংলাদেশের মানুষ বছরে মাত্র ৪৫-৫০টি ডিম খায়। অথচ জাতিসঙ্ঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার তথ্য মতে, সুস্থ থাকার জন্য বছরে একজন মানুষের ১০৪টি ডিম খাওয়া প্রয়োজন। সুষম খাদ্যের অভাবে বাংলাদেশের শিশু থেকে শুরু করে সব ধরনের মানুষ অপুষ্টিতে ভোগে। তাই স্বাস্থ্যরক্ষায় আমাদের খাদ্য গ্রহণের ব্যাপারে সচেতন হওয়া প্রয়োজন।

ডিমে প্রচুর প্রোটিন, চর্বি, ভিটামিন, খনিজ পদার্থ, কোলিন ও আট ধরনের অ্যামাইনো এসিড থাকে, যা সুস্থ দেহ গঠনে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তা ছাড়া ডিমে প্রচুর পরিমাণে ফ্যাটি এসিড আছে। একটি ডিমে সম্পৃক্ত চর্বির পরিমাণ ১.৮৬ গ্রাম, অসম্পৃক্ত চর্বির পরিমাণ ৩.১২ গ্রাম ও কোলেস্টেরলের পরিমাণ ২২৫ গ্রাম।

উচ্চমাত্রার কোলেস্টেরলের সাথে সম্পৃক্ত চর্বি খাদ্যে মিলিত হয়ে মানবদেহে হৃদরোগ সৃষ্টি করতে পারে, তা সত্য। কিন্তু ডিমে সম্পৃক্ত চর্বির চেয়ে মানবদেহের জন্য উপকারী অসম্পৃক্ত চর্বির পরিমাণ প্রায় দ্বিগুণ। মানবশরীরের জন্য কোলেস্টেরল খুবই প্রয়োজন। এই কোলেস্টেরলের ভয়ে কেউ কেউ ডিম খান না। অথচ কোলেস্টেরল মানবশরীরের জন্য খুবই প্রয়োজনীয় একটি উপাদান। পুরুষের সেক্স হরমোন টেস্টোস্টেরন আর মহিলাদের সেক্স হরমোন ইস্ট্রোজেন দেহে তৈরির জন্য কোলেস্টেরল প্রয়োজন। ভিটামিন ডি এবং যকৃতের বাইল এসিডের প্রাথমিক উৎস কোলেস্টেরল।

তা ছাড়া শরীরের বিপাকীয় কাজে কোলেস্টেরল গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে। ডিমে প্রচুর ওমেগা-৩ থাকে, যা শরীরের সাইকোটাইনিস নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। এ উপাদানটি রক্তে ট্রাইগ্লিসারিনের পরিমাণ কমিয়ে হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। তা ছাড়া এ উপাদানটি চোখের দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি করে। দেহের সালমোনেলা আক্রমণ রোধ করে, মাংসের ক্ষয় রোধ করে এবং স্তনক্যান্সার প্রতিরোধ করে। ডিমের এইচডিএল (হাই ডেনসিটি লাইপো প্রোটিন), অসম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিড, ওমেগা-৩ রক্তের কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমায় এবং রক্তনালীতে এলডিএল (লো-ডেনসিটি লাইপো প্রোটিন) জমতে দেয় না। ফলে হৃদরোগ ও মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণ রোগ অনেকাংশে কমে যায়।

ডিমে কোলিন নামে যে উপাদান থাকে তা মস্তিষ্ক গঠন করে ও সুস্থ-সবল রাখে। তাই শিশুদের ডিম খাওয়ালে মস্তিষ্কের সঠিক গঠন ও পরিপক্ব হয়। কোলিন যকৃতের (কলিজা) কাজ স্বাভাবিক রাখে। শিশুদের নিউরন কোষ তৈরিতে সাহায্য করে। গর্ভবতী মহিলাদের প্রতিদিন একটি করে ডিম খাওয়ালে গর্ভের শিশুর উন্নত স্মৃতিশক্তি তৈরি হয়। ডিমের জৈব ক্রোমিয়াম ইনসুলিন উৎপাদনের মাধ্যমে রক্তের শর্করা বা চিনির সমতা বজায় রাখে।

পুষ্টিবিজ্ঞানীদের মতে, একটি ডিম থেকে যে খাদ্য উপাদান পাওয়া যায় তা নি¤œরূপ : খাদ্যশক্তি ১৮১ কিলোক্যালরি, আমিষ ১৩.৫ গ্রাম, চর্বি ১৩.৭ গ্রাম, শর্করা ০.৮ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ৭০ মিলিগ্রাম, আয়রন ৩ গ্রাম, পানি ৩৫ গ্রাম, কোলেস্টেরল ২২৫ গ্রাম, সোডিয়াম ০.১২ গ্রাম, ক্লোরিন ০.১৮ গ্রাম, পটাশিয়াম .১২ গ্রাম, ভিটামিন বি-১ ০.৫ মিলিগ্রাম, বি-৬ ০.১৪ মিলিগ্রাম, নিয়োসিন ০.৭ মিলিগ্রাম, থায়ামিন ০.০৬ মিলিগ্রাম, ই-৭ ৪০ মিলিগ্রাম, বি-২ ৩১০ মিলিগ্রাম, বি-১২ ১ মিলিগ্রাম, এ- ৭৪০ মিলিগ্রাম, ফলাসিন ৪৬ মিলিগ্রাম কোলিন ১২৬ মিলিগ্রাম, ফসফরাস ৯৬ মিলিগ্রাম, সেলেনিয়াম ১৫.৮ মাাইক্রোগ্রাম। ডিমের সাদা অংশ বা অ্যালবুমিন ৩৪-৩৫ গ্রাম থাকে, যা ডিমের মোট ওজনের শতকরা ৫৭ ভাগ। এ অ্যালবুমিন মিউকাস মেমব্রেনকে সুরক্ষা করে পাকস্থলীর প্রদাহ, আলসার ও ডায়রিয়া প্রতিরোধে বিশেষ ভূমিকা রাখে।

একজন পূর্ণবয়স্ক সুস্থ মানুষ প্রতিদিন ৩০০ মিলিগ্রাম পর্যন্ত কোলেস্টেরল গ্রহণ করতে পারে। ডিমে থাকে ২২৫ গ্রাম কোলেস্টেরল। সুতরাং ভয় করে ডিম খাওয়া বাতিল করা উচিত নয়। যদি আপনার দেহে কোলেস্টেরল আগে থেকে বেড়ে না থাকে, তাহলে ডিম খাওয়া বাদ দেয়া উচিত নয়। তবে মনে রাখবেন, আপনার শরীরের সমস্যা থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ মতো ডিম খাবেন। কাঁচা ডিমে সালমোনেলা সিগেলা নামক জীবাণু সংক্রমণের আশঙ্কা থাকে। গরমের সময় এ আশঙ্কা আরো বেশি থাকে। তাই কাঁচা ডিম খাওয়া উচিত নয়।

অনেকে মনে করেন, ডিম খেলে বাত হয়। তা সঠিক হয়। বাতের অন্যতম কারণ হলো রক্তের ইউরিক এসিডের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া। ডিমের সাদা অংশে যে ইউরিক এসিড থাকে তা খুবই সামান্য, যা আমাদের শরীরের কোনো ক্ষতি করে না। ডিমে ফসফরাস থাকে, যা দেহের হাড় গঠনে সাহায্য করে। কুসুমে থাকে ফোলেট, যা রক্তকোষ তৈরিতে সাহায্য করে এবং কুসুমে জিংক থাকে, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। সেদ্ধ ডিম খেলে চোখের ছানিপড়া ও অন্ধত্ব দূর হয়।

লেখক : শিক্ষক, ফুলসাইন্দ দ্বিপাক্ষিক উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজ , গোলাপগঞ্জ, সিলেট

ব্রয়লার মুরগি খাচ্ছেন না বিষ, এই তথ্যটি জানলে আপনি আর খাবেন না!

এখন মাংস উৎপাদনের উদ্দেশ্যে লালন-পালন করা ব্রয়লার মুরগী সহ সব ধরনের পশুকেই নিয়মিত ভাবে প্রায় প্রতিদিনই অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ খাওয়ানো হয়। প্রতি বছর বিশ্বে এই উদ্দেশে প্রায় ৬৩ হাজার ১৫১ টন অ্যান্টিবায়োটিক লাগে।

অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ালে যে খাদ্য গ্রহণ করে পশুরা তা থেকে সহজেই তাদের দেহে মাংসপেশি উৎপাদিত হয়। আগেভাগে প্রয়োগ করা অ্যান্টিবায়োটিকের প্রভাবে সহজে রোগবালাইয়ে আক্রান্ত না হওয়ার কারণেই এমনটা ঘটে।

কিন্তু এভাবে কৃত্রিম উপায়ে উৎপাদিত এই মাংসই বেশিরভাগ খাদ্যবাহিত রোগের সংক্রমণ এবং আমাদের দেহকে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী করে তোলার প্রধান কারণ। এখন আর মানুষের দেহে অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করছে না এই কারণেই।

অথচ বিশ্বের বেশিরভাগ পশু মাংসই উৎপাদিত হয় এখন এই উপায়ে।

দেহে অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধের কার্যকারিতার অভাবে বিশ্বব্যাপী প্রতি বছর অন্তত ৭ লাখ মানুষ অকালে মারা যাচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্রে মারা যায় ২৩ হাজার, ইউরোপে মারা যায় ২৫ হাজার আর ভারতে শুধু ৬৩ হাজার শিশু মারা যায় এই কারণে। এ থেকেই ধারণা পাওয়া যেতে পারে বাংলাদেশের মতো স্বাস্থ্য অসচেতন দেশে কত মানুষ মারা যাচ্ছে এই কারণে।

ওই মৃত্যু ছাড়াও দেহে অ্যান্টিবায়োটিক কাজ না করার কারণে নানা ধরনের রোগ-বালাইয়ে আক্রান্ত হচ্ছেন কোটি কোটি মানুষ।
যুক্তরাষ্ট্রে বছরে ২০ লাখ মানুষ এই কারণে রোগাক্রান্ত হয়ে পড়ছেন।

বিজ্ঞানিরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ২০৫০ সালের মধ্যে অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যকারিতা নষ্ট হওয়ার কারণে বিশ্বের ক্ষতি হবে ১০০ ট্রিলিয়ন ডলার। এবং অকাল মৃত্যু হবে ১ কোটি মানুষের।

নানা রোগের জীবাণুরা অ্যান্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধী ক্ষমতা গড়ে তুলেছে। ১৯৪০ সালে আবিষ্কৃত হয় পেনিসিলিন। অথচ মাত্র ১০ বছরের মধ্যেই এর কার্যকারিতার বিরুদ্ধে প্রতিরোধী ক্ষমতা গড়ে তোলে জীবাণুরা। এইসব জীবাণু আরো শক্তিশালী হয়ে উঠছে। এখন বছরে ৭ লাখ মানুষের অকাল মৃত্যু হয় এই কারণে।

টেট্রাসাইক্লিন এসেছিল ১৯৪৮ সালে কিন্তু ১৯৫০ সালের শেষদিকেই এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধী শক্তি গড়ে তোলে জীবাণুরা। ইরিথ্রোমাইসিন এসেছে ১৯৫২ সালে কিন্তু ১৯৫৫ সালের মধ্যেই এটির কার্যকারিতা নষ্ট হতে থাকে। পেনিসিলিনের কার্যকারিতা ফিরিয়ে আনতে মেথিসিলিন আসে ১৯৬০ সালে। কিন্তু মাত্র এক বছরের মধ্যেই স্ট্যাফ ব্যাকটেরিয়া এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলে।

শুধু পেনিসিলিন এবং এর সমগোত্রীয় অ্যান্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধেই নয় বরং সেফালোসপোরিন নামের অ্যান্টিবায়োটিক এবং তার সমগোত্রীয়দের বিরুদ্ধেও প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলেছে জীবাণুরা। এরপর আসে আরো নতুন অ্যান্টিবায়োটিক কিন্তু সেসবও পরাজিত হয়।

যতবারই নতুন ওষুধবিদ্যাগত রসায়ন, নতুন আণবিক আকৃতি এবং নতুন কার্যকারিতার পদ্ধতি সম্বলিত অ্যান্টিবায়োটিক আবিষ্কার করা হয়েছে ততবারই জীবাণুরা তাদের সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে থাকার কৌশল রপ্ত করে ফেলছে। এমনকি এখন যেন প্রতিটি দশকে জীবাণুরা আরো দ্রুত গতিতে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী ক্ষমতা অর্জন করছে।

জীবাণুদের এই নাছোড়বান্দার মতো অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী হয়ে ওঠার ফলে আশঙ্কা করা হচ্ছে চিরদিনের মতোই বুঝি অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ এর কার্যকারিতা হারাবে। যার ফলে এখন সাধারণ কোনো স্বাস্থ্যগত সমস্যাও মৃত্যু ডেকে আনবে হয়তো। সাধারণ কোনো আঁচড়, দাঁত তোলা বা কোনো অঙ্গ ভেঙ্গে যাওয়ার মতো ছোট জখম থেকেও প্রাণ হারানোর মতো ঝুঁকি তৈরি হবে হয়তো।

এখন যুক্তরাষ্ট্রে যত অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি হয় তার ৮০ শতাংশই ব্যয় হয় পশু মাংস উৎপাদনে। আর বিশ্বব্যাপী যত অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি হয় তার অর্ধেকেরও বেশি ব্যয় হয় ব্রয়লার মুরগীসহ অন্যান্য পশু মাংস উৎপাদনে। এসব অ্যান্টিবায়োটিক কোনো রোগ সারাতে খাওয়ানো হয় না। বরং দ্রুত তাদের মোটা-তাজা করণেই শুধু ব্যবহৃত হয়। অথবা খামারে গাদাগাদি করে বসবাসের কারণে সম্ভাব্য যেসব রোগে আক্রান্ত হতে পারে তা থেকে রক্ষার জন্য আগাম প্রয়োগ করা হয়।

আর ওই মাংস খাওয়ার ফলে মানুষের দেহে আর নতুন কোনো অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধও কাজ করে না। ওই অ্যান্টিবায়োটিকযুক্ত মাংস খাওয়ার ফলে রোগের জীবাণুরা দেহে মিশে যাওয়া অ্যান্টিবায়োটিকের সঙ্গে দীর্ঘদিন বসবাসের ফলে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী হয়ে উঠে। নতুন অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগেও তাদের আর হত্যা করা যায় না। কারণ অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে উৎপাদিত মাংস খাওয়ার ফলে মানুষের দেহকোষগুলোর এমন জিনগত পরিবর্তন ঘটে যায়, যার ফলে জীবাণুরা কোষের মধ্যে নতুন কোনো অ্যান্টিবায়োটিক প্রবেশ করতে দেয় না বা নতুন অ্যান্টিাবায়োটিক আসলে তাকে বের করে দেয়।

যদি পরিমিতভাবে এবং নিয়ম মেনে- সঠিক ডোজ এবং সময়ের দূরত্ব ঠিক রেখে অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ করা হত, শুধু কোনো রোগের জীবাণুকে মারার জন্য তাহলে জীবাণুরা কখনোই অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী হতে পারতো না। কিন্তু কৃষি বা মাংস উৎপাদনে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের এই নিয়ম-নীতি মানা হয় না; সেখানে রোগের জীবাণুকে মারার জন্য নয় বরং দ্রুত মোটা-তাজাকরণের উদ্দেশেই ব্যবহৃত অ্যান্টিবায়োটিক।

রোগের জীবাণুদের অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী ক্ষমতা অর্জন বিশ্ব জলবায়ু সংকটের মতোই ভয়াবহ। দশকের পর দশক ধরে কোটি কোটি ছোট ছোট চিকিৎসাগত সিদ্ধান্তের সম্মিলিত ফল এটি। যা আরো বিপর্যয়কর রুপ ধারণ করেছে কৃষি ও পশুপালনে শিল্পায়নের ফলে।

তেমনি এর মোকাবিলাও মাত্র একটা-দুইটা সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সম্ভব নয়। তবে তা একেবারে অসম্ভবও নয়। এর প্রমাণ নেদারল্যান্ডের কৃষকরা তাদের সব ধরনের চাষাবাদে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার বন্ধ করে দিয়েছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পারডিউ ফার্ম এবং অন্যান্য কম্পানিও অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার বন্ধ করে দিয়েছে। এ থেকেই প্রমাণিত হয় কারখানা ভিত্তিক উৎপাদনেও অ্যান্টিবায়োটিক ছাড়াও সফল হওয়া সম্ভব।

এছাড়া যেসব প্রজাতিতে অ্যান্টিবায়োটিক দরকার হয় না এবং প্রাকৃতিকভাবেই হৃষ্টপুষ্ট সেসব প্রজাতির পশুর মাংস উৎপাদন করলেও এই বিপর্যয় থেকে রেহাই পাওয়া যাবে। এতে প্রাণবৈচিত্রও রক্ষা পাবে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

আপনার মন্তব্য দিন

শেয়ার