জেনে রাখুন মুসলিম শিশুর সবচেয়ে জনপ্রিয় কিছু সুন্দর অর্থবোধক নাম

একটি শিশু সন্তান জন্মগ্রহণ করার পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রধান যে কাজটি নিয়ে বাবা-মাসহ পরিবারের সদস্যরা চিন্তিত থাকেন সেটা হলো- নবাগত শিশুর সুন্দর অর্থবহ একটি নাম রাখা। ইসলাম এই বিষয়টিকে বেশ গুরুত্ব দিয়েছে। ইসলাম ধর্মে শিশুর অর্থবহ নাম রাখার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ কারণ কেয়ামতের ময়দানে আল্লাহ মহান তার বান্দাদেরকে নিজ নাম এবং তার পিতার নাম ধরে ডাকবেন। এই মর্মে হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, ‘হজরত আবু দারদা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেছেন, কেয়ামতের দিন তোমাদের নাম এবং তোমাদের পিতার নাম ধরে ডাকা হবে। অতএব তোমাদের নামগুলো সুন্দর করে রাখ। (আবু দাউদ, বায়হাকী ও মুসনাদে আহমদ)

একটি সন্তান জন্মগ্রহণ করার পর পিতা-মাতাসহ সবাই অনুসন্ধানে থাকেন কী ভাবে আনকমন ও অর্থবহ একটি নাম রাখা যায়। প্রযুক্তির এই যুগে এসে বিভিন্ন সার্চ ইঞ্জিন ব্যবহার করে অনেকেই ইন্টারনেটে ভালো সুন্দর ও অর্থবহ নাম খুঁজে থাকেন। ইন্টারনেটে মুসলিম শিশুর অর্থবহ নাম খোঁজাকে জরিপে এনে একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে। তালিকাটিতে মানুষের সার্চ করা সবচেয়ে জনপ্রিয় ২০টি সুন্দর অর্থবোধক নাম উঠে এসেছে। মুসলিম ছেলে শিশু সন্তানের সবচেয়ে জনপ্রিয় ১০টি এবং মুসলিম কন্যা সন্তানের সবচেয়ে জনপ্রিয় ১০টি- মোট বিশটি নামকে অর্থসহ তালিকাবদ্ধ করা হয়েছে। চলুন তাহলে আর দেরি না করে আমরাও জেনে নেই মুসলিম শিশুর সবচেয়ে জনপ্রিয় ২০টি সুন্দর অর্থবোধক নাম ও তার অর্থ।

মুসলিম ছেলে শিশু সন্তানের জন্য নির্বাচিত সবচেয়ে জনপ্রিয় ১০টি সুন্দর অর্থবোধক নাম-
১. বাংলা নাম : আয়ান, ইংরেজি বানান : Ayaan, অর্থ : আল্লাহর পক্ষ থেকে দান করা উপহার, উপঢৌকন বা পুরস্কার। মূল শব্দটি আরবি।
২. বাংলা নাম : হামজাহ, ইংরেজি বানান : Hamza, অর্থ : বাহাদুর, শক্তিশালী, সিংহ। মূল শব্দটি আরবি। রাসূল (সা.)-এর চাচার নাম ছিলো হামজাহ।
৩. বাংলা নাম : আলী, ইংরেজি বানান : Ali, অর্থ : উচ্চ, একজন উর্ধ্বমুখী, মূল শব্দটি আরবি। ইসলামের চতুর্থ খলিফার নাম ছিলো হজরত আলী (রা.)।
৪. বাংলা নাম : উসমান, ইংরেজি বানান : Usman, অর্থ : একটি সুন্দর কলম। মূল শব্দটি আরবি। প্রসিদ্ধ সাহাবী, ইসলামের তৃতীয় খলিফার নাম ছিলো হজরত উসমান (রা.)।

৫. বাংলা নাম : ফাইজান, ইংরেজি বানান : Faizan, অর্থ : অনুগ্রহ, আনুকূল্য এবং পানির প্রবহমান ধারা। মূল শব্দটি আরবি।
৬. বাংলা নাম : জাইন, ইংরেজি বানান : Zain, অর্থ : সৌন্দর্য, চমৎকার। মূল শব্দটি আরবি।
৭. বাংলা নাম : জিশান, ইংরেজি বানান : Zeeshan, অর্থ : উচু মর্যাদাশালী, গৌরব। মূল শব্দটি ফারসি।
৮. বাংলা নাম : বিলাল বা বেলাল, ইংরেজি বানান : Bilal, অর্থ : আক্ষরিক অর্থ ভিজানো বা স্যাতস্যাতে। মূল শব্দটি আরবি। প্রসিদ্ধ সাহাবী ইসলাম ও রাসূল (সা.)-এর প্রসিদ্ধ মুয়াজজিনের নাম ছিল হজরত বেলাল হাবশী (রা.)।

৯. বাংলা নাম : নোমান, ইংরেজি বানান : Noman, অর্থ : উপদেশ বা উপদেশদাতা। মূ
ল শব্দটি আরবি। ইসলামের ইতিহাসের অনেক বিখ্যাত ব্যক্তিত্বদের নাম ছিলো নোমান। প্রসিদ্ধ জার মাজহাবের অন্যতম একটি মাজহাব- হানাফি মাজহাবের প্রাণপুরুষের নাম ছিল নোমান।

১০. বাংলা নাম : সানা, ইংরেজি বানান : Sana, অর্থ : প্রশংসা, জ্যোতি বা প্রতিভা। মূল শব্দটি আরবি।

মুসলিম কন্যা শিশু সন্তানের জন্য নির্বাচিত সবচেয়ে জনপ্রিয় ১০টি সুন্দর অর্থবোধক নাম-

১. বাংলা নাম : আয়েশা, ইংরেজি বানান : Ayesha, অর্থ : নারী জীবন, শান্তি ও আরামের সাথে জীবন যাপণকারী। মূল শব্দটি আরবি। নবী মুহাম্মদ (সা.) -এর প্রিয় স্ত্রী নাম ছিল হজরত আয়েশা।

২. বাংলা নাম : আইজা, ইংরেজি বানান : Aiza, অর্থ : ইজ্জতওয়ালা, সম্মানিত। মূল শব্দটি আরবি। তবে কোনো কোনো ভাষাবিদ বলেছেন এটি মূলত ফারসি শব্দ।

৩. বাংলা নাম : ইশাল, ইংরেজি বানান : Eshaal, অর্থ : জান্নাতের একটি ফুলের নাম ইশাল। এ শব্দটির মূল আরবি।

৪. বাংলা নাম : মারইয়াম, ইংরেজি বানান : Mariam, অর্থ : পবিত্র, সমুদ্রের তারকা। মূল শব্দটি আরবি। হজরত ঈসা (আ.)-এর মায়ের নাম ছিল হজরত মারইয়াম (আ.)।

৫. বাংলা নাম : আনাবিয়া, ইংরেজি বানান : Anabia, অর্থ : জান্নাতের একটি দরজার নাম, আল্লাহ মহানের দিকে ফিরে আসা। মূল শব্দটি আরবি।

৬. বাংলা নাম : হানিয়া, ইংরেজি বানান : Haniya, অর্থ : বিশ্রামের স্থান, সুখী অথবা খুশি। মূল শব্দটি আরবি।

৭. বাংলা নাম : শাজিয়াহ, ইংরেজি বানান : shazia, অর্থ : বিরল, দূর্লভ। সহজে পাওয়া যায় না এমন জিনিস বা বস্তু। মূল শব্দটি আরবি।

৮. বাংলা নাম : সাবা, ইংরেজি বানান : Saba, অর্থ : নরম বাতাস, ভোরের বাতাস, ভোর। মূল শব্দটি আরবি।

৯. বাংলা নাম : ইকরা, ইংরেজি বানান : Iqra, অর্থ : পড়ার আদেশ বা হুকুম, আবৃত্তি করা। মূল শব্দটি আরবি। পবিত্র কুরআনের প্রথম আয়াতের প্রথম শব্দ ইকরা।
১০. বাংলা নাম : হিবা, ইংরেজি বানান : Hiba, অর্থ : উপহার, পুরস্কার, উপঢৌকন। মূল শব্দটি আরবি।

সূত্র : ওয়াটসদ্যবেস্ট.কম

জাপানে পড়তে আসা এক বাংলাদেশী ভাই একদিন ফোনে বললো- ভাই, বড়ই লজ্জায় আছি। কেন ?

জাপানে পড়তে আসা এক বাংলাদেশী ভাই একদিন ফোনে বললো- ভাই, বড়ই লজ্জায় আছি।
কেন কি হয়েছে ?
ড্রইং ক্লাসে ড্রইং বক্স নিয়ে যাইনি।
তো?
জাপানী স্যার বড় একটা শিক্ষা দিয়েছেন।
কি করেছে?
আমার কাছে এসে উল্টা ক্ষমা চেয়েছেন। বলেছেন আজ যে ড্রইং বক্স নিয়ে আসতে হবে তা স্মরণ রাখার মত জোর দিয়ে আমাকে বুঝিয়ে বলতে পারেন নি। তাই সে দুঃখিত।
হুম।
আমি তো আর কোন দিন ড্রইং বক্স নিতে ভুলবো না, ভাই । আজ যদি সে আমাকে বকা দিত বা অন্য কোন শাস্তি দিত আমি কোন একটা মিথ্যা অজুহাত দিয়ে বাচার চেষ্টা করতাম।
জাপানী দল বিশ্বকাপে হেরে গেলেও জাপানী দর্শকরা গ্যালারী পরিষ্কার করে স্টেডিয়াম ত্যাগ করেন। এ কেমন কথা? এটা কি কোন পরাজয়ের ভাষা! হেরেছিস- রেফারীর গুষ্টি তুলে গালি দে- বলে দে পয়সা খেয়েছে। বিয়ারের ক্যান, কোকের ক্যান, চিনাবাদামের খোসা যা পাস ছুড়ে দে। দুই দিন হরতাল ডাক। অন্তত বুদ্বিজীবিদের ভাষায় এটা তো বলতে পারিস যে খেলোয়াড় নির্বাচন ঠিক হয়নি- সরকারের অথবা বিরোধী দলের হাত আছে।

দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে হেরে গিয়ে জাপানের সম্রাট হিরোহিতো আমেরিকার প্রতিনিধি ম্যাক আর্থারের কাছে গেলেন। প্রতীকি আইটেম হিসাবে নিয়ে গেলেন এক ব্যাগ চাল। হারাকিরি ভঙ্গিতে হাটু গেড়ে মাথা পেতে দিয়ে বললেন- আমার মাথা কেটে নেন আর এই চাল টুকু গ্রহণ করুন। আমার প্রজাদের রক্ষা করুন। ওরা ভাত পছন্দ করে। ওদের যেন ভাতের অভাব না হয়।
আরে ব্যাটা তুই যুদ্ধে হেরেছিস তোর আত্মীয় স্বজন নিয়ে পালিয়ে যা। তোর দেশের চারিদিকেই তো পানি। নৌপথে কিভাবে পালাতে হয় আমাদের ইতিহাস (লক্ষণ সেন) থেকে শিখে নে। কোরিয়া বা তাইওয়ান যা। ওখানকার মীরযাফরদের সাথে হাত মিলা। সেখান থেকে হুংকার দে।
সম্রাট হিরোহিতোর এই ক্যারেক্টার আমেরিকানদের পছন্দ হলো। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের কুখ্যাত মহানায়কদের মধ্যে কেবলমাত্র হিরোহিতোকে বিনা আঘাতে বাচিয়ে রাখা হলো।


২০১১ সালের ১১ই মার্চ। Tsunami র আগাম বার্তা শুনে এক ফিশারি কোম্পানীর মালিক সাতো সান প্রথমেই বাচাতে গেলেন তার কর্মচারীদের। হাতে সময় আছে মাত্র ৩০ মিনিট। প্রায়রিটি দিলেন বিদেশি (চাইনিজ) দের। একে একে সব কর্মচারীদের অফিস থেকে বের করে পাশের উচু টিলায় নিজ হাতে রেখে এলেন। সর্বশেষে গেলেন তার পরিবারের খোজ নিতে। ইতিমধ্যে Tsunami সাহেব এসে হাজির। সাতো সানকে চোখের সামনে কোলে তুলে ভাসিয়ে নিয়ে গেলেন। আজও খোজহীন হয়ে আছেন তার পরিবার। ইসস সাতো সান যদি রানা প্লাজার মালিকের সাথে একটা বার দেখা করার সুযোগ পেতেন ।
সাতো সান অমর হলেন চায়না তে। চাইনিজরা দেশে ফিরে গিয়ে শহরের চৌরাস্তায় উনার প্রতিকৃতি বানিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন।

নয় বছরের এক ছেলে। স্কুলে ক্লাস করছিল। Tsunami-র আগমনের কথা শুনে স্কুল কর্তৃপক্ষ সব ছাত্রদের তিন তলায় জড়ো করলো। তিন তলার বেলকনি থেকে দেখলো তার বাবা আসছে গাড়ি নিয়ে। গাড়িকে ধাওয়া করে আসছে ফোসফোসে পানির সৈন্য দল। গাড়ির স্পিড পানির স্পিডের কাছে হার মেনে গেলো। চোখের সামনে নাই হয়ে গেল বাবা। সৈকতের নিকটেই ছিল তাদের বাসা। মা আর ছোট ভাই ভেসে গেছে আরো আগে। পরিবারের সবাইকে হারিয়ে ছেলেটি আশ্রয় শিবিরে উঠলো। শিবিরের সবাই ক্ষুধায় আর শীতে কাপছে। ভলান্টিয়াররা রুটি বিলি করছেন। আশ্রিতরা লাইনে দাড়িয়ে আছেন। ছেলেটিও আছে। এক বিদেশী সাংবাদিক দেখলেন, যদ্দুর খাদ্য (রুটি) আছে তাতে লাইনের সবার হবেনা । ছেলেটির কপালে জুটবে না। সাংবাদিক সাহেব তার কোট পকেটে রাখা নিজের ভাগের রুটি দুটো ছেলেটিকে দিলেন। ছেলেটি ধন্যবাদ জানিয়ে রুটি গ্রহন করলো। তারপর যেখান থেকে রুটি ডিস্ট্রিবিউশন হচ্ছিল সেখানেই ফেরত দিয়ে আবার লাইনে এসে দাড়াল। সাংবাদিক সাহেব কৌতুহল ঢাকতে পারলেন না। ছেলেটিকে জিজ্ঞাস করলেন – এ কাজ কেন করলে খোকা? খোকা উত্তর দিল- বন্টন তো ওখান থেকে হচ্ছে। উনাদের হাতে থাকলে বন্টনে সমতা আসবে। তাছাড়া লাইনে আমার চেয়েও বেশী ক্ষুধার্ত লোক থাকতে পারে।
সহানুভুতিশীল হতে গিয়ে বন্টনে অসমতা এনেছেন- এই ভেবে সাংবাদিক সাহেবের পাপবোধ হলো। এই ছেলের কাছে কি বলে ক্ষমা চাইবেন ভাষা হারালেন।

যাদের জাপান সম্পর্কে ধারণা আছে তারা সবাই জানেন…যদি ট্রেনে বা বাসে কোন জিনিস হারিয়ে যায়, অনেকটা নিশ্চিন্তে থাকতে পারেন, ঐ জিনিস আপনি অক্ষত অবস্থায় ফেরত পাবেন। গভীর রাতে কোন ট্রাফিক নেই, কিন্তু পথচারী ঠিকই ট্রাফিক বাতি সবুজ না হওয়া পর্যন্ত পথ পার হচ্ছেন না। ট্রেনে বাসে টিকিট ফাকি দেয়ার হার (%) প্রায় শুন্যের কোঠায়। একবার ভুলে ঘরের দরজা লক না করে এক বাংলাদেশী দেশে গেলেন মাস খানেক পর এসে দেখেন, যেমন ঘর রেখে গেছেন, ঠিক তেমনই আছে।
এই শিক্ষা জাপানীরা কোথায় পায়?
সামাজিক শিক্ষা শুরু হয় কিন্ডারগার্টেন লেভেল থেকে। সর্বপ্রথম যে তিনটি শব্দ এদের শিখানো হয় তা হলো-
কননিচিওয়া (হ্যালো) – পরিচিত মানুষকে দেখা মাত্র হ্যালো বলবে।
আরিগাতোউ (ধন্যবাদ) – সমাজে বাস করতে হলে একে অপরকে উপকার করবে। তুমি যদি বিন্দুমাত্র কারো দ্বারা উপকৃত হও তাহলে ধন্যবাদ দিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবে।
গোমেননাসাই (দুঃখিত) – মানুষ মাত্রই ভুল করবে এবং সেই ভুলের জন্য ক্ষমা চাইবে।
এগুলো যে শুধু মুখস্ত করে শিখানো হয় তা না। বাস্তবে শিক্ষকরা প্রো-এক্টিভলি সুযোগ পেলেই ব্যবহার করবেন এবং করিয়ে ছাড়বেন।
সমাজে এই তিনটি শব্দের গুরুত্ব কত তা নিশ্চয়ই অনুধাবন করতে পারছেন। এই শিক্ষাটা এবং প্রাকটিস ওরা বাল্যকাল থেকে করতে শিখে। আমাদের রাজনীতিবিদরা বাল্যকালটা যদি কোন রকমে জাপানের কিন্ডারগার্টেনে কাটিয়ে আসতে পারতেন।
কিন্ডারগার্টেন থেকেই স্বনির্ভরতার ট্রেনিং দেয়া হয়। সমাজে মানুষ হিসাবে বসবাস করার জন্য যা দরকার – নিজের বই খাতা, খেলনা, বিছানা নিজে গোছানো; টয়লেট ব্যবহার, পরিষ্কার করা; নিজের খাবার নিজে খাওয়া, প্লেট গোছানো ইত্যাদি। প্রাইমারী স্কুল থেকে এরা নিজেরা দল বেধে স্কুলে যায়। দল ঠিক করে দেন স্কুল কর্তৃপক্ষ। ট্রাফিক আইন, বাস ট্রেনে চড়ার নিয়ম কানুন সবই শিখানো হয়। আপনার গাড়ি আছে, বাচ্চাকে স্কুলে দিয়ে আসবেন, উল্টা আপনাকে লজ্জা পেয়ে আসতে হবে।
ক্লাস সেভেন থেকে সাইকেল চালিয়ে স্কুলে যেতে পারবে। ক্লাসে কে ধনী, কে গরীব, কে প্রথম কে দ্বিতীয় এসব বৈষম্য যেন তৈরী না হয় তার জন্য যথেষ্ট সতর্ক থাকেন স্কুল কর্তৃপক্ষ। ক্লাসে রোল নং ১, মানে এই নয় যে একাডেমিক পারফরম্যান্স সবচেয়ে ভাল। রোল নং তৈরী হয় নামের বানানের ক্রমানুসারে।
বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগীতার সমস্ত আইটেম গুলো থাকে গ্রুপ পারফরম্যান্স দেখার জন্য – ইন্ডিভিজুয়েল নয়। সারা স্কুলের ছেলে মেয়েদের ভাগ করা হয় কয়েকটা টা গ্রুপে- সাদা দল, লাল দল, সবুজ দল ইত্যাদি। গ্রুপে কাজ করার ট্রেনিংটা পেয়ে যায় খেলাধুলা জাতীয় এক্টিভিটি থেকে। এই জন্যই হয়তো জাপানে বড় লিডার তৈরি হয়না কিন্তু গড়ে এরা সবার সেরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবার আগে ১২ বছর শিক্ষাটা সম্ভবত ইউনিভার্সেল। আমাদেরটা হলো ৫ +৫ +২ অর্থাৎ প্রাইমারী ৫ বছর, হাইস্কুল ৫ বছর তারপর কলেজ ২ বছর। জাপানে ৬+৩+৩। শতকরা ১০০ ভাগ শিশুই ৬ বছর বয়সে প্রাইমারী স্কুলে ভর্তি হয়। কারো বয়স জানতে হলে সিম্প্লি জিজ্ঞাস করুন কোন ক্লাসে পড়ে। তার সাথে ৫ যোগ করে ফেলুন।
১৮ বছর বয়সে এরা সমাজে অনেকটা প্রাপ্ত বয়স্ক-র স্ট্যাটাস পেয়ে যায়। এই স্ট্যাটাসে তারা ড্রাইভিং লাইসেন্স নিয়ে গাড়ি চালাতে পারে। ছেলেরা বিয়ে করতে পারে (মেয়েদের ক্ষেত্রে ১৬ বছর)। ২০ বছর বয়সে আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রাপ্ত বয়স্কে পা দেয় এবং ভোট দিতে পারে।
সংগ্রহিত

ছোট্ট বাবা আরাফাত, তোমার আসামিকে ছাড়িনি`

গত ১৮ ডিসেম্বর দয়াগঞ্জে ঘটে যায় একটি মর্মান্তিক ঘটনা। ভোরে সদরঘাট থেকে যাত্রাবাড়ীর উদ্দেশে আসতে থাকে শাহ আলম ও আকলিমা নামে এক দম্পতি। বড় ছেলের অসুখ তাই ডাক্তারের কাছে চেকআপ করাতে ঢাকায় আসা! কে জানতো তাদের এ আগমন মর্মস্পর্শী স্মৃতি হয়ে রবে জীবনে!

তাদের বহনকারী রিকশা দয়াগঞ্জ রেললাইন এলাকা অতিক্রম করার সময়, হঠাৎ কিছু বুঝে উঠার আগেই এক ছিনতাইকারী আকলিমা’র ব্যাগ ধরে হ্যাচকা টান মারে আর এতেই ভারসাম্য হারিয়ে আকলিমা তার নিজের আদরের ধন ০৫ মাসের আরাফাতসহ রিকশা থেকে পড়ে যান। গুরুতর আহত হয় আদরের সন্তান আরাফাত…! মুহূর্তেই তারা চলে যান ঢাকা মেডিকেলের উদ্দেশে!

কর্তব্যরত ডাক্তার আরাফাতকে মৃত ঘোষণা করেন। সংবাদ প্রাপ্তির পরপরই ওয়ারী বিভাগের ডিসি স্যার, এডিসি স্যার, এসিসহ সবাই ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।

মা আকলিমা’র চোখের পানি আমাদের প্রত্যেক পুলিশ হৃদয়কে বিগলিত করে ফেলে মুহূর্তেই। কোনোভাবে মেনে নিতে পারছিলাম না এ ঘটনা। ঘটনার পর থেকে শুরু হয় আমাদের ঝটিকা অভিযান।

এ ঘটনায় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল প্রমাণ সংগ্রহ করা। এত সকালে চাক্ষুষ সাক্ষী পাওয়া যাচ্ছিল না। ভিকটিমের বাবা মাও খুব বেশি তথ্য দিতে পারছিলেন না।

ভিকটিমের বাবা শুধু বলেছেন, তার সমান উচ্চতার, শ্যামবর্ণের, চিকন একটি ছেলে ঘটনা ঘটিয়েছে।

অন্যদিকে আকলিমা বলেছেন, আমি শুধু দেখেছি ০২টি কালো হাত! এ তথ্যের ওপর ভিত্তি করে আমরা আমাদের অভিযান চালাতে থাকি। দয়াগঞ্জের নিকটেই নামাপাড়া বস্তি তাই বস্তির আশপাশ ঘিরে আমাদের তৎপরতা চলতে থাকে। সময়ে সময়ে এলাকা পরিদর্শন ও লোকজনের সঙ্গে কথা বলতে বলতে আমাদের কাছে কিছু তথ্য চলে আসে, তদন্তের প্রয়োজনে সেটি খোলাসা করছি না।

প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে আমরা গত রাত ১টায় এ ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত পাষণ্ড রাজীবকে ওয়ারী বিভাগের দয়াগঞ্জ এলাকা থেকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হই! রাজীব একজন মাদকসেবী। আশপাশের বস্তিতেই তার বসবাস। শুধুমাত্র একটি ব্যাগের জন্য ৫ মাস বয়সী আরাফাতের জীবন নিয়ে নেয় এ পাষণ্ড।

আসামি রাজীব প্রাথমিক জবানবন্দিতে পুলিশের কাছে তার অপরাধের কথা স্বীকার করে নেয় এবং আজ ২৪ ডিসেম্বর বিজ্ঞ আদালতের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে।

শিশু আরাফাতকে মা আকলিমা’র কাছে ফিরিয়ে দিতে পারবো না, কিন্তু তার চোখের পানি আমাদেরও কাঁদিয়েছে। কয়েক রাত আমরা ঘুমাইনি শুধু এ পাষণ্ডকে আইনের আওতায় আনতে। ভিকটিমের বাবার ছোট্ট বর্ণনা, সিসিটিভি ফুটেজ থেকে প্রাপ্ত অংশ এবং সর্বোপরি একজন চাক্ষুষ সাক্ষী আমাদের এ অর্জনকে বেগবান করতে সহায়তা করে…কোথায় যাইনি আমরা শৌচাগার, ময়লার ড্রেন থেকে ধরে বিভিন্ন এলাকা ঘেঁষে আমরা ঘুরেছি, হেঁটেছি। এটা আমাদের দায় হলেও আমরা এ কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম ছোট্ট ফেরেশতা আরাফাতের আত্মার প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ নিবেদনে!!

ডিসি ওয়ারী স্যারের সার্বিক তত্ত্বাবধানে, এডিসি স্যারের সহায়তায়, সিনিয়র এসি ডেমরা’র নেতৃত্বে এসআই রেদোয়ান ও এসআই জনিসহ সর্বোপরি একটি পুরো টিম দিনরাত কাজ করে ওই অভিযান পরিচালনা করেন।

আরাফাত ছোট্ট বাবা আমার স্বর্গীয় পরিবেশে নিশ্চয়ই অনেক ভালো আছো!? তোমাকে হারিয়ে খুব ভালো আমরা ছিলাম না বাবা, তোমার আসামিকে ছাড়িনি বাবা। ওই পাষণ্ডের সর্বোচ্চ শাস্তি সুনিশ্চিত করেই আমরা থামবো বাবা।

 

আপনার মন্তব্য দিন

শেয়ার