গলায় কাঁটা ঢুকেছে? যা করতে পারেন

সাধারণত আমরা যখন খাই তখন গলার মধ্যে এক ধরনের তরুণাস্থি আছে যাকে আলজিহ্বা বা হিসেবেই আমরা চিনি সেটা খাদ্যকে শ্বাসনালীতে ঢুকতে বাধা দেয়। যখনই এই প্রক্রিয়ায় কোনো ব্যাঘাত ঘটে তখনই শ্বাসরুদ্ধ অবস্থার সৃষ্টি হয়। বড়দের চেয়ে শিশুরাই এ ধরনের ঘটনার শিকার বেশি। আর তাই শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মরে যাওয়ার ঘটনা শিশুদের মধ্যেই বেশি দেখা যায়।

উপসর্গগুলো
১. রোগী তার গলা পরিষ্কার করতে চেষ্টা করবেন এবং তিনি কথা বলতে পারবেন না।
২. রোগী খুবই অস্থির থাকেন এবং যন্ত্রণায় ছটফট করেন।
৩. ঠিকমতো শ্বাস নিতে না পারায় রোগী অনেক সময় মূর্ছা যায়।

জরুরি ভিত্তিতে যা করণীয়
১. অনেক সময় প্রচণ্ড জোরে কাশলে বস্তুটি গলা থেকে বের হয়ে যায়। আর যদি তা না হয় তাহলে এক হাতে পেঁচিয়ে ধরে তার মাথা নিচু করে অন্য হাতের গোড়া দিয়ে রোগীর দুই কাঁধের মাঝখানে শক্ত করে চাপড় মারুন।
২. যদি ওপরের প্রক্রিয়ায় কাজ না হয় তাহলে বসা অথবা দাঁড়ানো যেকোনো অবস্থায়ই পেটে চাপ দিন। যদি তার পরও শ্বাসনালী বন্ধ থাকে, আবারো রোগীর দুই কাঁধের মাঝখানে চাপড় দিন।
৩. যদি রোগীর শ্বাসনালী সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায় এবং তার মুখে মুখ লাগিয়ে ফুঁ দেয়ার পরও তার ফুসফুসে বাতাস না পৌঁছায় তাহলে আপনাকে বস্তুটিকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করতে হবে।
৪. যত দ্রুত সম্ভব রোগীকে হাসপাতালে নিতে হবে।

ডা: ওয়ানাইজা রহমান

লেখিকা : সহযোগী অধ্যাপিকা, ঢাকা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ।

ইমামের পেছনে নামাজ পড়লে কী কোনো সূরা পড়তে হবে?

ইমামের পেছনে নামাজ পড়লে কী কোনো সূরা পড়তে হবে? একজন ইমামের পেছনে নামাজ পড়ার সময় কী করণীয় আছে?
সর্বপ্রথম কী করতে হবে? নামাজে দাঁড়াতে কোনো দোয়া দুরুদ কী পড়তে হবে?

ইমাম সাহেব যখন সূরা পড়বেন তখন মুসল্লিরা কী করবে?

অনুগ্রহপূর্বক এই বিষয় পুরোপুরি জানাবেন। দেখা যাচ্ছে, ইমাম সাহেব নামাজ পড়াচ্ছেন, কিন্তু একজন মুসল্লি দুই রাকাআত /এক রাকাআত/ তিন রাকাআত / নামাজ পায়নি। তখন ওই মুসল্লীর করণীয় কী?

উত্তর:
ইমাম যখন নামাজে আওয়াজ দিয়ে কেরাত পড়েন তখন মোক্তাদির শুধু কেরাত শুনলে চলবে (ফজর, মাগরিব, এশার নামাজে)। আর নীরবে কেরাত শোনার সময় মোক্তাদি শুধু সূরা ফাতিহা আস্তে আস্তে পড়বেন। এরপর আর কোনো সূরা পড়তে হবে না।

নামাজের অন্য কাজ ইমামের মতই করবেন। তাকবির দিয়ে নামাজ শুরু করে ছানা পড়া, রুকু সিজদার দোয়া, তাশাহুদ, দুরুদশরীফসহ সকল কিছুই মোক্তাদির করতে হবে ইমামকে অনুসরণ করে। ইমামের আগে করা যাবে না।

জামাতে নামাজ পড়াকালীন কোনো রাকাআতের রুকুতে গিয়ে যদি এক তাসিবহ পরিমাণ সময় আপনি পান তাহলে ঐ রাকাআতকে এক রাকাআত হিসেবে ধরা হয়। অর্থাৎ- আপনি বাহির থেকে এসে দেখলেন ইমাম সাহেব রুকুতে গেছেন, আপনিও তার সাথে রুকুতে গিয়ে একবার তাসবিহ পাঠ করতে পারলেন। এরমধ্যে ইমাম রুকু থেকে দাঁড়িয়ে গেলেন। এতে আপনি পুরো এক রাকাআত পেয়ে গেলেন।

এখন আপনি যদি নামাজের প্রথম রাকাআত মিস করেন তাহলে ইমাম সালাম ফিরানো শেষ করার পর দাঁড়িয়ে এক রাকাআত নামাজ আদায় করবেন। এই এক রাকাআত নামাজে আপনি সূরা ফাতিহা ও অন্য সূরা বা আয়াত পড়বেন। রুকু করবেন, সিজদা করবেন এরপর বসে তাশাহুদ, দুরুদ ও দোয়া পড়ে সালামের মাধ্যমে নামাজ শেষ করবেন।

প্রথম দুই রাকাআত না পেলে আপনি দুই রাকাআত নামাজ ফাতিহা ও সূরা মিলিয়ে পড়বেন। আগের মতো রুকু সিজদা করবেন। দ্বিতীয় রাকাআতের সিজদার পর তাশাহুদ ইত্যাদি পড়ে নামাজ শেষ করবেন।

তিন রাকাআত নামাজ ছুটে গেলে:

প্রথম এক রাকাআত সূরা ফাতিহা ও অন্য সূরা মিলিয়ে রুকু করবেন। দুই সিজদার পর বসে যাবেন। এরপর তাশাহুদ পড়ে দ্বিতীয় রাকাআতের জন্য দাঁড়াবেন। পরে আবার সূরা ফাতিহা ও অন্য সূরা পড়ে রুকু করবেন। দুই সিজদাহ দিয়ে দাঁড়িয়ে যাবেন। এরপর শুধু সূরা ফাতিহা পড়ে আরো এক রাকাআত নামাজ পড়ে শেষ বৈঠকের মাধ্যমে নামাজ শেষ করবেন।

আর যদি চার রাকাআত নামাজ মিস করেন। অর্থাৎ- আপনি জামাতে শরিক হয়েছেন চার রাকাআতের রুকুর পর। এতে আপনি ইমামের সাথে জামাতে যুক্ত হলেন। কিন্তু চার রাকাআত নামাজ আপনার ছুটে গেছে।

এই অবস্থায় ইমাম সালাম ফিরানোর পর পুরো চার রাকাআত নামাজ আপনি পড়ে নিবেন। প্রথম দুই রাকাআতে সূরা ফাতিহা ও অন্য সূরা এবং শেষ দুই রাকাআতে শুধু সূরা ফাতিহা দিয়ে নামাজ পড়বেন।

মাগরিবের প্রথম দুই রাকাআত ছুটে গেলে করণীয়:
ইমাম নামাজ শেষ করলে আপনি দাঁড়িয়ে প্রথম এক রাকাআত সূরা ফাতিহা ও অন্য সূরা মিলিয়ে রুকু করবেন। এরপর দুই সিজদাহ করার পর দাঁড়িয়ে যাবেন না।

তাশাহুদ পড়ে তারপর দাঁড়াবেন এবং আবারো সূরা ফাতিহা ও অন্য সূরা মিলিয়ে পড়ে আরো এক রাকাআত নামাজ পড়বেন এবং শেষ বৈঠক দিয়ে নামাজ শেষ করবেন।

এখানে চার রাকাআত ওয়ালা নামাজের প্রথম দুই রাকাআত ছুটে যাওয়া নামাজ আদায় এবং তিন রাকাআত ওয়ালা (মাগরিব) নামাজের প্রথম দুই রাকাআত ছুটে যাওয়া নামাজ আদায়ের মধ্যে একটু পার্থক্য আছে।

মাগরিবের ছুটে যাওয়া দুই রাকাআতেই বৈঠক দিতে হয়। প্রথম রাকাআতের পর শুধু তাশাহুদ পরের রাকাআত শেষে শেষ বৈঠকে দিয়ে শেষ করতে হয়।

আপনার মন্তব্য দিন

শেয়ার