কোন বিয়ে বেশি সুখের হয়? প্রেমের নাকি পারিবারিক? যা বলছে গবেষণা

কোন বিয়ে বেশি সুখের হয়?

প্রেমের বিয়ে, নাকি পারিবারিকভাবে আয়োজিত সমন্ধের বিয়ে? এ নিয়ে নানা মত প্রচলিত আছে। তবে যুক্তরাজ্যের সাম্প্রতিক একটি গবেষণা বলছে, সমন্ধের বিয়েটা বেশি সুখের হয়। ১৫ হাজার মায়ের ওপর চালানো জরিপের ফলাফল থেকে এমন তথ্য মিলেছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ দৈনিক টেলিগ্রাফ।

যৌথভাবে গবেষণাটি করেছেন ম্যারেজ ফাউন্ডেশনের গবেষণা পরিচালক হ্যারি বেনসন ও লিংকন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক স্টিভ ম্যাককে। গবেষণা থেকে প্রাপ্ত ফলাফলের ভিত্তিতে তাঁদের দাবি, সমন্ধের বিয়েটা টেকসই ও সুখের হয়।

এ ব্যাপারে ব্রিটিশ পারিবারিক আদালতের সাবেক বিচারক ও ম্যারেজ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা স্যার পল কোলরিজ বলেন, প্রেমের বিয়ের ক্ষেত্রে ‘উপযুক্ত’ জীবনসঙ্গী খুঁজে বের করার ব্যাপার থাকে। যাঁকে পছন্দ করে বাকি জীবনটা একসঙ্গে কাটানোর চিন্তা করছেন, তিনি শেষ পর্যন্ত এমন থাকবেন তো? মনের ঘরে উঁকি দেয় এ প্রশ্ন। এ থেকে আসে আরও নানা বিষয়। সৃষ্টি করে মানসিক জটিলতার। তবে সমন্ধের বিয়েতে এই চাপটা থাকে না। কারণ, ধরেই নেওয়া হয় উপযুক্ত মানুষটির সঙ্গেই ঘর করার আয়োজন করে দিচ্ছে পরিবার।

এই গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশি ও পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত হিসেবে পরিচয় দেওয়া ৪৫ শতাংশ মা জানিয়েছেন যে তাঁরা বিবাহিত জীবনে খুবই সুখী। ৩৪ শতাংশ শ্বেতাঙ্গ মা এমন উত্তর দিয়েছেন। বাংলাদেশি ও পাকিস্তানিদের ৯৯ শতাংশ নিজেদের ধার্মিক হিসেবে উল্লেখ করেছে। আর শ্বেতাঙ্গ মায়েদের ৪৭ শতাংশ নিজেদের খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বী হিসেবে উল্লেখ করেছে।

ওই গবেষণায় দেখা গেছে, ধর্মীয় জীবনবোধের সঙ্গে বিবাহিত জীবনে সুখী হওয়ার একটা সম্পর্ক আছে। কারণ, খ্রিষ্টান ও ইসলাম ধর্মের অনুসারী মায়েদের মধ্যে যথাক্রমে ৪৫ শতাংশ ও ৪৩ শতাংশ নিজেদের অনেক সুখী বলে জানিয়েছে। মুসলমান নারীদের বেশির ভাগের সমন্ধের বিয়ে হয়েছে। তাঁরা বলেছেন যে তাঁরা বিবাহিত জীবনে সুখী। খ্রিষ্টান ধর্ম পালন করেন এমন মায়েদের মধ্যে যাদের সমন্ধের বিয়ে হয়েছে, সংসার নিয়ে তাঁরা সুখের কথাই জানালেন।

সমন্ধের বিয়ে বেশি সুখের হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে ম্যারেজ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা বলেন, এ ধরনের বিবাহবন্ধনে যাঁরা আবদ্ধ হন, তাঁরা কোনো ধরনের কৃত্রিমতা নিয়ে সম্পর্কে ঢোকেন না। পরস্পরের প্রতি অতি উচ্চাশা থাকে না। ফলে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে পরস্পরকে নতুন করে চেনাজানার মধ্য দিয়ে ভালো জীবনসঙ্গী হয়ে উঠতে পারেন তাঁরা।

দুই গবেষকের একজন হ্যারি বেনসন বলেন, দেওয়া-নেওয়ার ওপর সম্পর্কের সাফল্য নির্ভর করে। দুজন মানুষের মধ্যে দলগতভাবে কাজ করার ও পরস্পরের জন্য ছাড় দেওয়ার মানসিকতা সমন্ধের বিয়েকে সুখী করে তোলে।

হঠাৎ প্রেসার কমে গেলে কী করবেন?

হঠাৎ প্রেসার কমে যেতেই পারে৷ অতিরিক্ত পরিশ্রম, দুশ্চিন্তা, ভয় ও স্নায়ুর দুর্বলতা থেকে লো ব্লাড প্রেসার হতে পারে। সেক্ষেত্রে প্রেসার লো হলে মাথা ঘোরা, ক্লান্তি, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, বমি বমি ভাব, বুক ধড়ফড়, অবসাদ, দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যাওয়া এবং স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে অসুবিধা দেখা দেয়।

ফলে প্রেসার লো হলে বাড়িতেই প্রাথমিক কিছু পদক্ষেপ করা জরুরি৷

১) স্ট্রং কফি, হট চকোলেট এবং যে কোনো ক্যাফেইন সমৃদ্ধ পানীয় দ্রুত ব্লাড প্রেসার বাড়াতে সাহায্য করে। ফলে হঠাৎ করে লো প্রেসার দেখা দিলে এক কাপ কফি খেয়ে নিতে পারেন। তবে সব সময় লো প্রেসার হলে কোলা না খাওয়াই ভালো।

২) নুনে আছে সোডিয়াম যা রক্তচাপ বাড়ায়। তবে পানিতে বেশি নুন না দেওয়াই ভালো। সবচেয়ে ভালো হয়, এক গ্লাস পানিতে দুই চা-চামচ চিনি ও এক-দুই চা-চামচ নুন মিশিয়ে খেলে। তবে যাদের ডায়াবেটিস আছে, তাদের চিনি বর্জন করতে হবে।

৩) হাইপার টেনশনের ওষুধ হিসেবে প্রাচীনকাল থেকে ব্যবহৃত হয়ে আসছে কিশমিশ। এক-দুই কাপ কিশমিশ সারা রাত পানিতে ভিজিয়ে রাখুন।

সকালে খালি পেটে কিশমিশ ভেজানো পানি খেয়ে নিন। তাছাড়া ৫টি কাঠবাদাম ও ১৫ থেকে ২০টি চিনাবাদাম খেতে পারেন।
৪) ভিটামিন ‘সি’, ম্যাগনেশিয়াম, পটাশিয়াম ও প্যান্টোথেনিক উপাদান যা দ্রুত ব্লাড প্রেসার বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে মানসিক অবসাদও দূর করে। পুদিনাপাতা বেটে এতে মধু মিশিয়ে পান করলে কাজে দেবে৷

৫) আদিকাল থেকেই যষ্টিমধু বিভিন্ন রোগের মহৌষধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এক কাপ জলে এক টেবিল চামচ যষ্টিমধু দিয়ে পান করুন। এছাড়া দুধে মধু দিয়ে খেলেও উপকার পাবেন।

৬) বিটের রস হাই ও লো প্রেসার- উভয়টির জন্য সমান উপকারী। এটি রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে ভূমিকা রাখে। এভাবে এক সপ্তাহ খেলে উপকার পাবেন। সূত্র: ইন্টারনেট

মস্তিষ্ককে ধ্বংস করতে পারে যে খাবারগুলি

শরীরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল মস্তিষ্ক। গোটা শরীরকে এটি চালনা করে। তাই মস্তিষ্ককে সচল রাখা ও তাকে ক্ষুরধার করা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই এর সম্পর্কে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও জেনে রাখা প্রয়োজন। আপনার বয়স কত, বা আপনার বুদ্ধিমত্তার মান কেমন সেটা মস্তিষ্কের উৎকর্ষতা বাড়াতে বিচার্য নয়। শুধু চোখ-কান খোলা রেখে চারপাশের ঘটনা ও বিষয়গুলিকে বুঝতে হবে। তাতে জীবন অনেক সহজ হবে। মস্তিষ্ক নিয়ে যত গবেষণা হয়েছে, ততই বিজ্ঞানী ও দার্শনিকদের অবাক করে দিয়েছে পরতে পরতে এর মধ্যে লুকিয়ে থাকা রহস্য। মানুষের মস্তিষ্কই সম্ভবত একমাত্র বস্তু যার রহস্যের সমস্ত সমাধান আজ পর্যন্ত বের করে ওঠা যায়নি।

এখনকার দিনে প্যাকেটজাত খাবার ও দৈনন্দিন জীবনযাপন মস্তিষ্কের প্রভূত ক্ষতিসাধন করে তাকে দুর্বল করে দিচ্ছে। আর এর সবচেয়ে বড় শিকার ছোট ছেলেমেয়েরা। যেকোনও বয়সের মানুষই এখন ভুলে যাওয়া বা স্মৃতিভ্রমের অসুখে ভুগছেন। এছাড়া মস্তিষ্কের আরও বিরল ও জটিল রোগেও মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে নিজের অজান্তেই। সেজন্যই আমাদের সচেতন হতে হবে। কোন ধরনের খাবার আমাদের মস্তিষ্কের ক্ষতি করে তা জানতে হবে। এবং সেই খাবারগুলিকে নিজের ডায়েট থেকে দূরে রাখতে হবে। দেখে নিন, কোন কোন খাবার আপনার মস্তিষ্ককে ধ্বংস করতে পারে। জেনে নিয়ে এগুলি থেকে দূরে থাকুন।

জাঙ্ক ফুড কিছু জাঙ্ক ফুড মস্তিষ্কের রাসায়নিক গঠনকে বিগড়ে দিতে পারে। এর ফলে উদ্বেগ ও অবসাদ সহজেই আপনাকে গ্রাস করতে পারে।

চিনি জাতীয় খাবার দীর্ঘদিন ধরে চিনি জাতীয় খাবার বেশি খেলে তা আপনার স্মৃতিশক্তিতে ঘুণ ধরাবে। এছাড়া নার্ভের নানা সমস্যাও তৈরি হতে পারে। বেশি বয়সে মস্তিষ্কে উর্বরতাও কমিয়ে দেয় চিনি জাতীয় খাবার।

অ্যালকোহল মদ্যপান মস্তিষ্কে ধোঁয়াশা তৈরি করে। আপনার বুদ্ধিমত্তা কমিয়ে দেয়, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাকে কমিয়ে আপনার মধ্য়ে দ্বন্দ্ব তৈরি করে।

ট্রান্স ফ্যাট ট্রান্স ফ্যাট আপনাকে ধীর করে দেয়। এছাড়া আপনার রিফ্লেক্সও কমে যায়।

রিফাইন শস্য শস্যদানাও মস্তিষ্কে প্রভাব বিস্তার করতে পারে। বেশি রিফাইন শস্য খেলে এমন হতে পারে। এছাড়া এর ফলে তাড়াতাড়ি বয়সও বেড়ে যায়।

প্রক্রিয়াজাত খাবার প্রক্রিয়াজাত খাবার আমাদের স্নায়ুতন্ত্রকে আঘাত করে। দীর্ঘদিন ধরে প্রক্রিয়াজাত খাবার খেলে মস্তিষ্কের নানা রোগ হওয়ারও সম্ভাবনা তৈরি হয়।

নোনতা খাবার নোনতা খাবারও মনে রাখার ক্ষমতাকে অনেকটা কমিয়ে দেয় বলে মত বিশেষজ্ঞদের। এজন্যই নোনতা খাবারের প্রতি অনেকে আকর্ষণ বোধ করেন।

ভাজা খাবার বেশি ভাজা খাবার খেলে তা মস্তিষ্কে গভীর প্রভাব ফেলে। সেজন্য বাড়িতে অল্প কোনও ভাজা খাবার খেলেও বাইরের, বিশেষ করে রাস্তার ধারের দোকানের ভাজা খাবার একেবারেই এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন।

আপনার মন্তব্য দিন

শেয়ার