কবরের কঠিন আজাব থেকে মুক্তি পেতে মহানবী (সা.) এই দোয়াটি পড়তে বলেছেন !

আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কবরের কঠিন আজাব থেকে মুক্তি লাভের জন্য একটি দোয়া পাঠ করতে বলেছেন।

হজরত বারা বিন আজিব রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সঙ্গে জনৈক আনসারি সাহাবির জানাযায় শরীক হওয়ার জন্যে বের হলাম। তখনও কবরের খনন কাজ শেষ হয়নি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কিবলামুখী হয়ে বসে পড়লেন। আমরাও তাঁর চারপাশে বসে গেলাম।

তাঁর হাতে ছিল একটি কাঠি। তা দিয়ে তিনি মাটিতে খুঁচাতে ছিলেন এবং একবার আকাশের দিকে তাকাচ্ছিলেন আর একবার জমিনের দিকে মাথা অবনত করছিলেন। তিনবার তিনি দৃষ্টি উঁচু-নিচু করলেন। অতঃপর বললেন, ‘তোমরা আল্লাহর কাছে কবরের আজাব থেকে আশ্রয় চাও। কথাটি তিনি দু’বার অথবা তিনবার বললেন।

তারপর তিনি এ দোয়াটি করলেন-أَللَّهُمَّ إِنِّى أَعُوْذُبِكَ مِنْ عَذاَبِ الْقَبْرِ

উচ্চারণ: আল্লা-হুম্মা ইন্নি আউ-জুবিকা মিন আ’জা-বিল ক্ববরি। অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে কবরের আযাব থেকে আশ্রয় চাই।

‘রিয়া’ যে কারণে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের অন্তরায় !!

ইবাদত-বন্দেগি ও আমল হবে শুধুমাত্র আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য। দুনিয়ার কোনো স্বার্থসিদ্ধি বা মানুষকে দেখানোর জন্য বা কারও বাহবা পাওয়ার জন্য ইবাদত-বন্দেগি করলে আল্লাহ তাআলার দরবারে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। এ লোক দেখানো ইবাদত-বন্দেগিই হলো ‘রিয়া’।

‘রিয়া’ বা লোক দেখানো ইবাদত প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর যারা লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে তাদের ধনসম্পদ খরচ করে এবং আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস করে না (আল্লাহ তাদেরও ভালোবাসেন না) আর শয়তান কারও সঙ্গী হলে সে সঙ্গী কতই না মন্দ!’ (সুরা নিসা : আয়াত ৩৮)

উল্লেখিত আয়াতে আল্লাহ তাআলা দুই শ্রেণীর লোকের ব্যাপারে ইশারা প্রদান করেছেন। এক শ্রেণী হলো কৃপন; যারা আল্লাহর পথে ব্যয় করতে কৃপণতা করে। আর দ্বিতীয় শ্রেণির লোক হলো তারা, যারা লোক দেখানোর জন্য বা সুনাম অর্জনের জন্য ব্যয় করে; ইবাদত-বন্দেগির জন্য নয়। উভয় কাজই কাফেরদের অভ্যাসের বহিঃপ্রকাশ।

আল্লাহ তাআলার কাছে বান্দার ইবাদত-বন্দেগি কবুলের জন্য লোক দেখানো মানসিকতা পরিহার করা জরুরি। প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাদিসে কুদসিতে এ প্রসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ একটি হাদিস বর্ণনা করেন।

হজরত মাহমুদ ইবনে লাবিদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আমি তোমাদের ওপর যা ভয় করি তার মধ্যে সবচেয়ে ভয়ংকর হচ্ছে ‘শিরকে আসগর তথা ছোট শিরক’।

তারা (সাহাবায়েকেরাম) বলল, ‘হে আল্লাহর রাসুল! শিরকে আসগর কি? তিনি বললেন, ‘রিয়া’ (লোক দেখানো ইবাদত-বন্দেগি)।

যখন মানুষকে তাদের আমল তথা ইবাদত-বন্দেগির বিনিময় দেয়া হবে (তখন) আল্লাহ তাআলা কেয়ামতের দিন তাদেরকে (রিয়াকারীদের) বলবেন, ‘তোমরা তাদের কাছে যাও, যাদেরকে তোমরা দুনিয়াতে (ইবাদত-বন্দেগি করে) দেখাতে। দেখ তাদের কাছে থেকে (ইবাদতের) কোনো প্রতিদান পাও কিনা।’ (মুসনাদে আহমদ)

পরিশেষে…

কুরআনুল কারিমের উল্লেখিত আয়াত এবং হাদিসে কুদসির আলোকে বুঝা যায়, রিয়া তথা লোক দেখানো ইবাদত-বন্দেগি বা আমল আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জনে মারাত্মক বাধা।

প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লোক দেখানো ইবাদতকে ছোট শিরক হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। আর শিরক ছোট হোক আর বড় হোক শিরককারী কখনো আল্লাহর নেকট্য লাভ করতে পারে না।

প্রত্যেক মুসলমানের উচিত ছোট-বড় সব ধরনের শিরক থেকে বেঁচে থাকা। বিশেষ করে কাজ ভালো হোক আর মন্দ হোক তা যেন লোক দেখানোর জন্য না হয়।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে তাঁর নৈকট্য অর্জনে যথাযথভাবে হুকুম-আহকাম ও ইবাদত-বন্দেগি করার তাওফিক দান করুন। লোক দেখানো ইবাদত-বন্দেগি থেকে হেফাজত করুন। আমিন

আপনার মন্তব্য দিন

শেয়ার