ওযু ছাড়া কি কোরআন শরীফ পড়া যাবে? হাদিস ও কোরআনের আলোকে উত্তর জেনে নিন।

“যাহারা পূত-পবিত্র তাহারা ব্যতীত অন্য কেহ তাহা স্পর্শ করে না”। ___ সূরা ওয়াকিয়া ৫৬:৭৯। অজু ছাড়া কুরআন স্পর্শ করা যাবে কি যাবে না এ নিয়ে প্রচুর বিতর্ক হয়েছে, এখনো হচ্ছে। আসুন দেখে নেই সত্যিই অজু ছাড়া কুরআন স্পর্শ করা যাবে কি-না। আল কুরআনের যে আয়াতের মাধ্যমে প্রমাণিত হয় বলে বলা হচ্ছে যে, ‘অজু ছাড়া কুরআন স্পর্শ করা যাবে না’ সেটি সূরা ওয়াকিয়ার ৭৯নং আয়াত। এ আয়াতে আল্লাহ্‌ সুব্‌হানাহু ওয়া তাআ’লা বলেন, “যাহারা পূত-পবিত্র তাহারা ব্যতীত অন্য কেহ তাহা স্পর্শ করে না”। ___ সূরা ওয়াকিয়া ৫৬:৭৯। কুরআনের কোন একটি আয়াতকে বিছিন্নভাবে উপাস্থপন করা হলে অনেক সময় তা থেকে ভুল অর্থ বের হতে পারে। সূরা ওয়াকিয়ার ৭৯নং আয়াতের ক্ষেত্রে এমনটিই দেখা যাচ্ছে। অথচ সূরা ওয়াকিয়ার ৭৭-৮০ আয়াত পর্যন্ত দেখলে যে কেউ বুঝতে পারবে এখানে আল্লাহ্‌তাআ’লা কি বুঝাতে চেয়েছেন। আল্লাহ্‌তাআ’লা বলছেন, “নিশ্চয়ই ইহা সন্মানিত কুরআন, যাহা সুরক্ষিত আছে কিতাবে। যাহারা পূত-পবিত্র তাহারা ব্যতীত অন্য কেহ তাহা স্পর্শ করে না। ইহা জগতসমূহের প্রতি পালকের নিকট থেকে অবতীর্ণ”। ___ সূরা ওয়াকিয়া ৫৬:৭৭-৮০। ইব্‌নে কাসীর(র) এ আয়াতের তাফসীরে ‘মুতাহ্‌হারুন’ বলতে ‘নিষ্পাপ ফেরেশতা’ বলেছেন। মুফতি শফি(র) তাঁর তাফসীর গ্রন্থ মা’আরিফুল কুরআনে এ আয়াতের তাফসীরে লিখেছেন, ‘পাক-পবিত্র কারা? বিপুল সংখ্যক সাহাবী ও তাবেঈ তাফসীরবিদদগণের মতে এখানে ফেরেশ্‌তাগণকে বোঝানো হয়েছে, যারা পাপ ও হীন কাজকর্ম থেকে পবিত্র। হযরত আনাস, সায়ীদ ইব্‌ন জুবায়ের ও ইব্‌ন আব্বাস(রা) এই উক্তি করেছেন(কুরতুবী, ইব্‌ন কাসীর) ইমাম মালিক(র) ও এ উক্তিই পছন্দ করেছেন (কুরতুবী)’। আর পৃথিবীর কুরআন তো সুরক্ষিত নয়, যে কেউ যখন-তখন তা ধরতে ও পড়তে পারে। সূরা ওয়াকিয়ার ৭৯নং আয়াত যখন নাযিল হয় তখন কুরআন আজকের মত বই আকারে ছিল কি? ছিল না! যদি না থাকে তাহলে স্পর্শ করার প্রশ্ন অবান্তর। পবিত্রতা বলতে আমরা দুই প্রকার পবিত্রতার কথা বুঝি। একটি হচ্ছে বাহ্যিক নাপাকী থেকে পবিত্রতা অর্জন, আরেকটি হচ্ছে কুফুরী, শিরক থেকে পবিত্রতা অর্জন। যেমন আল্লাহ্তালা বলেন, <<>> “হে মু’মিনগণ! মুশরিকরা তো অপবিত্র; সুতরাং এই বৎসরের পর তাহারা যেন মসজিদুল হারামের নিকট না আসে।” ____ সূরা তাওবা ৯:২৮।

সন্তানকে নামাজের প্রতি আগ্রহী করে তোলার ১০টি কার্যকরী উপায় -জেনে নিন !

আমরা মুসলিম। আর এই কারণেই নামাজ আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আর এই নামাজের মাধ্যমেই আমরা নিজেদেরকে আল্লাহর সামনে পেশ করতে পারি। তাছাড়াও নামাজ হচ্ছে ইসলামের পাঁচ স্তম্ভের মাঝে দ্বিতীয় স্তম্ভ।

ইসলামের প্রথম স্তম্ভ হচ্ছে কালেমা শাহাদাত। সুতরাং আমারা আমাদের সন্তানদেরকে এই গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভটি আদায়ের প্রতি অনুপ্রেরণা দিতে পারি এবং তাদেরকে নামাজ পড়তে অভ্যস্ত করে তুলতে পারি। আমরা সবাই চাই তারা নিজেরাই নামাজ পড়তে শিখুক এবং দোয়া করতে শিখুক।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন…
এগুলো তারা বাবা-মার জন্য বাধ্য হয়ে করুক এটা কেউই চায় না। একজন সন্তানকে আগে বুঝতে হবে যে ‘ইবাদাত’ হচ্ছে আল্লাহর পক্ষ থেকে আরোপিত একটি বিষয় এটা ইচ্ছা বা স্বাধীনভাবে পালন করার কোন বিষয় নয়। নিম্নে এমন কিছু পথ উল্লেখ করছি যার মাধ্যমে আপনি আপনার সন্তানকে নামাজ পড়ার প্রতি উৎসাহিত করতে পারবেন।

১. উদাহরণের মাধ্যমে শেখানো : শিশু সন্তানরা সাধারণত মা-বাবার অনুকরণ করে থাকে। সুতরাং তাদেরকে দেখান যে আজান শুনার সাথে সাথে আপনি অজু করে নামাজের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। মুসলিম মা-বাবা হিসেবে আপনি আপনার সন্তানের কাছে প্রথম উদাহরণ। আপনি যদি সারা দিন ইবাদত-বন্দেগীকে অগ্রাধিকার দেন এবং এই ক্ষেত্রে কোন অলসতা বা অবহেলা না করেন তাহলেই আপনার সন্তান নামাজের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠবে। আপনি তাদেরকে বলতে পারেন, নামাজের সময় হয়ে গেছে এখন আমি আর দেরি করতে পারবো না।

২. ছোট থেকেই শুরু করুন : আমাদের নবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.) বলেছেন, তোমরা তোমাদের সন্তানদেরকে নামাজ শিক্ষা দাও, যখন তাদের বয়স থাকে সাত। আর যখন তারা দশ বছরে পৌঁছে যাবে তখন তোমারা তোমাদের সন্তানদেরকে নামাজের জন্য প্রহার করো। এবং তাদের বিছানা আলাদা করে দাও (আবু দাউদ) যদিও সাত বছর বয়সে শিশুরা নামাজ আদায় করতে বাধ্য নয় কিন্তু তারা সাত বছর থেকে নামাজে অভ্যস্ত হয়ে পড়লে, তরুণ হওয়ার পরেও নামাজের বিষয়ে অনাগ্রহী হবে না।

৩. সন্তানের জন্য নামাজের জায়গা নির্ধারণ করে দিন : আপনার বাসায় যদি জায়গা থাকে তাহলে নামাজের জন্য একটি রুমকে নির্দিষ্ট করে রাখুন। আর যদি অতিরিক্ত জায়গা না থাকে তাহলে অন্তত একটি রুমের এক কোণায় সামান্য জায়গা নামাজের জন্য নির্ধারণ করে রাখুন। যাতে করে আপনার সন্তান বুঝতে পারে নামাজ পড়া অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়। যার কারণে একটা নির্দিষ্ট জায়গা রাখা হয়েছে। আপনার সন্তানদেরকে শিক্ষা দিন যে, এটা শুধু নামাজের জন্য নির্ধারিত জায়গা। এই জায়গাকে সব সময় পরিষ্কার ও পবিত্র রাখতে হবে।

৪. সন্তানদের চাক্ষুষ বিষয়ের প্রতি গুরুত্ব দিন : ছোটরা চক্ষুষ বিষয় ও পুরস্কারের প্রতি বেশি আগ্রহী হয়ে থাকে। আপনার বাসায় ইসলামী ক্যালেন্ডার ঝুলিয়ে রাখুন। এটা আপনার সন্তানদের প্রার্থনা করতে উৎসাহিত করবে। কেননা ইসলামী ক্যালেন্ডারটি আপনার সন্তানের চাক্ষুষ অনুস্মারক হিসাবে কাজ করবে। আর প্রতিটি শুক্রবার তাকে স্মরণ করিয়ে দিন।

৫. টাইম ম্যানটেইন : যখন আপনার সন্তানের বয়স সাত হয়ে যাবে তখন তাদেরকে নামাজের সময় শিক্ষা দিন। তাদের জীবনের এই নতুন অধ্যায়কে উৎসাহিত করার জন্য আপনার সন্তানের বন্ধুদের বাসায় আমন্ত্রণ জানান এবং তাদেরকে হিজাব, তাজবিহ অথবা আজান দেয় এমন এলার্ম ঘড়ি প্রদান করুন যাতে করে তারা নামাজ আদায় করতে পারে।

৬. আল্লাহ সম্পর্কে তাদেরকে শিক্ষা দিন : আল্লাহর বিষয়টি বোঝা ছাড়া, প্রার্থনা শুধু একটি অনুষ্ঠান হয়ে উঠবে এবং পালনকর্তার সাথে আধ্যাত্মিক এবং মানসিক সংযোগের অভাব হয়ে পরবে। শৈশব থেকে, আপনার সন্তানদের আল্লাহর বিষয়ে শিক্ষা দিন। আল্লাহ কীভাবে কীভাবে সবকিছু তৈরি করেছেন। তাদেরকে কি কি দিয়েছেন এবং তাদেরকে কীভাবে রক্ষা করবেন ইত্যাদি বিষয়ে তাদের সাথে কথা বলুন। এর মাধ্যমে আপনার সন্তানদের অন্তরে আল্লাহর প্রতি এক গভীর ভালোবাসা তৈরি হবে।

৭. নবীদেরকে তাদের জন্য মডেল হিসাবে তুলে ধরুন : নবীদের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বাসায় কথা বলুন। তাদের জীবনী পাঠ করুন এবং তাদের সিরাত নিয়ে কথা বলুন। এটা আপনার জীবনে দৈনিক একটা রুটিন বানিয়ে নিন। নবীদেরকে তাদের সামনে মডেল হিসেবে তুলে ধরুন। তাহলে তারা তার মতো হতে চেষ্টা করবে। এবং তাদের মতো ইবাদত করতে চেষ্টা করবে।

৮. ছোট ধাপ : এটা একটা নাটকীয় পরিবর্তন হতে পারে, যে একদমই নামাজ পরে না সে প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ছে। তো শুরু হোক এই ছোট পরিবর্তন দিয়ে।

৯. অটুট থাকুক : আমরা সব সময়ই চাই আমাদের সন্তানরা নামাজকে ভালোবাসুক। কিন্তু এমন সময়ও আসবে যে, তারা অলসতা করবে এবং নামাজ পড়তে চাইবে না। মা-বাবা হিসেবে তাদের দায়িত্ব হবে তারা যেন সব সময়ই নামাজ পড়ে সেই ব্যবস্থা করা। বিশেষত তাদের বয়স যখন দশ বছর হয়ে যায়। তখন নামাজ ছেড়ে দেওয়া কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য হবে না। নামাজ পড়ার বিষয়টা অভ্যাসে পরিণত হয়ে গেলে কঠিন কিছু নয়।

১০. পারিবারিক সময় : নামাজ একটি ইতিবাচক মনোভাব, এটাকে উৎসাহিত করার একটি উপায় হচ্ছে এটি নিয়ে একটি যৌথ অনুশীলন করতে হবে। প্রতিদিন পরিবারিকভাবে কমপক্ষে একবার নামাজ পড়ার চেষ্টা করুন। আপনার সন্তান যদি আজান দিতে সক্ষম হয় তাহলে তাকে আজান দেওয়ার দায়িত্ব দিন। যদি সম্ভব হয় তাহলে শুক্রবারের নামাজে এবং ঈদের নামাজে আপনার সন্তানদের নিয়ে এক সাথে যান। একসঙ্গে নামাজ পড়ার বিষয়টা একটু ভিন্ন বিষয়। এতে নিজেদের মনোবল বৃদ্ধি পায়।

একদিন এক ছোট্ট ছেলে তার বাবাকে জিজ্ঞেস করলোঃ “বাবা, জীবনের মানে কি?”

বাবাঃ তুমি সুন্দর দেখতে এই পাথরটি বাজারে নিয়ে যাও। কেউ যদি দাম জিজ্ঞেস করে তবে তুমি কিছু না বলে শুধু দুটি আঙুল দেখাবে।

যথারীতি ছেলেটি পাথরটি নিয়ে বাজারে গেল, এক মহিলা বাজারে ছেলেটিকে পাথরের দাম জিজ্ঞেস করলো, ছেলেটি দুটি আঙুল দেখালে মহিলা তাকে দু’শত টাকা দাম দিতে চাইলো। ছেলেটি বাড়ী ফিরে তার বাবাকে ঘটনাটি বলল। তার বাবা তাকে পরদিন একই রকম আরেকটি পাথর নিয়ে যাদুঘরে নিয়ে যাতে বললেন, আর বলল কেউ দাম জিজ্ঞেস করলে দুটি আঙুল দেখাবে, ছেলেটি তাই করলো। যাদুঘরে এক ব্যক্তি পাথর টি ঘরে সাজিয়ে রাখবে বলে কিনতে চাইলে ছেলেটি দুটি আঙুল দেখালে লোকটি তাকে দু হাজার টাকা দাম দিতে চাইলো।

ছেলেটি বাড়ী ফিরে তার বাবাকে যাদুঘরে ঘটে যাওয়া ঘটনা শুনালো। বাবা ছেলেকে পরদিন একই রকম একটি পাথর নিয়ে রত্নপাথরের দোকানে যেতে বললেন আর কেউ দাম জিজ্ঞেস করলে কিছু না বলে দুটি আঙুল দেখাতে বললেন। যথারীতি ছেলেটি একটি রত্নপাথরের দোকানে গিয়ে পাথরটি দেখালে দোকানী দাম জিজ্ঞেস করলো, ছেলেটি কিছু না বলে দুটি আঙুল দেখালে দোকানী তাকে দু লাখ টাকা দাম দিতে চাইলো। ছেলেটি দৌড়ে বাড়ী ফিরে তার বাবাকে অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলোঃ একই পাথর বাজারে দু’শত টাকা, যাদুঘরে দু’হাজার টাকা আর রত্নপাথরের দোকানে দু’লাখ টাকা দিতে চাইলো কেন? বাবা বললেনঃ দেখ বাবা, প্রতিটি মানুষের ভেতরে কিছু সুপ্তপ্রতিভা আছে, সে দেশেরই হোক, যে রঙের হোক। মানুষকে মহত্বের সাথে মূল্যায়ন করতে হয়।
ছেলেটিকে তার বাবা যে পাথরটি দিয়েছিলেন সেটি হীরের টুকরো ছিলো। প্রতিটি মানুষের মাঝে দামী হীরে লুকায়িত আছে। শুধু তাকে সঠিক স্থানে, সঠিক পাত্রে ব্যবহার করা প্রয়োজন। শুধু প্রয়োজন মানুষের সাথে মহত্বের সাথে আচরণ করা। মানুষ খারাপ হয় পরিবেশ পরিস্থিতির কারনে। মানুষ খারাপ হয়ে জন্ম নেয় না।

আপনার মন্তব্য দিন

শেয়ার