অসহায় এক বাবার ঘটনা(আপনাদের কাছে শুধুই শেয়ার চাই

প্রতিদিন রাত ১০ টায় গার্মেন্টস ছুটি হলে ওকে আমি ওর বাসায় পৌছে দেই এভাবে কেটে যায় ৬ মাস তারপর আমি তাকে একদিন বিয়ের পস্তাব দিলে ও মুচকি হেসে ওর বড় আপুর সাথে আমাকে কথা বলতে বলে, তাই একদিন ছুটির দিন আমি ওর বড় আপুর সাথে কথা বল্লে তিনিও আমাকে পছন্দ করেন এবং আগামি শুক্রবার বিয়ের দিন ঠিক করেন,

আমিও ব্যাস্ত হয়ে পরি বিয়ের আয়োজন করতে, মহাজনের কাছে গিয়ে ৫০০০ টাকা ধার করে মটামুটি ছোটখাটো
ধুমধাম করেই শেষ হয় আমাদের বিয়ে, রাবেয়া বউ হয়ে আসে আমার কুড়ে ঘরে, তারপর থেকে টেনে টুনে মোটামুটি সুখেই কাটছিলো আমাদের দিনগুলো,, একদিন আমার রিক্সা চালিয়ে ঘরে ফিরতে একটু রাত হয়ে গেলো, ফিরতেই রাবেয়া দৌড়ে এসে আমাকে জাপটে ধরলো, কি ব্যাপার? কি হইছে রাবু?

রাবেয়া আমার কানে কানে বল্লো সে মা হতে চলেছে, আমি খুশিতে আত্ব্যহারা হয়ে ওকে কোলে তুলে নাচতে লাগলাম পাসের ঘরের ভাবি আমার পাগলামো দেখে হাসতে শুরু করলেন তা দেখে আমি আর রাবেয়া দুজনেই লজ্জা পেয়ে গেলাম,, তারপর রাবেয়ার ডেলিভারির সময় ঘনিয়ে এলে আমি চিন্তিত হয়ে পরি অনেক টাকার দরকার,

আমি দিনরাত রিক্সা নিয়ে ব্যাস্ত হয়ে পরি টাকা যোগানোর জন্যো,আজকে রাবেয়ার ডেলিভারি হবে ডাক্তার বলেছে সিজার করতে হবে অনেক টাকা লাগবে তাই ভোরের আযানের সাথেই রিকিসা নিয়ে ভের হই, টাকা যোগারের জন্যো, এক পথিক আমায় ডাকলো এই রিক্সা যাবে? কোথায় জাবেন সার? ধনমন্ডি? যাবো ১০০ টাকা লাগবে, কেনো এতো কেনো? আজকে আমার বউয়ের ডেরিভারি হবে টাকা লাগবে অনেক স্যার, তাই???

আচ্ছা আমি তোমাকে ২০০ টাকাই দেবো তবে তারাতারি যেতে হবে বলেই ভদ্রলোক আমার রিক্সায় উঠে বসলেন, কিছুদুর যাওয়ার পর ঠটাৎ ভদ্রলোকটি লাফিয়ে রিকসা থেকে নেমে পালিয়ে গেলেন, পেছনে ঘুরে তাকাতেই পুলিশ এসে আমাকে বেধড়ক পেটাতে লাগলেন,

কিছু বুঝে উঠার আগেই আমার হাতে হাত কড়া লাগিয়ে থানায় নিয়ে বল্লেন আমার রিক্সায় অবৈধ অস্র পাওয়া গেছে তাই আমাকে চালান করে দিল কোর্টে আমার চিৎকার আর আকুতি কেউ শুনলো না, আজ পাচ বছর হলো আমি জেলখানায় নিরঅপরাধ হয়ে বিনা বিচারে জেল খাটছি ৭ বছরের সাজা হলো আমার,

শুনেছি আমার এ কথা শুনে কষ্টে রাবেয়ার ডেলিভারির সময় রাবেয়া আমাকে ছেড়ে চিরদিনের মতো চলেগেছে ওপারে শান্তির নিবাশে, আল্লার কাছে, তবে স্মৃতি হিসাবে রেখেগিয়েছিলো একটি কন্যা সন্তান, পাশের বাড়ির ভাবিই তাকে পাচটি বছর লালন পালন করেছে, আজ আমার মেয়েটি আমাকে জেলখানায় দেখতে এসেছিল ওর নিজের হাতে আমাকে খাইয়ে দিচ্ছিল তখন আমি চিৎকার করে বলেছিলাম আমার মেয়ের কাছে আমি আজো সেই নিষ্পাপ পিতা।

এত পরিমাণে শেয়ার করুন যাতে করে প্রশাসনের নজরে আসে। আর কোনো রাবেয়াকে যাতে অকালে প্রাণ হারাতে না হয়, এতিম হতে না হয় আর কোনো অবুজ শিশুকে।

মাটি কেটে সন্তানকে ডাক্তার বানাচ্ছেন মা’ এমন একটি সংবাদ প্রকাশ হয় দেশের অন্যতম শীর্ষ অনলাইন নিউজপোর্টালে। এরপর দেশজুড়ে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ফলে সংবাদটি স্থান করে নেয় বিদেশেও। এরপর দেশ-বিদেশ থেকে অসংখ্য হৃদয়বান ব্যক্তি লেখাপড়াসহ সার্বিক সহযোগিতার প্রস্তাব দেন মায়ের সেই সন্তানকে।

ওই নিউজের পরিপ্রেক্ষিতে অনেকে ফেসবুকে বিরূপ মন্তব্যও করেছিলেন। লিখেছিলেন, ‘মা যে সন্তানের জন্য এত কিছু করছে শেষ পর্যন্ত সন্তান মাকে দেখবে তো’। আরো অনেক মন্তব্য। তবে এসবের সাবলীল জবাব দিয়েছেন সন্তান রিপন বিশ্বাস।

যখন থেকেই গ্রীণলাইফে ভর্তি হয়েছেন কলেজের যেকোনো অনুষ্ঠান হলেই মাকে সবার সামনের আসনে বসান এবং কখনো নিজের পরিচয় দিতে কৃপণতা করেননি যে তিনি গরিব ঘরের সন্তান। গর্বের সঙ্গে তিনি তার মাকে পরিচয় করে দেন তার বন্ধুদের সঙ্গে।

সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আর এতে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন অনেক হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান। গণমাধ্যমে সংবাদও প্রকাশ হয়েছে ভর্তির টাকা জোগাড় করতে পারছে না অনেক ছাত্রছাত্রীর পরিবার। এসব সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পর এগিয়ে এসেছেন দেশের অসংখ্য হৃদয়বান। তারা আর্থিক সহযোগিতা করায় ভর্তির সুযোগ হয়েছে তাদের।

সাহায্যকারী এসব মানুষের কৃতজ্ঞতা কি মনে থাকবে হতদরিদ্র পরিবারের ওই সন্তানদের? নাকি পড়ালেখার ব্যবস্থায় ভুলে যাবেন তারা। সাধারণ মানুষের এসব উদারতা থেকে কি কোনো শিক্ষা নেবেন তারা? এমন প্রশ্ন জন্মতেই পারে যে কারো মনে।

এসব বিষয় নিয়ে কথা হয় মানিকগঞ্জের সেই মায়ের সন্তান রিপন বিশ্বাসের সঙ্গে। যিনি অসংখ্য মানুষের সহযোগিতায় রাজধানীর গ্রীণলাইফ হাসপাতালে ডাক্তারি পড়ছেন। মনে রেখেছেন ওইসব মানুষকে, যারা সাহায্য করেছেন তাকে। আর এজন্য প্রতিনিয়ত শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন ওই মানুষগুলো। সেই হৃদয়বান মানুষগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে রিপন লিখেছেন, ‘তার গায়ের চামড়া দিয়ে তাদের জুতো বানিয়ে দিলেও ঋণ পরিশোধ হবে না।’

পাঠকের জন্য রিপন বিশ্বাসের সেই লেখাটি হুবহু প্রকাশ করা হলো।

“আমি মো. রিপন বিশ্বাস। বর্তমানে আমি গ্রীণলাইফ মেডিকেল কলেজের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী। এই পর্যায়ে আসতে পারবো তা কখনো আমি কল্পনাও করিনি। কিন্তু ধৈর্য, সততা আর ভাগ্য আমাকে নিয়ে এসেছে। আমি অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের সন্তান। কিন্তু পরিশ্রম আর ভাগ্য আমাকে আমার স্বপ্নের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে এসেছে। এক সময় পড়াশুনার খরচ চালানোর জন্য অনেক মানুষের সাহায্য পেয়েছি। তারা আমার কাছে ভগবানতুল্য।

পাঁচ বছর বয়সে আমার বাবা মারা যান। তারপরও বাবার মতো আদর ভালোবাসা দিয়ে যিনি আমাকে সাহায্য করেছেন, তিনি আমার আদর্শ, যার ঋণ আমার গায়ের চামড়া দিয়ে জুতা বানিয়ে দিলেও শোধ করা সম্ভব নয়। তিনি হলেন প্রথম আলোর সাংবাদিক অরূপ রায়।

আমি পড়াশুনা সম্পর্কে যখন বুঝতে শিখেছি তখন আমার বয়স ছিল ১০ বছর। সবকিছু মিলিয়ে আমি অথৈ সমুদ্রে পড়ে গিয়েছিলাম। মেডিকেলে পড়া তো কখনো ভাবতেও পারিনি। আর তাই যারা মেডিকেলে পড়তে ইচ্ছুক তাদের সার্বিক নির্দেশনার জন্য নিজেই প্রতিষ্ঠা করেছি ‘আরবিসি একাডেমি’ যেখানে একজন মেডিকেল ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী তার সঠিক নির্দেশনা পাবে।

তাছাড়াও আমাকে আরো যারা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন তাদের কথা আমি কোনো দিনও ভুলতে পারবো না। তাদের কাছে আমি চিরঋণী। তারা হলেন- অ্যাডভোকেট চাঁন মিয়া, প্রফেসর মাহফুজা খানম, ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ (আইনমন্ত্রী), ডা. আ ফ ম রুহুল হক (স্বাস্থ্যমন্ত্রী) ও এ বি এম. আনোয়ারুল হক (সাবেক সংসদ সদস্য মানিকগঞ্জ-১), ইঞ্জিনিয়ার সাইফুল ইসলাম (এডুকেশন ফর অল), মিসেস বি. দাস (জোবেদা রহমান স্টাইপেন্ড ফান্ড), অ্যাডভোকেট আব্দুর রাজ্জাক (জজকোর্ট মানিকগঞ্জ), সাখাওয়াত স্যার, লিপি ম্যাডাম (সাংবাদিক প্রথম আলো), বি.এম. খোরশেদ (সাংবাদিক জাগোনিউজ), আখতারুজ্জামান মাসুদ (ইউপি চেয়ারম্যান) ও রঞ্জিত সরকার, ডা. খালেদা বেগম (সভাপতি, বঙ্গবন্ধু মহিলা পরিষদ)। এছাড়াও আমার ভর্তির পরে মেডিকেল কলেজের শিক্ষকবৃন্দ ও বন্ধুবান্ধব।

এক সময় আমি সবার কাছ থেকে সাহায্য নিয়ে আজ এ পর্যন্ত এসেছি। যারা আমাকে আমার স্বপ্ন পূরণের সময় সাহায্য করেছেন হয়তো তারা আমার কাছে বিনিময়ে কিছুই চায় না। কিন্তু তাদের আদর্শ বুকে নিয়ে আমি অন্য মানুষের পাশে দাঁড়াবো। সবকিছু ঠিক থাকলে পাস করার অল্প কিছুদিনের মধ্যেই আমার মায়ের নামে একটা হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করবো। যেখান থেকে গরিব ও দুস্থ মানুষ বিনা পয়সায় সেবা পাবেন। পূরণ হবে মায়ের স্বপ্ন।”-জাগো নিউজ

সময় নিয়ে পুরোটা একবার হলেও পড়বেন, এক রাজার এক চাকর ছিল

এক রাজার এক চাকর ছিল। চাকরটা সবসময় যেকোন অবস্থাতেই রাজাকে বলত, “রাজা মশাই, কখনো মন খারাপ করবেন না। কেননা আল্লাহ যা করেন তার সবকিছুই নিখুঁত ও সঠিক।”
একবার রাজা সেই চাকর সহ শিকারে যেয়ে নিজেরাই এক হিংস্র প্রাণীর আক্রমণের শিকার হলো।রাজার চাকর সেই প্রাণীকে মারতে পারলেও, ততক্ষণে রাজা তার একটা আঙুল হারান। রাগে- যন্ত্রণায়-ক্ষোভে রাজা ক্ষিপ্ত হয়ে চাকরের উদ্দেশ্য করে বলেন “আল্লাহ যদি ভালোই হবেন তাহলে আজকে শিকারে এসে আমার আঙুল হারাতে হতো না।”
চাকর বলল, “এতকিছুর পরও আমি শুধু আপনাকে এটাই বলব আল্লাহ সবসময়ই ভালো ও সঠিক কাজই করেন; কোনো ভুল করেন না।

চাকরের এই কথায় আরও বিরক্ত হয়ে রাজা তাকে জেলে পাঠানোর হুকুম দিলেন।

এরপর একদিন রাজা আবার শিকারে বের হলেন। এবার তিনি একদল বন্য মানুষের হাতে বন্দি হলেন। এরা তাদের দেবদেবির উদ্দেশ্যে মানুষকে বলি দিত।
রাজা কে বলি দিতে যেয়ে তারা দেখল যে, রাজার একটা আঙুল নেই। তারা এমন বিকলাঙ্গ কাউকে তাদের দেবতার উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করতে রাজি হলো না। তাই তারা রাজাকে ছেড়ে দিল।প্রাসাদে ফিরে এসে তিনি তার সেই পুরোনো চাকরকে মুক্ত করে দেওয়ার হুকুম দিলেন।
চাকরকে এনে বললেন, আল্লাহ আসলেই ভালো। আমি আজ প্রমাণ পেয়েছি তার, আমি আজ প্রায় মরতেই বসেছিলাম। কিন্তু আঙুল না থাকার কারণে প্রাণ নিয়ে ফিরে আসতে পেরেছি।

“তবে আমার একটা প্রশ্ন আছে। আল্লাহ ভালো, এটা তো বুঝলাম। কিন্তু তাহলে তিনি আমাকে দিয়ে তোমাকে জেলে পুরলেন কেন?” চাকর বলল, “রাজামশাই, আমি যদি আজ আপনার সাথে থাকতাম, তাহলে আপনার বদলে আজ আমি কোরবান হয়ে যেতাম।
আপনার আঙুল ছিল না, কিন্তু আমার তো ছিল। কাজেই আল্লাহ যা করেন সেটাই সঠিক, তিনি কখনো কোনো ভুল করেন না।
গল্পের শিক্ষাঃ- সব কিছুর ইতিবাচক, নেতিবাচক দুই দিক থাকে। কখনো নিরাশ হবেন না, যদি কোন কিছুতে সফলতা না পান তবে ইতিবাচক চিন্তা করুন। সফল না হওয়ার কারণে কি ক্ষতি হয়েছে তা নিয়ে না ভেবে কি লাভ হয়েছে তা দেখুন।
ভালো লাগলে এড দিয়ে সাথে থাকুন……!!

আপনার মন্তব্য দিন

শেয়ার