অভিনব কায়দায় অ্যামাজনকে বোকা বানালো স্বামী-স্ত্রী, আজকাল বাংলাদেশেও চলে এই ধরনের প্রতারনা!

বিশ্বখ্যাত অনলাইন শপিং প্রতিষ্ঠান অ্যামাজন থেকে ১২ লাখ ডলারের বেশি মূল্যের পণ্য চুরি করেছে বলে স্বীকার করেছে আমেরিকার এক দম্পতি। তারা যে পণ্যগুলো অর্ডার করেছিলো সেগুলো ভাঙ্গা কিংবা নষ্ট ছিল বলে বারবার দাবি করে এই কাজ করেছেন তারা। আজকাল বাংলাদেশেও ক্রেতা এই ধনের ভুয়া ক্লেইম করে সমস্যা সৃষ্টি করছেন বিক্রেতাদের। আবার এমন ও হচ্ছে ভুয়া অর্ডার করে ফোন অফ করে দিচ্ছে, ডেলিভারি ম্যান পণ্য নিয়ে ঘুরছে বা ছিনতাই করে নিয়ে যাচ্ছে বড় অংকের টাকা বা পণ্য। অনেকেই আজ নিবে কাল নিবে বলে কোম্পানি গুলিকে করে ফেলে দিশে হারা। পণ্য অর্ডার করে অগ্রিম না করে দিনের পর দিন বিক্রেতাদের হয়রানি করছেন ক্রেতারা। অন্যদিকে সাময়িক ভুয়া অনলাইন বিক্রেতাগণ নকল বা বাজে বা মানহীন পণ্য কম বা বেশি দামে ক্রেতাকে ধরিয়ে দিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে টাকা। রিপ্লিকা মোবাইলের নামে চলছে নকল ফোনের রমরমা বাণিজ্য।
ইন্ডিয়ানা রাজ্যের বাসিন্দা এরিন জোসেফ ফিন্যান (৩৮) এবং লিয়া জেনেত্তি ফিন্যান (৩৭) দম্পতি প্রতারণা এবং অর্থ পাচারের অপরাধ স্বীকার করেছে। এ দম্পতির ৫ লক্ষ মার্কিন ডলার জরিমানা এবং সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। আগামী ৯ নভেম্বর এ রায় ঘোষণা করা হবে। অনলাইনের নিরাপত্তায় বাংলাদেশে এখনো শক্ত কোন আইন পাশ করা হয় নি। যে সব আইন আছে তার প্রয়োগ দেখা যাচ্ছে না। তাই এক শ্রেণীর লোভী মানুষ এই সেক্টরে গড়ে তুলেছে রমরমা বাণিজ্য। যা ভবিষ্যতের অনলাইন সেক্টরের জন্য মারাত্মক হুমকি।
ইন্ডিয়ানা রাজ্যের স্থানীয় একটি সংবাদপত্র বলছে, ফিন্যান দম্পতি অনলাইনে শত শত ভুয়া অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের মাধ্যমে অ্যামাজন থেকে অনলাইনে পণ্য ক্রয়ের অর্ডার দিয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক সামগ্রী যেমন স্যামসাং স্মার্ট ওয়াচ, গোপ্রো ক্যামেরা, এক্সবক্স ভিডিও গেম কনসোল ইত্যাদি। এমন আমাদের দেশে চলতে থাকলে ‘ক্যাশ অন ডেলিভারি’ বন্ধ হয়ে যাবে অদূর ভবিষ্যতে। বর্তমানে ৭০% কোম্পানি পরিবহনে পণ্য পাঠাতে ১০০ টাকা বা মোট বিলের ১০% অগ্রিম বিকাশ বা অন্য কোন মাধ্যমে পেমেন্ট না নিয়ে পণ্য পাঠান না।
এরিন জোসেফ ফিন্যান (৩৮) এবং লিয়া জেনেত্তি ফিন্যান (৩৭) দম্পতি অর্ডার করা পণ্যগুলো হাতে পাওয়ার পর তারা অ্যামাজনের কাস্টমার সার্ভিস বিভাগে যোগাযোগ করে জানায় যে পাঠানো গেজেটগুলো ভাঙ্গা বা কাজ করছে না। অ্যামাজনের নীতি অনুযায়ী তারপর ঐ পণ্যের পরিবর্তে আরেকটি বিনামূল্যে পাঠিয়ে দেয়। তারপর এই পণ্যগুলো ফিন্যান দম্পতি আরেকজনের কাছে বিক্রি করে, যিনি আবার এই পণ্যগুলো নিউইয়র্কের এক বেনামী প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করে। পরে মার্কিন ডাক বিভাগের অনুসন্ধান বিভাগ, ইন্ডিয়ানা রাজ্য পুলিশ এবং অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বিভাগের যৌথ তদন্তে এই দম্পতির জালিয়াতি ধরা পড়ে। এরপর সে দম্পতি তাদের সহযোগীকে গ্রেফতার করা হয়।
 বাংলাদেশে এই ধরনের সমস্যা মোকাবিলায় প্রয়োজন একটি শক্ত কাঠামো। না হয় ক্রেতা বিক্রেতা উভয় পক্ষের জন্য সর্বোপরি অনলাইন সেক্টরের জন্য খুব মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।

আপনার মন্তব্য দিন

শেয়ার