অন্ধ ছেলের জন্য ভিক্ষা করেন শতবর্ষী ফুলজান

সকালে নাস্তা করতে বসেছি পরিবারের সাথে এমন সময় দরজায় মৃদুস্বরে একটু আওয়াজ ভেসে এলো- ‘মাগো আমারে কিছু দিবাইন।’ দরজাটা একটু ফাঁক করে যা দেখলাম তাতে নিজের চোখেই বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। এক হাতে ব্যাগ আরেক হাতে একখানা লোহার দণ্ড (রড) নিয়ে দাঁড়িয়ে নুব্জ্যদেহে কাঁপছিল এক বৃদ্ধা।

পরিচয় জানতে চাইলে তার দু’চোখ বেয়ে আশ্রু ঝরতে লাগল। অনেক চেষ্টার পর তাকে কিছুটা শান্ত করতে পারলেও তাকে সান্ত্বনা দেয়ার ভাষা হারিয়ে ফেলছিলাম। বৃদ্ধার নাম ফুলজান বিবি। বয়স ১০৫-এর ওপরে। বাড়ি ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার বড়হিত ইউনিয়নের নওপাড়া গ্রামে।

প্রতিদিন ভোরে বাড়ি থেকে উপজেলা সদরে আসেন ভিক্ষে করতে। সারাদিন মানুষের কাছে হাত পেতে যা পান তা দিয়ে বাজার করে রাতে বাড়ি ফেরেন তিনি। বাড়ি থেকে বের না হলে চুলা জ্বলে না। বয়সের ভারে একেবারে কুঁজো হয়ে গেছেন। এলোমেলো স্মৃতির পাতায় সহজে কিছুই মনে করতে পারেন না।

কেন ভিক্ষা করেন- এমন প্রশ্নে বের হয়ে এলো বেদনাদায়ক আরেক গল্প। ফুলজানের স্বামী খজ আলী মারা গেছেন অনেক দিন আগে। এক ছেলে ইসব আলী (৬৫) ছিল ফুলজানের ভরসা। পরের জমিতে ধান কাটতে গিয়ে চোখে আঘাত পেয়ে দুই চোখ অন্ধ হয়ে গেছে ইসব আলীর। গত তিন বছর ধরে অন্ধ হয়ে ঘরে বসে দিনযাপন করছেন ইসব। দিনমজুর ইসব আলীর স্ত্রীও কয়েক বছর আগে মারা গেছেন। ইসব আলীর দুই ছেলে ও এক মেয়ে থাকলেও ওরা নিজেদের পেটের দায় মেটাতে বাড়িতে থাকেন না। মেয়েটি স্বামী পরিত্যক্তা হয়ে ঘরে ফিরেছেন। স্বামী পরিত্যক্তা ওই মেয়ের কাজের টাকায় যে সংসারের সব সামলাতে কষ্ট হয়। তাই ফুলজানকে বাধ্য হয়ে ভিক্ষা করেই জীবন চালাতে হয়।

ছেলে অন্ধ হওয়ার পর থেকে নিজের ও ছেলের জন্যে আহার যোগানোর একমাত্র পথ এখন এটাই। জীবনের ক্লান্তিলগ্নে এসেও ছেলে ও নিজের পেটের দায়ে ভিক্ষা করতে বাইরে বের হতে হয় শতবর্ষী ফুলজানকে।

ফুলজান বিবির জানান, তিনি এখন ঠিক মতো চোখে দেখতে পান না। হাঁটতেও অনেক কষ্ট হয়। তার পরেও প্রতিদিনি অন্তত ১০ কিলোমিটার পথ হাঁটেন তিনি। কিছু দূর গিয়ে বিশ্রাম নিতে হয়। নিজেদের কোনো সম্বল নেই। একমাত্র যে সম্বল ছিল সেই ছেলেও অন্ধ। তাদের দেখার মতো কেউ নেই। তিনি বয়স্ক ভাতা পান, তবে তা দিয়ে চলে না। তাই প্রতিদিন সকালে বাড়ি থেকে বের হন মানুষের দোয়ারে। ফুলজান বলেন, ‘বাইততে (বাড়ি থেকে) ভিক্ষা করতে বাইর না অইলে (বের না হলে) কি কাইয়াম (খাব কি)? বাইত আমার কানা পুতটা কি খাইব?( ঘরে অন্ধ ছেলে সে কী খাবে) মেলা কষ্ট অয় অহন আর সহ্য করতাম পারি না। আমার মরন নাই, (মৃত্যু নাই) মরলে যদি একটু জিরাইতারি (বিশ্রাম নিতে পারি)।’

বড়হিত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শাহ্ জালাল ফরাজী জানান, বৃদ্ধা বয়স্ক ভাতা পান তবে তা দিয়ে তার সংসার চলে না। তার সাথে দেখা হলে এমনিতেই কিছু সহযোগিতা করি। অন্ধ ছেলেটিও যাতে ভাতা পায় সে জন্য চেষ্টা করব।

পুকুর পাড়ে বাবাকে বেঁধে দালানে ঘুমান ছেলে-ছেলের বউ

পুকুর পাড়ে পাকা ঘরে শান্তিতে ঘুমান ছেলে ও ছেলের বউ। পুকুরের অন্য পাড়ে কাঁঠাল গাছের নিচে শিকলে বাঁধা অবস্থায় দিন কাটছে বাবা ইউনুস আলীর।

যশোরের মনিরামপুরের মাছনা গ্রামে রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে গত ৫ মাস ধরে এভাবেই দিনরাত পার করতে হচ্ছে এ বৃদ্ধ বাবার। ছেলে ইয়াকুব বিল্লাহ’র দাবি, বাবা মানসিক রোগী। অর্থাভাবে চিকিৎসা করাতে না পেরে গাছে বেঁধে রাখা হয়েছে।

তবে বাবা ইউনুস আলীর ভাষ্য, ছেলে ইয়াকুব, ছেলের বউ ও স্ত্রী আকলিমা তার কাছ থেকে টাকা নিয়ে তাকে এভাবে বেঁধে রেখেছেন। নিজের লাগানো গাছ বিক্রি করে দিয়েছেন। অথচ তার চিকিৎসা না করিয়ে এভাবে শিকল দিয়ে তালাবদ্ধ করে বেঁধে রেখেছেন।

এদিকে, প্রতিবেশীরা বিষয়টিকে নিদারুণ অমানবিক বলছেন। ইউনুস আলীকে চিকিৎসা করালে সুস্থ হয়ে উঠবেন বলে তাদের ধারণা।

সরেজমিনে মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে ওই গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, পুকুর পাড়ে কাঁঠাল গাছের নিচে সিমেন্টের কাগজের ওপর শুয়ে আছেন ইউনুস আলী। কাছে যেতেই উঠে বসলেন তিনি। নাম জিজ্ঞাসা করতেই বলেন, আমি ইউনুস আলী। বাবার নাম মৃত ফজলুর রহমান। আমাকে ৪/৫ মাস ধরে এখানে শিকল দিয়ে বেঁধে রেখেছে ছেলে ইয়াকুব বিল্লাহ, ছেলের বউ ও আমার স্ত্রী আকলিমা। আমাকে ঠিকমতো খেতেও দেন না তারা।

মাঝে মধ্যে ইউনুসের বৃদ্ধা মা রোকেয়া বেগম তাকে খাবার দিয়ে যান। ছেলে ইয়াকুব ও স্ত্রী আকলিমা তার কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন। নিজের লাগানো গাছ বিক্রি করে দিয়েছেন। অথচ তার চিকিৎসা না করিয়ে এভাবে শিকল দিয়ে তালাবদ্ধ করে বেঁধে রাখা হয়েছে বলে ইউনুস আলী এ প্রতিবেদকের কাছে অভিযোগ করেন। ইউনুস আলীর কথা শুনে মনে হয় তিনি মানসিক রোগী নয়।

এ সময় সেখানে উপস্থিত ইউনুসের প্রতিবেশী কওছার আলী বলেন, আট বছর আগে হঠাৎ ইউনুস আলী মানসিক ভারসাম্যহীন হলে তাকে পাবনা মানসিক হাসপাতালে নিয়ে যান পরিবারের লোকজন। কিন্তু ইউনুসের তেমন কিছু হয়নি জানিয়ে চিকিৎসকরা ওষুধ দিয়ে বাড়িতে নিয়ে যেতে বলেন। তারপর মাঝেমধ্যে অসুস্থ হন আবার চিকিৎসা দিলে সুস্থ হয়ে যান ইউনুস আলী।

প্রতিবেশী আব্দুল গণি বলেন, গেল বড় বৃষ্টি-কাদার মধ্যে ওই পুকুর পাড়েই শিকল দিয়ে বাঁধা অবস্থায় খেয়ে না-খেয়ে দিন-রাত কাটছে ইউনুস আলীর। অথচ কোনো চিকিৎসা করাচ্ছেন না ইউনুসের ছেলে ইয়াকুব।

এ বিষয়ে কথা হয় ইউনুস আলীর বৃদ্ধা মা রোকেয়া বেগমের সঙ্গে। তিনি বলেন, ছেলেকে এভাবে মাসের পর মাস গাছে বেঁধে রাখা হয়েছে। খেতেও দেয় না ইউনুসের ছেলে ও স্ত্রী। আমি মাঝে মধ্যে খাবার দিয়ে যাই।

ইয়াকুবের বাড়িতে গেলে পুত্রবধূ আসমা ছাড়া কাউকে পাওয়া যায়নি। তিনি দাবি করেন, তার শ্বশুরকে তারা খাবার দিলেও তিনি তা খান না। তাই ঠিকমতো খেতে দেন না।

এ সময় মুঠোফোনে ছেলে ইয়াকুব বিল্লাহ’র সঙ্গে কথা হলে তিনি দাবি করেন, বাবা মানসিক রোগী। টাকা পয়সার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছি না। তাই এভাবে বেঁধে রেখেছি।

এই বাচ্চা হইলো কেমনে? দশটা মিনিট স্টপ করাইতে পারছিলা না??

বিষয়টা হইলো সিজার ও নরমাল ডেলিভারি নিয়া! আপনি কখনও শুনছেন হলিউড বলিউডের কোনো নায়িকার সিজার কইরা বাচ্চা হইছে? আত্মীয় বন্ধু যারা ইউরোপ আমেরিকায় বউ নিয়া থাকে তাদের বউয়েরও সিজারে বাচ্চা হইছে শুনি নাই। ওদের বাচ্চা হইবার আগে গাইনি ডাক্তার আত্মা শুকানো ভয় দেখাইয়া বলে নাই পানি শুকায়া গেছে! নুচাল কর্ড (নার) প্যাঁচায়া গেছে! পজিশন উল্টায়া গেছে! বিশ্বের কোথাও দাঁড় করানো অজুহাতে পেট কাইট্টা বাচ্চা বের করেনা।

অনলি বাংলাদেশে বাচ্চা জন্ম দিতে গেলে গাইনি ডাক্তারদের হাজারও অজুহাত! আপনেরে এমুনসব ভয় দেখাইবো যে, অনাগত বাচ্চার সামনেই কাল্পনিক কাঠগড়ায় দাঁড় করায়া দিবো! কইবো এ মুহুর্তে সিজার না করলে বাচ্চা বাঁচানো যাবেনা। দায় দায়িত্ব আপনার! এছাড়াও ডেলিভারি পেইন নিয়া ক্লিনিকে যাইবেন তো দিবো একটা ইঞ্জেকশন হান্দাইয়া। ব্যাথা শেষ! এইবার এ অজুহাতেও পেট কাটো!!

এখন ত আবার গাইনিওয়ালারা অজুহাতও দেখায় না। ডাইরেক্ট বইলা দেয় আমি নরমাল ডেলিভারি করাই না! কী আজব দেশ রে ভাই! এত সিজার ডেলিভারি বিশ্বের আর কোনো দেশে হয় কি?? অনেক মায়েরাও কম যায় না! আগেই চুজ কইরা ফালায় সিজারে বাচ্চা নিবে। একটুও কষ্ট সহ্য করবে না! এটা আরেক ফ্যাশন, ইস্টাইল!!

আজব এই দেশ! জন্ম নিয়ন্ত্রণ, শিক্ষার হার, বৃক্ষ রোপন, টিকা দান, শিশুমৃত্যু হার রোধ এসব কিছুতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সবুজ মার্ক পাইলেও সিজার ডেলিভারি নিয়া লাল দাগ খাইয়া বইসা আছে অনেক বছর।সরকার কিন্তু স্পিকটি নট!!! স্বঘোষিত নরমাল ডেলিভারি না করনেওয়ালা গাইনি ডাক্তারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া ওয়াজিব হয়া গেছে।

এক বন্ধুর কাছে শুনলাম আমেরিকাতে নাকি বাইশ ঘন্টা ডেলিভারি পেইনের পরেও ডাক্তার সিজার করে নাই। সুস্থ বাচ্চা হইছিল, মাও সুস্থ ছিল।

আমার পরিচিত এক গাইনি ডাক্তার (MBBS, DGO) পঁচানব্বই ভাগ নরমাল ডেলিভারি করাইতো বিধায় কোনো ক্লিনিক তারে নিতে চায় না। এই ডাক্তার এ ক্লিনিক ওই ক্লিনিক এ জেলা ওই জেলা ঘুইরা ঢাকার মিরপুরের এক অখ্যাত ক্লিনিকে থিতু হইছে। আমার কন্যার ডেলিভারি কিন্তু এ ডাক্তারের হাতেই হইছিল। নরমাল। সেকেন্ডবার বউরে আরও বড় ডাক্তার দেখাইলাম (MBBS, FCPS)। অজুহাত দেখাইয়া, ভয় দেখাইয়া পেট কাইটা দিলো!! -;)

এইবার আরেকটা সত্য ঘটনা (তাও ফেনীবাসি ডাক্তার বন্ধুর কাছে শোনা) বলি, ফেনীতে এক গর্ভবতী মহিলা প্রসব বেদনা নিয়া ক্লিনিকে ভর্তি হইছে। নার্সরা সাথে সাথে ওটিতে নিয়া গেছে এবং গাইনি ডাক্তাররে ফোন দিছে। ডাক্তার ফোনে কয়েকটা ইঞ্জেকশন দিতে নির্দেশনা দিয়ে জাস্ট দশ মিনিটের মধ্যে আইসা সিজার করবো বইলা ফোন রাইখা দেয়। নার্স নীচে যায় ইঞ্জেকশনের জন্য, ডাক্তারও দশ মিনিটের মধ্যে পৌঁছায়া দেখে নার্স ইঞ্জেকশন পুশ করার আগেই বাচ্চা নরমাল ডেলিভারি হয়া গেছে! ডাক্তারের গেছে মিজাজ খারাপ হইয়া! নার্সদের সে কী বকাবকি! এই বাচ্চা হইলো কেমনে? তোমরা কী করছিলা? দশটা মিনিট স্টপ করাইতে পারছিলা না?? …….!!!!!!!!!!!!!

কই যাই, কই যাইবেন??

আর সেই ডাক্তাররা যদি নকল কইরা।প্রশ্ন আগেই পইড়া পাশ করে।দেশের সবাইরে বাশঁ দিবোনি কন???

আপনার মন্তব্য দিন

শেয়ার